লিখেছেন: দীপন জুবায়ের

art works-11-সকাল থেকে ঝিরঝির বৃষ্টি হচ্ছে। কয়েকদিনের গুমোট গরমের মধ্যে এই বৃষ্টিটুকু যেন খোদার আশির্বাদ। সারাদিন ঘরের মধ্যে বসে থেকে হামজা মোল্লার মন উসখুস শুরু হয়েছে। হামজা মোল্লার গ্রামের একমাত্র নামকরা কবিরাজ। সংসার খুবই ছোট। কিন্তু মনে সুখ নেই , সংসারে নেই শান্তি। হামজা সহজে হাল ছাড়ার লোক না। তবুও মাঝে মাঝে মনের মধ্যে হতাশার মেঘ গুড়গুড় করে ওঠে। আজ যেমন সকাল থেকে মনের মধ্যে বড় অশান্তি। সারাদিন অস্থির অস্থির লেগেছে। সকাল থেকে মনে হচ্ছে বৃষ্টিটা একটু ধরলেই বাজারে যেতে হবে।কিন্তু সারাটা দিন ঝিরঝির বৃষ্টির একটুও বিরাম নেই।

বলতে নেই , এই গন্ডগ্রামে কবিরাজি করে একসময় হামজা মোল্লা বেশ নামডাক করেছিলো। আশে পাশের দুদশ গ্রামের মানুষ এক নামে তাকে চিনত। হামজা মোল্লার বয়স কত তার সঠিক হিসাব সে বলতে পারেনা। তবে বয়স কম হয়নি সেটা সহজেই বোঝা যায়। মুখের চামড়া ঝুলুঝুলু ভাব , চুলদাড়িতে যেন খুব যত্ন করে সাদা রং করা। জীবনের পড়ন্ত বেলায় শুধুই সুখের দিনের কথা মনে পড়ে।

কি দিন গেছে একসময়। মুখে ভাত নেই , পরনে কাপড় নেই , থাকার জায়গা নেই, তবুও মনে টইটুম্বুর সুখ। আহ্ সেই দিনগুলোর কথা মনে হলেই বুকের ভিতর বড় উথালপাতাল করে।

ঘরের ভিতর শুয়ে আছে হামজা। বুড়ো হাড়ে বৃষ্টি সহ্য হয় না। চোখে ঘুম নেই। বয়স বাড়লে ঘুম এমনিতেই কমে যায়। তার উপর মনের ভিতর অশান্তি। একটা দীর্ঘঃশ্বাস ছেড়ে হামজা কবিরাজ তার পঙ্গু ছেলেটার দিকে তাকায়। বুকের মধ্যে বড় ফাকা ফাকা লাগে। সুখের দিনগুলোর কথা বারবার মনে পড়ে। কোন অপরাধে হামজা কবিরাজের জীবনে এই শাস্তি বলা কঠিন। ছেলেটি জন্ম থেকে পঙ্গু, কথা বলতে পারে না। মুখ দিয়ে এক ধরনের গোঙ্গানির মত শব্দ বের হয়। সেই জন্ম থেকেই ছেলেটা কত চেষ্টা করলো একটু কথা বলবার , একটু হাটবার। কিন্তু বিধি বাম। আল্লার মার সামলানোর ক্ষমতা কি মানুষের আছে? একটাই সন্তান অথচ এই অবস্থা।

হামজা উঠে বারান্দার দাওয়ায় এসে বসে। মনটা কিছুতেই বশে আনা যাচ্ছে না। বড় অস্থিরতা। “ হুম হুম ” একটা শব্দ করছে ছেলেটা। ওর যখন খুব রাগ হয় , ক্ষুধা পায় তখন এরকম শব্দ করে। এই লক্ষন গুলো হামজার বড় চেনা। হামজা ছেলেট কে কাছে ডাকে , “ আয় বাপ, বুঝি তোর রাগ হচ্ছে। কিন্তু আমি কি করবো বল? বৃষ্টি তো আমার হাতে না। আয়, আমার পাশে আয়। ” হামজা ছেলের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। ছেলেটা সারাদিন বাইরে যেতে পারেনি তাই বোধহয় এত বিরক্ত।

