অনুবাদ: বন্ধুবাংলা

(মূল লেখাটি ১৯ নভেম্বর ২০১২ তারিখে কাউন্টার পাঞ্চে প্রকাশিত হয়।)

সাম্প্রতিক ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে গাজায় যে বিক্ষোভআন্দোলন ফুঁসে উঠছে, ইসরাইল এই আন্দোলনের টুটি চেপে ধরার জন্য হামাসের সামরিক প্রধান আহমেদ জাবারিকে গুপ্ত হত্যা করে। হামাস দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ বিরতিতে আন্তরিক থাকা সত্ত্বেও হামাস এই ঘটনায় ইসরাইলে শতাধিক রকেট হামলা চালায় যার কিছু তেলআবিবের নিকটবর্তী স্থানে আঘাত হানে। ফলে বিস্মিত হওয়ার কিছু নাই যে, ইসরাইল ব্যাপক সংঘর্ষের জন্য ভীত হয়ে পড়ে এবং গাজা দখল করে রকেট হামলার ভয়কে দূর করতে চাচ্ছে।

ইসরাইলের বর্তমান যুদ্ধ মনোভাব সম্পন্ন কার্যক্রম যাকে অপারেশন “পিলার টু ডিফেন্স” বলা হচ্ছে, এটা একটি পূর্নাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে। কিন্তু যদি এটা আসলেই ঘটে, তবে ইসরাইলের বিপদের শেষ হবে এরূপ ধরে নেয়া যায় না। যদিও ২০০৮২০০৯ সালে ইসরাইল ‘অপারেশন কাস্ট লিড’ নাম দিয়ে হামাসের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ করা সত্ত্বেও হামাস যুদ্ধে টিকে ছিল এবং তারা এখন ক্ষমতায় বসে ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করে যাচ্ছে। লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থান দুর্বল ও তাদের মিসাইল ব্যবস্থা ধ্বংস করার জন্য ২০০৬ এর গ্রীষ্মে ইসরাইল যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। সেই আক্রমণ ব্যর্থ হয়েছিল। প্রশ্নাতীতভাবে বলা যায় যে, ২০০৬ সালের তুলনায় বর্তমানে লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থান যেমন শক্ত হয়েছে ও তেমনি তাঁদের দূর নিয়ন্ত্রিত মিসাইল নিক্ষেপের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইসরাইলের ‘পিলার অফ ডিফেন্স’ আগের মতোই অবশ্যম্ভাবী পরিণতি লাভ করবে।

ইসরাইল তার বাহিনীকে তিনভাবে ব্যাবহার করতে পারে। প্রথমত: হামাসের নেতৃস্থানীয় যারা, তাঁদের গুপ্ত হত্যার মাধ্যমে হামাসকে পঙ্গু করে দেয়া, যেমনটি ইসরাইল করে যাচ্ছে। দুদিন আগে এরূপ একজন নেতৃস্থানীয় নেতা জাবারিকে হত্যা করা হয়েছে। এরূপ মুল নেতাদের হত্যা কোন কাজে আসছে না, কারণ শহীদ নেতার স্থানে বিকল্প নেতৃত্ব নেয়ার মাঝে কোন ঘাটতি নেই; উপরন্তু নতুন যারা আসছে, তারা যেমন অধিক যোগ্যতা সম্পন্ন, তেমনি পূর্বতনের চেয়ে আরও বেশি সাহসিকতাপূর্ণ! ইসরাইল এটা বুঝেছে ১৯৯২ সালে, তারা যখন লেবাননে হিজবুল্লাহ নেতা আব্বাস মুসায়িকে গুপ্ত হত্যা করেছে। আব্বাস মুসায়ির স্থলাভিষিক্ত হাসান নাসরুল্লাহ দুর্দান্ত প্রতিপক্ষরূপে প্রতীয়মান হয়েছিল।

দ্বিতীয়ত: ইসরাইল গাজায় অবৈধ প্রবেশের মাধ্যমে গাজার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। ইসরাইলি বাহিনী এটা খুব সহজে করতে পারে, হামাসকে পরাজিত করে গাজা থেকে রকেট হামলা বন্ধ করতে পারে। এজন্য ইসরাইলকে গাজা দখল করে দীর্ঘ মেয়াদে অবস্থান নিতে হবে; যদি না তারা হামাসকে নির্মূল করতে না পারে, হামাস পুনরায় রকেট হামলা করবে এবং ইসরাইলকে আবার পিছনের দিকে ঠেলে দিবে। ঠিক যেখান থেকে ইসরাইল যুদ্ধ শুরু করেছিল, সেখান থেকে আবার যুদ্ধ শুরু করতে হবে।

