বিশ শতকের প্রারম্ভ থেকে ওয়ালস্ট্রীট দখল করো আন্দোলন

ফ্রেড ম্যাগডফ

অনুবাদ: প্রশান্ত মাহমুদ

(এই লেখাটি ২০১১ সালে ফ্রেড ম্যাগডফ প্রদত্ত Lessons from a Long History of Dissent: From the Early Twentieth Century to Occupy Wall Streetশীর্ষক বক্তৃতার অনুলিখনের অনুবাদ। ২০১১ সালে লেখাটি পড়ার পর ভাল লেগেছিল। তাই তখন অনুবাদ করার লোভ সামলাতে পারিনি। এই লেখাটি অকুপাই ওয়ালস্ট্রীট আন্দোলনের সময়কার হলেও এর বিষয়বস্তু অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের দেশের বর্তমান নৈরাজ্যিক অচল অবস্থাআমরা যারা নবীন তাদের জন্য প্রাসঙ্গিক আলোচনা, প্রশ্ন ও অনুসন্ধানের কিছুটা খোরাক হলেও হতে পারে। অনুবাদের যেকোন ভুল ধরিয়ে দিলে কৃতজ্ঞ থাকবো। মূল লেখাটি mrzine.orgএ পাওয়া যাবেঅনুবাদক)

আমরা এখন এমন এক অবস্থা পার করছি যাকে সমাজতাত্ত্বিকেরা বলেন, ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যখন হঠাৎ করে মনে হয় সত্যিকার পরিবর্তন সম্ভব। এই পরিসস্থিতিতে অতীত সংগ্রামগুলো থেকে শিক্ষা নেয়াটা অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। বিশ শতকের প্রারম্ভ থেকে বর্তমানের ওয়ালস্ট্রীট দখল করো আন্দোলন পর্যন্ত বিদ্রোহের যে দীর্ঘ ইতিহাস তার প্রথম শিক্ষাগুলোর একটি হল এই যে, অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র সংখ্যকঅর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ থেকে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কম এমন সংখ্যক মানুষ হয় সশস্ত্র বিপ্লব অথবা অহিংস পথে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। সমাজের বিরাট অংশের সমর্থন পথ চলতে চলতেই অর্জন করা যায়। দৃষ্টান্তের মধ্যে পড়ে রাশিয়া, চীন, কিউবা, মহামন্দার সময়কার ইউনিয়ন/বাম আন্দোলন এবং সংস্কারসমূহ, উপনিবেশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনসমূহ, মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনসমূহ ইত্যাদি।

দ্বিতীয় শিক্ষা হল, সিংহ ভাগ পরিবর্তনইবিরাট এবং ক্ষুদ্র উভয় ধরনেরস্বাভাবিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ঘটেনি। সেগুলো ঘটেছিল হয় বিপ্লবের মাধ্যমে নয়তো বিক্ষোভ এবং প্রত্যক্ষ আন্দোলনের মাধ্যমে যা আইনপ্রণেতাদের উপর বলপ্রয়োগ করেছিলো। পরিবর্তনগুলো জনপ্রতিনিধিদেরসরকারগুলোর মাধ্যমে হয় নি, এগুলো হয়েছিলো সেই চাপের কারণে যা আন্দোলনকারীরা প্রয়োগ করেছিলেন। পুঁজি কতগুলো সীমিত সংস্কার মেনে নিতে চাইছিলউদাহরণস্বরূপ, আফ্রিকানআমেরিকানদের ভোট দেয়ার অধিকারএবং সেগুলো সাথে নিয়েই অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চাইছিল। কখনো কখনো এই সীমিত সংস্কারগুলো ব্যবস্থাটির স্বার্থের সাথে তাল রেখে করা হয়েছিলো। নিজ ভূমিকে স্বাধীনতা আর গণতন্ত্রের আবাস বলে দাবী করার মাধ্যমে মার্কিন রাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী ক্ষমতার প্রয়োগ বজায় রাখার জন্য নাগরিক অধিকারের সংস্কার করা ছিল অত্যাবশ্যক। যাই হোক, যখন সংস্কার বা কর্মসূচীগুলো সরাসরি মুনাফাকে হুমকির সম্মুখীন করলো পুঁজিবাদী শ্রেণী সংস্কারগুলো উল্টে দিতে একটি দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে। এভাবে পুঁজির নমনীয়তা ও মুনাফাকে সর্বোচ্চ করার জন্য, নিউ ডীল ও মহতী সমাজের সামাজিক কর্মসূচীগুলোসামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসাসেবা/ চিকিৎসাসাহায্য, জনকল্যাণ, খাদ্য সহায়তা, ইত্যাদি, সেই সাথে ইউনিয়নের ক্ষমতাউত্তরোত্তর দুর্বল করা, খর্ব করা অথবা বিরাষ্ট্রীয়করণ করা (ব্যবস্থাটির বাজারের যুক্তির ভিত্তিতে) প্রয়োজনীয়হয়ে দাঁড়ায়।

