নিঃসঙ্গ ভালোবাসা

art works-10-গোধুলির টুকরো টুকরো মেঘের সাথে দিনের শেষ আলোটুকু

লুকোচুরি খেলতে খেলতে কখন যে নিভে গেছে, আর

তোমার ঘন কালো চুলের মতো অন্ধকার আমাদের

দু’জনার মাঝে প্রাচীন প্রাচির হয়ে আছে

.

আমি প্রতিদিন শুশ্রষার আলোটুকু খুঁজি আমারই আকাশে

কোথাও তার আভাটুকু যদি পাই এমন আশায়

আবার তাকাই, কেবল অন্ধকারে জমে যাওয়া নিথর অরণ্যে

বাতাসটুকু কান্না হয়ে ফোটে

.

হায়,

ভালোবাসার জন্যে বাড়ানো এই হাত

তুলে আনছে জীবনের আরেক নি:সঙ্গতা

চারপাশ থেকে সরে যাচ্ছে ভালোগুলো, আশাগুলো

ভালোবাসা হারাতে হারাতে ফেলে যাচ্ছে দীর্ঘতম স্মৃতি

আমি তোমার মুখের দিকে চেয়ে থাকি, চেয়ে আছি অপলক

তুমিয়ো কী বৈশাখি মেঘের আশায় চেয়ে আছো স্থির !

২২.০৮.০৯

—————————————————

মহাজাগরণ আসছে

(শ্রদ্ধেয় ডা.টি.আলীর ৯০তম জন্মদিনে)

মহাজাগরণ আসছে, সবদিকে তার নীরব আওয়াজ

আকাশে জমছে মেঘ ঘন কালো কৃষ্ণ কালো ছায়া

রাত্রিদিনের বুকে তাতানো ঝাঁজানো রুদ্রকম্পন

যেন আফ্রিকার সিংহ লাফিয়ে পড়বে এখনি

গভীর সমুদ্রতল ছিড়ে উঠে আসবে প্রকান্ড ম্যামাল

দৃশ্যগুলো ক্রমে ক্রমে ঘন হয়ে জমে যাচ্ছে

সকল সবুজ বসে বসে লিখছে ইশতেহার

.

দেখো দেখো সিডোরের গর্জনের মতো

দীর্ঘ আওয়াজ রাত্রিদিন চিরছে বুকের পাঁজর

ভাষা সব সংকেত ক্রুদ্ধ উচ্চারণে হয়ে যাচ্ছে বিদ্যুতবল্লম

সরব শব্দাবলী ক্রমে ক্রমে ডুবে গিয়ে আরেক নীরবতায়

হয়ে যাচ্ছে জ্বলানো তাতানো চোখচোখের ভাষায়

চোখগুলো জ্বলে উঠছে এক চোখ থেকে আরেক

চোখে ছড়িয়ে বারুদ ভরিয়ে দিচ্ছে সকল ভীরুতার

ফাঁকফোকর যেন এক আগুন চিতা

জ্বলবে প্রচবিষ্ফোরণে

.

দ্যাখো ভূমি সমান মানুষের ছায়া আজ সমতল জূড়ে

কেবল মাথামাথার মানুষ

সড়কে মহাসড়কে নদীর জলের গতি মুখে

রাগেক্রোধে ঘৃণায় চিনে নিচ্ছে শত্রুমিত্র, ভেদঅভেদ

কার্যকরণকর্তব্য,জেনে নিচ্ছে সময়ের নিয়মাবলী

কারণ সেখানেই তাদের বদলানোর অজস্র ইতিহাস আছে

.

মহাজাগরণ আসছে পায়ে পায়ে পদশব্দে রক্তশিরায়

ইতিহাসের অমোঘ নিয়মে

ভেঙে পড়ছে শাসক আর তার শ্রেণির বিন্যাস

বেড়িয়ে পড়ছে কামরুলের আঁকা কুৎসিত মুখগুলো

খশে পড়ছে আভ্রুসম্ভ্রম স্বভাবের সকল দরোজা

অরণ্যের মতো দাঁড়িয়ে যাচ্ছে মানুষ

দাঁড়াবে সাহস, যে রকম বহুবার গুড়িয়েছে

শাসনের যাতাকল শোষনের নিয়মআচার

ভেঙেছে কারাগার মিশমার করেছে প্রিয়অপ্রিয় নির্মাণ

খুঁজেছে বাতিঘর আপন যাত্রার

তেমনই ক্রোধ ফুটছে চারিদিকে বুকে বুকে চৈতিরোদের ঝিলিক দেয়া দাঁত

—————————————————-

নতুন কিছু গড়ে উঠবার সময়

টিকে থাকবার অনিবার্য নিয়মে জেগে উঠছে মানুষ

ভূকম্পনে টিকে যাওয়া বিশাল বাড়িটির মতো

শিখে নিচ্ছে প্রতিকার প্রকৃতির নিয়ম দেখে দেখে

ভেতরে বাহিরে যতো মরাপাতার শব্দ ঝেড়ে ফেলে

রাত্রির নিস্তব্ধতায় তুলছে কাঁপুনি জানান দেয়ার সংকেত

দিবসের আকাক্সক্ষায় খুলছে সাহসের সিংহদরোজা

অমাঅন্ধকার ভেঙে আসছে মানুষ জাগবে আবার।

.

এখন ভাঙবে সবকিছু, ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাবে

সকল মূল্যবোধ নিয়ম আচার

উলুখাগড়ার মতো ভেসে যাবে ভালোমন্দ

দিন ও রাত্রির হিসেব নিকেশ

টুটে যাবে যাবতীয় দাসত্ব অন্যায় নির্মাণ।

.

স্বপ্নগুলো ঠিকঠাক দাঁড়িয়ে গেলে পর

পথ খুঁজে পাবে পথের পথিক, তখন

দিবস শেষের হেমালোকচ্ছটা ছড়িয়ে থাকবে

আশপাশের সকল সবুজে

.

এখন সব কিছু ভেঙে যাবারই সময়

নতুন কিছু গড়ে উঠবে বলে

০৯..১২

———————————————–

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s