লিখেছেন: আলবিরুনী প্রমিথ

garments-10সম্রাট অশোকের সময়কার একটি প্রচলিত মিথ ছিলো এমনসম্রাট একদিন বিশাল আকৃতির একটা ষণ্ডকে চিকন দড়ির চিকন ছোটখাটো একটা খুঁটির সাথে বাঁধা দেখে জিজ্ঞেস করলেন ‘তুমি এই সামান্য দড়ি ছিড়ে সামান্য খুঁটি উপড়ে মুক্ত হতে পারোনা?’ ষন্ডের উত্তরবিলক্ষণ পারি। এরচে ১০ গুণ শক্ত হলেও পারি, কিন্তু পারবোনা, কারণ এটাই নিয়ম।’ এই নিয়মকে একবিংশ শতাব্দীতে টেকনোলজিকাল এডভান্সমেন্টের যুগে, আরবানাইজড প্রগরেসমেন্টের জমানায় ‘সিস্টেম’ বলে। এই সিস্টেমে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে পাড়ার মুচি পর্যন্ত পাঁড় ধান্দাবাজ। অনেক ছয় কে নয় করে দেওয়া যায়। চিটেগুড়ের দোকানদার হয় এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড গার্মেন্ট ফ্যাক্টরীর মালিক, ভূষিমালের আড়ৎদার হয় আইটি এক্সপার্ট। এই সিস্টেমে ইয়া বিশাল সব অট্টালিকা হয়, আলিশান দালান হয় সাথে সাথে মেট্রোপলিটন সিটির বীভৎসতাও চোখের সামনে চলে আসে। এই বৈপরীত্য দেখে কুখ্যাত দেং জিয়াও পিং এর ‘কালো বিড়াল’ তত্ত্বের কথা মনে পড়ে। তিনি বলতেন, ‘বিড়াল সাদা না কালো তা দেখার দরকার নেই, শিকার করতে পারলেই হলো।’ তারই ছোঁয়া আজ বাংলাদেশে দেখি। নানাবিধ বৈদেশিক বাপেদের বদান্যতায়, টাকার গন্ধে নিমেষের মাঝে বাংলাদেশ বিশেষত ঢাকা বনে গেছে সম্পদ বানাবার ওয়ান্ডারল্যান্ড। কুৎসিত, কদাকার সব চিত্র সামনে প্রায়শই চলে আসলেও কোন অসুবিধা হচ্ছেনা।

