আপোষের জামায় দ্রোহ লুকিয়ে বিস্মৃত হলাম

সুতি কাপড়ে সাদা সুতায় সেলাই করা পরস্পরের অভিমান ও ভালবাসাগুলো

ছোপ ছোপ রক্তের দাগের কাছে কখনোই মাথা নত করেনি।

যে দরজা খুলে বেড়িয়ে গিয়েছিল

সেই কাঠ ঘুনের নিয়মিত কামড়ে ফোকলা হয়ে উঠলেও

খিলি লাগানোর আগে যে চোখ স্বাধীন প্রত্যয়ে জ্বল জ্বল করেছিল

সে স্বাধীনতার জন্য যে ভূখন্ড প্রয়োজন তা নির্মাণে ব্যর্থ হয়নি।

যদিও খুনীরা শানবাঁধানো রাস্তাগুলি ধরে একে একে দখল করেছে

তোমাদের রক্তেলেখা সবই!

আমরা অসহায় পরিবার পরিজনের নিরাপত্তার কাছে

আপোষের জামায় লুকিয়ে বিস্মৃত হলাম

সেই সব আত্মত্যাগ

যাদের লাশের উপর দাঁড়িয়ে আমাদের নির্লজ্জতা হাসে

আর কি বিশ্বাসঘাতকের মতন আমাদের কন্ঠ গেয়ে উঠে

.

তোমাদের এই ঋণ কোন দিন শোধ হবে না ..’

.

.

মর্মের মর্মর গান ০১

একটা কাঠের বেঞ্চি দেয়াল ঘড়িতে তাকিয়ে কথা বলে কথা বলে আর কথা বলেই চলে

অতন্ত যন্ত্রণাবিহীন রুমালের এক কোণায় ডাইনির চোখ ও কালো সভ্যতার নেইলপলিশ নখ

নজরদারিতে রাখা সাদা আসমান ঘসে ঘসে কিছুতেই খুলে ফেলতে পারে না ফেলতে পারে না ফেলতে পারে না

কুঁচকে যাওয়া মানুষেরা বিভীষিকার আর্তনাদগ্রস্ত সেলাই।

.

রিসিভার বদল হওয়ার আগেই বৈদ্যুতিক তারে পিষ্ট কাকের কর্কশ সুর

ভাঙ্গাচোরা দেয়ালের শ্যাওলায় লকলকে বটের প্যাচানো শিকড়ের স্যাঁতস্যাতে দাঁড়ানো

খোলরাস্তায় সারাটা শহর সারাটা শহর আতঙ্ক বিব্রত দিশেহারা।

.

বর্ণমালার দীর্ঘ বৃষ্টির মধ্যে ছেঁড়া সেন্ডল খুলে পাগুলো হেঁটে যায় হেঁটে যায় আর হেঁটে যায়

সহ্যের বিপর্যয় কিছুতেই ঝুলকালি সরিয়ে দরাজ কন্ঠে শব্দ বানানোতে পারদর্শি হয়ে উঠে না

এতো হিম রক্তের উত্তরাধিকার মানুষের ইতিহাসে সত্যিই বিরল!

.

স্বপ্নের ভেতরেও নিঃসঙ্গ জেগে থাকে রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তে পাস্পারিক দোষোরোপ

আর আমরা মানুষেরা প্রকল্পিত পরিকল্পনায় পুড়তে থাকি পুড়তে থাকি আর পুড়তে থাকি

এক একটি অসহায় জীবন্ত রুটির লাশ!

.

.

মর্মের মর্মর গান ০২

Tracing the Murderers. by Mana Neyestani

এমনকী অন্ধ ঝড়ো তান্ডব যখন সূর্যকে সুবিন্যস্ত আলিঙ্গনের ভেতর ধ্বংস করছে আমার এখনো মনে পড়ছে, নিজের তৈরি কুশলী জালে জড়িয়ে আলো অবিকল ক্ষুধার্ত শকুনের নখের ক্ষিপ্র খোঁচায় নিজেই রক্তাক্ত অসাড় জন্মহীন মৃত্যুহীন অনুভূতিহীন হীনমন্যতায় ঝুলন্ত মাটি ও মানুষের মানবিক মুহূর্তগুলো থেকে অনেক শূণ্যতায় মৃত। পরস্পর পরস্পরের লাশ কাঁধে হাঁটে জীবনের পথে …..

