revolutionary-force-2বিদ্রোহ হোক

(কবি শেখ বাতেন বন্ধু বরেষু)

 বিদ্রোহ হোক চলতে ফিরতে চলায়

বিদ্রোহ হোক দেখায় শেখায় বলায়

বিদ্রোহ হোক বীজফশলের বাড়ায়

বিদ্রোহ হোক মনের সকল ধারায়

 

বিদ্রোহ হোক সকাল দুপুর রাত্রি

বিদ্রোহ হোক পথিকের সহ যাত্রী

বিদ্রোহ হোক কাগজেকলমে আঁকায়

বিদ্রোহ হোক আজকে জীবন চাকায়

 

বিদ্রোহ হোক তোমার কথাটি শুনতে

বিদ্রোহ হোক সময় আজকে গুণতে

বিদ্রোহ হোক জানা অজানার তর্কে

বিদ্রোহ হোক গ্রহণের নয়া শর্তে

 

বিদ্রোহ হোক নিত্য নতুন গল্পে

বিদ্রোহ চাই অগ্নির মতো অল্পে

বিদ্রোহ হোক প্রগতির আলো কাম্য

বিদ্রোহ হোক অলোক আলোয় সাম্য

 

বিদ্রোহ চাই সমাজে জীবনে অঙ্গে

বিদ্রোহ হোক তোমার নিয়ম ভঙ্গে

বিদ্রোহ হোক বিদ্রোহী রাজপথ

জ্বালুকযতো অচল পথের রথ

 

বিদ্রোহ হোক প্রতিটি ক্ষণের ভাবনায়

বিদ্রোহ হোক চেতনার মাঝে আপনায়

বিদ্রোহ হোক ভূমি থেকে অই উচ্চে

বিদ্রোহ হোক সকল শোষণ গুচ্ছে

 

বিদ্রোহ হোক প্রগতিরূদ্ধ চিন্তায়

বিদ্রোহ হোক মহাউল্লাস এক ধ্বনি

বিদ্রোহ হোক ভীমের গদার বনবন

বিদ্রোহ হোক ঝঞ্ঝার মতো শনশন

 

বিদ্রোহ হোক সকল চলার গতি

বিদ্রোহ দিক তোমারনিয়মে যতি।

.১১.১২

 

পঙক্তিমালা

০১.

ইতিহাস পুণরাবর্তিত হয় না

মানুষের সংগ্রাম প্রতিমূহুর্তে বদলায়

পুরাণো পাতা ঝরে

প্রতিটি জীবন নতুন করে উঠে আসে

আগামীর চেতনায়।

২৪.১১.১২

 

০২.

আমরা যারা পাহাড় দেখি সমুদ্রগর্জন শুনি

মদের গ্লাশে খুলেমেলে ধরি প্রতিভা

আমরা যারা ফ্রাই চিবোতে চিবোতে

তৃপ্তির হাসিটা হাসি

ওরা তার কিছুই দেখে না

ওরা সেই সময়টার মাঝে আটকে থাকে

যেখানে পড়ে আছে সাথীদের লাশ

আগের রাতেও যারা ফ্রন্টে ঘুমিয়েছিলো

তারা কী একটা মিনার

আমাদেরে দিলো !

২৪.১১.১২

 

০৩.

পাখিটা উড়ছে আকাশে

শকুন গুলো মৌজ করে খেয়ে নিচ্ছে সব

বাজটা উড়তে উড়তে দেখে নিচ্ছে বদ্বীপগঠন

খাড়ি মোড় বাঁক সর্বাধুনিক চোখে

এক্সরেপ্লেটে মাটির তলার কঙ্কাল

ইলেকট্রনিকস মস্তিষ্কে চলছে তথ্যের নির্মাণ!

পাখিটা দেখছে নুয়ে পড়া বিচ্ছিন্ন মানুষ

ভূমির চারদিকে অজগর বেষ্টনি

সময়টা কী বাজ আর অজগর আর শকুনের !

তা’হলে মানুষ!

মানুষ কী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে

আত্মঅপমানের দৃশ্যাবলী?

 

আকাশের স্ক্রিনে দীর্ঘ ব্ল্যাক আউট ।

২৬.১১.১২

 

০৪.

সব কিছু দাঁড়িয়ে আছে স্থির

যেই বৃক্ষগুলো এতক্ষণ বাতাসে দুলছিলো

দুলছিলো ছাঁয়াগুলোথমকে গেছে সব

সময়ের উষ্ণতায় নামছে হিম

গ্রামের পথগুলোয় সরিসৃপের দৌঁড়

আর পাঁচতারা হোটেলে চলছে ভোজ

চমৎকার তাজা কলিজার কবাব

রক্তের গাজন থেকে তুলে নেয়া মদ ..নাচছে রূপসী..

সময়ের অন্ধকারে পথ হাতড়াচ্ছে মানুষ

তারা কী দেখছে গনতন্ত্রের ঘোড়া দৌঁড়াচ্ছে!

 

তারপরও ভোটের মুরগীগুলো যদি থাকে, ভালো

না থাকলে তা’ হয় খুবই নান্দনিক

২৭.১১.১২

 

০৫.

কারা গাইছে, চারণ কবি ! দাঁড় টানার সুর !

নাকি বুকের ভেতর এই এক ওঠানামা

রক্তের জোয়ারভাটা কাঁপাচ্ছে দেহকান্ড?

সব পথ অন্ধকারেকারা হাঁটছে, কারাইবা হাতুড়ি পিটায়

নাকি কেউ আসছে, উঠছেনামছে

কারা বইছে সময়ের ভার উঠাবে পাহাড়ে ?

 

নাকি এক রাত্রির গল্প বলবে বলে

উড়ে এসে বসলো একদল রাতজাগা পাখি ডানার আওয়াজ!

পানি কী উজানে যাচ্ছে? কোন মোহনায় !

চাঁদহীনরাত্রি অন্ধকার

কে কাকে করছে খুন, কাকে নিয়ে যাচ্ছে গোরে।

ফিশফাশ করছে কারা!

ক’জন মানুষ পাঁচটা মাথা দশটা হাত ছড়িয়ে পড়ছে

কে দেখছে কাকে কার মরা মুখনিজের! আত্মজের?

একটা স্বপ্ন ছিঁড়ে ছিঁড়ে টুকরো হচ্ছে মিলিয়ে যাচ্ছে

রুগ্ন দিনের মরে যাওয়া এক ইচ্ছে

৩০.১১.১২

—————————————–

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s