ছবি

০৬.

art-1-পোষ্টারের ছবিটা বহুবার দেখেছি তোমার ঘরে

অমন শক্ত ফ্রেমে ছবিটা আটকালে কেনো !

প্রশ্নটা ছূঁড়ে দিয়ে হাত দিয়ে ছুঁলে ছবিটা

জোনাকীর মিহিন আলো ছড়িয়ে পড়লো তোমার স্পর্শে

তুমি আমার দিকে তাকালে, যেনো

হাজার প্রশ্নে ফুটেছে বিস্ময়

 

খানিকটা নীরবতার পর আমি বললাম

মাঝে মাঝে ছবির মানুষটি গণ্ডি ভেঙে বেরিয়ে পড়ে

ছাদ সমান উঁচু হয়ে হাঁটে কাঁপায় রাত্রি

দরোজা খুলে যায় জানালায় আছড়ে পড়ে বাতাস

বিছনাপত্র বই কাগজ ফরফর উড়তে থাকে

উড়তে থাকে কবিতা সোনালী পাখায়

আর সমস্ত অস্তিত্ব কাঁপিয়ে তিনি হুঙ্কার দিয়ে ওঠেন ‘খামোশ’

সব থেমে যায় সময়ের কাটা কিংকর্তব্য বিমুঢ়

সমুদ্র গর্জন আছড়ে পড়ে এই ঘরে

আর নদীগুলো লাফিয়ে ফেরে

আমার হৃদপিন্ড থামিয়ে রাখে ছন্দিত স্পন্দন

আমি শুনতে পাই তিনি বলছেন ‘সব শুয়োর হারাম

জালিমের কোন ধর্ম নেই’

তারপর তিনি তাঁর তালডগার টুপি বাইরে ছুঁড়ে দিলে

বিমুগ্ধ আলোর প্রশান্তি নামে বকুল বাগানে

সমস্ত বৃক্ষেরা নুয়ে পড়ে সম্ভ্রমে

আর তাঁর অলৌকিক হাত দীর্ঘ হয়ে আকাশকে ছূঁয়ে দিলে

ইতিহাসের পাতাগুলো উল্টে যেতে থাকে

ছুটতে থাকে তারকারা, যেনো

মহাপুরুষের শ্বেতশুভ্র পোশাকের ভাঁজে পেয়ে যাবে অমরতা

আমার ঘুম ভেঙে যায় অন্ধকারে জোছনারা হাসে

আমি চোখ বন্ধ করি কারণ ওই মানুষটি যদি বলেই বসেন

হ্যা, অন্তরের আগুন জ্বালোআগুনই প্রতিকার!

১৭.১১.১২

——————-

০৭.

একত্রে আছি চিনি না তাকে

প্রতিদিনের আলো ছড়ায়গড়ায়

পথের মাঝে পথ ফুরায়

কতো জানালায় দেখি তার মুখ

 

সারাদিন আমি জাগি সেও কি জাগে?

আমি অলস বসে থাকি

হায়, কেন অধরা থেকে যায়

পাতাগুলো ঝরে

২০.১২.১২

————————

০৮

.

ভাবছিলাম কতো কিছু নিয়েঘুরে ফিরে বিশ্বজিৎ

নিথর শরীর : বিশ্বজিৎ কি ঘুমিয়ে আছে?

দৃশ্যটা রিউইন্ড হলে আমি দেখলাম দৌঁড়াচ্ছে নেকরের

পালিয়ে যাওয়া শিকার

সে মৃত, মৃত বিশ্বজিৎ আমার ভাবনায় ঢুকে পড়ছে

সে কি কিছু বলতে চায়? বিশ্বজিৎ কিছুই বলছে না,

আমি জানিনা সে আর কিছু বলবে কিনা

মৃতেরা কখনো কাউকে কিছু বলে না

 

কতো হাজার বছর গেলো হায় মানুষতবুও নেকড়ে!

২০.১২.১২

————————-

০৯.

.

নীরবে পড়ে আছে মৃত পাখিটির মতো

গভীর অরণ্যের মাঝে যে কোলাহল সেতো সেখানেও নেই

সে দৌঁড়াচ্ছিল প্রাণটাকে ধরবে বলে

অথচ আমরা বেঁচে আছি অদ্ভুত নিয়মে

আমরা খুব স্বাভাবিক হাসিটা হেসে যাচ্ছি প্রতিদিন

যেনো পাহাড়ের ওপারে কখনো কোনো একদিন কিছু ঘটেছিলো

ভালোবাসার শব্দগুলো ফ্রিজ হয়ে গেছে

 

তারপরেও সময় বইবে, ভিজবে পথ, শিশির ভেজা ডানায়

উড়বে পাখি, দিনের সীমান্ত ভেঙে ফুটবে চাঁদ

আর এক দুঃখিনী মা’ বার বার তাকাবে রাতের আকাশে একা

চিনতে চাইবে চাঁদের কোলের তারার মতো

নাকি চাঁদের মতো ছিলো তার মুখ!

 

হায়ানারা মোটাসোটা হবে রাজনীতির উৎসবে

——————————

 

চোখ তুই দেখে নে

চোখ তুই দেখে নে আজ, ভালো করে দেখ আলো ফেলে ফেলে

মানুষের ভাগ্য লিপি, পড়তে পারবি! পারবি না কেনো? মাউসটা ঘুরা

ক্লিক কর দেখ জীবন আর মৃত্যু কতো কাছাকাছি দুই সহোদর

শুয়ে আছে তাল তাল কংক্রিট লেপে। দেখ ছবি ছায়াচোখ পায়ের নুপুর

বাঁচিবার স্বাধ; কি অবাক কি অবাক

ভাঙা হাত,ছেড়া পাঁজর, দুমড়ানো পা থেতলানো মাথা না আর না

উপড়ানো চোখ দেখছে যেনো নিজের ললাট

চোখ আজ তুই খোলামেলা হ’ প্রসারিত হ’ বিস্তৃত হ’ দৃশ্য সাজা

ক্ষমতারলোভেরদাপটেররাজনীতির স্বার্থের বিবৃতি

শোন দেখে নে, মানুষের মৃত্যুর হোলিউৎসব

সড়কেরাস্তায়গৃহে, ময়দানে নেমে আসছে অচেনা আওয়াজ ।

 

চোখ তুই দেখ, দেখে নেবলিস যদি কিছু দলবাজ হয়ে যাবি

তবু দেখ খোলামেলা দেখ দূরত্ব ঘুঁচিয়ে কাছ থেকে দেখ এই মৃত্যুর

কোন জবাব পাবি না । দেখ, দেখে নে মৃত্যুর ঝাঁক কাঁধে চড়ে হাঁটছে কোথায় নয়

থামছে না কেউ, বলছে না খামোশআর নয় একটুও নয় একবারো না

এই দাঁড়ালাম শক্ত মাটিতে পূঁতে পা শোনএকচুলও নড়ছিনা

স্বার্থপর রাজনীতি আর তার যতো পরগাছা নিপাত যা নিপাত যা

 

চোখ তুই দেখে নে, ভালো করে দেখে নে,আলো ফেলে ফেলে দেখ

মানুষের বুকের স্ক্রিনে ব্রাউজ কর ঠিক মতো ক্লিক কর পড়তে পারবি

লেখা আছে ‘আজ তোমাদের ছিলো কাল হবে আমাদের-’

২৮.০৪.১৩

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s