বিবিধ প্যাঁচাল :: মুড়ির ঠোঙা অথবা দ্রোহের মন্ত্রণা

Posted: ডিসেম্বর 3, 2012 in দেশ, প্রকৃতি-পরিবেশ, মন্তব্য প্রতিবেদন, সাহিত্য-সংস্কৃতি
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

লিখেছেন: পাইচিংমং মারমা

(সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরনঃএই লেখাটা খুবই বোরিং এবং লম্বা একটা লেখা। লেখাটা সুশীল, আঁতেল, সমালোচক এবং কচুক্ষেতের বুদ্ধিজীবীদের জন্য নয়। লেখাটা আপনার নিরুদ্বিগ্ন সুশীল বোধের জন্য এলার্জিজনক। গোটা লেখাটা বেশ লম্বাতবে যারা সত্যের মুখোমুখি হতে চান তারা বিষয়বস্তু ধরে ধরে পড়তে পারেন। নীচে ক্রমিক নং এবং বিষয় অনুযায়ী লেখাটা সাজানো আছে। যেকোন বিষয় ধরে আপনি আগাতে পারেন।)

.

১। সানি লেওনের তপ্ত কড়াই এবং ভাজা পোড়া তারুণ্য

Consumerism-1Sunny Leoneকে চিনতাম না। চেনার কথাও না। অনেকদিন ধরে ফেবু খুললে সাইডবারে স্বল্পবসনা এই রুপসীকে দেখি। গতকাল দেখলাম আমার ফ্রেন্ডলিস্টের ১৪ জন তাকে পছন্দ (Like) করে। তার মধ্যে কলেজ পড়ুয়া আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম, ২য় বর্ষের ছাত্রীও আছে। তারা কেন পছন্দ করে জানতে আমি এই রুপসির বিষয়ে তালাশ করলাম। Wikipedia-তেও ঢুঁ মারলাম। দেখে তো আমি থ!

যার এতো জনপ্রিয়তা সে আসলে একজন Porn Star,ভদ্রভাষায় সেলিব্রেটি, প্রচলিত ভাষায় সে একজন “বেশ্যা, রেন্ডিমাগী””। Wikipediaথেকে তার নিজস্ব ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখি সেটা একটা পর্নো সাইট, যেখানে তার পর্নো ভিডিও আপলোড করা আছে।

এই “বেশ্যা মাগীকেই” তাহলে তরুণেরা পছন্দ করে?

কাউকে পছন্দ করা মানে কি শুধু তার দেহসৌষ্ঠব পছন্দ করা?

সেখানে কি তার কাজচরিত্রযাপিত জীবন নিয়ে প্রশ্ন আসেনা?

যদি আসে তার মানে

যারা এই সানি লিওনকে পছন্দ করেছে, নিশ্চয় তার দেহ বিক্রীকেও তারা অসমর্থন করে না?

তার মানে সানি লেওনের টাকার জন্য যেকোন পুরুষের সাথে শয্যায় যাওয়াকেও তারা অসমর্থন করেনা?

তাকে পছন্দ করার মানে তারা এই সবকিছুকে অপছন্দ করেনা?

.

অতি সরলিকৃত বিচার করে ফেলছি তাই তো ?

ফার্মগেটের মোড়ে যে নারী শরীর বেচে আপনারা তাদের কাছ থেকে গা বাঁচিয়ে চলেন। আমার লেখা “বেশ্যা, মাগী” শব্দগুলোও নিশ্চয় আপনার মনে কুট কুট করছে ঠিক না?

.

২। তারুণ্যের পাছায় ভোগবাদের আগুন

Consumerism-2এবার আপনাদের কিছু বোরিং বিষয়ে কথা বলি। বোরিং কেন? আমার অভিজ্ঞতা থেকে জানি, আমি এখন যেটা লিখতে চলেছি, সেটা বেশীরভাগ কলেজবিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী শেষ পর্যন্ত পড়বেন না। তাদের ধৈর্যে কুলাবে না। কেন কুলাবে না? মোবাইল আছে, মোবাইলে ইতিসপিতিস আলাপের উস্কানি আছে, ফেসবুকে রগরগে অনেক পেজ আছে, ছেলেদের জন্য ফেবুতে অনলাইনে অনেক রুপসী আছে, মেয়েদের জন্য একটু খেলে বেড়ানোর মতো ছেলেপেলে লেজ নাড়ছে অনলাইনে। কম্পিউটারে মুভি আছে হিন্দি, ইংলিশ, কোরিয়ানবিকেলে ফাস্টফুডে ডেট আছেসময় কোথায় ভাবার? সময় কোথায় এসব ফালতু জিনিষ নিয়ে ভাবার?

সভ্যতা বেদম ছুটছে, তার পেছনে অন্ধের মতো ছুটছে তৃতীয় বিশ্বের ম্যাংগো পিপল।

সবচেয়ে বেশি ছুটতে হচ্ছে তরুণ প্রজন্মকে। ফ্যাশন, মোবাইলের মডেল, আইটি, ক্যারিয়ারের Trend, লাইফস্টাইলের Trendখুব দ্রুত পালটাচ্ছে। সময়ের সাথে না মেলাতে পারলে তো খ্যাত হয়ে যাবেন, Trendyথাকতে পারবেন না। Trendএর ছুটন্ত trainধরতে Yellow, Taaga,Boomers, Pizza Hut, Ecstacy, Android, IOSইত্যাদি ব্র্যান্ড আর এসব ব্র্যান্ড হাতের মুঠোয় পুরোবার কথা ভাবতে ভাবতে তরুণেরা ছুটছে ছুটছে ছুটছে

হে ছুটন্ত তারুণ্য, তুমি কোথায় ছুটছো?

তুমি বিনে খতে গোলাম হইলে গাঁইটের টাকা দিয়া” তা কি টের পাচ্ছো?

আপনারা বলবেন, “গোলাম কিসের? We are free to choose, its freedom of choice…

মুশকিলটা এখানেই, আপনি ভাবছেন যে আপনি মুক্ত, কিন্তু আপনি একটা অদৃশ্য খাঁচায় বন্দী। আপনার মগজটাই আপনার বন্দিশালা। আপনার চলার সীমানা ঠিক করে দেওয়া। আপনার ভাবনার সীমানাও পূর্বনির্ধারিত। আপনি যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হন ভাবুনতো, আপনি সারাদিনসারাবছরে কোথায় যান? কি নিয়ে ভাবেন? সেই বিভিন্ন ব্র্যান্ড আর ব্র্যান্ডেড জীবনের বাইরে কিছু তো নেই তাই না? আমি বলি বয়ফ্রেন্ডগার্লফ্রেন্ডপরীক্ষার আগে পড়ালেখাফাস্টফুডডেটশপিংফেসবুকমুভিসেক্সুয়াল অবেসেশন এন্ড সেক্সকালে ভদ্রে ধম্ম টম্মআবার ক্লাসঘুরাঘুরিএই তো? এর বাইরে আর কি??

