লিখেছেন: বন্ধু বাংলা

আফগানিস্তান যখন সোভিয়েত সাম্রাজ্যবাদের দখলে ছিল, বিশ্বের আরেক সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা এটাকে প্রতিহত করতে গিয়ে আফগানিস্তানে উগ্র ধর্মান্ধ মোল্লা ওমর ও তালিবানি শক্তির উত্থান ঘটায়; এটা আফগানদের দুর্ভাগ্য বটে যেসেখানে মন্দের ভাল রূপে সত্যিকার কোন বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদী শক্তি বা অন্য কোন সংঘবদ্ধ বিপ্লবী শক্তির বিকাশ হয়নি! আমেরিকা তালিবানি শক্তির উত্থান পর্বে, টিকে থাকতে পাকিস্তানকে ব্যবহার করে। পাকিস্তানের পেশোয়ার শহর অস্ত্র, অর্থ, ট্রেনিং ও অন্যান্য রসদ সরবারহের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হতো। আমেরিকার তালিবানি সাহায্য থেকে চুরিচামারি করে কিছু কামানো ও পাকিস্তানের প্রতি আমেরিকার সামরিক সাহায্য অব্যাহত রাখা এবং সর্বোপরি আমেরিকার দালালি করতে গিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র, তার শোষক, স্বার্থান্বেষী দালাল বুর্জোয়া শ্রেণী ধর্মান্ধতার রাজনীতির চাষাবাদ করে, আর নার্সিং করে তালিবানকে দুধকলা দিয়ে কেউটে সাপ পোষার মত বড় করে তুলে।

পরবর্তীতে ৯/১১ এর হামলার পর আফগান রাজনীতিতে আমেরিকার সাথে লাদেনিতালিবানি মিত্রতা শত্রুতায় রূপ নেয়। পাকিস্তানের সরকারও ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে এই শত্রু শত্রু খেলায় সামিল হলেও, দীর্ঘকালের অব্যাহত তালিবানি রাজনীতির চর্চা ও পৃষ্ঠপোষকতার কারণে পাকিস্তানের জনগণ বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের জনগণের মাঝে তালিবানের প্রতি সহানুভূতি বরাবরই ছিল। তাছাড়া উগ্র ধর্মান্ধ রাজনীতির উত্থান, তথা তালিবান বিষয়ে আইএসআইএর ভূমিকাও ছিল বরাবরের মতো রহস্যজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ। এক্ষেত্রে পাকিস্তানের একটা দ্বৈত ভূমিকা লক্ষণীয়! পাকিস্তানের মাটিতে লাদেনের নিরাপদ আশ্রয় লাভ, লাদেন হত্যার মিশনে আমেরিকার পাকিস্তানকে বিশ্বাস না করা ও পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে হত্যার মিশন সফল করা, ও ক্রমাগত ড্রোন হামলার মাধ্যমে যার চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে। চূড়ান্ত অবাক করার বিষয় যেটা তা হলোএই সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের বিষয়টিকে পাকিস্তানের রাজনীতিক ও বুদ্ধিজীবী সমাজের পক্ষে গিলে ফেলে, অতঃপর হজম করে রেক্টাম দিয়ে বিষ্ঠার বর্জ্যাকারে শরীর থেকে বের করে দেয়ার মত উপলব্ধিতে এবং পাকিস্তানী রাজনীতিতে আমেরিকা কর্তৃক রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘনের প্রশ্নটিকে বেমালুম চেপে যাওয়া।

আফগানিস্তান থেকে বিতাড়িত তালিবানরা অর্থাৎ, নিজের পোষা কেউটে সাপগুলো যখন পাকিস্তানে আসে, তখনই এটা অনুমেয় ছিল যে তালিবানি ধর্মান্ধ উগ্রতা পাকিস্তানের জন্য হুমকি স্বরূপ হয়ে উঠবে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী দিয়ে তাদের দমন করতে চেয়েছে, কিন্তু ততদিনে অনেক দেরী হয়ে গেছে। পাকিস্তান রাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদ বা তালেবানদের দমন করতে যেমন ব্যর্থ হয়েছে, তেমনি এই রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে পাকিস্তানী সমাজে একটা সেক্যুলার ধারার রাজনীতি প্রবর্তন করতে। আর এর কারণ মূলতঃ এই রাষ্ট্রটির গঠন কাঠামোতেই নিহিত, ধর্মের ভিত্তিতে গঠিত রাষ্ট্রে সেক্যুলারিজম কল্পনা করাটাও মহাপাপ! পাকিস্তানের সরকার, পাকিস্তানের সকল রাজনৈতিক দল, পাকিস্তানের মুসলিম তকমার বুদ্ধিজীবী সমাজ, এমনকি সেখানকার মিডিয়া; উগ্র ধর্মান্ধ রাজনীতি ও তালিবান ইস্যুকে ব্যবহার করেছে তাঁদের নিজ নিজ স্বার্থে। আফগান প্রশ্নে, তালিবান প্রশ্নে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল জিয়াউল হক থেকে হাল আমল পর্যন্ত পাকিস্তানের তিন দশকের রাজনীতি ও পররাষ্ট্র নীতির বিশ্লেষণ করলে এটা সহজেই অনুধাবন যোগ্য যে, আজকের পাকিস্তান খাল কেটে কুমির নিয়ে এসে এখন নিজেই সেই কুমিরের খাদ্য! শুধু কুমির নয়, অবস্থা এমন যে ‘জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ’। একদিকে তালিবান হামলা, অপরদিকে মার্কিনী আগ্রাসন, পুনঃ পুনঃ সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন ও ড্রোন হামলা।

