abstract_art_4-তুমিই জানো

তুমিই জানো যা তুমি বলেছো। সারাটা পথে আমরা হাঁটছিলাম

আর শিরীষ,কড়ই বাবলা কাটার ফাঁকে এক একটা আকাশ

আমরা পেরিয়ে যাচ্ছি আমাদের পায়ে লাল মাটির গুড়ো

আমরা পেরিয়ে যাচ্ছি পথ, পাতা ঝরছে বাতাস নাড়াচ্ছে সবুজ

আমরা কোথায় যাচ্ছি, দূর পথরেখা অস্পষ্ট ঠান্ডা হিমের মতো

কুয়াশা নেই তবু কুয়াশার মতো অনেক দেয়াল

তুমি যেনো কী বলছো আমি শুনছি কিছুই শুনছি না

আমার ভেতরে স্মৃতির তোলপাড়

আমি তাদের খুলতে চাচ্ছি, সব জটপাকিয়ে যেনো

সাপিনীকে পেঁচিয়ে সঙ্গমমূখী অনেক সরিসৃপ

এক ঘুমের ভেতরে পাতালের হিমশীতল অন্ধকারে

কার চোখ? ইয়াহিয়া, রাওফরমান আলীর টেবিল!

নানা রকম স্কেচ আর

উলুঝুলু চুল দাড়িগোঁফ ছেড়া পাতলুন ভেজা শরীর

অমন অটল দঁড়িয়ে কারা?

.

আমরা হাটছি

তুমি কেবলি কি সব বলছো

কিন্তু আমারতো মনে হয় হাঁটাই কেবল কাজ নয়

সব পথেইতো ইয়াহিয়া, টিক্কা নিয়াজিরা

তবুও তুমি বলছো স্বাধীনতা, স্বাধীনতা

বলো, একটা স্বাধীনতা কতোবার পেলে তবে স্বাধীনতা হয়!

—————————————————-

একটি রাতের গল্প

ঝুপঝুপ শব্দ সে কি বৃষ্টির, কোথাও কি বৃষ্টি এলো?

বাইরে অন্ধকার বিদ্যুৎ ঝলকানী! জানালার পর্দায় ভেজা কাক

নাকি ছায়া! বাতাস কি বইছে কোথাও

লম্বা হুইসিল রাতের ট্রেন কী যায়! কোন গাঁয়ে বৃষ্টির মাথায়

দাঁড়িয়ে আছে রাত্রি থমকে আছে সময়

শেফালীর মরা মুখ ভাঙা জানালায় ভাসে, কার গলায় কে হাত রাখে!

কেইবা কাঁদে কেইবা ককায়

মস্তিষ্কের সিড়ি ভেঙে কারা ওঠে নামে, কোন মুখ প্রেতের মতো

কে যায় বাড়ি ঘর ছেড়ে বাপদাদার ভিটে, সে কি আর ফেরে?

.

ঝুপঝাপ শব্দের ভেতরে মগজের কাজ থেমে গেলে এক রাত্রির ঘুম

বিদ্যুতের তীক্ষ্ণ ধারে কেটে ফেলে সকল সন্তাপ

তারপর এক অন্ধকার হিম ভেঙে তোমার উঠে আসা

অপরূপ জ্যোৎস্নামাখা : দারুণ লাফিয়ে পড়ে সিংহ

এক অন্ধকার ছেঁড়া যৌবন বিদ্যুতবল্লম

তারপর টুপটাপ বৃষ্টি অন্ধকার কাটে

——————————————–

তুমি হয়ে ওঠো না বলে

তুমি যখন গ্যালারীর ছবিগুলো নিবিষ্ট হয়ে দেখছিলে

পড়ছিলে তার কাব্যময় ক্যাপশন, আর ভাবছিলে ছবিগুলো না মানুষগুলো

কোনটা প্রধান, কিংবা হতে পারে এপাড়ওপাড় ওই যে নির্জন নদী

কাঁশবন হিজলের সবুজ ডালে নির্নিমেষ মাছরাঙা ঠিক তার ওপাশে

দাউদাউ চিতা, ওই চিতা কার! আমি ওখানে ছিলাম

.

তুমি যখন ভাস্কর্যের মুখচোখ নাককান দেখছিলে খুউব খুঁটিয়ে

ভাবছিলে পেশীর কোমলতা কিংবা খুঁজছিলে বিন্যাস

অথবা ভঙির ভেতরে ছিলো কার ছায়া কারা এসেছিলো

কবে বা কখন র‍্যাঁদার টানে ফুটেছে সেইসব

আমি তখন সেখানে ছিলাম

.

তুমি যখন হাঁটছিলে পথ রেখা ধরে দেখেছিলে চেয়ে

পায়ের শব্দে পথগুলো হয়েছে অবাক

আমি তখন সেখানেও ছিলাম

আমি তোমার মধ্যে সারাক্ষণ জেগে থাকি,

কেবল তুমি, তুমি হয়ে উঠছো না আর

————————————————-

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s