চলমান

.

.

মর্মের মর্মর গান

তুমিতো তাদের ষড়যন্ত্রের খোঁচায় ঝুলে পড়েছো

শুধু যারা মৃত ওরা জানে

পুঁতে ফেলা মাটিতে

কী ফলবান বীজই না তারা বুনেছে

.

আর কোন গন্ধই অঙ্কুরিত হয়ে উঠে না

শুধু সারি সারি লাশের গায়ে

জড়ানো কাপড় কারখানার শ্রমিকেরা বাড়ি ফিরে

ব্যাগভর্তি কবর খুঁড়ার শব্দ কানপেতে

.

তুমিতো তাদের উন্মত্ততার কাছে

অগণতি পরিকল্পিত ছুরির সূক্ষ আর্তনাদ

শুধু যারা জীবিত ওরা হৃদস্পন্দনহীন

রক্তের চাঞ্চল্য নিশ্চয়ই তাদের বিভিষিকায় ততোদিনে খুন

.

ফলে

আর কোন জোব্বাই এখন যথেষ্ঠ নয়

শুধু শব্দের ফুঁ দিয়ে স্বচ্ছ দেখানো যাচ্ছে না

প্রকৃত স্বাধীনতা এবং

মুখোশধারীর ছায়াও অবিকল চিহিৃত

.

শুধু যারা রক্তাক্ত ও মর্মচিৎকারে বিক্ষত

ওরা জানে

পুঁতে ফেলা মাটিতে

কী ফলবান বীজই না তারা বুনেছে

.

উদগমনের বিশুদ্ধ তারুণ্য বিদ্যুৎঝিলিকের মতনই

মুহূর্তে শোষবে অন্ধকার

.

.

অ্যান্টি পোয়েম

সোৎসাহে লাফ দিয়ে উঠি

যেন মরে যাইনি

মরে যাবো না কখনোই

কেননা প্রত্যেকটা জানলার খোপ খুলে বেড়িয়ে আসছে

সশস্ত্র অন্ধকার

প্রাচীন রূপকথার অজেয় ডাইনী মন্ত্র ছিটিয়ে

রক্তাক্ত বাতাসে কুয়াশার ব্যান্ডেজ জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে পুরোটা শীতকাল

আর

বর্ষার প্রথম দিনই খুন হয় রাজকুমারেরা

এবং রাজকুমারীরা দলে দলে ডাইনীর দাসী হয়ে যায়

.

ঠিক যেন মগজ বিক্রেতার দাম হাঁকানোর ভঙ্গির মতনই

বিদঘুটে অথচ এর চেয়ে অধিক জ্ঞান মানুষের অর্জিত হয় অতি নগ্নই।

.

সোৎসাহে লাফ দিয়ে উঠি

যেন বেঁচে নেই

মরে যাবো একক্ষণই

কেননা প্রত্যেকটা জানলার খোপ খুলে বেড়িয়ে আসছে

সশস্ত্র অন্ধকার

আলোর যন্ত্রণায় ওরা আপোষহীন

ব্লেড আর মরিচিকার ফারাক বুঝে কাটাচ্ছি দিন।উৎসর্গ নিকানো পয়রা।।

.

.