আপনি টেরই পাচ্ছেনা না, আপনি একটা পন্যের বৃত্তে ঘুরছেন। নোকিয়া ভালো লাগছে না, কবে যে একটা গ্যালাক্সি পাবো? বঙ্গের জ্যাকেট ভালো লাগছে না কবে যে নামী ব্র্যান্ডের জ্যাকেট পড়ে ফ্রেন্ডদের সামনে মাঞ্জা মারবো! এই যে চিন্তার ধরণ (Thinking Pattern and Mind set), এটাকেই বলে ভোগবাদ বা CONSUMERISM.

কেএফসি থেকে পিজা হাট, স্বাদ বদলাতে বুমারস। রনি আপনার বয়ফ্রেন্ড, চামে চামে মোবাইলে জুয়েলের সাথেও একআধটু ইতিস পিতিস। আশ্চর্য যে, এটা যে একটা অসুস্থতা সেটা আমরা কেউ ভাবছি না। বহু সংক্রমিত অসুস্থতাই যেন স্বাভাবিক সুস্থতা! এভাবে পন্যের একটা অদৃশ্য বলয়ে আমরা বন্দী হয়ে আছি। এভাবে আমরা যেন একটা পণ্যায়িত জীবন যাপন করছি।

দিনে রাতে পণ্য ভোগ করছি, বেঁচেই আছি যেন পণ্য ভোগ করার জন্য। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত শুধু পণ্য ভোগ করার চিন্তা, ভোগ করতে না পারার দুশ্চিন্তা। এই ভোগবাদী চিন্তা থেকেই আমাদের পৃথিবীটাকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি একধরনের প্যাটার্নড হয়ে যায়। যে লোকটা ক্যারিয়ার গড়েছে সে চায় একটা সুন্দরী বৌ বা প্রচলিত কথায় “হেব্বি মাল”। এখানে মানবিক গুণাবলি, মানবিক বোধের খেতা পুড়ে সুন্দরী নারিটিও এইরকমই মালসম্পন্ন লোকের সাথে ড্যাং ড্যাং করে শুভ বিবাহের গাড়িতে উঠে যায়!

এখানেও ঐ ভোগ করার সমীকরণের হিসাব। কে কার থেকে কেমন ভোগ করতে পারে। যারা ছাত্র তাদের এই ভোগের বৃত্তটা এরকম দাঁড়ায় এখন পড়ছি, পড়ার পর যেমনেই হোক একটা জব নেবো, জবের প্রয়োজনে বসের ব্লোজব নেবো, তারপর সংসারের জন্য পণ্য, গাড়ি, ফ্ল্যাটবাড়িএটাই এখন আমাদের জীবনের চক্রাকার গতি, এবং পূর্বনির্ধারিত বিধি। এর বাইরে কিছু কি নেই? কিছুই নেই??

আমরা যে এই চক্রাকার জীবনের বাইরে কিছু ভাবতে পারছি না এটাই কি আমাদের বন্দিত্ব নয়? এ থেকেই কি আপনি বুঝতে পারছেন না যে, আপনার চিন্তা শেকলে বাঁধা? আমরা চিন্তার দাসত্ব করছি???

.

৩। Cool life and Anti Intellectualism

Consumerism-3মানুষকে পশুর স্তরে না নামাতে পারলে তাকে দিয়ে পশুর কাজ করানো সম্ভব না। কথাটা শরৎচন্দ্রের। সানি লিওনের ফ্যান হয়ে যাওয়াটা অন্যভাবে ভাবুন তো

ফার্মগেটের বেশ্যাকে আপনি ঘৃনা করেন। আমি হলফ করে বলতে পারি, ফার্মগেটের ঐ বেশ্যাকে মেকআপ করিয়ে, মেদ ঝড়িয়ে, শোবিজের মডেল বা সেলিব্রেটি বানালে আপনাদের চোখ ঠিকই চক চক করতো!

তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়ালো আপনার মনটাকে এমনভাবে তৈরী করা হয়েছে যে, আপনি আপাতভাবে ঘৃণ্য একটা জিনিষকে সমাদরে গ্রহন করছেন বা “লাইক” করছেন। এই কাজটা কিভাবে হয়? এই কাজটা হয় মিডিয়া দিয়ে। মুভিসিরিয়ালট্যাবলয়েড এবং হালের ফেসবুকের মাধ্যমে। ফেসবুক এখন এতই শক্তিশালী যে সে নিজেই এখন একটা মিডিয়া। ঠিক এই প্রক্রিয়ায় পশ্চিমের নামীদামী সব ব্র্যান্ড ল’রিয়েল প্যারিস, কোকাকোলা, ম্যাকডোনাল্ড, পিজা হাট ইত্যাদি কর্পোরেটগুলো তাদের বিজ্ঞাপন দিয়ে এমনভাবে আপনাদের মনকে ভোলায় যে, আপনি তার বাইরে কিছু ভাবতেই পারেন না। এটাকেই বলে উত্তর উপনিবেশিক মগজ ধোলাই(POST COLONIAL BRAIN WASHING)

যে পক্ষের দখলে শিকল আছে সে শিকল দিয়েই পাখিকে বাঁধে, অর্থাৎ জোর দিয়ে। শিকল নেই যার সে বাঁধে আফিম খাইয়ে, অর্থাৎ মায়া দিয়ে। শিকলওয়ালা বাঁধা বটে কিন্তু ভোলায় না, আফিমওয়ালী বাঁধেও বটে ভোলায়ও।” ( রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরশেষের কবিতা)

উপনিবেশ যুগে বেনিয়ারা ব্যবসার নামে ঢুকে দেশটাকেই দখল করে ফেলতো জোর দিয়ে। যেমন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি করেছিলো। উপনিবেশ যুগের পর এখন উত্তরউপনিবেশ যুগ। এখন আর ঢাল, তলোয়ার, কামান দিয়ে কোন দেশ দখল করতে হয় না। কোন দেশের অর্থনীতি দখল করলেই কেল্লা ফতেহ। এখন উপনিবেশকারীরা আগে আমাদের মগজ দখল করে তারপর আমাদের দেশে ব্যবসা করে। তারপর মুনাফা তুলে নিয়ে যায় তাদের দেশে। লাভ হয় কার? তাদের দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হয় আর আমার দেশের তরুণ সমাজ Trendyহয়। তারা আমাদের মগজ দখল করে তাদের মিডিয়া দিয়ে। আর তাই ক্যাটরিনা কাইফ কিংবা লিওনেল মেসি পেপসি মুখে হাসলে আমরাও ভুলে যাই।

ফেসবুকে আমার পরিচিত জনৈক পাহাড়ি ছাত্রী, সে শাবিপ্রবিতে পড়ে। সে এরকমই ‘পিজা হাট’ এর ফ্যান পেজ’এ কমেন্ট করেছিলো, “we want Pizza Hut in Sylhet”, সে কোনদিন পিজা হাটের পিজা খায়নি। সে একজন পাহাড়ের মেয়ে, তার মনেও পিজা হাটের পিজা খাওয়ার কি বাসনা! সে এখনই সিলেটে পিজা হাটের শাখা চেয়ে বসেছে তাদের পেজে! তার মানে তার মধ্যে পিজা হাটের পিজা নিয়ে কিছু মোহ আছে। এই মোহ কিভাবে সৃষ্টি হলো? এটাতো আকাশ থেকে নাজিল হয়নি। এটা এসেছে মিডিয়া আর প্রচারযন্ত্র দিয়ে।

এভাবে তারা (বেনিয়ারা) আপনার পাকস্থলিতে ঢোকার আগে আপনার মনে ঢোকে, আপনার মনে ভোগের আকাঙ্ক্ষা তৈরী করে। তারপর পেটায়ঃ নমঃ করে মুনাফা লুটে নিয়ে যায়। বিনিময়ে আপনি কি হলেন? আপনি ট্রেন্ডি হলেন, আপনি যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক “পিজা ইটার” হলেন।

পিজা হাটের পিজা খেয়েছেন বলে এবার আপনি ভাব নিতেই পারেন আপনার মফঃস্বলে বন্ধুদের কাছে!