নিঃসন্দেহে গাজা দখল ইসরাইলের বিরুদ্ধে তিক্ত ও রক্তাক্ত প্রতিরোধ আরও বেশি উস্কে দিবে, ইসরাইল এটা শিখেছে ১৯৮২ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের যুদ্ধে। দক্ষিণ লেবানন ১৮ বছর দখল করে রাখার পর ইসরাইল পরাজয় মেনে নিয়েছিল এবং তার বাহিনী প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতার কারণে ইসরাইলি বাহিনী ২০০৬ সালে লেবাননে বা ২০০৮০৯ সালে গাজায় প্রবেশে সাহস পায়নি। সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত গাজায় এমন দুর্বলতম কিছু ঘটেনি, যাতে পূর্ণ মাত্রায় গাজায় ইসরাইলি বাহিনী টিকে থাকতে পারে। বরঞ্চ গাজা দখলে ১৫ লক্ষ ফিলিস্তিনি ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণে আসবে, ফলশ্রুতিতে ইসরাইলের কথিত ‘জননিরাপত্তা’ খারাপ থেকে আরো বেশি খারাপ হয়ে পড়বে। ঠিক এ কারণেই ২০০৫ সালে এরিয়েল শ্যারন গাজা থেকে অবৈধ ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। এখন গাজা দখল করা হলে জেনে শুনে ইতিহাসের পিছনে চলে যাওয়া হবে।

তৃতীয়ত: বা সর্বশেষ অবশ্যম্ভাবী উপায় হলো আকাশ পথে বিমান হামলা, মিসাইল, মর্টার, রকেট, ট্যাংক ও কামানের গোলা বর্ষণ করা। কিন্তু সমস্যা হলো যেমন ভাবা হয়, এই কৌশল তেমন কাজে আসে না। ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহ ও ২০০৮০৯ সালে হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইল এভাবে হামলে পড়েছিল, কিন্তু উভয় সংগঠনই ইসরাইলি হামলা মোকাবিলা করেই আজ তারা আরও বেশি শক্তিশালী হয়েছে; এবং মরণ কামড় দেয়ার জন্য নিজেদের আরও বেশি মাত্রায় রকেট ও মিসাইল সমৃদ্ধীকরণের মাধ্যমে নিজেদের দাঁত আরও ধারাল করে তুলেছে। এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে, হামাসের পতন ও রকেট হামলা স্থায়ী রূপে বন্ধ করার জন্য গাজায় অবিরাম বোমা বর্ষণের মত কোন ভাবনা সচেতন ইসরাইলি রণবিশেষজ্ঞদের আছে।

তাই সেখানে কি ঘটছে? এরূপ মৌলিক ভাবনায় বলা যায়, জর্ডান নদী থেকে মেডিটেরিয়ান সাগর পর্যন্ত বৃহত্তম ইসরাইল রাষ্ট্রের বিস্তৃতির যে ইসরাইলি পরিকল্পনা; গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ড তার সামর্থ্যের সাথে এই পরিকল্পনা জট পাকিয়ে যাচ্ছে। ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের জন্য আলাদা দুটি রাষ্ট্রই একমাত্র সমাধান; “একজন ফিলিস্তিনিও তাঁর নিজের দেশ ছেড়ে কোথাও যাবে না” বিরামহীনভাবে চলতে থাকা এই মিষ্টি কথা সত্ত্বেও নেতানিয়াহু সরকার নিশ্চিতভাবেই এর বিরোধিতা করে যাচ্ছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ও তার অনুচররা শক্ত পণ করেছে যে, দখলীকৃত ফিলিস্তিনি এলাকা হবে ইসরাইলি রাষ্ট্রের স্থায়ী অংশ। গাজা ও পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনিদের বিতাড়িত করা ও শত্রু রাষ্ট্র দ্বারা বেষ্টিত করার মানে হলো, ফিলিস্তিনিদের দরিদ্র ও শক্তিহীন হতে বাধ্য করা, যেমনটি ঘটেছিল শ্বেতশাসিত দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যানটুস্টানের ক্ষেত্রে। ইসরাইলি ইহুদীরা এটা ভালভাবেই জানে। সাম্প্রতিক এক জরীপে দেখা যায় ৫৮ শতাংশ ঈহুদী বিশ্বাস করে যে, ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে জাতিগত বিদ্বেষ পোষণ করে।

