লিখেছেন: ওমর শামস

art-45.

গভীর ষড়যন্ত্রে মুরগিটা হাইব্রিড হয়ে গ্যালো।

 

মাইনাস টু হবোহবো করতেই

একটা খাকি ব্যাটালিয়ান বিয়োগ হয়ে গ্যালা।

যাবার আগে ওদের জেনেটিক্যালিইঞ্জিনিয়ারড, বিশাল পিঁপড়েগুলো

চিনিসিরিয়াল, রিয়ালমার্ক, দামীদামী সোনামুগগুলো সার বেঁধে নিয়ে গ্যালো।

 

কন্যাঃ তোমার কয় ডিভিশন?

ভাবীঃ তোমার কয় ডিভিশন? নদীর ওপারে আম্রকাননে ক্যামোফ্লাজে?

আদার ব্যাপারি আমি, বুঝি না! আমি বাঁচি না!

থামো, এই বাহাসের ফলাফল কাউন্ট করো –

 

. গুড়ুম্‌ —– স্‌ —— স্‌—— স্‌ ——- ট্যা ——– ট্যা ——— ট্যা

পীলখানার অন্ধকার থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বেরিয়ে বল্‌লেন, “কিছুই দ্যাখা যায় না!”

গভীর ষড়যন্ত্রে মুরগিটা হাইব্রিড হয়ে গ্যালো।

. “পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে, আয়! — আয়! — আয়!” পদ্মা দিয়ে ছল্‌কেছল্‌কে

বয়ে যাচ্ছে ইলিশডলার। কই রে! ছিপ, জাল, পোলো ধর্‌ ধর্‌

গভীর ষড়যন্ত্রে মুরগিটা হাইব্রিড হয়ে গ্যালো।

. “শেয়ার মার্কেটের কলকব্জা, আমি কিছুই বুঝি না!” “৪০০ হাজার কোটি টাকা

তেমন কিস্‌সু না!” ইঞ্জিনিয়ারিং বোঝ না? প্রোগ্রেস! জিডিপি মানে বঙ্গোপসাগরে তেলের

খনি, বিল খুঁড়ে এয়ারপোর্ট, সুন্দরবনে পাওয়ার – আসলেই তো আমাদের পাবার! তোরা কে?

গভীর ষড়যন্ত্রে মুরগিটা হাইব্রিড হয়ে গ্যালো।

. ইন্‌সোমনিয়া, মানে ঘুম হয় না! ডাক্তার বললেন, “জিভ দ্যাখাও! কোষ্ঠকাঠিন্য? রক্ত

পরীক্ষা!” অবশেষে, এক্সরে দেখে বিচারঃ “তোমার ঘুমের ওপর দিয়ে ট্রাক যায়!

মানে বুকে ঠ্যাকে না, দেয়াল ফুঁড়ে যায় টাটার ১৬ চাকাঅলাঃ মেঘদূত এক্সপ্রেস, টু লাকসাম

আখাউড়াবিয়ন্ড তুমি z আন্তি পারো না!”

গভীর ষড়যন্ত্রে মুরগিটা হাইব্রিড হয়ে গ্যালো।

. মাকাল! মাকাল! সংসদের বাইরে ফোয়ারা, ভিতরে বিস্তীর্ণ বালির বরজ – মরুভূমি,

ঠাঠা হাওয়া আর বালিয়াড়ির পাশ দিয়ে রোজরোজ উজ্‌বুক উটেরা আসে আর যায়।

প্রতিবাদ!প্রতিবাদ! আমরা আসবো না, আসবো না – না! না! না!” “দ্যাখাচ্ছি, কাঁচিক্ষুর,

নিয়ে আয় শাসন নীতিমালাটাকে সাইজ করা যাক! –

গণতন্ত্র!গণতন্ত্র! বিশুদ্ধ গণতন্ত্রের জয়!”

গভীর ষড়যন্ত্রে মুরগিটা হাইব্রিড হয়ে গ্যালো।

 

.

সেই কবে থেকে অপেক্ষা! আহ্‌, বসন্ত আসছে – পান্তা, ইলিশ আর উদ্যত পলাশ! আর তখুনি, ফাঁসি চাই!ফাঁসি চাই! মিছিলে বুড়িগঙ্গা ঠেলে আসে। আর অন্য পাড়ার চৌরাস্তায়, ছেলেরা জড়ো হয়ে তখন জাতীয়তাবাদের ভলিবল খেলা শুরু করেছে – ভোর থেকে আরেক ভোর, গোধূলি থেকে আরেক গোধূলি। সূর্য আর নক্ষত্ররা ঘুরতেঘুরতে দেখছেঃ পুরোনো ক্ষত’র থেকে ঝরছে রক্ত – কালচে এবং সঙ্গে পুঁজ। আহা! কেউ ব্যান্ডেজ করে নি কেন এতোদিন? খোকারা তখনও খেলছে, আর ঘুমোবে না। ঘুমোবে কি ক’রে? ওদের মগজের মধ্যে মুক্তিচেতনার রেডিয়েশন। কাকে বলে মুক্তি? কিসের থেকে? কার জন্য? দুহাজার বছরে আমরা কোথায় এগোলাম!

