প্রেস বিজ্ঞপ্তি – প্রণব মুখার্জীর বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্যের বিক্ষোভ

Posted: মার্চ 3, 2013 in আন্তর্জাতিক, দেশ
ট্যাগসমূহ:, , , ,

প্রণব মুখার্জীর বাংলাদেশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে আগমনের প্রতিবাদে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা দাহ

২ মার্চ ২০১৩, শনিবার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশ ও ভারতের গণতান্ত্রিক জনগণের শত্রু ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর বাংলাদেশ আগমনের প্রতিবাদে সোচ্চার হোন

aisu-1-মিথ্যা আশ্বাসের ফুলঝুড়ি নিয়ে ২০১২ সালের ৭ আগষ্ট বাংলাদেশে এসেছিলেন ভারতের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জী। আগামী ৩ মার্চ তিনি আবার আসছেন। বাংলাদেশের তাবেদার সরকার ও শাসকশ্রেণী তা সাদর অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুত হয়ে আছে। এই সফরে তিনি ট্রানজিট, সীমান্ত ও তিস্তা প্রশ্নে আগের মতই মিথ্যা আশ্বাস দেবেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করবেন। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের কি লাভ হবে? গত ১০ বছরে ভারতীয় সীমান্তে পাখীর মত গুলি করে সহস্রাধিক বাংলাদেশী নাগরিকের হত্যার বিচার হবে? হত্যা বন্ধ হবে? তাবেদার সরকারের মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ বলেছিলেন, “সীমান্ত হত্যায় রাষ্ট্রের কোন দায়িত্ব নেই”। তাবেদারদের যেহেতু দায় নেই ফলে সীমান্তে হত্যাকাচলবে! তিস্তার পানি ন্যায্য হিস্যা কি পাবে দেশের জনগণ? দিল্লী নয় পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা মর্জির উপর নির্ভর করছে তিস্তা পানি বন্টনের ভবিষ্যৎ। একটি দেশের জন্য এর চেয়ে অপমানজনক আর কি হতে পারে? টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে ভারতের শাসকশ্রেণীর ষড়যন্ত্র বন্ধ হবে? এ প্রশ্নে বাংলাদেশের গোলাম সরকার যেভাবে ভারতের মুখপত্র হিসাবে কাজ করছে তাতে এটা স্পষ্ট যে ভারতের শাসকশ্রেণীর স্বার্থই এক্ষেত্রে রক্ষিত হবে।

ট্রানজিটের নামে সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিচ্ছে সরকার

গত ২০১০সালের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এর মধ্যে ৩টি চুক্তি ও ২টি সমঝোতা অনুযায়ী ভারতকে ট্রানজিটের নামে করিডোর দেয়া হয়েছিল। এই করিডোর সুবিধা নিয়ে ভারত বিভিন্ন পণ্য এমনকি সামরিক সরঞ্জামও তার দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে নিয়ে যেতে পারবে। স্পষ্টত ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলে স্বাধীনতাকামী জনগণের আন্দোলনকে দমন করার জন্যই বাংলাদেশের ভূমি ও বন্দর ব্যবহার করবে। এভাবেই ভারতের শাসকশ্রেণীীর দমননীতির বাস্তবায়নে গোলাম হিসেবে কাজ করবে বাংলাদেশ সরকার।

১০০ কোটি ডলার ঋণ: ভারতের রাষ্ট্রীয় দমননীতির ব্যয় বহন করবে বাংলাদেশের জনগণ

হাসিনামনমোহন চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের সাথে সম্পাদিত ১০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তির ১ম কিস্তির ২০ কোটি ডলার নিয়ে আলোচনা হবে প্রণব মুখার্জির এই সফরে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক হাজার কোটি ডলার রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সের হাজার কোটি ডলার আয় সত্বেও এই অপ্রয়োজনীয় ঋণের টাকা কার স্বার্থে ব্যয় হবে? এটি একটি সরবরাহ ঋণ বা বাণিজ্য ঋণ যার মানে হচ্ছে যারা ঋণ দেবে তারাই ঋণের ব্যবহার নির্দিষ্ট করে দেবে। যে ১৪টি প্রকল্প এই ঋণের অধীনে বাস্তবায়ন করার কথা বলা হয়েছে। সেগুলোর খবর নিলে দেখা যাবে সবগুলোই বাংলাদেশের উপর দিয়ে ভারতের উত্তর পূর্বের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করার কাজে ব্যবহার করা হবে। তার মানে দাঁড়ালো ঋণের টাকায় ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলে রাষ্ট্রীয় দমননীতির খরচ বইবে বাংলাদেশের জনগণ!

প্রণব মুখার্জী: আই.এম.এফ এর দালাল ও ভারতের জনগণের শত্রু

ভারতের অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন এই প্রণব মুখার্জী ছিলেন আই.এম.এফ এর ভারতীয় ডিরেক্টর। সাম্রাজ্যবাদী পুঁজি ও ভারতীয় বড় পুঁজির স্বার্থে ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে একের পর এক ঘৃণ্য নীতি বাস্তবায়ন করেছে এই প্রণব মুখার্জী। সিঙ্গুরনন্দীগ্রাম সহ সারা ভারতের কৃষক জনপদ রক্তাক্ত হয়েছে কর্পোরেট পুঁজির এই নৃশংস থাবায়।ভারত ও বাংলাদেশের শাসকশ্রেণী সারা দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের শত্রু।

১৯৭২ সালে কুখ্যাত সিমলা চুক্তির মাধ্যমে ’৭১ এ বাংলাদেশে গণহত্যাকারী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে দায়মুক্ত করেছিল এই ভারতপাকিস্তানের শাসকশ্রেণী। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে সিমলা চুক্তি সমর্থন ও পাকিস্তানি সামরিক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থেকে অব্যাহতি দেয় বাংলাদেশ সরকার। কাশ্মীর থেকে ভারত, নেপাল থেকে বাংলাদেশ পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জাতি জনগণকে নির্যাতন নিপীড়নের এক শৃংখলে বেঁধে রেখেছে এরা। অন্যদিকে বাংলাদেশে আগামী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী নেতৃত্বে মহাজোট আর বিএনপিজামাত জোট ভারতের নির্লজ্জ তাবেদারীতে নেমেছে। বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের শত্রু প্রণবকে জামাই আদরে বরণ করা হচ্ছে। এই নির্লজ্জ তাবেদারী আমরা মেনে নিতে পারি না। আমরা ছাত্র সমাজকে আহবান জানাই

* প্রণব মুখার্জীর বাংলাদেশ আগমণের প্রতিবাদ করুন!

* সরকারের এই তাবেদারীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।

* বাংলাদেশসহ সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের মুক্তির লড়াইয়ে শামিল হোন।

বার্তা প্রেরক,

ফয়সাল মাহমুদ

সমন্বয়ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি।

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s