লিখেছেন: জুয়েল থিওটোনিয়াস

shahbagh-1জাতীয়তাবাদ? সংবিধান প্রতিষ্ঠার পর বাঙালি জাতীয়তাবাদই প্রাধান্য পেয়েছিল ও সে মতোই দেশ চলছিল কিন্তু প্রতিবাদ এসেছে। পরে এল বিএনপি ক্ষমতায় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী ধারণা নিয়ে কিন্তু তারা কি আজ পর্যন্ত তা ধারণ তো লালন করতে পেরেছে? হতে কি পেরেছে তারা অসাম্প্রদায়িক? বাংলাদেশ বহু ধর্মেরজাতিরভাষারসংস্কৃতির দেশ। এ দেশ আমাদের সবার। তবে তা প্রতিষ্ঠায় এখনও যেতে হবে বহুদূর। আমি মনেপ্রাণে চাই দেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাক, সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠা পাক, তাই বলে সবাই নাস্তিক হয়ে যাবে, তা চাই না, চাই না সবাই বাঙালি হিসেবে পরিচিত হোক। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। জামাতশিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ হবে। অন্যান্য ধর্মভিত্তিক দলও নিষিদ্ধ হবে ধীরে ধীরে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ হতেই হবে, হোক সে পথ নির্মম, কেননা “শান্তির ললিত বাণী শোনাইবে ব্যর্থ পরিহাস”। আরও কথা হচ্ছে, যে আওয়ামী লীগ নিজেকে অসাম্প্রদায়িক ভাবে, তারা কি সংবিধান সংশোধন হবার সময় আবার সেই শুরুতে বিসমিল্লাহ্ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম যুক্ত করেনি? দেশের সবাই জাতি হিসেবে বাঙালি, এমনটা যুক্ত করেনি?

জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত গণআদালতের সঙ্গে শেখ হাসিনা সম্পৃক্ত ছিলেন, কিন্তু ১৯৯৫ এ সেই হাসিনাই আবার জামাতে ইসলামের সঙ্গে আঁতাঁতে গিয়েছিল, যদিও পরে রাজনৈতিক বিভিন্ন কেরিক্যাচার হওয়াতে তা আর হয়ে ওঠেনি। আওয়ামীবিএনপি এমনই, যদিও শুরুতে আওয়ামী লীগ এমন ছিল না। হাসিনা বিশ্বজিতের বাড়িতে যায়নি, রাজীবের বাড়িতে গিয়েছে, এটা তার নিজস্ব ব্যাপার। জামাতশিবির দেশে তান্ডব চালাচ্ছে, বিএনপি সমর্থন করছে, করবেই। তাছাড়া, মানুষ নতুন কাউকে (যেযারা সত্যিকার অর্থে গণমানুষের মঙ্গল করবে) দেশের ক্ষমতায় দেখতে চাইলেও বড় দুই রাজনৈতিক দল ও ধর্মব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি বিভিন্নভাবে। তাই ঘুরেফিরে তাদেরকেই ভোট দেয়।

বামপন্থাকমিউনিজমপ্রগতিশীলতা নিয়ে বিতর্ক ছিল, আছে, থাকবে। বিতর্ক খারাপ কিছু না, মতপার্থক্যও মন্দ না, কিন্তু তা নিয়ে হানাহানি কারও কাম্য না। আমাদের বামদলগুলোর মধ্যেও অনেক ঘাটতিদুর্বলতা আছে, সেটা কাটিয়ে ওঠা সময়সাপেক্ষ।