নির্বাচনী গণতন্ত্রের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন কেবল চ্যলেঞ্জিংই নয় বরং শাসক শ্রেণীর ক্ষমতা ও সাম্রাজ্যবাদের উপস্থিতিতে হয়তো এমনকি সম্ভব হবে না। সামির আমিন লিখেছেন,

আমি মনে করি, সত্যিকার পরিবর্তন আনতে নির্বাচনী গণতন্ত্রের ব্যর্থতার কারণ খুঁজে পাওয়া কঠিন নয়: এ যাবৎকালের সবকটি সমাজই শ্রমিক শোষণ (বিভিন্ন উপায়ে) ও শাসক শ্রেণীর পক্ষে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ করার দ্বৈত ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছে। এই মৌলিক বাস্তবতার ফলাফল হচ্ছে সমাজের বিরাট অংশের আপেক্ষিক অরাজনীতিকীকরণ ও অসাংস্কৃতিকীকরণ। এবং এই ফলাফলটি ব্যাপকভাবে ডিজাইন ও প্রয়োগ করা হয়েছিল এর থেকে যে কাঠামোগত কাজ প্রত্যাশা করা হয় সেটা পূরণ করার জন্য। একই সাথে এটা হলো এটি (ব্যবস্থাটিঅনু) নিয়ন্ত্রণ ও হজম করতে পারে এমন ব্যাতীত অন্য কোন পরিবর্তন ছাড়া ব্যবস্থাটির পুনরুৎপাদনের শর্তএটির (ব্যবস্থাটিরঅনু) স্থিতিশীল অবস্থার শর্ত।

২০ শতকের বিদ্রোহের ইতিহাস থেকে আমি তৃতীয় যে শিক্ষাটি নিয়েছি সেটি বেরিয়ে এসেছে সেই সমস্যা থেকে যেটি যুক্তরাষ্ট্রে বৃহত্তর বাম ভাঙন থেকে উদ্ভূত হয়েছিল। এটি ছিল কতগুলো ঘটনার মিলিত ফলাফল, যার মধ্যে আছে: ম্যাকার্থি জমানার আক্রমণ, ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির সময়কার ক্রমবর্ধমান আয়, ভিয়েতনাম যুদ্ধের সমাপ্তি, নাগরিক অধিকার আন্দোলনের প্রাপ্তিসমূহ এবং সরকারের নেয়া নিগ্রহ রণকৌশল। বৃহৎ আন্দোলনের এই ভাঙন, সুনির্দিষ্টভাবে শ্রমিকের দুর্বল হয়ে যাওয়া, উদারপন্থী/ বাম কর্মীদের তাড়িত করেছিল একক ইস্যুতে কেন্দ্রীভূত দলগুলোর মাধ্যমে পরিবর্তন খুঁজতেনারীবাদ, সমকামী অধিকার, নাগরিক/মানবিক অধিকার, পরিবেশ, শ্রমিকের অধিকার, টেকসই/ জৈবিক কৃষি, ক্ষুধা ইত্যাদি। ফলাফল হিসেবে যে বিভাজনআলাদা আলাদা সংগঠনগুলো কর্তৃক একটি আন্দোলনকে অন্যটির থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলাএকটি শক্তিশালী বাম ঐক্য (পুঁজিবাদের বিরোধিতা করুক বা না করুক) গড়ে তোলার পথে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করেছে। তবুও এই দলগুলোর অনেকগুলোই বিদ্যমান পুঁজিবাদকে অনেক মানুষের জন্য সত্যিকার অর্থেই আরো বাসযোগ্য করে তুলতে সাহায্য করেছিল।