বাংলাদেশে গার্মেন্টস ‘শিল্পের’ শুরু বত্রিশ বছর আগে। শ্রীলংকায় গৃহযুদ্ধের কারণে সেখান থেকে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা তাদের মুনাফার আশায় বাংলাদেশে গার্মেন্টসের ব্যবসা নিয়ে হাজির হন। তারপর থেকে বাংলাদেশে এই ভাড়া খাটা কারখানার সংখ্যা হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার। কুড়ি থেকে ত্রিশ লাখ শ্রমিক এই নরকে শ্রম দিতে বাধ্য হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতিটি সরকার থেকে শুরু করে আরবানাইজড আবাল জনগণের একটা বৃহৎ অংশ গার্মেন্টস ব্যবসা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে তা নিয়ে নিজেদের হিপোক্রেসি ঢাকবার জন্য আনন্দে বগল বাজায়। কিন্তু সঙ্গত কারণেই প্রায়শই কিছু ঘটনা তাদের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি তাজরীনের গার্মেন্টস গণহত্যাকাণ্ড ঠিক সেটাই প্রমাণ করে। এই গণহত্যার উৎসব নিঃসন্দেহে দেখিয়ে দিয়েছে গার্মেন্টস ব্যবসা নিয়ে ন্যাকামী করে আখেরে বিশেষ লাভ হয়না, কারণ চোখের সামনেই এসমস্ত বীভৎস ঘটনা ঘটে আসছে বছরের পর বছর যাবত। ২০০৫ সালে সাভারের স্পেকট্রাম সুয়েটার ফ্যাক্টরী ধ্বসে শতাধিক শ্রমিককে জ্যান্ত কবর দেওয়া হয়েছিলো। তার তিনদিনের মাথায় আমরা নেচে গেয়ে, আনন্দ ফূর্তি করে নির্লজ্জের মত গলায় গান সেধেছি ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’! বাংলাদেশ বলেই এমনটা সম্ভব হয়েছিলো। গোটা বিষয়টাই আমাদের ঘৃণ্য শ্রেণীতোষণ এবং দ্বান্দ্বিকভাবে শ্রেণীঘৃণার স্মারক মাত্র। শ্রমিকেরা না মরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষার কাজে নিয়োজিত হওয়া কোন সেনা সদস্য মরলে রাষ্ট্রীয়ভাবেই শোকের প্যাঁ পোঁ উথলে পড়তো। এসব ঘটনা বছরের পর বছর যাব সংঘটিত হয়ে এসেছে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে। কি হয়নি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীগুলোতে? কি হচ্ছেনা সেখানে? শ্রমিকের রক্ত পানি করা পয়সায় লেক্সাস প্রাডো মারানো, নারী শ্রমিককে ভোগ করা, ধর্ষণ করা, খুন করা, পুড়িয়ে মারা, পায়ে পিষে মারা, অমানুষিক কম বেতন একটু বাড়ানোর কথা বলার ‘অপরাধের’ জন্য চাকরী থেকে ছাঁটাই করা, ধর্ষণ করতে করতে মেরে ফেলা সবই হয়েছে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীগুলোতে। কিন্তু তার সবই জায়েজ বৈদেশিক মুদ্রা আর তথাকথিত অর্থনীতিতে ‘ভূমিকার’ অজুহাতে। এখনো পর্যন্ত প্রায় ছয় হাজার শ্রমিককে এই গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীগুলোয় কাজ করতে গিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। একজন প্রকৃত বুর্জোয়া মাত্রই বোঝেন তার মুনাফার প্রধান উৎস হলো শ্রমিকের শ্রম। তাই শ্রমিকের কাজ করার জন্য সুস্থ পরিবেশ, তার অন্যান্য নানাবিধ অধিকারের সংরক্ষণের ব্যবস্থা সেই বুর্জ়োয়া করেন তার নিজ মুনাফার তাগিদেই। কিন্তু আমাদের এই গার্মেন্টস মালিকগণ বুর্জোয়াও নন, স্রেফ সামন্তীয় খাটাশ, যাদের মুখের দেঁতো হাসিতে, তথাকথিত আশা জাগানিয়া বাকোয়াজে আমরা এই সত্য বিস্মৃত হই যে প্রকৃতপক্ষেই গার্মেন্টস ব্যবসা আমাদের অর্থনীতির জন্য কার্যকরী হলে তার ইতিবাচক ছাপ দেশের সংস্কৃতিতে থাকতো, তার প্রতিফলন পড়তো দেশের রাজনীতিতে। যেই অর্থনৈতিক কর্মকান্ড প্রকৃত অর্থেই দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনে তার প্রভাব সর্বত্রই ছড়ায়। দেশের সংস্কৃতিতে, দেশের রাজনীতিতে সব জায়গাতেই তার ছাপ থাকে। জাতীয় পুঁজিতে গড়ে উঠা শিল্প কারখানার সাথে এখানেই এসেম্বলিং এর ব্যবসা, সাম্রাজ্যবাদীমুৎসুদ্দি পুঁজিতে বেড়ে উঠা গার্মেন্টস ব্যবসার পার্থক্য। তবুও আমরা উন্নয়নের গান গাইতে গাইতে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীগুলোতে অনুষ্ঠিত হত্যাকাণ্ডগুলোকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে চালিয়ে দেবো। পশ্চাৎদেশ বাঁচানোর সে কি অসামান্য কোশেশ রে বাবা!