ফিলিস্তিনের গান :: আমাদের প্রতিরোধের অভাব কখনো মরে না

সে একা, এমন কী তার চিৎকারের চেয়েও।। আর কেউই জানতে পারেনি কখন কোন মুহূর্ত ঘন্টা বাজিয়ে নিঃসঙ্গ রক্তপ্রাতের পুনরাবৃত্তির রকেটগুলো ছুঁড়ে ফেলা মাত্রইমুখ,মুখোশ ও মুখশ্রীর শ্বাশত হিংস্র ঝলকে ছাদগুলো বিস্ফোরণের তীব্র আঘাত মৃত্যু ও নিদ্রাহীন রাতগুলোর শুরু ঘটল। ধ্বংস স্তপ থেকে যখন ধোঁয়া তুলে দেয় তার সিধান্তময় সব গোল গোল ধূসর চাকা। তখন শহরের ঐ প্রান্তে হৃৎকম্পন্ন আটকে যাওয়া বুড়োরা এটা বুঝতে পারে এবার তাদের ছাদগুলো উড়ে যাওয়ার পালা। এভাবেই রাতের পর রাত বিশাল স্তব্ধ উৎকন্ঠা ও গোলা ফাটার বিস্তারের ভেতর তলিয়ে যেতে থাকে আমাদের শিশুদের লাশ এবং রাস্তাঘাট,স্কুল,ফুলের দোকানীর প্রেম,অলিভ পাতার মর্মর গান এবং দৈনদিন রুটির দোকানগুলোর ব্যস্ততা। যদিও এটাও সত্যি যে ওরা কিছুতেই মেরে ফেলতে পারবে না ভূখন্ডের প্রতি আমাদের যত মততা ও পতাকার প্রতি আমাদের যত দুর্বার মৃত্যুহীন উৎসাহ। আমাদের শিশুরাও জানে কখনোই মেরে ফেলা যায় না ঝড়ের ঝড়ো উদ্দাম আর ক্রমাগত ফুঁসে উঠা জলোচ্ছ্বাসের তান্ডব। যদি তুমি মৃত্যুর একাকীত্বকে জড়িয়ে ধরতে পারো, যদি তুমি নির্বাসিত সকল খুন হয়ে যাওয়া সম্পর্কের উষ্ণতায় অসহ্য যন্ত্রণারে ভেতর থেকে তোমার ভয়ার্ত উদাসীন নিরুৎসাহিত সারাক্ষণ শংঙ্কা আর উদগ্রীব হৃদয়টাকে একঝলক প্রতিরোধের আলোয় ঝলসিয়ে দিতে পারো। আজকের এই বর্বরতাময় উন্মাদ আগ্রাসনের তুমিই হয়ে উঠতে পারো প্রকৃত জবাব। শহীদের যাবতীয় রক্তপ্রাতের মর্মযাতনার ভ্রুণগুলো অগ্নিগর্ভ দাঁড়িয়ে উঠছে দৃঢ় আরো প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সুনিপুণ লক্ষ্যের উদ্ভাসনে। অন্ধকার ও ঘুটঘুটে প্রতারণা আর চুক্তি চুক্তি খেলার পর্দাগুলো সরিয়ে দেখতে পাচ্ছি, আমাদের মৃত মায়েরা বহুমূল্য হাতগুলো দিয়ে গেছে আমাদের শৈশব,কৈশোর ও যৌবনকে যারা রক্ত আর রক্তপ্রাতের খড়স্রোতা মৃত্যুরঢল বানিয়েছে তাদের জন্য আমাদের প্রতিরোধের অভাব কখনো মরে না। আমাদের শিশুরা মরে যেতে যেতে যে চিহৃ রেখে গেছে,তার সঙ্গে মিশে আছে আমাদের সকল প্রতিশ্রুতি ও প্রতিজ্ঞা. এই ভূখন্ড ও এই পতাকা আর শক্রর জন্য লড়ে যাওয়ার ফিলিস্তিনে,স্ফুলিঙ্গের অভাব কখনো মরবে না

.

.

ফুলবাড়ি সখি ফুলবাড়ি রক্ত দিয়া আগলাই রাখুম ভাবিস না তুই ফুলবাড়ি

শহীদের মৃত্যুর মত বীরত্বের নিঃসঙ্গতা নিয়ে পড়ে থাকবেনা ফুলবাড়ি

.

অগুনতি হাতগুলো কন্ঠগুলো প্রতিধ্বনিত হয়ে উঠেছে ঝনঝন

এক দীর্ঘ সবল চেতনার সোনালী আভায় ঘিরে আছে সারাক্ষণ

তবু ওরা মরণকেও বাঁচিয়ে রেখেছে স্ফুলিঙ্গের সাজোয়া প্রতিরোধের সুপক্ক বোধের আগুন

কেননা

যেদিন গণমানুষের রোষ ফুঁসে উঠবো আবারো

সেইদিন মৃত শহীদেরা হবে প্রতিরোধে কাঙ্খিত প্রিয় লোকালয়

যারা উন্মোচিত করেছে তাদের নির্লজ্জ মুখ

তারা তো জানে না সশস্ত্র বিদ্রোহও আমাদের নির্ভুল গান

এক কদম পিছনে ফিরবে না কে উ

যারা তাদের প্রতিটি মুহূর্তগুলোকে অনায়াসে ভরিয়ে তুলেছে

আগুনে আলোর স্ফুরিত স্পন্দনে।

.