ময়না বিবি , হামজার বউ , ছেলের হাত ধরে ঘরের ভিতর টেনে নিয়ে গেল। ময়নার দিকে তাকালেই সংসারের দৈনতা একপলকেই বোঝা যায়। হাড় জিরজিরে শরীরে একখানা ছেড়া ফাটা শাড়ী , শরীরের খসখসে চামড়া আর জট বাধা চুলের উপর যেন দৈনতা চেপে বসেছে। শরীর জিরজিরে হলে কি হবে , চোপার জোর যে কোন একজন স্বাস্থ্যবান মানুষের থেকে অনেক বেশী।

হামজা বারান্দায় বসে শুনতে পায় ময়নার কর্কশ কন্ঠ ,“ চুপচাপ বয় ছোড়া। এক পা নড়বি না , বাদরামি করবি না , এক আছাড় দেব। ”

ঘরে চাল ডাল না থাকলে ময়নার চোপার চোটে বাড়ীতে টেকা যায় না। সব রাগ ওই অবলা ছেলেটার উপরে ঝাড়ে। হামজা মিনমিনে সুরে বলল , “ আহ্ কি কর। ওর সাথে চোটপাট না করলে হয় না? ময়না বিবি আরও রেগে গেল ,“ তুমি চুপ কর। খাওয়াবার মুরোদ নেই আবার দরদ ”। মূহূর্তের মধ্যে হামজার মাথায় রক্ত চড়ে যায়। ইচ্ছে হয় উঠে গিয়ে ময়নার মুখে কয়েক ঘা লাগাতে। কিন্তু এখন আর সেই দিন নেই। বুড়ো শরীরে শক্তিও নেই। হামজা প্রাণপনে চেষ্টা করে মাথা ঠান্ডা রাখবার। শরীরে জোর না থাকলে মাথা গরম করতে হয় না। হামজা সতর্ক হয়। জানে হাজার চেষ্টা করলেও ময়নার সাথে চোপার জোরে ও পারবে না

হামজা আরও মিনমিনে সুরে বলে “ ময়না দ্যাখ তো ঘরে ছাতাডা আছে কিনা। দেখি একবার বাজারের দিকে যাব। কিছু চাল ডাল এনে রাখি। ” হামজা কথা গুলো বলে আর আড় চোখে ময়নার দিকে তাকায়। চাল ডালের কথাটা বলা ময়নাকে খুশী করবার জন্য। চাল ডাল কিনবে কি দিয়ে? হামজার চাতুরি ময়নার কাছে ধরা পড়ে যায়। গলা আরও একটু চড়িয়ে ময়না বলে , “ থাক আর ন্যাকামো করতে হবে না। ঘরে এক পয়সা নেই, চাল-–ডাল। বাজারে সবাই বসে আছে ওনারে চাল ডাল দেওয়ার জন্যি। ”

হামজা আবার দীর্ঘঃশ্বাস ছাড়ে , নাহ্ ময়নার সাথে চালাকি করে পার পাওয়ার উপায় নেই।

শরীরে জোর নেই সেই সাথে বুদ্ধির ধারও গেছে কমে। আর পারা যায় না। মাঝে মাঝে মনে হয় সব ছেড়ে ছুড়ে একদিকে হাটা দেয়। কিন্তু অবলা ছেলেটা সব গোল মাল করে দেয়। বুকের মধ্যে কোথায় যেন একটা টান লাগে। বারবার ছেলেটার কথা মনে পড়ে। অবলা বলেই বোধহয় ছেলেটার উপর এত মায়া হামজার।