চতুর্থ শিক্ষা হলো এই যে যথোপযুক্ত পরিস্থিতিতে একটি উচ্চমাত্রায় সংগঠিত অগ্রবাহিনীদল সশস্ত্র সংগ্রামে এবং একটি বিপ্লবী প্রকল্পে সংখ্যাগরিষ্ঠকে চালিত করায় কার্যকর হতে পারে। যাই হোক, এই ছক পরবর্তীতে গুরুতর সমস্যা তৈরি করে। সার কথায় বলা যায়, শ্রেণী সংগ্রাম চলতে থাকে এমনকি পুরনো ব্যবস্থাটির একটি সফল উচ্ছেদের পরও। যেমনটি মাও তুলে ধরেছেন:

মার্কসবাদলেনিনবাদ এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন ও অন্যান্য সমাজতান্ত্রিক দেশের অনুশীলন সবগুলো আমাদের শিক্ষা দেয় যে সমাজতান্ত্রিক সমাজ একটি অনেক, অনেক দীর্ঘ ঐতিহাসিক পর্যায়কে ধারন করে। এই পর্যায় জুড়ে, বুর্জোয়া এবং প্রলেতারিয়েতের মধ্যকার শ্রেণীসংগ্রাম চলতে থাকে এবং পুঁজিবাদের রাস্তা আর সমাজতন্ত্রের মধ্যে কে জিতবেএই প্রশ্নটি বজায় থাকে, পুঁজিবাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিপদের ক্ষেত্রেও যা প্রযোজ্য।

এটা পরিস্কার যে এই অগ্রবাহিনীকে জনগণের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা খুবই কঠিন। পুঁজিবাদে ফিরে যাওয়া প্রত্যাশা করুক বা না করুক এটি উত্তরোত্তর এর নিজস্ব স্বার্থ দেখা শুরু করে যা শ্রমজীবী জনগণেরটি থেকে আলাদা। শিক্ষক (যে) নিজে অবশ্যই শিক্ষিত হতে হবেএই ইস্যুটি মার্কস আলোচনা করেছেন। কমিউনিস্ট ক্যাডারদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেক উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল চীনের সংগ্রামের সময় এমনকি বিপ্লবীরা বেইজিং দখল করার পূর্বে (দৃষ্টান্ত হিসেবে, উইলিয়াম হিন্টনের ফানশেন দেখুন) থেকে সাংস্কৃতিক বিপ্লব পর্যন্ত (দৃষ্টান্ত হিসেবে, হান ডংপিং এর দি আননোন কালচারাল রেভল্যুশন দেখুন) যেখানে কমিউনিস্ট পার্টির উপর জনগণের নিয়ন্ত্রণ স্থাপনের চূড়ান্ত লড়াইটিতে পরাজয় হয়েছে।

যদি অগ্রবাহিনী(অথবা আমলাতন্ত্র বা নেতৃত্ব) কে জনগণের নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা না যায়, একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক সমাজপূর্ণ অর্থনৈতিক/সামাজিক রূপান্তরের জন্য যা আবশ্যক সম্ভব নয়।