শহীদের মৃত্যুর মত বীরত্বের নিঃসঙ্গতা নিয়ে পড়ে থাকবেনা ফুলবাড়ি

.

যতোই নিখুঁত বন্দুকবাজ আর তীক্ষ্ন থাবার নখড়ে খামছে ধরো

আমাদের মাটি ও প্রকৃতর মুখ

শহীদের মৃত্যুর মত বীরত্বের নিঃসঙ্গতা নিয়ে পড়ে থাকবেনা ফুলবাড়ি

.

আগুনের সন্তান আমরা অগুনতি আগুয়ান লেলিহান স্ফুরণ

নিমিষেই পুড়িয়ে উড়িয়ে ছাই করে দিতে পারি সকল সাম্রাজ্যে

আর যতো তোষক লস্কর দালাল আছো

ঐ মাটির গভীরে লুকানো কয়লার স্তরে স্তরে ল্যাপ্টিয়ে

সুড়ঙ্গ পথে টেনে হিঁছড়ে পাচার করে দিব কোন অতলপৃষ্ঠের প্রত্নতত্ত্বের দখলে

উড়িয়ে আমাদের উষার রক্তাগুনের পতাকা

একটুও টের পাবে না

সহস্রজনতার উল্লাসের উন্মোত্ততায় ব্যাথার কোন ছাপ

শুধু লক্ষ পায়ের চিহৃ এঁকে দিয়ে যাবে চিহৃহীন তোমাদের চূড়ান্ত সর্বনাশ

.

শহীদের মৃত্যুর মত বীরত্বের নিঃসঙ্গতা নিয়ে পড়ে থাকবেনা ফুলবাড়ি

আর আমাদেরই সঙ্গে পায়ে পা ফেলে এগিয়ে আসবে আমাদেরই সহদোর

বিপ্লব।।

.

.

সত্যগুলো মিথ্যা হবার গান

সারাক্ষণ আমি তো সাধারণ অপব্যবহারে ক্রমে হারিয়েছি সহজ রূপকথা যা আলাদা আলাদা শূণ্যতায় শূণ্যগুলোর সংখ্যাই কেবল বাড়িয়েছে এবং কিছুটা সময় কোনোভাবে নির্বাক কাগজের দীর্ঘস্থায়ী রীতিহীন শাদামাটা পীড়নের ব্যথায় নিরুপায় নোঙরের শিকল হাতে নিষকন্ঠক উজ্জ্বলতাগুলো নিয়ে তলিয়ে যাচ্ছে চিরকালীন অন্ধকার প্রদেশে

.

.

.

.

মালালা ইউসুফজা ‘র অসম্পূর্ণ বাক্যালাপ ০১

সোয়াতের বাজারে রুটির দাম বেড়ে যায় এমনকি পছন্দ মতন রুটি অথবা বিস্কুট কিনতে পারার স্বাধীনতা বন্ধী হয়ে যায়। আর রাতারাতি রকমারী বোরখা ও রেকাবে দর্জিঘর ও কাপড়ের দোকানগুলো ঢেকে যায়। স্কুলে আসাযাওয়ার পথে সমবয়েসীদের হিজাবের ব্যবহার ও একটু অগোছালো হয়ে যাবার ভয়ে কাঁপতে থাকা মুখগুলোর দিকে তাকানো শৈশব ও আগামীর খুন হয়ে যাওয়া কবরখানার গেটে বেদনার নির্ভুল আকৃতির সাথে পরিণত অবিচার গুলোকে গলা মিলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখার পরও অস্বাভাবিক ঘোমটা টেনে যে মেয়েরা বাড়িয়ে ফিরে আসে নিজস্ব ঘরের নিজস্ব ঘুনেধরা চৌকাঠে পা রাখে তাদের আর্তনাদের নিঃশব্দ আহাগুলো জমে জমে গোলা হয়ে ধ্বংস হচ্ছে আমাদের মাটিও আমাদের মানুষের ভেতরে থাকা মানুষ তার খোঁজে যাবার মতোও জ্ঞানশূণ্য আমরা পরে আছি আলোহীন আরাধণার আয়াতেঅন্ধ ফলবান বন্ধ্যাত্ব। এই রকম আগলে রাখার শিক্ষাই আমার নানীর বাবা তার মেয়ের মেয়েকে ব্যাক্তিত্ববোধ সম্পন্ন এক পৌরাণিক ভঙ্গিতে রোজ দিতেন। যার ভার সহ্য না করতে পেরে জেগে উঠা আমি খুন।।