হামজা উঠে ঘরের মধ্যে যায়। ঘরের এক কোনায় ছাতাটা ঝুলানো আছে। কত বয়স হলো ছাতাটার মনে নেই। তবে ছেড়াফাটা জায়গাগুলো দেখলে বোঝা যায় অনেক আগের।নাহ্ ঐ ছাতা নিয়ে বাইরে যাওয়া যায় না। তার চেয়ে বরং ভিজতে ভিজতে বাজারে গিয়ে একটা পাক দিয়ে আসা যায়। যদি কোন ব্যবস্থা করা যায়। হামজা ছেলেটার দিকে তাকায়। নাহ্ বাজারে একবার যেতেই হবে। আহারে অবলা ছেলেটা সারাদিন উপোস।

হামজা জামা খুলে ফেলে। মাথায় একটা আধ ছেড়া গামছা দিয়ে বাজারের দিকে হাটা দেয়। এমনিতেই হাত পা সর্বক্ষন কাপে। এখন বৃষ্টির পানিতে শরীরের ভেতরের সব হাড় পযর্ন্ত কেপে উঠছে। তবুও থামলে হবে না। বাজার পযর্ন্ত যেতেই হবে।

বাজারে পৌছে হামজা কবিরের দোকানের ভেতরে গিয়ে দাড়ায়। সমস্ত শরীর ভিজে চাপচুপ হয়ে গেছে। ছেড়া গামছাটা দিয়ে শরীরটা একবার মুছে নেয় হামজা। কাষ্টমারের ভিড়। সন্ধ্যার দিকে একটু ভিড় বেশী থাকে। তার উপর আজ বৃষ্টির দিন। সারাদিন মানুষ ঘরে ছিল। হামজা চুপচাপ দাড়িয়ে আছে। ভিড়টা একটু কমে যাক। একটা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই বাজারে আসা। কবির দোকানদার শেষ ভরসা, যদি একটু দয়া করে। দোকানের এক কোনায় দাড়িয়ে ঠকঠক করে কাপছে কবিরাজ।

হাতের ছোট প্যাকেটটা সামনে রেখে একটানা সেদিকে তাকিয়ে থাকে কবিরাজ। কত স্মৃতি যে মনে পড়ে।ওস্তাদের দেওয়া রুপোর হামানদিস্তিটা বোধহয় আর রাখা গেল না।মনে বড় পাপবোধ আসে। কিন্তু পাত্তা দেওয়া যাবে না। স্মৃতি দিয়ে পেট ভরে না। পেটের ক্ষিধের কাছে সব পাপ পুন্য ভেসে যায়। এই শালার পেটের কাছে কোন ফন্দি ফিকির খাটে না।

দোকানের ভিড় একটু কমলে হামজা সর্তক দৃষ্টিতে চারদিকে একবার দেখে নেয়। তারপর নীচু স্বরে বলে ,ৃৃ“কি কবির মিয়া, ব্যবসা কিরকম চলে?” কবির টাকা গোনায় ব্যস্ত ছিল। একবার আড়চোখে হামজার দিকে তাকিয়ে বলল “ মুদীর দোকানে আর ব্যবসা। সারা জীবন দিন আনা দিন খাওয়া গেল না। আরও আজও বৃষ্টির দিন। ”

সময় বুঝে কথাটা পাড়তে হবে কবিরের কাছে। চারদিকে আবার একবার সতর্ক চোখে দেখে নেয় কবিরাজ। কবিরের আরও একটু কাছে এসে ফিসফিস করে বলে “ মিয়া বড় বিপদে পড়ে তোমার কাছে আসলাম। একটু সাহায্য করা লাগে যে মিয়া ”।

কবির এবার পূর্নঃদৃষ্টিতে কবিরাজের দিকে তাকায়। যেন মুখ দেখে মনের ভিতরের ফন্দি পড়ে ফেলার চেষ্টা করছে। তারপর বলে , “ হ্যাঁ বল চাচা কি ব্যাপার ”।