এইভাবেই আপনি একজন বেশ্যার ভক্ত হয়ে যান পশ্চিমা বেনিয়া মিডিয়ার ডামাডোলে। আপনি টেরই পেলেন না কিভাবে আপনি পর্নোগ্রাফির ভক্ত হয়ে গেলেন! আপনি জানতেই পারলেন না, কিভাবে পর্ণোগ্রাফির প্রচারে আপনিও একজন অংশীদার হয়ে গেলেন।

কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার কেনা ম্যাকডনাল্ডের বিফ বার্গারের টাকা ইজরায়েলে চলে যায়। আপনার কেনা কোকাকোলার টাকা দিয়ে যে বোমা তৈরী হয়, সেই বোমা ফিলিস্তিনের শিশুদের হত্যা করে। আপনি যখন ল’রিয়ালের লিপস্টিক ঠোঁটে ঘষছেন, সেই টাকার কিয়দাংশ চলে যাচ্ছে জায়নবাদী ইজরায়েলের সামরিক তহবিলে। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন, অথবা এই লিঙ্কে

আপনি জানেন না কারণ আপনি জানতে চান না। আপনি এসব ভাবতে চান না। আপনি বলেন, “এসব ভেবে কি হবে? এসব ভাবলে জীবন চলে না।” আপনি জানেন না। আপনি জানেননা, কারণ আপনাকে জানতে দেওয়া হয়না।

এই যে এই শব্দগুলো ভোগবাদ, উত্তরাধুনিক মগজ ধোলাই, ANTI INTELLECTUALISM, HEGEMONY,লড়াই, দ্রোহ, মুক্তি; এগুলো আপনারা খুব সচেতনে এড়িয়ে চলেন। এইসব বিষয়কে আপনারা গুরুগম্ভির আলোচনা বলে তফাতে থাকেন। এগুলো আপনারা স্বপ্নেও ভাবতে চান না। স্বপ্নের মধ্যে আপনারা, “মেরে স্বাপনো কি রানী কাব আয়েগি তু” ভাবতে চান। মেয়েরা স্বপ্নে সিরিয়ালসিনেমার নায়ককে দেখতে চান। এই যে আপনারা ভাবেন না এবং ভাবতে চাননা, একে বলে ANTI INTELLECTUALISM,মানে কোন বুদ্ধিবৃত্তিক বা মননশীলতার চর্চা না করা।

ANTI INTELLECTUALISMশব্দটা আমার লেখা দিয়ে আরো সহজ করে বুঝিয়ে দিচ্ছি। লেখার শুরুতে বলেছিলাম অনেকেই আমার লেখাটা বোরিং বলে শেষ পর্যন্ত পড়বেন না। এই পড়তে না চাওয়াটাই ANTI INTELLECTUALISM। এইসব বোরিং বিষয় নিয়ে ভাবার চাইতে বেশি চটকদার, এন্টারটেইনিং বিষয়ে মাথা গলানোর প্রবণতাটাও ANTI INTELLECTUALISM.

যারা এইসব বিষয়ে ভাবেন, তারা হচ্ছেন কলামিস্ট, আঁতেল ইত্যাদি আমাদের সমাজে এরকম কিছু common concept বা prejudiced view তৈরী হয়ে গেছে। তরুণেরা সব চিন্তার ভার ভারবাহী চিন্তাবিদের হাতে ছেড়ে দিয়েছে।

যারা এসব ভাবে তাদের আপনারা আঁতেল, “আধ্যাত্মিক”, বুদ্ধিজীবি, কবি ইত্যাদি বলে এড়িয়ে চলেন। এসব বিষয়কে “স্বাভাবিক জীবনের” বাইরের বিষয় ভেবে আপনারা প্রাত্যহিক প্রয়োজন মেটানোয় ব্যস্ত থাকেন। আপনারা জটিল, সেইরকম, Cool, awesomeজিনিষ নিয়ে থাকতেই পছন্দ করেন। জীবনের তিক্ত আটপৌরে কাহিনী বা জ্বলন্ত সত্যের আঁচ থেকে অনেক দূরে এইসব groovy, Cool, Awesome, Spicy, Wow, Hot, Sexy, Awesome নিয়ে জীবন যাপন করাটাই হচ্ছে Anti Intellectualism.

আপনারা INTELLECTUALISM থেকে শত হাত দূরে থাকতে চান। এইসব বিষয় থেকে দূরে থাকেন বলেই আপনারা বিদেশী ব্র্যন্ডের ফাস্ট ফুড, সানি লেওনের পর্নোগ্রাফি এবং পর্নোগ্রাফিক লাইফ স্টাইলের কাছাকাছি চলে যান। আপনারা ভাবেন না বলে অজান্তে ভোগবাদের চক্করে পড়ে যান।

** বেশ্যার দালাল বললে কার না খারাপ লাগে?

সানি লেওনের পেজ লাইক করতে ফেবু ফ্রেন্ডদের request পাঠানোকে বেশ্যার দালালি না বললে কাকে বলবো?

আমাদের সমাজে জগতজীবনের নিয়ম জানা না জানার মধ্যে কোন ফারাক নেই। এই সমাজে জ্ঞান অর্জন আর তথ্য জানার মধ্যে কোন ফারাক নেই। স্নাতক পাশের পর সবাই তথ্য মুখস্ত করতে ব্যস্ত হয়ে যায় কোন দেশের মুদ্রা কি, কোন নদী কত দীর্ঘ ইত্যাদি। এই সমাজে বিজ্ঞান পড়ে বিজ্ঞান মনস্ক হওয়ার চেয়ে বিজ্ঞানের ফলিত বিষয়ের বা ঐ বিজ্ঞানের ডিগ্রি দিয়ে চাকরী পাওয়াটা অনেক অর্থপূর্ণ।

.