বৃহৎ ইসরাইলি রাষ্ট্রের গঠন প্রচেষ্টা আরও বড় সমস্যার জন্ম দিবে, এমন কি বিশ্বে ইসরাইলের ভাবমূর্তি যতটুকু আছে, তাও ধ্বংস করবে; প্রকৃত পক্ষে বৃহৎ ইসরাইলি রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা ফিলিস্তিনিদের ইচ্ছাআশাআকাঙ্ক্ষা ধ্বংস করতে পারে না। ফিলিস্তিনিরা এরূপ কর্মকাণ্ড সহ নিজ দেশের খণ্ডীকরণকে বিরোধিতা করবে। তাই নিজেদের স্বাধীনতার জন্য ইসরাইলি অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চলমান থাকবে। গাজায় যা ঘটে চলেছে, এটা প্রতিরোধের একটি মাত্রা। অন্যদিকে, মাহমুদ আব্বাস চাচ্ছেন যে আগামী ২৯ শে নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের ‘অসদস্য রাষ্ট্র’ রূপে স্বীকৃতি আদায়ের। এই পরিকল্পনা ইসরাইলি নেতাদের চিন্তিত করে তুলছে কারণ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ফিলিস্তিনকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিলের অনুমোদন দেয়া যেতে পারে। এরূপ ভাবনায় বৃহৎ ইসরাইলি বাহিনী ও তেলআবিবের স্বপ্ন পথ খুঁজে ফিরছে ফিলিস্তিনিদের কিভাবে দুই দেয়ালের মাঝে রাখা যায়।

ফিলিস্তিনি সমস্যার সমাধানে ইসরাইলি নেতাদের দুইমুখী কৌশল আছে।

প্রথমত: তারা নির্ভর করবে আমেরিকার কূটনৈতিক রক্ষা কবচের উপর, বিশেষত জাতিসংঘে। যাতে আমেরিকান নেতৃত্ব বরাবরের মত ইসরাইলের পক্ষে এবং ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে থাকে এবং দখলীকৃত ফিলিস্তিনি এলাকায় বসতি স্থাপন যেন বন্ধ থাকে, ওয়াশিংটনের ইসরাইলি লবি যেন সেজন্য শক্ত ভূমিকা নেয়।

দ্বিতীয়ত: জে ইভ জাবোটিন্সকি’র লৌহ দেয়ালের প্রস্তাব; যা ফিলিস্তিনিদের আনুগত্যতা স্বীকারের মাঝে তাঁদের পরাজিত করা, জাবোটিন্সকি জানে যে ফিলিস্তিনিরা ইহুদি রাষ্ট্র আন্দোলনকে প্রতিরোধ করবে, তাই পদ্ধতিগতভাবে ফিলিস্তিনে বসতি স্থাপন ও তা নিজেদের শাসনাধিকারে নিয়ে আসা। পক্ষান্তরে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, ইহুদীরা এবং ইসরাইল নানা পর্যায়ে ফিলিস্তিনিদের নিপীড়ন করে শাস্তি দেয়ার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম হবে।

১৯৪৮ সালে সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে ইসরাইল এই কৌশল অনুসরণ করে আসছে এবং অপারেশন কাস্ট লিড (Cast Lead) এবং পিলার অফ ডিফেন্স (Pillar of Defence) এই উভয়ই হলো এই কৌশলের নমুনা। অন্যভাবে বলা যায় বোমা বর্ষণ করে হামাসের পতন বা রকেট হামলা বন্ধ করা ইসরাইলি লক্ষ্য নয় দুটোই অবাস্তব লক্ষ্য। এর পরিবর্তে ইসরাইলের লক্ষ্য হলো, দীর্ঘ মেয়াদী দমননীতির অংশ রূপে গাজায় আক্রমণ অব্যাহত রাখা, যাতে ফিলিস্তিনিরা আত্মনিয়ন্ত্রণ, তথা স্বাধীনতা লাভের আকাঙ্ক্ষা তুলে নেয় এবং স্বতন্ত্র ভূমি রূপে যেন ইসরাইলের শাসনাধিকারে নিজেদের সমর্পণ করে।

ইসরাইল প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, ‘লৌহ দেয়াল’ নীতি যেন প্রকৃত রূপেই প্রতিফলিত হয়; যা তাঁদের নেতৃত্ব অনেকবারই স্বীকার করেছে। যখন ২০০৯ এর জানুয়ারিতে কাস্ট লিড অপারেশন শেষ হলো, ইসরাইলি বাহিনী পর্যায়ক্রমে গাজা থেকে ফেরত গেলেও ফিলিস্তিনের অপর অংশে আক্রমণ করে আঘাত হানা অব্যাহত রেখেছিল। ২০০৮০৯ সালের যুদ্ধে হামাসের সক্ষমতার বিষয়ে ইসরাইলিদের কোন কল্পিত ভুল ছিলনা। তথাপি ইসরাইলিদের ভাবনা ছিল পরবর্তী নিপীড়ন কখন শুরু করা যায়।