সুতরাং বিপ্লবীঅগ্রবাহিনী এবং নির্বাচনী রাস্তা উভয়ই প্রমাণ করেছে যে এগুলো একটি নতুন আর্থরাজনৈতিকসামাজিক ব্যবস্থার শুরুতে বিশাল সমস্যার মুখোমুখি হয়।

একবিংশ শতাব্দীর বিদ্রোহের তাৎপর্যসমূহ নিয়ে কিছু ভাবনা:

একটি নতুন ব্যবস্থাগত পরিবর্তন আনতে বিংশ শতাব্দীর নির্বাচনী রাজনীতির ব্যর্থতার আলোকে জনগণের করা কিছু অর্জন যা পরে প্রকৃতপক্ষে বিপরীতমুখী হয়েছিল সেগুলো সহআমরা ভেনেজুয়েলা, ইকুয়াডর, বলিভিয়া এমন দেশগুলোতে সূচিত পরিবর্তনগুলো থেকে কি সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি? তারা কি তাদের দেশগুলোকে পুঁজিবাদ থেকে পৃথক কোন আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করতে পারবে যেখানে তারা গণতান্ত্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থায় অংশ নিচ্ছে? এই প্রক্রিয়াটি আংশিকভাবে আন্দোলনকারীদের চাপপ্রসূত যারা সরকারের সর্মথন সহ ও ছাড়া কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু (এবং এটা প্রকৃতই একটি বড় কিন্তু) পূর্ববর্তী পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ফাঁকফোঁকরের ভেতর দিয়ে একটি সম্পূর্ণ নতুন সামাজিক ব্যবস্থা নির্মাণ করা, যেখানে পুরনো আমলাতন্ত্রের অধিকাংশই বিদ্যমান, ফলাফল হিসেবে অনেক দ্বন্দ্ব এবং স্থানীয় ক্ষমতার জোট তৈরি করেছে যা পরিবর্তনে ছেদ আনার চেষ্টা করবে। এবং, অবশ্যই, সাম্রাজ্যবাদ ও অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি এই প্রক্রিয়া থামিয়ে দেয়ার জন্য তাদের সর্বোচ্চটি করবেঅসন্তোষ ও অস্থিরতা উস্কে দেয়ার জন্য যে কোন উপায় অবলম্বন করবে। যদিও বিরাট সংখ্যক গরীব মানুষের অন্নসংস্থান করা, বাসস্থান ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা, ভেনেজুয়েলায় নিজ নিজ কমিউনিটির প্রয়োজনগুলো পরিকল্পনা করতে বাস্তবিক দশ হাজার কমিউনিটি কাউন্সিল গঠন করা এগুলোর মতো এই সব সংগ্রামের অনেক ইতিবাচক দিক আছে। সকল ভাল কিছু যেগুলো ঘটছে সেগুলো সহ, পূর্ববর্তী শাসনের পৃষ্ঠপোষকদের হাতে অর্থনৈতিক (এবং রাজনৈতিক) ক্ষমতা রয়ে যাওয়া এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নাশকতামূলক তৎপরতা যা ইতোমধ্যে অনুভূত হয়েছে তার সাপেক্ষে এটা সার্বিকভাবে পরিস্কার নয় যে এই প্রচেষ্টাগুলো তাদের সমাজের ব্যবস্থাপনাগত রূপান্তর ঘটাতে শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারবে কি না।