হামজা বোঝে এইই মোক্ষম সময়। আর দেরি করা যাবে না। যা হবার হবে। কাগজের প্যাকেটটা খুলে রুপার হামানদিস্তিটা বের করে কবিরের কাছে ধরিয়ে দিয়ে বলে ,“ মিয়া এইটা রেখে কিছু চালডাল দিতে হয় যে। সারাদিন না খাওয়া। বাড়ী একদানা চালডাল নেই। একদম খাটি রুপো। আমি সপ্তাহ খানেকের মধ্যে আবার ছাড়িয়ে নেব। ” এই পযর্ন্ত বলে হামজা ব্যাকুল হয়ে কবিরের দিকে তাকিয়ে থাকে। কবির দোকানদার কোন কথা না বলে হামানদিস্তাটা চোখের সামনে নিয়ে ভালভাবে পরীক্ষা করে।

তারপর বলে , “রুপো তো?”

হামজা মনে বড় কষ্ট পায়। কি যে দিন পড়ল। তাকে অবিশ্বাস করে। একসময় এই হামানদিস্তায় ওষুধ বানিয়ে কত মানুষকে সুস্থ করেছে সে। আবার মনের মধ্যে এক পাপবোধ উকিঝুকি মারে। হামজা গলায় একটু অভিমান নিয়ে বলে, “আমারে অবিশ্বাস করলা মিয়া? এই হামানদিস্তায় বানানো ওষুধ তুমিও খাইছো ছোট বেলায়। তোমার মার কাছে শুনবা।”

কবির হামানদিস্তাটা ক্যাশবাক্সের মধ্যে রেখে বলে, “বল তোমার কি কি লাগবে।” হামজা দ্রুত মনে করবার চেষ্টা করে ঘরের জন্য কি কি লাগবে। মনের মধ্যে আবার সেই পাপবোধটা উকি মারে। ভিতর থেকে কে যেন ব্যাঙ্গ করে। হামজার মাথার ভিতর চক্কর দিয়ে ওঠে। জ্বর আসবে নাকি? জ্বর আসার আগে এমন একটা ঘোর ঘোর লাগে। হামজা কাঁপা হাতে অনেক কষ্টে একটা বিড়ি ধরায়। বিড়িতে টান দিতেই গা গুলিয়ে ওঠে। বমি হবে নাকি?

হামজা কবিরের তাড়া দিয়ে বলে, “দ্যাও মিয়া, তাড়াতাড়ি কর, শরীলডা ভালো না।”

কবির দোকানদার একটা প্যাকেট সুন্দর করে সব গুছিয়ে ওর হাতে ধরিয়ে দেয়। তারপর বলে, “চাচা তোমার সুবিধা মতন হামানদিস্তাটা ছাড়ায়ে নিও।আমি যত্ন করে গুছায়ে রাখব, চিন্তার কিছু নেই।” কবিরাজের মনটা হঠাৎ ভালো লাগে। যাক ছেলেটার মন আছে। এখনকার সময় এইটুকুই বা কে করে। জিনিসপত্রের প্যাকেটটা নিয়ে হামজা আবার পথে নামে।তখনও টিপটিপ বৃষ্টি বন্ধ হয়নি। মাথায় ছেড়া গামছাটা ভালোবাবে জড়িয়ে নেয়। এবার কোনরকমে বাড়ী পযর্ন্ত যেতে পারলেই হলো।সমস্ত শরীর ঠকঠক করে কাপঁছে। বোধহয় জ্বর আসবে। আসুক। এখন আর চিন্তা নেই। জ্বর আসে আসুক। না খেয়ে তো থাকা লাগবে না। পথে হাটতে হাটতে মনের মধ্যে আবার সেই পাপবোধটা উকি মারে। বুকের মধ্যে কে যেন জোরে কামড়ে ধরে। হামজা টলমল পায়ে হাঁটতে থাকে।