পাকিস্তানী ভূখণ্ডে ড্রোন হামলায় প্রতিদিন শিশু কিশোর সহ অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছে। আচ্ছা, তারা কি মানুষ, নাকি শুধুই সংখ্যা? মানুষ মরছে ঝাঁকে ঝাঁকে, পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব নষ্ট হচ্ছে; কিন্তু কেউ কিছু বলছে না! পাকিস্তানে অভ্যন্তরে, বা পাকিস্তানের বাইরে দক্ষিণ এশিয়ার কোন রাষ্ট্রও কি কোন বুলি আওড়েছে? না, কোন রাষ্ট্রই টু শব্দটিও করেনি, কারণ তারা মার্কিনী দালাল এবং মার্কিনী আগ্রাসনে ভীত, সর্বদাই তাদের টুটি আর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের হাত, কিন্তু মুখে বলে যায় আমেরিকার শিখানো বুলিপাকিস্তান সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে লিপ্ত! আর আমেরিকার আগ্রাসন, ড্রোন হামলা ইত্যাদি সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের অপরিহার্য অংশ! হামলাকারী, হত্যাকারী, আগ্রাসনকারী আমেরিকা বিশ্বের এক নম্বর পরাশক্তি সাম্রাজ্যবাদী শোষক। পাকিস্তানের অভ্যন্তরে এবং বাইরে আমরা সবাই রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে সচল ও দৃঢ় ভেবে এখানেসেখানে আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে অচল করে উগ্র ধর্মান্ধ রাজনীতি বিরোধী প্রতিবাদকে সচল করে তুলেছি। আহা: কি সুন্দর এই প্রতিবাদের ধরণ ও আমাদের উপলব্ধি!

কিশোরী মালালা ইউসুফজাইয়ের আহত হওয়ার ঘটনায় পাকিস্তানের ভিতরে ও বাইরে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। আমিও প্রতিবাদ জানাই, কিন্তু প্রশ্ন থাকে আমাদের এই প্রতিবাদ অনেকটা এক চোখা দৈত্যের মত কিনা? মালালা সংক্রান্ত প্রতিবাদের জোয়ারের কারণ কি? হামলাকারীরা তালিবান এই জন্য? নাকি পাকিস্তান রাষ্ট্রের পা “পচা শামুকে কেটেছে” সে জন্য? নাকি মালালা ইউসুফজাই আমেরিকার বিরুদ্ধে ব্লগিং করেনা, কিন্তু বিবিসিতে অ্যান্টিতালিবানি ব্লগিং করে, তাই মিডিয়ার এত মাতামাতি? নাকি নিতান্তই সে একজন কিশোরীনারী এইজন্য?

মালালা কিশোরী, মার্কিনী সাম্রাজ্যবাদের চেয়ে তালিবানি দুঃশাসন তাঁর সহজে বুঝার কথা। বিবিসিতে তাই তালিবান বিরোধী ব্লগিং করা বেমানান নয়, বরং এ বয়সে যেমন কল্পনাতীত, তেমনি প্রশংসনীয়! মালালার মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন নিয়ে ভাবনা থাকলেও, ব্লগিং বা লেখালিখিতে তাঁর তালিবান বিরোধী প্রতিবাদ মিডিয়াতে বেশি প্রচার পেয়েছে। কিন্তু আজ মালালা ইস্যুতে পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবীসাংবাদিকরাজনীতিবিদ ও সাধারণ জনতার প্রতিবাদ কি কপটতায় পূর্ণ এক পেশে নয়? সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসনকে পাশ কাটিয়ে কি বিচিত্র মানুষের প্রতিবাদের ধরণ! অবশ্যই মালালার উপর হামলাকারীরা মানুষের পর্যায়ে পড়ে কিনা তা প্রশ্নবিদ্ধ, ধর্মান্ধতায় তারা হারিয়েছে মনুষ্যত্ব! আমি মালালার সুস্থতা কামনা করছি, কিন্তু কেন মিডিয়া বা পাকিস্তানী সমাজ মালালাকে ব্যবহার করে, শুধু অ্যান্টি তালিবান প্রতিবাদের প্রচারকে পুঁজি করছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরী।