আরব বসন্ত এবং ওয়ালস্ট্রীট দখল করো আন্দোলন

একটি ভিন্ন জীবনের ইচ্ছা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে (এবং খাদ্যের উচ্চ মূল্য ও বিপুল সংখ্যক বেকারের দ্বারাও) আরব বিশ্বে যে গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে তা অবলোকন করাটা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। কিন্তু যেখানে এই বিক্ষোভগুলো দুইটি শাসনের পতন ঘটিয়েছে, তারা ক্ষমতা কাঠামোকে অক্ষত রেখে দিয়েছে (বিশেষত মিশরে)। মিশরে আলোকসম্পাত ছিলো বোধগম্যভাবে স্বৈরাচার (এবং মার্কিন যুক্তরাষ্টের সেরা বন্ধু) হোসনি মোবারকের উপর। কিন্তু একটি সত্যিকার রূপান্তর ঘটাতে হলে অবশ্যই সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পুঁজি উভয়ের হাত থেকেই ক্ষমতা জনগণের কাছে হস্তান্তরিত হতে হবে। ইউরোপের গণবিক্ষোভগুলো, বিশেষত গ্রীস এবং স্পেনে, এখনও পর্যন্ত কোন বস্তুগত পরিবর্তন আনতে পারে নি।

যেভাবে এই নতুন আন্দোলন আরব বিশ্ব ও ইউরোপ থেকে আটলান্টিক পাড়ি দিয়েছে, ওয়ালস্ট্রীট দখল করো আন্দোলনে রূপ নিয়েছে, যা সাথে সাথেই একটি বৈশ্বিক প্রতিরোধে রূপ নিয়ে এখন বিশ্বব্যাপী এক হাজার শহরে বিদ্যমান, যা প্রতিনিধিত্ব করছে প্রত্যেকটি মহাদেশের (একেবারে আক্ষরিক অর্থেই তা ঘটছে যখন থেকে এন্টার্টিকা দখল করো আন্দোলনের ছবি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে) তা থেকে আমরা অবশ্যই কম অনুপ্রাণিত হই না। দখল করো আন্দোলন বামদের জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্বের একটি বিকাশ। সঠিক সময়ে সঠিক শ্লোগানটি (আমরাই ৯৯ শতাংশ) যুক্তরাষ্ট্র এবং বাইরের অনেক মানুষের মন ও হতাশাকে ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সেগুলো সহ, এটা একটা বেড়ে চলা উপলব্ধিকে নির্দেশ করে যে এটি হচ্ছে ব্যবস্থাটি নিজে যার পরিবর্তন দরকার।

সেগুলো শ্লোগানে আলাদাভাবে আসুক বা না আসুক, ভ্যানিটি ফেয়ারে প্রকাশিত জোসেফ স্টিগলিৎজের আর্টিকেল (মে ২০১১) ১ শতাংশের জন্য, ১ শতাংশের দ্বারা, ১ শতাংশেরসেই ধারণার প্রতি মূলধারার পৃষ্ঠপোষকতা ব্যক্ত করেছে যে ক্ষুদ্র অর্থবহ গণতন্ত্র সহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শাসন করে একটি মুষ্টিমেয়তন্ত্র। জনগণের জন্য উন্মুক্ত স্থান দখল করা এবং ধরে রাখার প্রাথমিক ডাকটি দিয়েছিল অ্যাবাস্টারস (adbusters.org)এবং এটা এখানে ছিল যে ১ শতাংশের সমালোচনার সাথে সামাজিক বিপ্লবের সম্পর্কের যোগসূত্রটি শক্তিশালীভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা অনেককেই অনুপ্রাণিত করেছে।

যদিও দখল করো সংগ্রামটি গণমাধ্যম দ্বারা সমালোচিত হয়েছে, সেই সাথে কিছু বামপন্থীদের দ্বারাও, যে এদের কোন চাহিদা নেই, বোস্টন দখল করো আন্দোলনের প্রধান নির্ধারক শ্লোগানগুলোর একটি বলছে: আমরা কি চাই? বেশ শুরু হিসেবে….. ধনীদের উপর কর আরোপ কর, যুদ্ধ থামাও, সকলের জন্য কর্মসংস্থান ও চিকিৎসাসেবা (নিশ্চিত করঅনুবাদক)শুরু হিসেবে খারাপ নয়, তাই কি? ওয়ালস্ট্রীট দখল করো আন্দোলনকারীরা ইউনিয়নগুলোর সমর্থন পাচ্ছে এবং তার ধারাবাহিকতায় ইউনিয়নগুলোর সংগ্রামগুলোকে সহযোগিতা করছে। এর ধারাবাহিকতায় ইউনিয়নগুলো আবার দেখছে যে তাদের আরো প্রত্যক্ষ মুখোমুখি কর্মসূচী দরকার।