মাথার মধ্যে উথাল পাথাল। বাড়ী পযর্ন্ত যেতে পারবো তো? হামজা ভাবে। মনের মধ্যে থেকে পাপবোধটা কিছুতেই যাচ্ছে না। হামজা জড়ানো গলায় হাক দেয়, “যা যা দূর হ, দূর হ। হাত নাড়িয়ে যেন সামনে থেকে কাউকে যেতে বলছে। একটা গাছের নীচে দাড়িয়ে কবিরাজ কোমরে গুজে রাখা প্যাকেট থেকে একটা বিড়ি বার করে। অনেক চেষ্টা করেও বিড়িটা ধরাতে পারে না। দমকা বাতাসে আগুন নিভে যাচ্ছে। বিরক্ত হয়ে থুথু ফেলে বলে, “যা, ভাগদুর হ”। আবার বাড়ীর দিকে হাটা শুরু করে। পা জড়িয়ে যাচ্ছে। অন্ধকারে কিছুই ঠাওর করা যাচ্ছে না। পথ হারিয়ে ফেললাম নাকি? হামজা একমূহূর্ত দাড়িয়ে চিন্তা করে নেয়। না, না, তা কি করে হয়। আসলে মাথার মধ্যে কেমন ঝিমঝিম করছে। দাড়িয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। আজ বোধহয় জ্বরের হাত থেকে বাঁচা যাবে না।

হামজা আরও জোরে হাটতে চেষ্টা করে। কোন রকমে বাড়ী পযর্ন্ত পৌছাতে পারলে হয়। আহা রে , অবলা বাচ্চাটা সারাদিন না খেয়ে আছে। চাল ডালগুলো পেয়ে ময়না খুশী হবে। নাহ্ মাথার মধ্যে আবার সেই এক পাপবোধ উকি মারে। হামজা যখন বাড়ীর সামনে পৌছে যায় তখন তার অজান্তে মুখ দিয়ে বলে যাচ্ছে , “যা দুর হ , তুই দুর হ । হামজার গলা শুনে ময়না বিবি বাইরে আসে। কিছুটা অবাক হয়ে বলে, “কারে গালি দ্যান?”

ময়নার গলা শুনে কবিরাজ যেন সম্বিত ফিরে পায়। এখন তার একটু ভালো লাগে। যাক তাহলে বাড়ী পযর্ন্ত আসা গেল। হামজা প্যাকেটটা ময়নার হাতে দিয়ে বসে পড়ে। ময়না আর্তনাদের মত করে চিৎকার দিয়ে ওঠে , “কি হইছে আপনার? ও আল্লাহ , আপনার কি হইছে? গায়ে দেখি বিরাট জ্বর”। হামজার শরীরে আর বসে থাকার মত শক্তি নেই।

চোখের সামনে সব অন্ধকার হয়ে আসে। মাথার মধ্যে একটানা যেন ঝিঁ ঝি পোকা ডেকে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন অনেক দুর থেকে তার বউ চিৎকার করে উঠল। শব্দটা যেন কত দুর থেকে আসছে। জ্বরের ঘোরে উল্টপাল্টা কথা বলে যাচ্ছে। তার সব কথা ময়না বুঝতে পারছে না। কবিরাজ অচেতন হয়ে পড়বার আগে জড়ানো গলায় বলল , “বউ আমি একটা পাপ করছি। আমার ওস্তাদ আমারে ক্ষমা করবে না। পাপ, দুর হ, দুর হ।”

ময়না বিবির তখন কোন দিকে খেয়াল নেই। মনের মধ্যে একটা কু ডাক ডেকে যাচ্ছে। এই বুড়ো লোকটার যদি ভালো মন্দ কিছু একটা হয়ে যায়?

হায় আল্লা আমার কি হবে গো” ময়না বিবি গলা ছেড়ে কান্না জুড়ে দেয়। অবলা ছেলেটাকে নিয়ে তার যে দাড়াবার মত কোন জায়গা নেই পৃথিবীতে। ঠিক তখন বাড়ীর সামনের আম গাছটার ওপর একটা ভেজা কাক দুবার কাকা ডাক ছাড়ে। ময়নার মনে আবার কু ডাক ডেকে যায়। ও কান্নাজড়ানো গলায় কাকটার দিকে ফিরে বলে ওঠে, “যা, দুর হদুর হ!”

————————————————–

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s