art-45. আমার মুখ দেখিবার আয়না নাই

আমার মুখ দেখিবার আয়না নাই

আমি মিহিরোদে আমার ছায়া ফেলে

দশ আঙুলের চিরুনিতে চুল আঁচড়াই

আমি জলের আয়নায় মুখখানি রেখে

আমার এই মুখের ছায়াখানি দেখি

কিন্তু হায়, মুখের দাগগুলো যে দেখতে পারি না

আমার এই মুখের দাগ আমি দেখি কী দিয়া?

 

নরেরা আহ্লাদে আমার তুলতুলে গালখান কামড়ে কামড়ে

রক্ত ঝরিয়ে রক্তরাঙা একটি বধ্যভূমি বানিয়ে দিলে

আমি দুহাতের চেটোয় তা মুছে . . . মুছে . . . মুছে . . .

আগুনভেজা দুচোখের আগুন মেলে দেখি

গুহাদশার পাহাড় ও জঙ্গলদশার জঙ্গল পেরিয়ে

আর চন্দ্রমঙ্গল জয়ের মহাশূন্যতায় ধাবিত হতে হতে

মানুষ তো তার জীবনটাকে দেখছে আকাশের আয়নায়।

 

অথচ আমার মুখ দেখিবার আয়নাখানিই নাই

হায়, আমার এই মুখের দাগ আমি তবে দেখি কী দিয়া?

 

নারীরে তোর এমনই দশা

চন্দ্রমঙ্গলব্লাকহোল দেখিবার এই মেঘমুক্ত সকালে

একখানা মুখ দেখিবার আয়নাই যে তোর নাই!

————————————————

 

. ভাগ্যটা খোলে না

শাশুড়িবৌ একই মাসে পোয়াতি

একই মাসে বিয়ান দিয়াছে

এ বাড়ি এখন মুখরিত দিন।

 

দুটো ষাঁড় কী ভীষণ রক্তারক্তি লড়ছে

আর বাতাস চিরে হলুই দিচ্ছে জনতা

ষাঁড়ের পায়ের ধুলো ধরেছে মেঘের বরণ

ধুলোর আস্তরে ধুসর হয়

জনতার চুল

ঘাসের ডগা

বৃক্ষের পাতা।

 

শাশুড়িবৌ একই মাসে বিয়ান দিলে

ষাঁড় ও জনতার য্যান ভাগ্যি খোলে

কিন্তু ভ্যাটট্যাক্স হাবস্তায় এত্তেটা যে জমা পড়লো

তাতে দ্যাশের মানুষগুলানের ক্যান যে ভাগ্যটাই খুললো না!

————————————————————–

 

. কৃষকের নিরাপত্তার প্রশ্ন

[গণসংগীত শিল্পী হায়দার আলীকে উৎসর্গকৃত]

নদীর ভেতরে হাঁটে কুল ভাঙা নতুন নদীর জন্ম

শঙ্খ শরীরের ঘ্রাণে

ভিজায়ে দেয় নোনতা ঘাম গোপন জড়–ল।

বর্ষার পলি কার্ত্তিকের মাঠ ভরে মেলে দেয়

সবুজ খেত হলুদ সরিষার ফুল

মৌমাছির ডানার বাতাসে পরাগ ঝরার শব্দগুলো নেচে নেচে ওঠে

আর অবুঝ কৃষকের স্বপ্নগুলো নেচে নেচে ওঠে

উচ্ছ্বাসেউল্লাসে কি জানি কি মোহের বিকারে।

 

কিন্তু আমরা তো কেউই তা জানি না

নদীর জন্ম বা উৎপন্ন ফসলের জন্যে কৃষক কি কি ও কতোটা খুইয়েছে

এবং আদৌ সে কখনো তার জীবনের নিরাপত্তা পাবে কি না

ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তুর, মুক্তিযুদ্ধএকাত্তুর একদা তাকে শুনিয়েছিলো

স্বাধীনতাদারিদ্রমুক্ত জীবনের গান

যা তাকে দুঃস্বপ্নের এক বাড়িই কেবল বানিয়ে দিয়েছে।

 

আর আমি তো কৃষকের ঘুমভাঙা স্বপ্নের পাতা ঝরার শব্দ ছাপিয়ে

তার স্বপ্নভঙ্গের স্বপ্নের ভেতর শুনি যেন গণশিল্পী হায়দার’র তীক্ষ্ণ কণ্ঠধ্বনি

আমি নিঃস্ব আমি ভুখার্ত আমাকে ভিক্ষা দাও আদর্শ!

——————————————————-

 

. নমিতার দেশান্তর ইচ্ছা

পিতা ও প্রেমিকের দেশ ছেড়ে নমিতা তুই কোথায় পালাতে চাস

বাদলাভাঙা গাড়িত চড়ি দ্যাখ মঞ্চ কাঁপাতে সমাকর্ষী গোলাম আজম এয়েছেন

বাউরি দাড়িতে তার শিকায়েতি রক্তভঙ্গিমান মেহেদি বাহার

শারঙ্গপুচ্ছ আস্তিন লুটিয়ে পড়েছে দ্যাখ মৎসরী ধুলোয়

আর এহিয়াতৃষ্ণ চন্দ্রবিন্দু বেগম দ্যাখ পরম যত্নে ঝেড়ে দিচ্ছেন সেই ধুলোর আস্তর

সতর্ক হাতে মুছে দিচ্ছেন ঠোঁটে লাগা একাত্তুরের বেগানা স্তনের দাগ

এই দ্যাখা তুই কোথায় দেখবিরে নমিতা?

 

পিতা ও প্রেমিকের দেশ ছেড়ে তুই কোথায় পালাতে চাস

গোলামবেগম গলাগলি দেখবি না

সাতচল্লিশের বিল্লিটা দেখবি না

অস্ত্র বোঝাই ট্রাকবহর দেখবি না

পঁচিশে আগস্টের বোমাহামলা দেখবি না

পিলখানার বিডিআর বিদ্রোহ দেখবি না

বুদ্ধিজীবীআমলামন্ত্রির গজদন্ত দেখবি না

প্রশাসকপুলিশমিলিটারির হম্বিতম্বি দেখবি না

ইউনুসের ঋণতত্ত্ব চক্রের নারী উন্নয়ন দেখবি না

মক্ষিমন্ত্রী মমতাবঙ্খুর তিস্তার পানিবন্টন চুক্তি দেখবি নাকেন দেখবি না?

 

ছিটমহল তিনবিঘা করিডোর চুক্তি দেখবি

তয় তাহাতেও তোর দেখি বঙবংশীয় কুতুপি উন্নাসিকতা,

তাহলে একবারের জন্যে হলেও মুখ ফুটে নমিতা তুইই বল না

তোর সাতজন্মের কঞ্চুকীভাগ্যে কি কোনোই ভাস্যি হবেরে নমিতা?

———————————————————————

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.