.

.

মালালা ইউসুফজা ‘র অসম্পূর্ণ বাক্যালাপ ০২

দিনগুলো যখন খালি পায়ে দৌড়ে স্কুলঘরের জানালার পাশে এসে দাড়াতো কিংবা তাকিয়ে থাকতো ধ্বসে পরা দেয়ালের গায়ে আঁকা অস্পষ্ট ঘোড়ার ঘাড়ের উড়ন্ত চুলের বাতাসের দিকে তখন কারোর গোপন চোখ আমাদের আঁচল ও হিজাবের ফাঁকগুলোতে ঢুকে পরত বাইরের রোদের সাথেই এবং আমাদের চোখ সেই সব দৃষ্টির অর্থ না বুঝতে পারার সরলতায় হাসতো। মায়ের তেড়ে আসা বাক্যগুলোও সোয়াত অথবা হেরাতে হাজার বছরের একই চুল বাঁধার ভঙ্গির মতই অবিকল। ঐ সব শব্দরা সমাজের সুড়ঙ্গ পথ বেয়ে বেরিয়ে আসা বিষধর সাপের মতই প্যাচিয়ে ছোবল ছুড়ে মারছে আর বিষাক্রান্ত শৈশব ছটফট করে মরে যাচ্ছি শব্দহীন দীর্ঘঘোমটার বিষন্ন মুখেরা। ঐ যে পাতাগুলো দেখছেন আপনার জানালার বাইরের ওদের গায়ে লেগে থাকা রঙের সাথে কখনোই আমাদের আত্মিয়তা হয়ে উঠার সম্ভাবনাও জন্মে না। ওই পাষন্ড ও অমানবিক চিন্তার লোকগুলোর ক্ষমতায় যতো বাড়ল আমাদের রক্তপাত ও মর্ম যন্ত্রণার গানগুলো বাবলার শুকনো কাঁটার মতই ততো ধারালো ও নিষ্ঠুর বিঁধে যেতে থাকল। তাদের অন্ধত্বের লাগাম খুলে বেরুতে থাকল অজস্র হিংস হানার বিভীষিকা। যদিও নিজের ঘরের মধ্যেও এ অগ্নিজলে পোড়া হৃদয় দেখার একজনও কোথাও নেই দূর দূর সূর্যাস্ত ও উদয়ের বেলাভূমি পর্যন্ত আমাদের। ঠিক মনে পড়ছে ঘোমটা না দেওয়া মোহাইনূরী রাখতাইনের কথা আমার খেলার সাথী যারা বয়েস আমার বয়েসের দুই বছরের কম হয়েও এগারো তাকে যখন বেপর্দা আখায়িত করে ঐ যে ঐখানে সকলের সামনে রক্তাক্ত ফেলে গিয়েছিল লাশ। সে দিনও কারো মুখে একটা উচ্চ আহা স্বর কেঁপে উঠে নাই! একমাত্র মোহাইনূরীর বাবা তার মাকে এই বলে ভৎস্না করে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল তাকেও গুনাগার ও বেপর্দার ভাগিদার হতে হল। আমি দেখতে পেলাম আমরা সবাই দাঁড়িয়ে আছি সেই সমুদ্রের কিনারে যেখানে সাইক্লোন আর নির্মম অগ্নিজলের তান্ডব ছাড়া আর কোন আরাধ্য সৌন্দর্য দেখার অধিকার কারোর স্বপ্নে নেই। মর্মের অনিবার্য এইসব হত্যাকান্ডই আমাদের সবচেয়ে প্রিয় গৌরবগাঁথা!

.

.

