abstract-art-29-সঙ্কেত

সব কিছু ভেঙে পড়ার আগে আকাশটা থমকে থাকে

ফুসতে থাকে জল আর জলজ প্রাণীর হাঁসফাশ কাঁপায় বাতাস

আকাশের তারাগুলো মুছে গিয়ে মেঘের শরীরে বিদ্যুত ঝলকায়

প্রাণীরা ছুটতে থাকে দিশাহীন আর আস্তাবলের ঘোড়ার হ্রেস্বাধ্বনি

কুকুরের আর্তনাদ ভারি করে তোলে সকল বাতাস

আতঙ্কিত পাখি দিকভ্রান্তিতে উড়তে থাকে ঘুরতে থাকে

থেমে যাওয়া প্রকৃতিতে বৃক্ষেরা গুটায় সবুজ

আর চেয়ে চেয়ে দেখে

মানুষের রাজ্যরাজত্ব ধুলির ঘূর্ণিতে তলিয়ে যাচ্ছে

মুছে যাচ্ছে স্মৃতির জাদুঘর

শুধু ইতিহাসের পাতাগুলো উল্টে যায় এবঙ একটি

সাদা পাতায় থেমে থাকে যেখানে এখনো লেখা হয়নি

সন তারিখ ক্ষণ ঘটনার অনুপুঙ্খ বিবরণী..

.

মহামতির পূণ্যস্পর্শে

চারিদিকে পড়ে আছে মত্ততার অঢেল অশেষ

টুকরো টুকরো তৈজষ ভাঙা দেয়ালের ইট

চকচকে বালুর কণা করগেটেড শিট পুড়ে যাওয়া পান্ডুলিপি

ঝলসানো বৃক্ষ সবুজ পাখির পালক

ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বুদ্ধের হাত অহিংসার পবিত্র আঙুল

ধ্যানমগ্ন বুদ্ধ তবু বসে আছেন মুদিত চোখে কোথাও শুয়ে

বিশ্রাম ভঙিতে যেনো এতো কিছুর পরও বিচলিত হননি তিনি

তিনি কী দেখছেন অহিংসা ধুয়ে যাচ্ছে পাহাড়ের জলে!

.

এমন সময় এক ঝলক ঠান্ডা হাওয়া শরীরপ্রাণ ছূঁয়ে গেলে পর

তুমি খুব অবাক চোখে বললে : দেখো মাউথ অর্গান

পড়ে আছে আধেক কাদায়,

পাষণ্ডের পা’ পড়েছে তার বুকে হয়েছে পিষ্ট

ভেঙেছে কি সুরের পাঁজর?

তুমি তুললে, মুছলে বললে: মনে হয় সুর আছে এখনো

আমি বললাম চলো ওই জ্বলে যাওয়া বৃক্ষতলে বসি

সুর তুলি মানব মেলার বৃক্ষের দাহজ্বালা কমুক

শরীরি হোন বুদ্ধ প্রশান্তির হাওয়া লাগুক

জাগুক মানুষ হাজার বছরের ঘুম ভেঙে

খুঁজে পাক তারা জীবনের সুর

বুদ্ধ যাকে বলেছিলেন মুক্তি বলেছিলেন নির্বাণ

.

তখন মনে হলো কোন এক মহাপ্রাণ আমাদের পাশে এসে

বসলেন আশাময় চোখে

আর এক প্রশান্তির বাতাস বইলো মন্দির প্রাঙ্গনে

ম্উাথ অরগান বেজে উঠলে তাকিয়ে থাকলো পথ

সুরভিত প্রভাতের মুখে

.

সময়টা বয়ে বয়ে

আকাশের বয়স কতো? সূর্য কি বুড়িয়ে গেছে!

পাখিরা কি ফুরিয়ে যাচ্ছে, তারণ্য! গোলাপগুলো

ঝরে যায় দিকচিহ্ন হীন। যেখানে আমরা বসতাম

সেই জায়গাগুলো কি এখনো আছে!

আমাদের স্বপ্নই আমাদের অস্তিত্ব

আনন্দের ভেতর পরাজিত আশার কান্না।

.

বৃক্ষের সবুজ পাতায় জমে আছে ধুলো

নদীগুলো কঙ্কালের মতো ক্ষীণ কায়ার মরা স্রোত

নদীরা মরে যাচ্ছে ইচ্ছের মতো!

বুড়িয়ে যাওয়া রৌদ্রের মতো ! আকাশ কী বুড়িয়ে যাচ্ছে!

সূর্য পাড়ি দিচ্ছে এক রাত্রি!

.

ইতিহাসের পৃষ্ঠাগুলোয় কি লিখবে তুমি? ক্লিবতা!

সভ্যতার সন্ধিক্ষণে আমার কাঁধের উপর

ক্ষয়ে যাওয়া রৌদ্রেরকণা, বিষণ্ন বিদ্যুত

নাকী সময়টা বয়ে বয়ে হাওয়া দিচ্ছে

কোন কিছু বদলে নেবার জন্যে!

.

দু:স্বপ্ন থেকে

একটা সরোবর, ওদিকে পাহাড় মনে হলো

উঁচু আবার ছোট্ট টিলায় ঘেরানা খুব উঁচু নয়

উপসাগর আমাদের পায়ের কাছে

কয়েকজন মানুষ হাঁটছে কেউ কেউ বসে ’৭১এর গল্প করছে

তাদের কাঁপা স্বর আমরা শুনছি কেমন ঘুম ঘুম দৃশ্য

ওরা কি কখনো ছিলো ? কী করে বুঝবো!

মৃত্যু এক নিস্তব্ধতা, জলতরঙ্গ নেই নিঃপ্রদীপ রাত্রি

.

তারপর আমাদের উপস্থিতির শব্দে মিলিয়ে গেলো তারা

অবিকল বরফ গলার মতো কিছুই জানা হলো না

ঠিক সেই সময় মাথার উপর এক গাঙ চিল দীর্ণ করলো রাত্রি

ছিটকে পড়লাম আমি ঘুম ভেঙে গেলো

.

ওপাশে ঝলমলে এক সূর্য সবুজের জমিনে উড়ছে

আহা কীযে অদ্ভুত বেঁচে থাকা।।

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s