image-খণ্ডাংশ

বেদনার স্বভাবে ঈঙ্গিতের রসিকতা বলে কিছুই থাকে না বাকি

আগুনও শীতের ভূমিকায় এতো ভাল অভিনয় আর কখনো করেনি

শুধু যারা জন্ম গ্রহণ আর মৃত্যুর মধ্যে কোন পার্থক্য দেখে না

তাদের সন্তানেরা মাংসের দোকানে অতীব বিশুদ্ধ কবিতার গণিত আওড়ায়

মানিব্যাগের চোরা পকেট থেকে ভালবাসা আর শরীরের বাক্য বেরিয়ে আসে

যা দূরের ছিল তা কাছের সর্বগ্রাসী আমিষের দখলে চলে আসে অনায়াসে

.

এবং আমরা বিস্মৃত ও মুগ্ধতার দাসত্বে মাতাল

ক্ষিপ্ত সূর্যরশ্মিতে সত্য উগরে দেওয়ার ভয়গুলো

একটি পাত্রের মধ্যে জিয়ল রাখি

যাবতীয় মিথ্যা গল্পের প্রতিহিংসায়

আমাদের প্রত্যেকের জীবন হয়ে উঠেছে স্বপ্নের মতনই অবাস্ত।।

………………………………………

image-2-খণ্ডাংশ ০১

ফাঁকা রাস্তার বিদ্রুপ চায়ের ফেনায় লেগে থাকে বলেই

দূরের লোকটিকে ভরসা করা যায়

যদিও মানুষের কাছে মানুষেরা প্রয়োজন অনুপাতে

রাত্রির খোলা জামার বোতামে অন্ধকার জোছনার নকশা আঁকে

.

আঁকা নাকশার রঙ বিষয়ে নানান মতামত চালু আছে

অগুনতি স্বপ্নের চিৎকারে তেজষ্ক্রিয় ঘুড়ির লাটাই হাতে

শিশুরা চমৎকার সাপলুডু খেলে

এক একজন পাকা সাপুরের ভঙ্গিতে বীনে বিষে ফুঁ দেয়

মুহূর্তে পাখিরা বিষ্ঠার বদলে থুথু ছিটাতে শুরু করে

আর মাঝ বয়েসী এক লোক নোট বুকে লিখে রাখে

ঘৃণা ও প্রতিবাদের মিলিত বিক্ষোভে

ক্ষুধার্ত নগরের রাস্তায় ধূলোবালি আর সীসার নিঃশ্বাসই

আমাদের প্রিয় শিকারীর জীবন

………………………………………

image-3-খণ্ডাংশ ০২

সাধারণত দরজার চাবিগুলো কবাটের পারস্পারিক সম্পর্ক খুলে র্দীঘ অপেক্ষা তৈরি করে

নিরাপত্তার ব্যায়ামে তালারা সত্যিই ভুলে যায়

কবাট ও চাবির সাথে নিগুঢ় সম্পর্ক বেষ্টনির উষ্ণতা

মানুষের বহু মাত্রিক বিশেষণের বেড়াজালে জড়ের ভূমিকা পাল্টায়

বঁড়শির আঙটায় কাপড় ঝুলানোর চেষ্টা কখনো না করে

মাছেদের বিরুদ্ধেই তার ব্যবহারের অনিবার্যতা নির্দিষ্ট হয়ে যায়

মাছেরা মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়ার লোভে লেজ দিয়ে সুতা নাড়ায়

সে কৌশল মানুষের জানা হয়ে গেলে উপকূল জোড়া নিপুন জাল বুনতে বসে যায় জেলে মেয়েরা

আর তাদের সন্তানেরা কোচ হাতে কাঁদা জলে কোপ মারে

লোভী মাছ ভালবাসার বদলে হৃদপিন্ডের রক্ত ঝরাতে ঝরাতে

মানুষের উল্লাস হয়ে ডাঙ্গার বর্বরতা শিখে

.

সাধারণত মানুষের পৃথিবীতে এই সব গল্প খুব একটা জনপ্রিয় নয়

যতোটা জনপ্রিয় ভুঁইফোড় ব্যবসাদারের ছিটগ্রস্থ মুনাফর উন্মাদনা

ওদের চোখগুলো অবিকল সেই ভোল পাল্টানো পরীর মতন

যে রোজ রাতে ডানা ঝাপটায় আর অসংখ্য পাখিরা আর্তনাদ করতে থাকে

এ আশায় যে কখন সকাল হবে

ঠিক সকাল হওয়ার আগেই পরী তার মুখোশ খুলে সূর্যের সামনে দাঁড়ায়

আর মানুষেরা দলে দলে কারখানার যাঁতাকলে পিষে তাদের মননগুলো হারিয়ে ফেলে

গড়িয়ে পরা সে রক্তজল গিলে

ডাইনি ও রাক্ষসেরা মানুষের পোশাক পরে মানুষকেই

নিয়ত নিয়তির অবর্ণনীয় মিথ্যা আর প্রহসনের শ্লোকে শুষে

অন্ধ ও বধির করে রাখে

………………………………………

image-4-খণ্ডাংশ ০৩

এক

কোন ভাষায় তুমি জেগে উঠ?