৪। এক পিয়াস জেলে লক্ষ পিয়াসী আত্মা ঘরে ঘরে

Consumerism-4মিডিয়ার মগজ ধোলাইয়ের কারণে কম বয়সেই ছেলেমেয়েদের প্রেমজ্বর উঠে। হিন্দি সিনেমাসিরিয়াল দেখে, হলিউডিবলিউডি সিনেমা দেখে উঠতি বয়েসেই ছেলেমেয়েরা প্রেমেকামে কাঁপতে থাকে। আছে মোবাইল ফোন, আছে মোবাইল ফোনে প্রেমের ব্যাপারী ডিজুস আর এয়ারটেল। তারা তরুণদের প্রেম করানোপ্রেম শেখানোর সবক শেখাচ্ছে।

যে জিনিষটা বহুল প্রচলিত হয়ে যায়, সেটার অনৈতিক দিকটা তখন ঢাকা পড়ে যায়। অস্বাভাবিক ব্যাপারটা স্বাভাবিক হয়ে যায়। ঢাকার নিউ মার্কেট, ফার্মগেট সহ সবখানেই এখন খোলামেলা পর্নোগ্রাফি বিক্রি হয়। এটা এখন অস্বাভাবিক না। উঠতি ছেলে ছোকরার মোবাইলে পর্নোগ্রাফি এখন অস্বাভাবিক না। উঠতি বয়েসের যে ছেলেটা দিন রাত ঐ পর্নোগ্রাফির মধ্যে ডুবে থাকে, তার মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই যৌন আকাঙ্ক্ষা তৈরী হয়। যার ভেতরে যৌন আকাঙ্ক্ষা (Sexual fantasy and Sexual Obsession)তৈরী হবে, সে সেটাকে হয় অবদমিত করবে, প্রশমিত করবে, নতুবা সেটাকে বাস্তবায়িত করার পথ খুঁজবে। সে যদি দূরন্ত, দুষ্ট, মা বাবার অবাধ্য, বখাটে টাইপের হয় সে তার যৌন আকাঙ্ক্ষা পূরণের পথ করে নেবে।

আপনাদের কি মনে আছে, কদিন আগে চট্টগ্রামের এক আদিবাসী মেয়েকে তার স্কুলপড়ুয়া বন্ধুরা গণধর্ষণ করেছিলো? ঘটনাটা ঘটেছিলো ২৮/১০/২০১২, রবিবারে। এখানে একজন চাকমা ছেলেও জড়িত ছিলো। আমি সেদিন থেকে এই বিষয়টা নিয়ে লিখবো ভেবেছিলাম। জানতাম যে মানুষ কিছুদিন এটা নিয়ে হাউ কাউ করে ভুলে যাবে। কিন্তু যে রোগ জীবাণুর আক্রমণে পাগল হয়ে পিয়াস চাকমা আর তার বন্ধুরা মেয়েটাকে ধর্ষণ করেছিলো, সেই জীবাণু তেমনি অক্ষত রয়ে যাবে। কেননা আমাদের সমাজই এই জীবাণুগুলোকে বাঁচিয়ে রেখেছে।

আমি পিয়াস চাকমার ফেবু প্রোফাইলে ঢুকেছিলাম। যথারীতি কিশোর বয়সী ছোকড়ার প্রোফাইল যেমন হবার কথা, তেমনি ছিলো কভার ফটোতে কম্পিউটার গেমের একটা দুর্ধষ চরিত্রের ছবি; ছেলেমেয়েদের প্রেম ভালোবাসা বিষয়ক পাকনামি, ছ্যাবলামি, ইতড়ামিফাতরামি। মাসছয়েক আগে ইন্টারনেটে দেখলাম যে, ঢাকার ছেলেমেয়েরা ১৮ পার হবার আগেই যৌন অভিজ্ঞতা লাভ করে। এই সমীক্ষাটা ICDDRBকরেছিলো।

Consumerism-5** যে ছেলেটা দিনরাত Sexual fantasy”এবং sexual obsession”এ ডুবে থাকে তারপর সানি লেওনের ওয়েবসাইটে Sunny Leone- See Why the World is obsessed” এর খোঁজ করতে থাকে

** সেই ছেলে ধর্ষ করবে নাতো কি ত্রিপিটক পাঠ করবে, নাকি সামাজিক আন্দোলন করবে?

মানুষকে পশুর স্তরে না নামাতে পারলে তাকে দিয়ে পশুর কাজ করানো সম্ভব নয়। সুতরাং মানুষের মননজগত, রুচি, সংস্কৃতিতে পচন লাগাতে হবে। ঐ জায়গাতে পচন লাগলে তাকে দিয়ে নোংরা কাজ করানো সহজ। পিয়াস তার বন্ধুদের সাথে মেয়েটাকে ধর্ষণ করেছিলো। সে দোষী। কিন্তু তারচেয়ে বেশী দোষী আমাদের সমাজ। পিয়াসের ধর্ষক মন এবং ধর্ষণের আকাঙ্ক্ষা নিশ্চয় হঠাৎ তৈরী হয়নি? সেটা তৈরী হতে সময় লেগেছে। আর তার এই ধর্ষক মন তৈরী হওয়ার সব উপাদান আমাদের সমাজেই ছড়িয়ে আছে। এই সমাজেই আছে ভোগবাদ, আত্মকেন্দ্রিক স্বার্থপরতা, নারীকে পণ্য হিসাবে ভাববার মানসিকতা। শিক্ষিত ডিগ্রিধারীরাও আকছার নারীকে মাল বলতে দ্বিধাবোধ করে না। মিডিয়া এবং সমাজের প্রচলিত চিন্তা নারীকে মেয়েছেলে হিসাবেই ভাবায়। নারীকে পণ্যায়িত করে।

.

৫। বেহিসাবের রোজনামচা (ডায়েরীর পাতা থেকে)

If you really want to enslave people, tell them you are going to give them total freedom”- L Ron Hubbard.

এবার আমরা উপরের অংশগুলো একে একে মেলাই। সমাজে যত বেশি Anti intellectualismএর প্রকোপ বাড়বে ততোই Consumerismএর ভূত চেপে বসবে জনমানসে এবং সমাজে ততোবেশি Apathetic mind setতৈরী হবে। Apathetic mind set মানে হচ্ছে একটা নিরাসক্ত, নিস্ক্রিয় মননকাঠামো। মানে হচ্ছে দেশ, দুনিয়া, সমাজ, মানুষ, মানবতা চুলোয় যাবে যাক, আমরা চমৎকার থাকবো, মৌজমাস্তিফুর্তিআনন্দ, সুখে থাকবো এরকম মানসিকতা। এখন আমাদের বাস্তবতা কি? সচেতন মানুষ মাত্রই বলবেন আমাদের দেশের কোন কিছুই ভালো নেই।

আলুপটলের মতো যখন শিক্ষার ব্যয় বাড়ে, শিক্ষার দায়ভার রাষ্ট্র যখন শিক্ষার্থীদের উপরে চাপিয়ে দেয়, তখন জঙ্গি আন্দোলন গড়ে উঠে না। কারণ বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী Apathetic. দেশের সম্পদ বিদেশী কোম্পানীগুলো তুলে নিয়ে গেলে আন্দোলন হয় না, জিনিষপত্রের দাম বাড়লে প্রতিবাদ হয় না, দেশজুড়ে লুটপাটতন্ত্রের জোয়ারে সংসদের ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদেরা দেশ বেঁচে দেওয়ার কাজ করলেও প্রতিবাদ হয় না ঐ একই কারণে। মানুষের রাজনীতিরাষ্ট্রনীতিঅর্থনীতি কোন কিছুতেই কোন আগ্রহ নেই। প্রতিবাদহীনতায় সবকিছু স্তব্ধ কেন? কারণ খুঁজতে গেলে আরো অনেক কথা আসে। সেগুলো আরেকদিন বলবো।