ভাগনাডিহির ডাইরি

প্রকৃত আলোহীন কৌশলবাজ মেরুদন্ডহীন চেতনার পকেটমারেরা রোজ একটা করে প্রতিবাদ পাথর ছুঁড়ে মারে। আর আমাদের কোমল ক্যাবলা জ্ঞানের গুহায় আচানক প্রগতি ভাবনার অগ্নিকাণ্ড সংগঠিত হয়। এবং বিপুল বিভ্রমে ও উত্তেজনায় আমরা দাউ দাউ লাফিয়ে উঠি। কন্ঠক্রোধে গগনবিধারি শব্দমালায় জ্বলে উঠি প্রতিক্রিয়ার ক্ষণস্থায়ী প্রতিরোধ। আহা মাকলদের দেশে এ প্রতিরোধ, নিতান্তই রপকথার ডাইনির কাছে জব্দ শুভশক্তির হারিয়ে যাওয়া যাদু। যা আছে জেনে সকলেই টতস্ত্র ও ভীত বিহ্বল। কিছুই নেই, সেই সংবাদ যেন না ছড়ায় তার জন্য ডাইনির ভয় দেখানোর নানান ঝোক বেড়েই চলে। এমনই মান্দালকাটার খোঁচায় রাতভর আমাদের শহুরে বিজ্ঞানের নীল খাতায় অজস্র ঘৃনা ও ভৎসনা নিগৃহিত হয়। আর অন্তর্দৃষ্টিহীন জ্ঞান স্থূল স্বপ্নের আতশবাজি ফাটিয়ে রাতের নিজস্বতাকে পিটিয়ে ঘর ছাড়া করে। স্পর্ধীত ও সাহসীরা কদর্যতার,মূর্খতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনার অগেই নাগরিক সঙদের ছিটিয়ে দেওয়া দাসত্বের গন্ধে মুখ থুবড়ে পরে। ব্যবসাদারেরা তাদের নামে একটা করে দোকান খুলে দিয়ে নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতা ভাগ করে দেয়। বাজারে মেলা হৈ চৈ পরে যায়। কে কতোটা বৈশ্বিক সভ্যতার টোলগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করে বানাতে পারছে ছল। সেই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে চলছে তথাগত প্রগতিশীলতার সব জয় করে নেওয়ার খেলা। যারা বেঁচে যায়। যারা কখনো প্রকৃত আগুনের খোলস বদলায় না। তারা পুড়ে, প্রজ্বলিত ক্ষরণের উৎসবে দগ্ধ ও সুকঠিন হয়ে উঠে নিশ্চিন্ত নিরবে নিমগ্ন থাকে অশুরের বধে। কেননা এ বিপুল অন্ধকারে ওরাই একমাত্র গন্ধ ছড়ানো ফুল। বাকিরা মেশিন অথবা প্লাষ্টিক ভঙ্গি। দূরে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে গান বাজে

এমন নিকষ কালা আন্ধারে

পথ দেখাইয়া লইয়া যাইবো

মোদের সিধু কই

কানু কই

ভৈরব কই

কই রইলা রে

ভাগনাডিহির মাঠে সব উজার হইচ্ছে রে

.

.