স্তব্ধতার জীবন্ত অভ্যর্থনায় উপত্যকার শব্দস্বর

কাঁটার পর কাঁটায় বিঁধে অশ্রুর ছড়ানো রক্ত বিন্দু দিয়ে

তুমি সময়ের কাছে থেকে সব কাজ হাঁসিল করে শেষ হয়ে যাও

তলহীন যত মুখ আর পদপিষ্ট যত আর্তনাদের ভেতর

হিমজমাট যত ক্ষিপ্র ছুরির গর্জনগুলোকে

ডেকে এনে মাঝ রাস্তায় দাঁড় করিয়ে

.

শিকলবাঁধা চারাগাছগুলোকে দেখাতে চেয়েছিলে আকাশ

এখন আর গুচ্ছ ‍গুচ্ছ মরা বীজের সংগ্রহশালার পাহারাদার বলতে পারো কি না

বসন্তের রঙ কথা?

.

দুই

যেখানে কার্নিশে পাখিদের খোপের পাশেই বিড়ালের আদুরে নির্বিঘ্ন ঘুম

সেখানে বিলবোর্ডের বিশাল ক্যানভাসে পরিবেশ আন্দোলনের বিজ্ঞাপন

………………………………………

image-5-খণ্ডাংশ ০৪

এক

পৃথিবীতে অখন্ড বিছানাগুলো সুখ ও দুঃখের কথা বলে

ভুলভ্রান্তি আছে কিনা নদীদের সহজে ধরা পড়ে না

বিকেলবেলার সূর্যাস্তের জ্ঞান এইভাবে রাত্রির কহল হয়

শূণ্যতার সুন্দরগুলো চিরকাল অস্পষ্ট গোপন চোখের আড়ালই থাকে

বাজপাখি আর মানুষের কথা কিছুই বুঝেনা দুপুর

আকাশ সচল থাকে মেঘেদের ব্যস্ততম বাউণ্ডুলে স্বভাবে

সমতলে জোছনার চুড়ি হাতে সারাগায়ে পৌষের পূর্ণিমা মাখে

এতো কিছু বোঝে না আলো শুধু পাহাড়ী মেয়ের পিঠে চড়ে নেমে যায় ঝর্ণার জলে

অতিসচেতন সচ্ছলতায় স্বহজাত সরলতাগুলো মরে যায়

এর চেয়ে বেশি কান্নায় পৃথিবী আপ্লুত হয়নি কখনো

উঠানে তেজপাতা গাছ রোদ আজ দিন ভাল থাকুক

.

দুই

শূণ্য গোলকের ভেতরেই পরিচ্ছন্ন পথের ঠিকানা রাখা

সকল কিছুর সঙ্গেই গণিতের যোগাযোগ আছে

নিজের ভেতরে ঢুকে মাঝেমাঝে দেখে নিও নিজস্ব গাছগুলি

মেঘের চলে যাওয়া দেখে ঘাবড়িও না সূর্য ঠিক উঠে আসে

গোপনে পাখিদের গানে কান পেতো সেখানেও আছে জীবনের ক্ষত

বিশেষণে মুগ্ধ হলে বিষয় গুরুত্ব হারায়

জলপথে ঘরে ঘুরে চাঁদ ছায়া আকাশেই সাজায় বিছানা

চিরদিনই যাত্রা উদ্ভ্রান্ত হয় লক্ষ্যের সুবিশাল অন্ধত্বে

ফাঁকে ডুবে গেলে ফাঁকাগুলো অলক্ষ্যই থাকে

নিসর্গ চিনে না আলো সারাক্ষণ ফাঁক গলে ঢুকে পড়ে

উজ্বলতার টুকরাগুলো মানুষের প্রতিবিম্বের ধুলো

………………………………………

image-6-খণ্ডাংশ ০৫

গোধূলিকে সমুদ্রের আগ্রহ দেখিয়ে ব্যাথাই পেয়েছে সৈকত

জোস্ন্যার স্মৃতি নিয়ে নিষ্ক্রিয় ক্ষতের যন্ত্রণায় স্তব্ধ পড়ে আছি বেলাভূমি

অসফল আর্তনাদে ফুটন্ত জলের মোহ ছেড়ে চলে গেছ ভাঁপের অদ্ভূত সুঘ্রাণ

পৃথিবীকে আরোগ্যহীন দুর্বোধ্যতার শিকল পড়িয়ে

মানুষ নিজেই দ্যুতিময় সরলতাগুলো হারিয়ে ফেলেছে

ঈর্ষার ক্ষমতা উন্মাদ অস্থিরতায়

হারানো ইতিহাসের দীর্ঘস্থায়ী বিলাপের মতন

আমাদের জ্বল জ্বলে মুখ অবিকল

পরাজিত ব্যাঙের নীল বিষ ক্ষয়

বিমর্ষ মৃত্যুর চিরন্তন ছবি

………………………………………

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s