এই অবস্থাটাকে আমি পাহাড়ের কনটেক্সটে বিচার করতে চাই। এখানে আমার পুরনো কিছু নোট সেঁটে দিচ্ছি। বিগত কিছুদিনের ডায়েরীর লেখা সরাসরি তুলে দিলাম।

Consumerism-6

.হায় ঘরপোড়া পাহাড়ি গরু

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১২

আজকের সকালটা বেশ ভালোই ছিলো। গুনগুন করে সুর ভাজতে ভাজতে উঠেছি। দেরীতে ঘুমিয়েছিলাম রাতে। সকালে উঠতে দেরি হয়নি নাস্তা করে বেড়িয়ে পড়লাম অফিসের পথে। রাস্তায় আমার কলিগ ফোন দিলো,

কই তুমি?”

দুই মিনিট”

এভাবে উত্তর দেওয়ার কারণ হলো, রাতে দেরীতে ঘুমানোর কারণে আমার সব দিনেই বেরোতে দেরী হয়। তখন ফোন করলে আমি বলে দিই দশ মিনিট ওয়েট করেন।

শোন, আমি আজকে অফিসে যাবো না।”

ক্যান ?”

আজকে গন্ডগোল হতে পারে। পানছড়ির রোডে অবরোধ। কাল রাতে দিঘিনালায় একজন চাকমাকে রেপ করেছে সেটেলাররা। পরিস্থিতি ভালো না। দাঙ্গাটাঙ্গা বাঁধতে পারে।”

আচ্ছা, আপনি বাসায় থাকেন, আমি আসছি।”

বাসায় গিয়ে ব্যাপারটা বুঝলাম । কোন এক আওয়ামীলীগ নেতাকে ইউপিডিএফ পিটিয়েছে তাই হরতাল। কাল রাতে বাঙালিরা মিছিল করেছে। মহাজন পাড়ার খাগড়াছড়ি গেস্ট হাউজে ঢিল ছুঁড়ে গ্লাস ভেঙেছে। কারণ তার মালিক চাকমা, মহাজন পাড়ার কয়েকটা দোকানেও তারা ঢিল ছুঁড়েছে।

বেশ, তারজন্যে অফিস যাবো না?”

এতটুকু শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম

আরে তুমি ভুলে গেলে কালকেই তো দুজন চাকমা ছেলেকে বাঙালিরা বাজারে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। কখন কি হয়ে যায় তার ঠিক আছে? আর ভুলে যাচ্ছো কেন, সামনে নির্বাচন। এখন নানান রকমের দাঙ্গাহাঙ্গামা হওয়ার মৌসুম। এতদূর থেকে বাসায় ফেরার পথে বাজারে কি না কি হয়ে যায়।”

ষড়ঋতুর মত পাহাড়ে দাঙ্গাহাঙ্গামা বাঁধার একটা মৌসুম আছে। এমনিতে পাহাড়ে ভালুকের জ্বরের মত এটা সেটা নিয়ে পাহাড়িদের সাথে বাঙালীদের উত্তেজনার পরিস্থিতি প্রায়ই তৈরী হয়। কিন্তু কিছু কিছু সময়ে এর প্রকোপ বেড়ে যায়। সাধারণত বৈসাবি, মানে পাহাড়িদের মূল উৎসবের আগে আর নির্বাচনের আগে সেটেলার বাঙালিরা দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করে। আমার মনে পড়লো, ভারতের গুজরাটের কথা। উপমহাদেশে ভোটের রাজনীতিতে কারোর জেতার জন্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা একটা কার্যকর অস্ত্র। সেটেলাররা টের পায় না কারা তাদের রক্ত বেচে লাভের বস্তা গুদামে তোলে। আর বেচারা পাহাড়িরা ঘরদোর, স্ত্রীসন্তান বাঁচানোর জন্য কেমন উৎকণ্ঠায় দিনমাসবছর কাটায়।

দুপুরের আগেই এদিক ওদিক হেঁটে বেড়িয়ে বাসায় ফিরলাম। বাসায় ফিরে দেখি আমার ভাগ্নিটা টিভিতে সিরিয়াল দেখছে। বাইরের সংঘাতের আঁচ লাগেনি বাড়ীতে। দুপুর গড়ানোর আগেই ছোট বোনের উৎকণ্ঠিত কন্ঠ শুনতে পেলাম ফোনে। জানতে চায়লো জাহাঙ্গীরনগর বিশবিদ্যালয়ের ছাত্রী তিয়াসা চাকমাকে কারা নাকি অপহরণ করেছে। আমি আপডেট জানতে CHT BDগ্রুপে (ফেসবুকের গ্রুপ) ঢুকলাম। সেখানে খবরের চাইতে বেখবর বেশি। টিভি নিউজ চালু করলাম। খবরে তিয়াসার ছবি এবং দুঃসংবাদ প্রচারিত হচ্ছে, তিয়াসাকে অপহরণ করা হয়েছে। ঘটনার জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করা হচ্ছে। দুয়েক জনের কাছে জানতে চাইলাম ফোনে। তারপর নিশ্চিত হলাম। বিকেল গড়াতেই খবর পেলাম তিয়াসাকে ছেড়ে দিয়েছে।

সন্ধ্যা সাড়ে আটটার দিকে এমনি একটু হাঁটতে বেড়িয়েছিলাম রাস্তায়। তখন লোডশেডিং। কিছুদূর যেতেই পাড়ার এক বন্ধুর সাথে দেখাতার সাথে আরও কয়েকজন তরুণ। একসঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে কথা হচ্ছিলো,

এত রাতে কি করিস ?”

এমনিই হাঁটছিলাম। তুই কি করিস বডিগার্ড নিয়ে?”

বডিগার্ড না বোকা***। পাড়ার ছেলেপেলে। খবরটবর কিছু পাস না নাকি?”

নতুন করে কিছু হইসে নাকি?”

আজকে পানছড়িতে হরতাল ছিলো। কাল রাতে সেটেলাররা মহাজনপাড়ায় ডিস্টার্ব করসে। ঢিল মেরে জানলার কাঁচ টাচ ভাঙসে। কাল রাতে দিঘিনালায় একজনকে রেপ করসে। তার অবস্থা নাকি আশংকাজনক

এইজন্যেই গ্রাম পাহারা দিচ্ছিস?”

হুম। সুইচ গেট থেকে নাকি একজন চাকমা মেয়েকে ধরেছে?

