সাভারে ভবন ধ্বসে গণহত্যার ঘটনায় জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ-এর বিবৃতি

Posted: এপ্রিল 27, 2013 in দেশ
ট্যাগসমূহ:, , , , ,

gonomancha-banner-2

২৪ এপ্রিল ২০১৩

সাভারে ভবন ধ্বসে গণহত্যার ঘটনায় ভবন মালিক, গার্মেন্টস মালিক, ভবন অনুমোদনকারী পৌর কর্তৃপক্ষসহ দায়ীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে

প্রত্যেক নিহতের পরিবারের জন্য ২০ লক্ষ এবং গুরুতর আহতদের জন্য ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতি পূরণ দিতে হবে

 

আজ ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা নামের একটি ৮ তলা ভবন ধ্বসে শতসহস্র শ্রমিক হতাহতের ঘটনায় জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছে। এ ঘটনা আবারো স্পষ্ট করেছে যে মালিকের বেপরোয়া মুনাফার আকাঙ্খার কাছে অকাতরে বলি হচ্ছেন দেশের নিরীহ শ্রমিক ও জনগণ। এবং জনগণের নিরাপত্তার প্রতি রাষ্ট্রের উদাসীনতাই শত শত মানুষের এ নির্মম মৃত্যুর জন্য দায়ী। সুতরাং এটি কোন দুর্ঘটনা নয় । বরং রাষ্ট্রসরকার ও মালিক শ্রেণী দ্বারা সংঘটিত নৃশংস শ্রমিক গণহত্যা।

রানা প্লাজার আট তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন থাকলেও এগার তলা ভবন নির্মাণ করা হয়। নির্মাণ ত্রুটির কারণে ২৩ এপ্রিল রানা প্লাজার ভবনটিতে ফাটল দেখা দেয় । সে সময় স্থানীয় প্রশাসন ও প্রকৌশলীরা ভবনটি পরিদর্শণ করে। তারা এ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনার জন্য বলে। কিন্তু রানা প্লাজার মালিক স্থানীয় যুব লীগ নেতা সোহেল রানা বিষয়টি তোয়াক্কা না করে উল্টো স্থানীয় সাংবাদিকদের এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেন। ভবনের প্রথম তলায় ব্রাক ব্যাংকসহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছিল। গতকালই ব্যাংকের সব কর্মী প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যান। আজ আর ব্যাংক কর্মীরা আসেন নি। কিন্তু ভবনের তৃতীয় থেকে ৭ম তলা পর্যন্ত অবস্থিত গার্মেন্ট কারখানাগুলোতে কোন ছুটি দেয়া হয় নি। এমন কি কাজে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানালেও শ্রমিকদের জোর করে ভবনে ঢোকানো হয়। ঈদ ও হাজিরা বোনাস কর্তনের ভয় এবং মাসিক বেতনের জন্য শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে বাধ্য হন। তাই এ হত্যার দায় মুনাফাখোর গার্মেন্ট ও ভবন মালিকদের।

রানা প্লাজা ভবন ধ্বসের এ ঘটনা প্রথম নয়। এর আগে ৯ তলা স্টোকট্রাম গার্মেন্ট ধ্বসে পড়ে কয়েক হাজার শ্রমিক মাটিতে মিশে যান। গত বছরের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তোবা গ্রুপের তাজরিন ফ্যাশন কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে কয়েক হাজার শ্রমিক নিহত হন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় স্মার্ট, গরীব এন্ড গরীব, হামীমসহ অনেক গার্মেন্টে আগুনে পুড়ে হাজার হাজার শ্রমিক কয়লা হয়ে গেছে। প্রতিটি ঘটনার পরই ব্যবস্থা নেবার আশ্বাসই কেবল সরকার দিয়েছে। আজ অবধি কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয় নি। এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কোন গার্মেন্ট মালিককে আইনের আওতায় আনে নি। শাস্তির ব্যবস্থা করে নি। এমনকি যে সামান্য ক্ষতিপূরণ শ্রমিকদের দেয়া হয়েছে তার দায়িত্ব মালিককে বহন করতে হয় নি। বরং মালিকের পক্ষ হয়ে রাষ্ট্র জনগণের অর্থ দিয়ে সে দায় মিটিয়েছে। সাম্রাজ্যবাদের অনুকূল্যে প্রতিষ্ঠিত এ শিল্পের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় নিয়ে মালিকরা বিরাট কৃতিত্ব দাবী করেন। সুযোগসুবিধা দাবী করেন। অথচ কাজের নিরাপত্তা, শ্রমঘন্টা, ন্যায্য মজুরীর দাবীতে শ্রমিকরা যখন আন্দোলন করে, তখন তাদের গুলি করে, গুম করে হতা করা হয়। শ্রমিকদের আন্দোলন ও সংগঠন দমনের জন্য সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে শিল্প পুলিশ গঠন করেছে। কিন্তু শ্রমিকের নিরাপত্তার জন্য তদারক ও উদ্ধার কাজের ন্যুনতম ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয় নি। এভাবে সাম্রাজ্যবাদ, বড় মালিকদের স্বার্থ রক্ষক সরকার ও রাষ্ট্র বারবার শ্রমজীবী জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে।

আমরা শ্রমিকজনতার চরম নিরাপত্তাহীনতার এ ব্যবস্থা অবসানের জন্য ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হবার জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। একই সাথে দাবী করছি, প্রত্যেক নিহতের পরিবারের জন্য ২০ লক্ষ এবং গুরুতর আহতদের জন্য ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতি পূরণ ও আহতদের প্রত্যেককে বিনামুল্যে চিকিৎসা দিতে হবে। অবিলম্বে রানা প্লাজার মালিক ও প্লাজায় অবস্থিত গার্মেন্ট মালিকদের গ্রেফতার করতে হবে, বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

.

 

মাসুদ খানরাতুল বারী

আহ্বায়ক সদস্য সচিব

.

অস্থায়ী কার্যালয়: ৮৪//, সাদেক খান রোড,

রায়েরবাজার, ঢাকা১২০৯।

মোব: ০১৭১২৬৭০১০৯।

ইমেইল– gonomancha@yahoo.com

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s