জ্বলছে পশুপাষণ্ডের সাম্প্রদায়িকতা, হাসছেন বুদ্ধ এবং জ্ঞান বলছে রুখে দাঁড়া

নিজেদের অপ্রতিরোধ্য অন্ধত্বের উন্মাদনা ও হা হা শূণ্যতায় হিংস্র ও ক্ষুধার্ত হয়ে উঠেছে ওরা। গভীরতাহীন জীবনের আস্তানায় ঢুকে পড়েছে জ্ঞানলুপ্ত মুর্খের দল,বর্বরতা ছাড়া মানুষকে যারা কখনোই ভালবাসতে পারেনি। প্রকৃত আলো ও আগুনের অভাবে যাদের জীবনকে ওরা গড়িয়ে নিয়েছে নির্মম নিঃসঙ্গতাময় হিংসা আর বিদ্বেষ দিয়ে। আর একটু একটু করে যারা প্রত্যাখ্যান করেছে মানুষের চিরায়াত বন্ধন ও যুথবদ্ধ অঙ্গিকারগুলোকে। এমন একটাও জায়গা ছিল না যেখানে ধর্মান্ধদের সেচ্ছাচারিতার ক্ষরণে জলন্ত মৃত্যুর স্তবদ্ধতা ঘিরে ধরেনি। চকচকে ছুরির শিহরন বিঁধেছে শান্তি আর সম্প্রতির হৃৎপিণ্ডে। ঘৃনা আর ক্রোধে জ্বলে উঠা মশালের নির্দয় আগুনে ঝলসে ছোবল মারছে ধার্মীক পশুপাষণ্ডরা। ছারখাড় করেছে মানবের সকল বেদনাকে জয় করবার সত্য আবিষ্কারে নিমগ্ন বুদ্ধের ধ্যান। ধ্যানভগ্ন বুদ্ধ মৃদু হাসলেন,পুনরায় বিচলিতহীন চোখে চারদিকে তাকিয়ে মানুষের সৃষ্টি মানুষেরই ধ্বংসের তাড়ানায় উন্মত্ত দেখে নিয়ে, নিদ্রাহীন স্ফটিক ধ্যানের ধোয়ায় মিলিয়ে গেলেন। নিতুন এ পর্যন্ত লেখার পর আর কিছুই যেন ভাবতে পারছিলনা। সমানে ছড়ানো অনেকগুলো পত্রিকা। ‘রামুতে সাম্প্রদায়িক বিভিষীকা’ ঘরবাড়ি,বুদ্ধ বিহার পুড়ছে সাম্প্রদায়িক আগুনে।’ নানা শিরোনাম। মানুষ হত্যা করছে মানুষকে ধর্ম ও জাতিগত ঘৃনার তাড়নায়! চিরকাল যে পাহাড়ী পথের ফড়িংরা কখনো সবুজ কখনো নীল কখনো সাতরঙা কখনো রঙহীন স্বচ্ছ ডানায় উড়ে উড়ে বাতাসের আঁচল ধরে এ পাড়ায় ও পাড়ায় ঘুরে বেড়িয়েছে। তাদেরতো কখনো বাতাস কিংবা পাতা অথবা পাঁপড়িরা গলা চেপে ধরেনি। হত্যা করেনি। তারা চিরকালের এক মিতালী পাতানো গানের প্রশান্তিময় ঐকতানের সুরে গেয়ে গেয়ে নেচে ঘুরে বেড়ায় ঐ পাহাড়ে ঐ সমতলে ঐ আকাশ যতদূর মাটি ও জলের দিকে থাকে চেয়ে। অথচ মানুষ যে সে একইভাষায় কথা না বলেও একই আচার রেওয়াজে অভ্যস্থ না হলেও একই বেদনায় অনুভূত হয় একই প্রেমে একই পূর্ণতা প্রাপ্ত হয় একই জল একই আকাশের নিচে একই গান ভিন্ন ভিন্ন সুরে গেয়ে উঠে। সে মানুষ তার একমাত্র যৌথ পরিচয় সে ভুলে যায় কি বিপুল অন্ধত্বে? কতোটা পাষান বোধের অন্ধ চেতনাচর্চায় দগ্ধ হয়ে এমন পাষবিকতার শ্মশান তৈরি হয়? নানান প্রশ্ন ও প্রশ্নের বিদীর্ণ ফলায় নিতুন কুঁকড়ে উঠে। তার মনে পড়ে মৈত্রী রামু বিহারের পাশে বিশাল পাকুড় গাছটার কথা। তার নিচে ধ্যান মগ্ন বুদ্ধভঙ্গির কথা। এতো প্রাশান্ত নির্মল ছায়ায় যে মানব মন সৃষ্টির শিহরণ অনুভব না করে ধ্বংসের তাণ্ডবে মাতে সেই মানুষের যাবতীয় রিপুর দিকে অপলক চেয়ে চেয়ে স্থিরবুদ্ধ এখনো ভৎসনার মত হাসছেন। আমাদের জ্ঞান আমাদের অনবরত রক্তাক্ত ও রুখে দাঁড়াবার প্রত্যয়ে ডাকছে। কন্ঠভরা ঐকতানের সুরে গেয়ে উঠি আজ মানুষের জয়গান সকলে

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.