আমরা বরাবরই চিন্তাশক্তিহীন, আত্মশক্তিহীন ভূষিমাল হিসাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে এসেছি এবং ধারাবাহিকভাবেই করে আসছি। প্রতি বছরের কিছু নির্দিষ্ট কিছু সময় এলে আমাদের সিজনাল দেশপ্রেম চাগাড় দিয়ে উঠে। ডিসেম্বর মাস চলে এসেছে, কর্পোরেট শক্তিগুলো তাদের অস্ত্রভান্ডার থেকে যাবতীয় অস্ত্রে শাণ দেওয়া শুরু করেছে। বাঙ্গালিকে বেঁহুশ করাটা বিশেষ কঠিন কিছু নয়। স্থূল, ম্যাড়ম্যাড়ে আবেগে একটু ‘ঘষে ‘দিলেই তা ফুলেফেঁপে উঠে। অতঃপর প্রত্যাশার চাইতেও অনেক বেশী মুনাফা আর মুনাফা। ডিসেম্বর মাস যেহেতু চলেই এসেছে তাই সঙ্গত কারণেই ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার’ ইত্যাদি কথাগুলো খুব জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। দেশের প্রধান দুই পলিটিক্যাল বরাহ গোষ্ঠী এইসব নিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক হিসাব নিকাশে টম এন্ড জেরী গেইম খেলছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি আমাদের সবারই অত্যন্ত আকাঙ্খিত। ৪১ বছর যাবত এইসব শুয়োররা আমাদের দেশে দিব্বি বেঁচেবর্তে আছে, তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়ার মত মর্মান্তিক ঘটনাও আমাদের চাক্ষুষ করতে হয়েছে। কিন্তু সবচাইতে প্রয়োজনীয় ইস্যুর দিকে আমরা তেমন কেউই আঙ্গুল তুলছিনা। এই দেশে ৪১ বছর যাবত নানাবিধ ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিগুলোকে আমরা অর্থনৈতিক রাজনৈতিক ভাবে বেড়ে উঠতে দিয়েছি। বৈদেশিক নানাবিধ পরাশক্তি তাদের স্বীয় স্বার্থে সেসব ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করে এসেছে, সাথে কোলাবরেটর হিসাবে ছিলো বাংলাদেশের প্রতিটি সরকার। যেই আওয়ামী লীগ সেক্যুলার ঢঙ দেখিয়ে তাদের অন্যান্য নানাবিধ নষ্টামীকে জায়েজ করার চেষ্টা করে, ফ্ল্যাশব্যাকে গেলে দেখা যাবে ২০০৬ সালে তাদের নেত্রীই খেলাফত মজলিশের সাথে ৫ দফা চুক্তি করেছিলেন, যার একটি ছিলো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে তারা ‘ব্লাসফেমী আইন’ প্রতিষ্ঠা করবে! ঘটনাক্রমে ২০০৭ সালে ফখরুদ্দীন গং ক্ষমতায় এসেছিলো। নইলে নিয়ম করে প্রতিটি পরিবারে জাকির নায়েকের ‘লেকচার’ শোনাবার নিয়ম করা হলেও আশ্চর্য হবার কিছু ছিলোনা। কিছুদিন আগে সৈয়দ আশরাফও বললেন তারা জামাত শিবিরকে নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছেন না। বাহ, কি চমৎকারই না দেখা গেলো! প্রধান ইস্যু হলো সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম উঠিয়ে দিতে হবে, বিসমিল্লাহ উঠিয়ে দিতে হবে, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করতে হবে, সেই দলগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে যার কোনটিই আওয়ামী লীগ করার ক্ষমতা রাখেনা। উপরিউক্ত ইস্যুগুলোকে বাইপাস করে অন্তঃসারশূন্য জামাত শিবির বিরোধীতা স্রেফ পলিটিক্যাল স্টান্টবাজি এবং প্রগতিশীল ফ্যাকশনে অন্তর্ভুক্ত হবার নির্লজ্জ হিপোক্রেসি মাত্র।

সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম বলবৎ রেখে, বিসমিল্লাহ বজায় রেখে, একের পর এক ইসলামিক ফাউন্ডেশন গড়ে তুলে জামাত শিবির বিরোধীতা করা, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখার সাথে ডায়াপার পরে সেক্স করতে যাবার কোন ফারাক নেই। অন্যদিকে, আরেক বরাহ গোষ্ঠি বিএনপিও হরতালের নতুন সংস্করন অবরোধের সাফল্যে (!)উজ্জীবিত। মির্জা ফখরুল বেজন্মার মতোই আহত, নিহতের সংখ্যা দিয়ে রায় দিয়ে বসেন যে জনগণ স্বতঃস্ফূর্ততার সাথে ‘অবরোধ’কে সফল করেছে। তারা নিজেরা বেজন্মা সেটা নতুন কোন বিষয় নয়, কিন্তু প্রশ্ন হলো জনগণকেও তাদের মতোই বেজন্মা ভাবার দুঃসাহস তারা পান কোত্থেকে? বিএনপি নামক সামরিক অফিসারের আঁতুড়ঘরে জন্ম নেওয়া সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা একবার বলেছিলেন I shall make politics difficult for the politicians.’বাস্তবে যা হয়েছে সেটা হলো নিকৃষ্টমানের সেই সামরিক উর্দি পরা অফিসার আম পাবলিকের জন্য পলিটিক্সকে করে তুলেছেন ডিফিকাল্ট। তার দলও ঠিক তাই করে এসেছে বরাবর। মুখে মুখে ভারত বিরোধীতা করে ফেনা তুলে ফেলে, অবশেষে পাছা বাঁচাতে ভারতের কাছেই ধর্ণা দিয়ে এসেছেন তাদের ম্যাডাম। এ অবশ্য নতুন কিছু নয়, বিএনপি বরাবরই ভারতের মদতপুষ্ট হয়ে এসেছে, হয়ে আসবে। মোদ্দা কথা এক পলিটিক্যাল বরাহ গোষ্ঠী শো ডাউনের ডাক দেবে, আরেক পলিটিক্যাল বরাহ গোষ্ঠী নিজের রাজনৈতিক হিসাব নিকাশ করবে। কিছু অনাহূত লাশ, নির্লজ্জের মতো একটু আধটু ফিসফাস। অতঃপর উভয় বরাহ গোষ্ঠীর জয়লাভের আনন্দ। হাইলি ইম্প্রেসিভ সোসাইটির কুৎসিত, কদাকার চেহারা দিনে দিনে বেরিয়ে পড়ছে। এমনটাই হবার কথা ছিলো, কারণ এমনভাবেই হয়ে আসছে সব।

সীমাহীন হিপোক্রেসিতে পরিপূর্ণ আমাদের বেজন্মা সমাজের আনাচে কানাচে শবদেহ ছোটাছুটি করছে। আমরা প্রত্যেকেই কীটপতঙ্গের মতোই যৌনাঙ্গ ব্যতীত অন্যান্য সব ভাড়া রেখে রাজামহারাজার আসনে আসীন হবার জন্য নিজ নিজ জায়গায় হরেক রকম বেশ্যাবৃত্তিতে লিপ্ত। আমাদের চিন্তা চলে শ্রেণী মেপে, আমাদের সংস্কৃতি সভ্যতা সবই নির্ণিত হয় শ্রেণীর তকমা দেখে। নিজেদের পশ্চাৎদেশ বাঁচাবার জন্য তার সব কিছুকেই ‘সিস্টেম’ বলে জায়েজ করি। নিকৃষ্টতম তেলতেলে হাসি দিয়ে, পা চাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে দেশকে ভালোবাসার নাটক করি। সভ্যতা তৈরী করে কৃষক শ্রমিক, আমাদের সমাজে যারা ‘আনরিকগনাইজড অবজেক্ট’মাত্র। আর আমরা পায়ের উপর পা তুলে তার সব ভোগ করে নানাবিধ এম্যুজমেন্টে মজে থাকি। ইহজাগতিক সকল এডভান্সমেন্টের কনজিউমার, প্রমোটার হবার সাথে সাথে পরজাগতিক কুৎসিত, কদাকার সব বীভৎসতাকে বয়ে বেড়ালে যেই বেজন্মা সোসাইটির সৃষ্টি হয়; তার অনন্য সাধারণ উদাহরণ হলো বাংলাদেশ। নবারুণ ভট্টাচার্যের ভাষায় বলতে হয় আমি দেখতে পাচ্ছি, আমার চোখের সামনে, আমার এতোকালের দেখা পুরানো দুনিয়াটা পাল্টে যাচ্ছে।”

.

কৃতজ্ঞতা স্বীকার: মনজুরুল হক গার্মেন্ট কারখানায় আগুন কোন দুর্ঘটনা নয়, ‘হত্যাকাণ্ড’

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s