সুইচ গেট না, মাটিরাঙ্গা থেকে। ছেড়ে দিসে তো”

এমনি অনেক আলাপ সালাপ করতে করতে আমরা আমাদের পাড়া ছেড়ে পাশের পাড়ায় এসে পড়েছি। এতক্ষন কথা বলতে বলতে সে হঠাৎ হঠাৎ টর্চের উজ্জ্বল আলো ফেলছিলো এখানে ওখানে যেখানে জমাট আঁধারআমি বুঝলাম সে কেন এরকম করছে।

পাঠকবৃন্দ কি বুঝছেন? আমরা যারা খাগড়াছড়িতে বাস করি, আমাদের জন্য এরকম রাতে গ্রাম পাহারা দেওয়াটা নতুন কিছু নয়। ঢাকা শহরে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে ট্রাফিক জ্যামে আটকে থাকাটা অস্বাভাবিক না। এই রঙ্গে ভরা বঙ্গ দেশে এরকম অস্বাভাবিক অনেক কিছুই স্বাভাবিক। এখন আমরা অনেক কিছুই আগে থেকে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারি। যেমন হরতালের আগেরদিন গাড়ি ভাংচুর হবে, গাড়ি পোড়ানো হবে পুড়ে মানুষ মরবেএই মরা নিয়ে খাঁড়ার ঘায়ের মতো আরও কিছু গরম কর্মসূচি দেবে বিরোধী দলরমজানের আগে জিনিষের দাম বাড়বে। রাজনীতিবিদগণ নির্বাচনের আগে বলা কথাগুলো নির্বাচনের পর ভুলে যাবেন ইত্যাদি ইত্যাদি।

আজ রাতে যদি কোন “এটাক” না হয় তাহলে কালই মানুষ আবার ভুলে যাবে কি হয়েছিলো। আমি জানি আজ রাতেও আমাদের বাসায় টিভিতে নাটক চলবে। কাল সবাই যে যার মতো অফিসে যাবে। আমিও যাব। কাল বিকালেই কাপলগুলো আবার নিউজিল্যান্ড রোডে প্রেম করবে। আমার কোন প্রেমিকা থাকলে আমিও নিশ্চয় যেতাম।

.

২১শে সেপ্টেম্বর

গতকাল দীঘিনালায় দুইজন ইউপিডিএফ কর্মী নিহত হয়েছেন। এটা খুবই ভয়ঙ্কর একটা অবাক করা ব্যাপার। একদিন আগেই সেটেলাররা একজন চাকমা মহিলাকে ধর্ষণ করেছে। সে এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করছে তার প্রতিবাদে যখন মিছিলমিটিং হওয়ার কথা, মানুষকে ভাবানোর কথা, মিডিয়ায় ঝড় উঠার কথা, তখন কিনা তারা নিজেরা নিজেরা হানাহানিতে ব্যস্ত আছে।

.

২২শে সেপ্টেম্বর

আজ রাঙ্গামাটিতে ব্যাপক দাঙ্গা হয়েছে। কলেজের মারামারি ছড়িয়ে পড়েছিলো গোটা শহরে। রাঙ্গামাটির ঘটনা থেকে আমরা এটা জেনেছি যে, সেটেলাররা চাইলেই একটা ছোট ঘটনাকে গোটা শহরে ছড়াতে পারে। পথে ঘাটে মানুষকে জখম করতে পারে। যেমন ডাক্তার সুশোভন দেওয়ানকে তারা এমনভাবে মেরেছে যে, তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছিলো। এই লেখাটা যখন লিখছি তখনও তিনি অচেতন। রাঙ্গামাটির ঘটনা পাহাড়ে ইতোপূর্বে সংঘটিত সহিংসতাপূর্ণ নাটকের পুণঃমঞ্চায়ন। কারণ এরকম ঘটনার প্রথমার্ধে ব্যাপক ধাওয়াপালটা ধাওয়ার দৃশ্য থাকে। সেটেলার আর পাহাড়িদের উভয় পক্ষ সমান ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তারপর সেটেলাররা সশস্ত্র হামলা চালিয়ে পাহাড়িদের রক্তাক্ত করে, লুটপাট করতে করতে যখন পাহাড়ি লোকালয়ে গিয়ে প্রতিরোধের সম্মুখিন হয়, তখন বাংলা সিনেমার মত “আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না” বলে ত্রাণকর্তার ভূমিকায় দৃশ্যপটে হাজির হয় পুলিশ। তারপর পুলিশ ত্রাতা হয়ে যায় সেটেলারদের। রাস্তাঘাটে যেখানেই তারা পাহাড়ি দেখে তাকেই বেদম ঠেঙিয়ে বাড়ীতে না হয় হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। আমার কলিগ এইজন্যেই কাজে বেরোতে ভয় পেয়েছিলেন। তিনি এরকম একটা ঘটনায় পুলিশের মার খেয়েছিলেন খাগড়াছড়িতে। আমি সেই ছবি দেখেছিলাম। পিঠের উপর কয়েকটা লাল ফিতা এঁকেছিলো সেটেলার ত্রাতা পুলিশ। শরীরের কয়েক জায়গায় সেলাই পড়েছিলো তার। তারপর যথারীতি ১৪৪ ধারা। এটা করা হয়, যাতে পাহাড়ি তরুণেরা রাস্তায় বিক্ষোভ না করতে পারে। কিন্তু ঠিক বাংলা সিনেমায় যেমন ভিলেনরা আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে অন্যায় করে যায়, তেমনি ১৪৪ ধারার ভয়ে এবং পুলিশআর্মির মারের ভয়ে সব পাহাড়ি যখন ঘরের ভিতরে গা সেঁধিয়ে দেয়, তখন সেটেলাররা ঠিকই রাস্তায় হইচই করে ত্রাস সৃষ্টি করে। একইরকম ঘটনা ঘটেছিলো খাগড়াছড়িতে ২০১০ এর ফেব্রুয়ারীতে। আমি তখন মাস্টার্সের ছাত্র। আমরা সেইদিনগুলোতে রাতে ঘুমাতে পারিনি। ক্যাম্পাসে পাহাড়ি ছাত্রীরা দিনে রাতে শুধু কেঁদেছিলো। আমি রাত জেগে একটু পর পর খবর নিচ্ছিলাম ফোনে। আর একটু পর পর গা ঠান্ডা করে দেওয়ার মত খবর আসছিলো ইথারে। “সেটেলাররা গ্রামে ঢোকার চেষ্টা করছে”, “শহরতলীর দুইটা বাড়ী পুড়িয়ে দিয়েছে”……

আপনারাই বলুন পাঠকবৃন্দ এই সময় আমাদের কি করা উচিত?

