লিখেছেন: তৃষা বড়ুয়া

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ভর্তি হলাম তখন মা টেনশান করতো। শিবিরের আখড়াগোলাগুলিতে না মেয়ে মরে টরে যায়!! আমারও একটু কেমন কেমন করতো। ইশবাবামা কেনো পাঁচ বছর আগে বিয়ে করলেন না! তাহলে কত ভালো হতোবিপদে পড়লে লীগের ভাইরা আমাদের দেখতো!

মাসকয়েক পর চাকসু ক্যাফেটেরিয়ায় এক বড় আপু বললেন, ‘তোমরা অনেক ভাগ্যবান! লীগের পিরিয়ড তোমরা দেখোনি!’

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে কেন কি হয়েছিল সে সময়? জবাবে যা শোনালেন তাতে আমি থ! এ কি করে সম্ভব? শুধু একটা উদাহরণই যথেষ্ট সে সময়কার পরিস্থিতি বোঝার জন্য।

শাটল ট্রেনে বসতে হয় মুখোমুখি, চেয়ার কোচ টাইপ না। একটাতে ৩ জন আর বিপরীত সিটেও ৩ জন বসতে পারে। এবং এই দুই সিটের মাঝে দাঁড়ানোর মত স্পেস নাই। বোঝাই যাচ্ছে বেশ congested। এক সিটে ৩ জন ছাত্রী বসার পর অপর সিটে বসা লীগের ছেলেরা মেয়েদের লক্ষ্য করে অশ্লীল কথাবার্তা বলতো। এবং এক পর্যায়ে তারা চটি বই বের করে মেয়েদের মুখের সামনে জোরে জোরে আবৃত্তি করতো আর অশালীন জঘন্য অংগ ভঙ্গি করতো। বেচারা মেয়েরা না পারতো উঠে যেতে, না পারতো জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকতে। কারণ তখন চটি বইগুলো তারা জানলার দিকে মেলে ধরতো।পুরো সময়টা তাদের মাথা হেট করে বসে থাকতে হতো, কিচ্ছু করার থাকতো না। এছাড়া আজেবাজে কমেন্ট, হলের নাম্বারে ফোন করে নোংরামি এসব তো আছেই।

তবে সব চেয়ে বেশী যন্ত্রনার শিকার হতো বামপন্থী রাজনীতি করা মেয়েরা। শামসুন্নাহার হলের আন্দোলনে ছাত্রদল আমাদের দেখিয়ে দেখিয়ে বলে, ‘এই সব ক’টারে চোদাইয়া আন্দোলন কারে কয় দেখান লাগবো!’ সে সময় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি সুমি আপুকে যতভাবে সম্ভব মানসিক ধর্ষন করতে তারা ছাড়ে নি। ‘ইশশশএকবার যদি acrobatic বাম মেয়েগুলোরে মনের সুখে চুদতে পারতাম, জীবনটা ধন্য হয়ে যেত!’ এই ছিল তাদের মনোবাসনা। আচ্ছা, এই মনোবাসনার সাথে পাকিস্তানি আর্মিদের কী কোনো পার্থক্য আছে? তাদের থিয়োরী ছিল, ‘মালাউন চুদলে আরাম বেশী, দিল ঠান্ডা থাকে!’

পার্থক্য একটাই, তখন দেশ ছিল ‘পরাধীন’ আর আজ দেশ ‘স্বাধীন!’ নয় মাসে পাকিস্তান রাষ্ট্র ধর্ষণ করে ২ লাখ বাংলার নারী। আর ৪২ বছরে কয় লাখ ‘স্বাধীন’ দেশের ‘স্বাধীন’ নারী ধর্ষিত হয়??? পাকিস্তানিদের আসলেই আমরা হারিয়ে দিয়েছি!!!

women's power-5

প্রথম দিকে রাগেক্ষোভে কান্না পেতো। কিন্তু কাদঁতে কাঁদতে এসব সহ্য করে আমরা রাজনীতি করেছি, করছি, করবো। কি করবে তারা? ধর্ষন করবে? তারপর মেরে ফেলবে? বেগম রোকেয়া, প্রীতিলতার দেশের মেয়েরা রাজপথ ছাড়বে না, ছাড়ে না! এই জানোয়ারদের ধরে ফাঁসিতে না ঝোলানো পর্যন্ত লড়াই থামবে না। গার্মেন্টস শ্রমিকদের পুড়িয়ে মারবে তো? মারুক না। কত মারবে? তারা বদলা ঠিকই নেবে! একটাকে মারলে ঐ জায়গায় ১০ জন দাঁড়িয়ে যাবে!!!! ১০ জন মারলে ১০০ জনএভাবে বাড়তেই থাকবে, মিছিলের শেষ নেই!!!!!

কিন্তু আজ কেন যেন অন্যরকম লাগছে। যে সব অমানুষরা ক্যাম্পাসে/ট্রেনে মেয়েদের মানসিক ধর্ষন করতো, সেই কাতারে বাবার বয়সী হাসনাত আবদুল হাইকে বার বার ঐ ছেলেগুলোর পাশে বসে চটি খুলে আবৃত্তি করতে দেখছি কেন? কেন তার মুখে ‘চোদাইয়া আন্দোলন কারে কয়’ শুনছি ? একে কি হ্যালুসিনেশান বলে? তার মেয়েরাও কি এই হ্যালুসিনেশানে ভোগে???

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s