অনেকেই পুঁজিবাদএবং ব্যবস্থাটি রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলছেপ্রচুর সাইনে পুঁজিবাদ শব্দটি তাদের শ্লোগানে ছিল। অনেক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের স্থূল বৈষম্যের সাথে, অর্থবহ গণতন্ত্রের অভাবের সাথে, এবং বিপর্যয়কর অর্থনীতির সাথে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধসমূহের যোগসূত্র দেখছেন। পরিবেশের ধ্বংস যদিও প্রাথমিকভাবে অর্থনৈতিক/রাজনৈতিক ইস্যুগুলোর মতো একই মনোযোগ আকর্ষণ করেনি (যদিও কিছু পরিবেশ ভিত্তিক সাইন ছিল এমন একটিতে লেখা ছিল: সীমিত গ্রহের জন্য অসীম প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়), (কিন্তু এই ইস্যুটিঅনুবাদক) আন্দোলন থেকে মনোযোগ আকর্ষণ করছে। এবং কিছু পরিবেশবাদী গ্রপ দেখছে যে তাদেরও (এই অনুবাদক) বাহিনীতে যোগ দেয়া উচিত এবং দখল করো আন্দোলনের সাথে একযোগে সংগ্রাম করা উচিত। বিশ্ব দখল কর, জলবায়ু পরিবর্তন দখল কর, শ্লোগান হয়ে উঠেছে, এবং পরিবেশবাদী আন্দোলনকারীদের প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করছে যারা ক্রমবর্ধমানভাবে এই আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন।

বিংশ শতাব্দীর ক্ষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে, এটা নিশ্চিত যে যদি একটি আন্দোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্য পুঁজির হাত থেকে ক্ষমতা দখল না হয়, বাস্তবিকপক্ষে জনগণের ক্ষমতা না হয়, সংস্কার কর্মসূচী এবং প্রাপ্তিগুলো হবে সীমিত এবং সম্ভাব্য বিপরীতমুখী করার যোগ্য। যতই নিরাকার এটি হোক না কেন, দখল করো আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অনেকেই অনুপ্রাণিত হতে পারে, যারা বুঝতে চাইবে যে আমরা যেসব বিভিন্ন রাজনৈতিক/অর্থনৈতিক/সামাজিক/পরিবেশগত সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হই, সেগুলো পুঁজির শাসনের সাথে সম্পর্কিত, এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য অবশ্যই হতে হবে এর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা উচ্ছেদ করা এবং একটি নতুন সমাজ কায়েম করা। আর কখনোই এটি করার জন্য এখনকার চেয়ে ভাল সময় আসেনি।।

(ওয়ার্ল্ড পিস ফোরাম টেকইন, ভাঙ্কুভার, কানাডা, ১২ নভেম্বর ২০১১ তারিখে প্রদত্ত বক্তৃতার নোট থেকে অনুলিখন, mrzine.orgহতে সংগৃহীত)

ফ্রেড ম্যগডফ ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্টের উদ্ভিদ ও মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের ইমিরেটাস অধ্যাপক, এবং কর্নেল ইউনিভার্সিটির অতিরিক্ত অধ্যাপক। তিনি রাজনৈতিক অর্থনীতি নিয়ে প্রচুর লেখালেখি করেন। তাঁর সাম্প্রতিক বই গুলো হচ্ছে:The Great Financial Crisis (written with John Bellamy Foster, Monthly Review Press, 2009) and Agriculture and Food in Crisis (edited with Brian Tokar, Monthly Review Press, 2010) and What Every Environmentalist Needs to Know About Capitalism: A Citizen’s Guide to Capitalism and the Environment (with John Bellamy Foster, Monthly Review Press, 2011)

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s