আমার বন্ধু, তাগড়াই শরীর, ফুটবল খেলে, সে হুহু করে কাঁদছিলো। বাড়ীর মানুষদের বলছিলো, “তোমরা কেউ বাড়ী ছেড়ে যেওনা। তোমরা পালালেই তারা বাড়ীর সবকিছু লুটপাট করবে আগুন ধরিয়ে দেবে।” সেই রাতেও ১৪৪ ধারা জারী ছিলো খাগড়াছড়িতে। সন্ধ্যার পর থেকে গোটা পাড়ায় আলো জ্বলেনি। পাড়ার জোয়ানরা এই বাড়ীর উঠোন, ও বাড়ীর উঠোনের রাস্তা দিয়ে সারারাত হেঁটে হেঁটে গ্রাম পাহারা দিয়েছিলো। একটু পর পর আতঙ্কে হিম হয়ে যাওয়ার মত গুজব ভেসে আসছিলো বাতাসে – “জিরো মাইলে একটা মারমাদের বাড়ী পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে”। “পশ্চিমের নদীর পাড় দিয়ে বাঙালিরা ঢোকার চেষ্টা করছে” অমনি সবাই মিলে সেদিকে ছুটঠেকাতে হবে হিংস্র সেটেলারদের। তারপর অন্ধকারে শব্দ করে উপস্থিতি জানান দেওয়া, ইট পাটকেল নিক্ষেপতারপর যখন পরস্পরের লোকসংখ্যার আন্দাজ হয়ে যায় তারপর আবার নিশ্চুপ। ১৪৪ ধারার মধ্যেও সেটেলাররা দল বেঁধে ঘুরেছে, হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে। সেই সময় কিছু লুটেরা বেড়িয়েছিলো। তাদের এক হাতে ছালার বস্তা, আরেক হাতে দা। উদ্দেশ্য পরিষ্কার। যদি পাহাড়িরা ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়, তো তাদের ঘরদোর লুটপাট করা। ১৪৪ ধারার মধ্যে তারা বেরোল কি করে? তাহলে কি ১৪৪ ধারা শুধু পাহাড়িদের জন্য? যাতে তারা বিক্ষোভ না করতে পারে? যাতে তারা কলে পড়া ইঁদুরের মত অসহায় হয়ে মারা যায়? এই নির্মম, নৃশংস নাটকের শেষ দৃশ্যে থাকে প্রশাসনের শান্তি উদ্যোগ। ডিসি, এসপি, জিওসি মহাশয়রা সমাজপতি এবং সরকারী চাকরিজীবীদের ডেকে শান্তি মিছিল করান। তারাও করতে বাধ্য। কর্তাবাবুদের ক্ষেপিয়ে কি চাকরিতে থাকা যায়? সুতরাং সরকারের শান্তি মন্ত্র জপ করানোর র‍্যালিতে। এই নাটকের শেষ দৃশ্যে ঈশপের গল্পের নীতিবাক্য, ধর্মীয় স্তোত্র, শান্তিসম্প্রীতিজাতীয় ঐক্য ইত্যাদি মন্ত্র থাকে। এই মন্ত্র পাঠ করে পাহাড়িদের ক্ষোভকে প্রশমিত করার প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়। শান্তি চুক্তির পর থেকে পাহাড়ে অশান্তির নাটকের প্লট, প্রেক্ষাপট, কাহিনিবিন্যাস প্রায় একইরকম। প্রায় একই নাটকের মঞ্চায়ন হয়ে চলেছে পৌনঃপুনিকভাবে।

প্রায় সব নাটকের কাহিনী প্রবাহ এরকমঃ সেটেলাররা দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করলো, দাঙ্গা বাঁধলো কিছু মাত্রায়, পাহাড়িদের ঘর পুড়লো, অনেকে হতাহত হলো, বেশি হতাহত হলো পাহাড়িরা, কয়েকজন বাঙালিও আহত হলো, তারপর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা হলো। নাটকের শেষে হিরো আর্মিপ্রশাসন। হিরোদের হিরো হতে ভিলেন লাগে আর প্রেক্ষাপটে কিছু ভুক্তভোগী লাগে। সিনেমার শুরুতে যেমন খামাখা কিছু মানুষকে মরতে হয়, যাতে হিরোর আবির্ভাব অবশ্যম্ভাবী হতে পারে। এভাবেই নাটকের প্রয়োজনে পাহাড়িরা যুগের পর যুগ ধরে ভুক্তভোগী বা ভিক্টিম হয়ে আসছে। নাটকে তাদের ঘর পুড়বে, মার খাবে, মরবে, ধর্ষিত হবে নারীরাকাহিনী এগোবে, কিন্তু শেষ হবে না। পরের বছর পাহাড়ের মঞ্চে আবার নাটকের পুনঃমঞ্চায়ন হবে। এখানে ভিলেন হচ্ছে “কতিপয় পাহাড়ি সন্ত্রাসীবিচ্ছিন্নতাবাদীসন্ত্রাসবাদী সংগঠন” যারা দাঙ্গায় উস্কানী দেয়। এখানে সেটেলাররা হচ্ছে সাইডরোল ক্যারেক্টার। এরাই প্রত্যেকবার হামলা করে, কিন্তু পুলিশপ্রশাসন তাদের একটা বালও ছেড়ে না। অথচ প্রত্যেকটা হামলার কথা আর্মিপ্রশাসনইন্টেলিজেন্সএর লোক কি জানে না? তাদের নাকের ডগায় সেটেলাররা হামলাআক্রমণ করে যায়।

তারা সব জানে। কেননা তারাই নাটকের প্লটমেকার। এরাই নাটকের নেপথ্য কুশিলব। এরাই নাটকের স্টেজ সাজায়, আলোসেটকাহিনীপরিচালনাপ্রযোজনা সব এরাই করে। অথচ এই নিপীড়ক রাষ্ট্রে এরা সবসময় থেকে যায় লোকচক্ষুর আড়ালে অশরীরি প্রেতাত্মার মতো। এই প্রেতাত্মার প্রেতচক্রে আমরা আজ বিপন্ন, অসহায়। শুধু Victims of Collateral damage.জিয়াউর রহমানের সময় থেকে সেটেলার পূনর্বাসন শুরু হয়েছিলো। এখন তাদের নাতিপুতিরা ত্রাস করছে। সেই জিয়াউর রহমানের সময় থেকে ১৯৯৩ সালে নানিয়ারচর গণহত্যা পর্যন্ত কত হাজার পাহাড়িকে এই সেটেলারআর্মিবিজিবিভিডিপিপুলিশ মিলে পাখি শিকার করার মতো করে মেরেছে তার হিসাব নেই পরিসংখ্যান নেই। কতহাজার পাহাড়ি এদের ভয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে তার কোন হিসাব নেই। কত পাহড়ি নারী ধর্ষিত হলো, তারও কোন হিসাব নেই। আমি কোন হিসাব পাই না। আমার হিসাব মেলে না। এত এত রক্ত, অবিচার। আমরা কি মানুষ নই? আমরা হয়তো মানুষ নই। আমরা হচ্ছি উপমানুষ উপজাত উপজাতি। জন্মই আমার আজন্ম পাপ। সারাজীবন আমাকে এই পাপের ফল ভোগ করতে হবে। শুধু ভিকটিম হওয়াটাই কি আদিবাসীদের ঐতিহাসিক পরিণতি? আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ার মতো এই “সভ্য” রাষ্ট্র আমাকে “সভ্য” বানিয়েই ছাড়বে নতুবা নির্মূল করবে। রাষ্ট্রের পছন্দের “সভ্য বাঙালি” না হলে আমিও নির্মূল হয়ে যাবো; যেভাবে পৃথিবী থেকে মায়া, ইনকা, এজটেক, নাভাহো, আপাচে, আরাওয়াক, নেটিভ আমেরিকান সহ অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড এর আদিবাসীরা নির্মূল হয়ে গেছে।

আদিবাসীদের জন্মই হয় নির্মূল হওয়ার জন্য। এই অসভ্য সভ্যতার কাছে আমরা অপাংক্তেয়।

.