 

আহা! আজি এ বসন্তে কত ফুল ফোটে?

বসন্তোৎসব! রক্তাক্ত শিমুল আর কপালের টিপের সঙ্গে কি সুন্দর মানিয়েছে কক্‌টেল!

নিবি, বড়োবড়ো তারাবাতি নিবি?

এই দ্যাখ, জ্বালিয়ে দিলাম দুটো বাস, তিন টে টেম্পু, ডেল কম্পিউটারের শো’কেসের কাচ –

দ ম্‌ দ ম্‌, ঝরররর্‌

সরকার পতন! সরকার পতন!

কে পড়লো? পালা! পালা! শোঁ শোঁ , ফটাস্‌!

দুড়ুম, গুম্‌, ট্যা ট্যা ট্যা –

ইতিমধ্যে খেলায় নাকি রেফারিও জুটে গেছে। বাঁশী বাজছে। দেখিব খেলায় কে হারে, কে জেতে?

 

আহা! আজি এ বসন্তে কত পাখি গাহে?

কু! কু! ঐ শোন কোকিল – বুঝবে না কোথায় – কাচেলোহায়কাঠে, নাকি পত্রপুষ্পিত ডালে!

পঞ্চমে ডাকে, মানেই অন্যের বাসায় কোকিলের ছাওয়া। ধন্য! ধন্য! জাতীয় পাখি, কোকিল কে নয়?

এখন আমাদের ডিএনএ’র মধ্যেই কোকিল কূ! কূ!

 

আর শালিখের দল, ওরা সবাই আবাবিল হয়ে গেছে। বাবুইগুলো তালগাছ থেকে খড়বাসা খশিয়ে মাথায় পাগড়ি বেঁধে ঘোরে! স্বপ্নের মধ্যে রেডিয়াম, ওদের খোয়াবের অন্ধকারের ঘড়ির ডায়ালগুলো কাউন্টারক্লকে ক্লিকক্লিক উল্টেউল্টে ঘোরে ভবিষ্যত থেকে অতীতে। এখন মানকচু, আমলকী আর আশশ্যাওড়ার মধ্যেও মাজেজার গান! চঞ্চুডাকে আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে ওরা?

 

.

এর মধ্যেই ভেঙে পড়লো এক আকাশ মৃত্যুঃ ছাদপিলারদেয়ালকড়িবিমকংক্রিটের তলেঃ

হাত কেটে হলেও, আমাকে উদ্ধার করো!

আমি শ্বাস নিতে পারছি না, বাঁচাও!

আমার শিশু দুধ খায়নি তিন দিন!

আমার বৃদ্ধা মার আর কেউ নেই!

আমি বেঁচেছি কিন্তু আমার ভাই?

আটখানা ছাদ, কি আর্তনাদ -”আমাকে বাঁচাও”।

মন্ত্রীদের বক্তৃতা, মিডিয়ার টকশো, সম্পাদকের কলম, দলীয় বিবৃতি সমস্ত কুয়াশাকয়লাক্বাথবাথরুমের সর আর স্তূপাকার বর্জ্য বিয়াল্লিশ বছর ধুয়ে খুব স্পষ্ট হয়ে গ্যালো, গ্যালো নাকিঃ কে লুটে খায়? কার নামে? কি ভাবে খায়? আর কেন নিরানব্বুই শতাংশ বারেবারে নিগৃহনিষ্পিষ্টনির্যাতিত হয়?

* * * * *

আজান হবে। ভোর এখনো হয় নি। ক্রৌঞ্চকাদম্বকুলালশ্যামাশিখীপিকপাপিয়া সম্ভ্রান্ত বিহঙ্গকুল তো ঘুম ভাঙাবে না। কুক্কুট, মানে মুরগিকেই গায়ত্রীর উচ্চারণ করতে হবেঃ মাভৈ! মাভৈ! কিন্তু হাইব্রিড কই? গভীর ষড়যন্ত্রের গিনিপিগ কিম্বা লাভেরলোলুপতার কিম্বা সম্বিৎহীন নিদ্রাকাতরতার সংকর, হাইব্রিড কই? এই নগর, কেন্দ্র, ক্ষমতা, রাজনীতি, পররাষ্ট্র, বাণিজ্য, ব্যাংক, গ্লোবালাইজেশন ছেড়ে সে চলে যাচ্ছে; কাঠকাচবিমবর্গাপীচসিমেন্টধুলোধোঁয়া, কোকিলের কূআর্ত সম্রাজ্য ত্যাগ ক’রে সে ফিরে যাচ্ছে তার আদি নিবাস নিলফামারিঝিনাইদহনড়াইলের সবুজহলুদ প্রান্তরশোভিত কোন জবালাউপেয়ারা তলার প্রশান্তির নীড়ে।।

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s