সঠিকের অহংকার/১১..১২

art works-14-এক থেকে বহুত্বের দিকে এই যাত্রা?

.

এক আছে বলে বহুত্বের ভাব

প্রকাশে তারা এক থেকে একদিন

দুই হলো! দু’য়ে দু’য়ে চার হলো!

তারপর নানা রঙা ফুল রূপলাবণ্যহীন

এককের আঙিনায় যখন বহুত্বের ভাব

সংখ্যায় বড়লো তারা দ্বীপ্তিহীন

সীমিত সীমান্তে ফুটলো প্রকাশ বিহীন

কেবল গুটি গুটি ফুল দানার মতো

গোত্রেবর্ণে প্রায় এক

তবে নানা নামে ভিন্ন হলো

তারা সবাই অসল ভেজালের প্রকাশ নয়

অসলের নকল নয়

তবু তারা বিস্তর ফারাক নিয়ে ফুটলো

ফুটতে থাকলো হরেক মিশেলি ফুল

শুধু প্রজাপতি উড়লো না গাইলো না পাখি

মৌমাছিরা তাকালো না কুসুম কাননে

.

মানুষ মাঝে মাঝে চেয়ে চেয়ে দেখে

একা একা তারা কিংবা কখনো

তারা নিজেদেরে দেখে

দেখে আর ভাবে কতো রকম পাপড়ি তাদের

কতো বিস্তর নাম বিভাহীন ফুল

ফুল্লকুসুম আনন্দহীন সুরে

অছে বহু ভাগে সঠিকের অহঙ্কারে

.

হায়, এই দানাগুলো কবে দানাদার হবে

কবে যাবো কুসুম কাননে, নাকী

কোনো জাদুঘরে পেয়ে যাবো টেরাকোটা মূর্তি

বিলুপ্তির বিচিত্র নিয়মে!

————————————————-

নিস্তব্ধতার গল্প

নিস্তব্ধতার মাঝে যে আলোড়ন থাকে নানা সামাজিক ক্রিয়ায়

একদিন তার মাঝে প্রচঘা’ পড়লে

জলতরঙ্গের মতো কেঁপে ওঠে বেদনার বৃন্তগুলো

আর আশপাশের লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়লে সেই সব

বেদনার বুক থেকে ফুঁশে ওঠে ক্রোধ, তখন সকল হারাণোর

কষ্টগুলো প্রতিশোধের আগুন হয়ে দ্বিগুণত্রিগুণ এমন কী

সকল নিয়মের মাত্রা ভেঙে একটাই নিয়ম হয়ে যায়বিদ্রোহ।

.

ক্রোধের সেই সব প্রকাশ থেকে নীলির্মা প্রশান্তি ছিঁড়ে বেরিয়ে পড়ে

গনগনে আকাশ,যেখানে কেবল সূর্যতাপ,তীব্রদহণ আগুনের হাওয়া

পুড়িয়ে ফেলে আজগুবি নিয়মরীতিজুজুর ভয় অকারণ ভয়ভীতি

চাপিয়ে দেয়া আইনকানুন ভূখের সীমা রেখামুক্তি নামের মিথ্যে

ইতিহাস,বদলে যায় পুরাণো পতাকা নতুনের অভিষেকে

.

মানুষের নিস্তব্ধতা বহুবার প্রমাণ করেছে মানুষের জাগরণের

অদ্ভুত নিয়ম আছেপ্রাণশক্তি আছে পরিস্থিতি থেকে চিনে নেয়ার

নিজের মানুষ, তখন তারা কাউকে আর তোয়াক্কা করে না।

.

০৩.০৬.১২

————————————————-

ইঁদুরের গল্প

কয়েকটা ইঁদুর সারাদিন এঘরওঘর করে লাফায় দৌঁড়ায়

চিকন দাঁতে কেটে ফেলে সকল সংযোগ, প্রয়োজনীয় পরিচ্ছদ

তাকের বই গুরুত্বপূর্ণ নোট, মেইল ঠিকানা

বিছিন্ন করছে গৃহবাসী এক থেকে অন্যকে

বোধ থেকে বুদ্ধিকে,অনুভূতির সকল দরোজা থেকে

সরিয়ে ফেলছে ভালোবাসা

তারা খেয়ে ফেলছে খাদ্যদানা যা কিছু রসূইখ্নাার ।

.

কয়েকটা ইঁদুর এই ক্ষণে সারা ঘরময় ছুটছে দৌঁড়াচ্ছে

দেখে নিচ্ছে কোথায় আরো কী কী বাকি রয়ে গেছে

মাত্র কয়েকটা ইঁদুর আমাদের ঘরেদোরে অগুণতি ইঁদুর যেনো

আমাদের বেঁচে থাকায় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছে

.

মাত্রতো কয়েকটা ইঁদুর এই মূহুর্তে আমাদের চারপাশে

রাস্তাঘাটে, হাটে ময়দানে মনে ও মননে

মানবিক সকল কাননে দখল নিয়েছে, আর

আমাদের বাড়িঘর খাদ্য ও অধিকার বোধ ও ভালোবাসা

কেটেকুটে দখলের সাহস দেখাচ্ছে।

.

আহা, ইঁদুরেরা সব কিছু কেটেকুটে করছে সাবাড়

প্রতিকার ভেঙেৃচুরে হয়ে গেছে আঠার মতন

সকলেই চেয়ে চেয়ে দেখছি ইঁদুরের ঝগড়াবিবাদ মিলঅমিল

নাচানাচি কাটাকুটি দখল আর বচনের উৎসব!

১০.০৪.১২

————————————————-

সেই থেকে আগুন হয়েছে সর্বভুক

ধীর পায়ে ক্লান্ত দেহে হেঁটে আসছিল শ্মশানচন্ডাল

কেবল পুড়িয়েছে যারে সেতো মানুষ ছিলো না

হীনজাত প্রাণীকুলসম সহজেতো পুড়িবার নয়

পুড়বেইবা কী চামড়ার আবরণটুকু, আর যতো হাড়!

.

তবুও চন্ডাল পুড়িয়েছে তারে আগুন খুঁচিয়ে বারে

মন্ত্রের মতো করে বলেছে: হে আগুনদেবতা

গ্রাস করো উহাগুলো খেয়ে ফেল তাকে

তুমি অগ্নিদেবতা ত্রিলোকেরযমের আগুন

খেয়ে নাও এই লাশ আজ

সকলে খেয়েছে ঢের, যখন সে বেঁচে ছিলো।

.

আগুন ভেবে ছিলো চন্ডাল ব্যাটা ফিরে গেলে পর

পালাবে সে আর সব দেবতার মতো

হীনজনের এই লাশ কখন কে খায়!

একটু মুখাগ্নি তারপর ইতর প্রাণীর নরক উদর

চন্ডাল ছাড়েনি তারে পিটিয়ে খুঁচিয়ে খাইয়েছে তারে

ছিটেফোটা শেষঅশেষ ক্ষীণ দেহটার

.

সেই থেকে আগুন হয়েছে সর্বগ্রাসী

চন্ডালের চোখ প্রভাত সূর্যের মতো টকটকে লাল

আর সেই লাল দেখে দেখে মানুষেরা লালকে চিনেছে

প্রতীক হয়েছে মুক্তির তিমির হননে

————————————————-

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s