২৩শে সেপ্টেম্বর২০১২

রাঙ্গামাটিতে সেদিনের ঘটনার রেশ না মিলিয়ে যেতেই আজ আবার রাঙ্গামাটি উত্তপ্ত হয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে আটটার দিকে সেটেলাররা সংঘবদ্ধভাবে পাহাড়িদের এলাকায় আক্রমণের চেষ্টা চালায়। ট্রাইবেল আদাম, গর্জন্তলি, বনরুপা এলাকায় ঢুকে তান্ডব সৃষ্টির চেষ্টা করে। পাহাড়িদের প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হটে যায়। আবার ঘোঁট পাকিয়ে হাঙ্গামা করার আগেই প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তারা পিছু হটে যায়।

.

৬। সংশ্লেষ ও পরিশেষ

আমার উপরের ডেইলি নোট থেকে কি বুঝলেন? এখন নিজের হাতটা বুকে রেখে বলুন আপনি ভালো আছেন। যদি বলেন যে, আপনি ভালো আছেন তাহলে আমি বলবো আপনি অসুস্থ। আপনি অসুস্থ রকমের সুস্থ আছেন। আপনি সেই কুষ্ঠ রোগীর মতো যার শরীর থেকে পঁচা মাংস খুলে খুলে পড়ছে তবু সে চিৎকার করে বলছে, “আমি ভালো আছি, আমি ভালো আছি।”

আমাদের শরীর ভালো আছে। আমাদের পাহাড়ি তরুণেরা স্নাতক, স্নাতকোত্তর হচ্ছে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিসিএস ক্যাডার হচ্ছে। সবাই ভালো আছে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে ঘুণপোকার মতো খেয়ে ফেলছে সাংস্কৃতিক, নৈতিক অবক্ষয়। আমাদের সমাজকে ক্যান্সারের মতো কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে বেনিয়া সাংস্কৃতিক দূষণ। প্রক্রিয়াটা খুব ধীরে আর অলক্ষ্যে হচ্ছে বলে শাদা চোখে তা ধরা পড়ছে না। সেটা চোখে পড়বে আরো দেড়দু দশক পর। যখন আদিবাসী পাহাড়িদের নিজের বলে আর কোন সংস্কৃতি থাকবে না। মারমা, চাকমারা নামে তাই থাকবে, কিন্তু আচরণে, যাপিত জীবনে, মননে, চলনে, বলনে হয়ে যাবে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী বাঙালিদের মতো। ইতোমধ্যে এই ক্যান্সারের লক্ষণ বেশ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

আমাদের ভালো থাকার কিছু নেই তবু আমরা ভালো আছি কেন? এটা কি অনেকটা সেই মুমূর্ষু রোগীর মতো নয়

যাকে মর্ফিন ইনজেকশন দিয়ে অচেতন করে রাখা হয়েছে। যে রোগী চেতনে ফিরলেই প্রচন্ড যন্ত্রনায় চিৎকার করে উঠবে

** আমাদের সাংস্কৃতিক বোধকে জানোয়ারের প্রবৃত্তি খেয়ে ফেলেছে তাই আমাদের তরুণেরা একজন বেশ্যাকে লাইক করে,

** আমাদের সংবেদন ভোঁতা হয়ে গেছে তাই আমাদের তরুণেরা প্রেমের জ্বরে আর কামের উত্তাপে দিনরাত প্রলাপরংলাপ আর শিৎকার করছে,

** আমাদের চেতনায় মরিচা পড়েছে তাই এত এত অবিচার, নিপীড়ন সত্ত্বেও আমরা বিদ্রোহ করছি না।

** কি সেই মায়া কুহক? কি সেই ঘুমপাড়ানি ওষুধ

** তার নাম আত্মকেন্দ্রিকতা, ভোগবাদ, প্রতিবোধ (Anti intellectualism) এবং Cultural Hegemony.

সেই সময়ের কথা কি কিছু জানেন যখন উপনিবেশবিরোধি লড়াই তুঙ্গে?

যখন স্বামী বিবেকানন্দ, রাজা রামমোহন রায়, নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, ভগত সিং প্রমুখ মনিষী এবং বিপ্লবীরা অন্ধকার পরাধীন যুগেও আলোর মশাল জ্বালিয়েছিলেন?

পরাধীন ভারতবর্ষে তরুণেরা বাঁশঝাড়ে লুকিয়ে পড়তো শরতের পথের দাবি বা নজরুলের নিষিদ্ধ বিদ্রোহের মন্ত্র, চটি বই বা পর্নোগ্রাফি নয়। তাদের সামনে অনুকরণীয় চরিত্র ছিলো স্বামী বিবেকানন্দ, সুভাষ বোস। সেসময়ও তরুণের “Trendছিলো। তখন ট্রেন্ড মানে পশ্চিমের অনুকরণ নয়, স্বদেশের পোশাক, স্বদেশ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়া, স্বদেশ চেতনায় কাজ করা। সেসময় হলিউড বলিউডের সেলিব্রেটি নয়, তরুণেরা অনুকরণ করতো জীবন্ত কিংবদন্তি হওয়া সুভাষ বোসকে, বিবেকানন্দ, গান্ধী বা দেশ তোলপাড় করা বিপ্লবী মাস্টার দা, ভগত সিং, বা চারু মজুমদারদের।

রাত যতো গভীর প্রভাত ততোই নিকটে। আমরা এক অন্ধকার যুগ পার করছি। আমাদের চেতনায় শান দিতে হবে।

যে যেভাবে পারি

লেখালেখি দিয়ে,

বুদ্ধি দিয়ে, জ্ঞান দিয়ে,

আত্মবোধের সংস্কৃতি শেকড়ের সংস্কৃতি রক্ষার সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে,

রাজপথে লড়াই করে

আমাদের প্রতিরোধের দেওয়াল গড়ে তুলতে হবে।

বিশ্বের ইতিহাস, সাহিত্য, রাজনীতি, অর্থনীতি অধ্যয়ন করে;

প্রগতিশীল বিপ্লবী আন্দোলনে যুক্ত হয়ে আমাদের চেতনায় শান দিতে হবে। আমরা যদি এখনই প্রতিরোধ না গড়ে তুলি, তাহলে আমরাও ইতিহাসের একটা ট্র্যাজিক অধ্যায় হয়ে যাবো। নেটিভ আমেরিকানদের মতো, অস্ট্রেলিয়ার এবরিজিন বা আদিবাসীদের মতো।

.

সামনে লড়াই, কমরেড

গড়ে তোল ব্যারিকেড।।

Advertisements
মন্তব্য
  1. বড় ভেতর থেকে আসা লেখাটি… একটু উত্তেজনার বশে লেখা হলেও… ভালো লেখা…

  2. […] বিবিধ প্যাঁচাল :: মুড়ির ঠোঙা অথবা দ্রোহের মন্ত্রণা – ১ […]

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s