সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য’র উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

Posted: মার্চ 23, 2013 in দেশ
ট্যাগসমূহ:, , , , ,

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জনগণের সংগ্রামের পথ’

শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আজ ২২ মার্চ বিকাল চারটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় ‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য’র উদ্যোগে “একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং জনগণের সংগ্রামের পথ” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রগণমঞ্চের আহবায়ক শান্তনু সুমনের পরিচালনায় এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্যের সমন্ময়ক এবং ছাত্র ফেডারেশনের আহবায়ক সামিউল আলম রিচির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের যুগ্মআহবায়ক এহতেশাম উদ্দীন এবং সংস্কৃতির নয়া সেতুর অন্যতম সংগঠক নিত্যানন্দ পাল।

সভায় বক্তারা একাত্তরের প্রেক্ষাপট, একাত্তরের প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধ, তৎকালীন শাসক শ্রেণীর অবস্থান এবং তারই ধারাবাহিকতায় বিগত ৪২ বছর পর্যালোচনার পাশাপাশি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করেন।

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম তার বক্তব্যে বিস্তারিতভাবে ১৯৭১ এর প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ সময়কালীন নিজস্ব কিছু অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। শেখ মুজিবর রহমান নেতৃত্বাধীন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারকে পশ্চিম পাকিস্তানের লেজুড় শাসক শ্রেণী উল্লেখ করে তথ্যউপাত্ত হাজির করে দাবি করেন আওয়ামী লীগ সরকার ২৫শে মার্চ ১৯৭১ পর্যন্ত অখণ্ড পাকিস্তানের ক্ষমতা লাভের জন্য আলোচনা চালিয়ে গেছে। আলোচনা ব্যর্থ হলে জনগণকে নেতৃত্ব ও দিশাহীন রেখে ভারতের শাসকশ্রেণীর কাছে আত্মসমর্পন করে। মুক্তিযুদ্ধকে দীর্ঘ ও ভয়াবহ নয় মাসের এক সংগ্রাম হিসাবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন ১৯৭০ সালে জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিল পূর্ব বাংলার জনগণকে পাকিস্তানের সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে। তিনি দাবি করেন, ১৯৭২ সালে নতুন করে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য সংবিধান সভার নির্বাচন হওয়া জরুরী ছিল। তিনি স্বাধীনতার সংগ্রামের নয় মাসে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট দলগুলোর অবদানকে গৌরবউজ্জ্বল উল্লেখ করেন। সাম্প্রতিক শাহবাগ আন্দোলনকে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার এক আন্দোলন দাবি করে তিনি কিছু সমসাময়িক সামাজিক সমস্যা তুলে ধরে এই আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। সব শেষে, তিনি আহবান রাখেন জনগণের সংবিধান, সরকার প্রণয়নের জন্য কৃষকশ্রমিক মেহনতি মানুষের সাথে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে বিপ্লবী বল প্রয়োগের মাধ্যমে এক রাজনৈতিক গণ অভ্যুত্থান গড়ে তুলে জনগণের ক্ষমতা দখল করার দিকে এগিয়ে যাওয়ার।

জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের যুগ্ম আহবায়ক এহতেশাম উদ্দীন তার আলোচনায় বলেন এই যুগে “জয় বাংলা” স্লোগানের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে জনগণের প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আ.লীগের চেতনা বলে চালিয়ে দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র দল হিসেবে আ.লীগকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অথচ ২৫ মার্চের ভয়াবহ গণহত্যার পর কমিউনিস্ট ও দেশপ্রেমিক বিপ্লবীরাই ভারতে পালিয়ে না গিয়ে দেশের ভেতরে থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মোকাবেলা করেন। দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটময় পরিস্থিতিতে সকল বিপ্লবী, গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্রীয় উগ্র জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদকে প্রতিরোধের আহবান জানান।

সংস্কৃতির নয়া সেতুর সংগঠক নিত্যানন্দ পাল তার বক্তব্যে ১৮৫৭ সাল থেকে বাংলার মানুষের ধারাবাহিক সংগ্রামের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বিষেশভাবে আলোচনা করেন ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ এর প্রেক্ষাপট। তিনি প্রচলিত একাত্তরের ইতিহাস অনুযায়ী গুরুত্বারোপ করেন সর্বস্তরের মানুষের যুদ্ধের সমর্থন কে। তিনি আহবান রাখেন সেই একাত্তরের চেতনা লালন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বর্তমান সংগ্রাম এগিয়ে নিয়ে যাবার।

সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে সামিউল আলম রিচি বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্যের সংগ্রামকে আরো গতিশীল করতে ছাত্রসমাজের প্রতি আহবান জানান।

.

বার্তা প্রেরক,

সুজিত রঞ্জন সরকার

যুগ্ম আহবায়ক,

ছাত্র গণমঞ্চ

.

সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য

অস্থায়ী যোগাযোগ: মধুর ক্যান্টিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। facebook.com/aisubd

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s