আন্দোলননবগণজাগরণ। এটা মোটেও আওয়ামী লীগ বা সরকারের সাজানো না। কথা উঠেছে এটা সাজানো তো? তবে সরকার বা আওয়ামী লীগ চাইছে তাদের নেতৃত্বে নিতে, এখনও পারেনি। আওয়ামী লীগ চাইবেই তা করতে, একা খাওয়াই তার স্বভাব। তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যারা বিশ্বাসী তারাই এক হয়েছে, ন্যায্য কোনো বিষয়ে যখন সবাই এক হয় তখন সেই ন্যায্য দাবি পূরণ হবার পর দেখা যাবে কে কী! বিদেশি শক্তির প্রভাবে হচ্ছে তা বলা যাবে না। তবে এটা বলা যাবে, যখন একটি দেশ অস্থির হয়, তার পক্ষেবিপক্ষে পৃথিবীর অন্য দেশ থাকবেই। যুক্তরাষ্ট্র সজোরে বলছে তারা এই আন্দোলনের সমর্থক, অথচ তারাই জামাতশিবিরকে টাকা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে জামাতশিবিরকে দিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে জাতিসংঘকে প্রভাবিত করে বাংলাদেশে শান্তিরক্ষা মিশন খুলতে এবং আরও বড় মাপের ফায়দা লুটতে। ভারত? ঐ দেশের মূলধারার গণমাধ্যম বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থাকে গৃহযুদ্ধ বলছে, কিন্তু বাংলাদেশের সেদেশী প্রকৃত বন্ধুরা ঠিকই এই আন্দোলনকে সমর্থন করছে, অনুপ্রাণিত করছে।

ইমরান এইচ সরকার স্বাচিপের বর্তমান নেতা, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। তা হোক, আগে তো দাবি আদায়। এটা আপোস নয়। জানিমানি দেশে অনেক দাবি পূরণ হবার বাকি। আগেতো কোনো দাবি নিয়ে এমন জোয়ার সৃষ্টি হয়নি। মজার বিষয় হচ্ছে, বিভিন্ন দাবি নিয়ে যখন আন্দোলন হয়, তখন তো গণভাবে সম্পৃক্ততা ঘটে না, কিন্তু এই আন্দোলন বাংলাদেশের জন্মের সঙ্গে জড়িত, রক্তের ঋণ শোধের ব্যাপার এতে জড়িত। যা দিয়ে শুরু হয়েছে তাতো আগে সম্পন্ন হোক, অন্যগুলাও হবে, হতাশ হওয়ার কিছু নাই। রাজাকার কি আওয়ামী লীগে নাই? আছে, তাদেরও বিচার হবে। এই আন্দোলনেও অনেক ঘাটতি আছে, কৌশল নিয়ে মতপার্থক্য আছে। কিন্তু অনৈক্য যাতে না হয়, সেভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। জয় বাংলা মুক্তিসংগ্রামেরমুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্লোগান যদিও পরে রাজনীতির বিভিন্ন ঝামেলায় তা আওয়ামী লীগের বাপদাদার সম্পত্তি হয়ে গিয়েছিল। সেই স্লোগান আবার তার মূল জায়গায় ফিরে এসেছে। অর্জন কিছুই হয়নি, তা না। তবে বাকি অনেক। হবে, হতেই হবে। আন্দোলনে আরও বহু মানুষের যুক্ত করার কথা, তাইতো? প্রতিদিন আহবান করা হচ্ছে নিজ নিজ এলাকায় ব্রিগেড গড়ে তুলতে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে। শুধু যারা আন্দোলনের মূল সংগঠক, তাদেরই কি সব দায়িত্ব? আমাদের বুদ্ধিজীবীরা শুধু বড় বুলি আওড়াতেই পারে কিন্তু মূল জায়গায় তাদের দেখা নাই।

জাহানারা ইমামের উক্তি দিয়ে আপাতত সমাপ্ত করছি “এই আন্দোলনকে এখনও দুস্তর পথ পাড়ি দিতে, আমি জানি জনগণের মতো বিশ্বস্ত কেউ নয়। জয় আমাদের হবেই।”

আমরা ইতিবাচক, আশাবাদী।

জয় বাংলা, বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক।।

জুয়েল থিওটোনিয়াস, শিক্ষার্থী, জাবি

julu_almost_human@yahoo.com

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s