লিখেছেন: মেহেদী হাসান

rumi-squad-5-যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর কেন্দ্রিক পুরো বাংলাদেশ জুড়ে গণজাগরণের হাওয়া বইতে শুরু করে। অনেক বেশী লোকের সমাবেশ হওয়ার কারণে এবং এটা যেহেতু একটা বড় ধরণের গণজাগরন সুতরাং তার দরকার পড়েনি হিংসাত্বক হওয়ার। অহিংস পদ্ধতিতেই এই আন্দোলন চলে আসছে অনেক দিন ধরে।

কিন্তু আন্দোলনের ধারাবাহিকতার একপর্যায়ে এসে দেখা গেল ঘোষকদের অহিংসার পদ্ধতি হাস্যকর পর্যায়ে এসে ঠেকেছে। জনগণ প্রচন্ডরকম মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে আস্থা হারিয়ে ফেলে পিছু হটতে শুরু করে। জনগণ তাদের বুকের ভেতরে যে দায় বা তাগিদ অনুভব করেছে তাতে করে তারা প্রজন্ম চত্বরে সমবেত না হয়ে পারেনি। জনগণের অধিকাংশই হয়তো কোনদিন রাজনীতি করেনি বা কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে তেমন ভাবে সম্পৃক্তও ছিলনা। তারা বিশ্বাস করেছিল রাজনৈতিক বোধ ও সাংগঠনিক দক্ষতা সম্পন্ন উন্নত চিন্তার ব্লগার ও প্রগতিশীল সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে তারা তাদের দাবী আদায়ের পথে সামনের দিকে অগ্রসর হবে। অচিরেই তাদের সেই বিশ্বাসে হোঁচট লাগেতারপরেও তারা থেকে যাওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু একপর্যায়ে তারা নিজেদেরকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

শহীদ রুমী স্কোয়াড” নামে কিছু উদ্যমশীল, রাজনৈতিকভাবে সচেতন কিছু তরুণ প্রথম থেকেই এই গণজোয়ারের অভ্যন্তরে তাদের অবস্থান বজায় রেখে আসছিল। তাদের বর্তমান আমরণ অনশনের কর্মসূচী দেখেই বুঝতে পারা যায় ঘোষকদের অহিংস আন্দোলনের হাস্যকর কিছু কর্মসূচী দেখে তারা ভেতরে ভেতরে ফুসছিল। কারণ যখন যুদ্ধাপরাধীরা ৭১ এর ১৪ ডিসেম্বরের মতো ধরে ধরে আন্দোলনের কর্মী, প্রগতিশীল ব্লগার, গণজাগরণ মঞ্চের নেতার বালক ছেলে, যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে সাক্ষীর ভাই এরকম আরো কয়েকজনকে এই স্বাধীনদেশে হত্যা করে যত্রতত্র ফেলা রাখা হচ্ছিল তখন ফানুস উড়ানোর মত বা এই ধরণের কর্মসূচী যে কারো কারো মেনে নিতে কষ্ট হবে এটা খুবই স্বাভাবিক।

বাংলার জনগণের কাছে আশার ব্যাপার কিছুটা দেরীতে হলে সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্তটি রুমী স্কোয়াড নিয়ে ফেলেছে। ঠিক এই মূহুর্তে আমাদের প্রত্যেকের উচিত সকল জড়তা ঝেড়ে ফেলে তাদের এই আমরণ অনশন কর্মসূচীর প্রতি সংহতি প্রকাশ ও পুরোমাত্রায় সমর্থন জ্ঞাপন করে লাখে লাখে রাস্তায় বেরিয়ে এসে প্রথম দিককার মত শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরকে ভরিয়ে ফেলা। এবং ঘোষক যারা ছিলেন তাদের উচিত নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে শহীদ রুমী স্কোয়াডের পেছনে অবস্থান করা। কারণ এই মুহূর্তে সবচেয়ে সঠিক এবং সময়োপযোগী, এগিয়ে থাকা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটা এসেছে শহীদ রুমী স্কোয়াডের কাছ থেকে ঘোষকদের কাছ থেকে নয়। একজন কি দুইজন ব্লগার শুধু বিভিন্ন কিছুর ধোঁয়া তুলে জনগণকে তাদের এই কর্মসূচীর ব্যাপারে জনগণকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করছেন এবং সাথে সাথে সমুচিত জবাবও পেয়ে যাচ্ছেন। এই এক, দুইজন বাদে সকল ব্লগার শহীদ রুমী স্কোয়াডের এই কর্মসূচীকে অকুন্ঠ সমর্থন জানাচ্ছে।

শহীদ রুমী স্কোয়াডের প্রত্যেকটি তরুণ যেন আজকে শহীদ রুমী হয়ে উঠেছে। তোমাদেরকে স্যালুট জানাচ্ছি।।

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.