এই সময়ের নিপীড়নকে সহজেই ব্যাখ্যা করা যায়। প্রথমত: কিছুদিন আগে সম্পন্ন হওয়া আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যাতে মিট রমনি জয়ী হতে পারেন, এ ব্যাপারে নেতানিয়াহুর সরাসরি সাহায্য ও চেষ্টা থাকা সত্ত্বেও ওবামা ২য় মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন। নেতানিয়াহুর এই ভুল তাঁদের উভয়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং আমেরিকার সাথে ইসরাইলের বিশেষ কূটনৈতিক সম্পর্ককে অবশ্যম্ভাবী রূপে আঘাত করেছে। গাজায় একটি যুদ্ধ লাগিয়ে দেয়া এই সম্পর্ককে পুনরুদ্ধারের একটা প্রতিকার বা মহৌষধ বিশেষ; কারণ ওবামা, যিনি পতন উন্মুখ অর্থনীতির মুখোমুখি এবং সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক বিরোধিতা তাকে মোকাবিলা করতে হবে; এহেন ওবামার জন্য ফিলিস্তিনিদের দোষারোপ করা ও সম্পূর্ণরূপে ইসরাইলের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে ফেরত যাওয়া ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই।

অপরদিকে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী জানুয়ারিতে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন এবং যেমনটি মিশেল প্লিটনিক লিখেছেন ফ্যাসিস্ট ‘ইসরাইলি বিয়েত্নিও’ দলের সাথে যৌথ মনোনয়নের ঘোষণা দ্বারা নেতানিয়াহু একটি কৌশল গ্রহণ করেছেন; যেমনটি আশা করা যায় নির্বাচনের ফলাফল নেতানিয়াহুর পক্ষে যাবে না। তাই “গাজার উপরে একটি যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে” প্রমাণ করা যে, নির্বাচনে নেতানিয়াহু একজন শক্ত প্রতিপক্ষ, বিশেষ করে ইসরাইলের নিরাপত্তা যখন বিঘ্নিত হয়।

যাইহোক, ইসরাইলিদের পায়ের নিচে থাকতে চেয়ে এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন পরিত্যাগের মাধ্যমে ‘পিলার অফ ডিফেন্স’ তার আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করবে না। যা আসলেই সাধারণভাবে অর্জন করার মত বিষয় নয়, ফিলিস্তিনিরা কখনই শত্রু রাষ্ট্র দ্বারা বেষ্টিত অর্পিত এক টুকরো ভূমিতে স্বতন্ত্র দেশ হিসাবে থাকাকে গ্রহণ করবে না। দুর্ভাগ্যজনক যে, ‘পিলার অফ ডিফেন্স’এর মানে দাঁড়াচ্ছে গাজায় ইসরাইলের শেষবারের মত বোমা বর্ষণ, যাতে টিকে থাকা ইসরাইলের জন্য আদৌ সম্ভব নয়।

যাইহোক, দীর্ঘ মেয়াদের হলেও এই বোমা বর্ষণ এক সময় বন্ধ হবে, কারণ এটা পরিষ্কার নয় যে, বৈশ্বিকভাবে বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্র হয়ে ইসরাইল নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হবে। সেইসাথে ফিলিস্তিনিদের যেরূপ প্রতিরোধ যুদ্ধ চলমান, তাতে ইসরাইলকে বিশ্ব জনমতের মুখোমুখি হতে হবে। ২০০৭এর নভেম্বরে তৎকালীন ইসরাইলি প্রধান মন্ত্রী ইহুদ ওলমার্ট বলেছিলেন, যদি ‘দুই রাষ্ট্রের সমাধান’ সূত্র আটকে যায়, তবে ইসরাইলকে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো লড়াইয়ে পড়ে যেতে হতে পারে, এবং এরূপ যত তাড়াতাড়ি ঘটবে রাষ্ট্র হিসাবে ইসরাইল তত তাড়াতাড়ি ধ্বংস হয়ে যাবে। যে কেউ ভাবতে পারে এবং এটা ভেবে ইসরাইলি নেতৃত্বকে প্রশংসিত করতে পারে যে, ইসরাইলিরা ‘ফিলিস্তিনিদের একটি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব থাকা উচিত’ এরূপ অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এরূপ কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না; এর পরিবর্তে ফিলিস্তিনকে ভেঙ্গে ফেলতে ইসরাইল গর্দভের মতো করে ‘পিলার টু ডিফেন্স’ জাতীয় সামরিক ব্যবস্থাদি চলমান রাখছে।।

(মূল লেখক: জন জে মার্সেইনার আমেরিকার শিকাগো বিশ্ব বিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং ‘দি ইসরাইল লবী’ বইয়ের সহসম্পাদক।)

মুল লেখা পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s