কেন আজ পাকিস্তানের এই দুরবস্থা? এ প্রশ্নের উত্তর যতোদিন পাকিস্তানীরা না খুঁজে পাবে, ততোদিন মালালা ইউসুফজাই কেন, কোন পাকিস্তানীই নিরাপদ নয়। এমনকি আমরা, যারা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য রাষ্ট্রের; তারাও বর্তমান মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসন ও এই আগ্রাসন থেকে জন্ম নেয়া উপজাত ধর্মান্ধ উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ থেকে মুক্ত নই। যখন এতোকিছু ভাবি তখন ধিক্কার জানাতে হয় পাকিস্তানী সেই সুশীল (!) সমাজকে, সেই বুদ্ধিজীবী শ্রেণীকে, সেই রাষ্ট্রকে; যারা পাকিস্তানকে গত তিন দশকে একটি মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত করেছে এবং এখনো তাঁদের ভূমিকা আলাদা কিছু নয়।

আমাদের এই বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রেও এই আমেরিকার আগ্রাসন ইস্যুতে মিডিয়া, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে খোদ রাষ্ট্রের ভূমিকাও পাকিস্তানের চেয়ে খুব বেশি আলাদা কিছু নয়। এদের সকলকে ধিক্কার যাদের এক চোখা চোখে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের শোষণ আগ্রাসন দেখা যায় না; জনগণকে দেখানো হয় না, বা জনগণকে দেখতে দিতে চায় না। শুধু দেখানো হয়, এই মার্কিনী শোষণ আগ্রাসনের উপজাত ধর্মীয় সন্ত্রাস আর ধর্মান্ধতার রাজনীতিকে। সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের নামে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে তোষণ ও সন্ত্রাস বা ধর্মান্ধতার রাজনীতি দমনের নামে মার্কিনী আগ্রাসনের দালালি করে যে কপট প্রতিবাদের আয়োজনধিক ধিক তোমাদের!

এখানে প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ২০১০ সালে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত রিচার্ড হলব্রুক সোয়াত সফরে এলে মালালার সাথে দেখা করেন। এটাই ছিল যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাথে মালালার প্রথম সরাসরি যোগাযোগ। হলব্রুক মালালাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সোয়াতে শান্তি চায় এবং পুনর্বাসন কাজের জন্য পাকিস্তান সরকারকে তারা ১৭৫ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে। ছোট্ট মালালা হলব্রুককে ধন্যবাদ জানাল। এর জের ধরেই একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে সে বারাক ওবামার প্রতিও শুভেচ্ছা জানায়। তালেবানরা ইতিমধ্যেই মালালার ওপর চটেছিল। এই সাক্ষাৎকারের অজুহাতে তারা তাকে মার্কিন এজেন্ট বলে ঘোষণা করে। কিন্তু তার বিবেক পরিষ্কার ছিল। স্কুল বন্ধ করে দেওয়ায় সে তালেবানদের বিরুদ্ধে গিয়েছিল। একই সাথে সে ড্রোন হামলারও বিপক্ষে ছিল। কেননা, অনেকবারই ড্রোন হামলায় অজস্র শিশুর জীবন গিয়েছে। অর্থাৎ, আমেরিকা ও এর দালাল শাসক গোষ্ঠী যে দৃষ্টিভঙ্গির প্রচার করেছে; অন্যান্য পাকিস্তানীদের মতই মালালার দৃষ্টিভঙ্গিও অভিন্ন ছিল– “আমরা যদি তালেবানদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারি, তা হলে যুক্তরাষ্ট্র ড্রোন হামলার অজুহাত পাবে না।” অর্থাৎ , তালিবান নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নকে আগে নিয়ে এসে মার্কিনী আগ্রাসনকে দৃষ্টির বাইরে স্থাপন করা, গৌণ করে দেখা, অনেকাংশে জায়েজ করা।

এই কাজে আমেরিকা ও পাকিস্তান সরকার মালালাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার একটা চেষ্টা করেছে। তেমনি তালিবানরা তার শত্রুতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু ড্রোন হামলা বিষয়ে মালালা বা সাধারণের দৃষ্টিভঙ্গি লঘু প্রতিবাদের হলেও আমি এখানে যেটা বুঝি তা হলো, “যদি তালেবানদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারি, তা হলে যুক্তরাষ্ট্র ড্রোন হামলার অজুহাত পাবে না”, বিষয়টি এমন সরল অংক নয়!

যদি পাকিস্তান তার রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ঠিক রাখে, সাম্রাজ্যবাদী মার্কিনী আগ্রাসনকে বিনাশ করতে পারে, তবে মার্কিনী আগ্রাসন, ড্রোন হামলা ও তালিবানি হুমকি সবই বন্ধ হবে। অর্থাৎ, ডাঙ্গায় বাঘ রেখে শুধু জলের কুমিরের কথা চিন্তা করলে হয় না। বা কুমির মরলে বাঘ মারা যাবে, বিষয়টা এমন নয়। কথাটা এভাবেও বলা যায়, তালিবান নির্মূল হলে আমেরিকান আগ্রাসন শেষ হবে, সমীকরণ এমন সহজ নয়। বরং উল্টো মার্কিনী আগ্রাসন নির্মূলের সাথে তালিবানদের নির্মূল করা জড়িত এবং জনগণকে সাথে নিয়ে তা হয়ে উঠবে সহজতর। মনে রাখতে হবে, জন ভিত্তি না থাকলে তালিবান টিকে থাকতে পারতো না, আর এই ভিত্তি তৈরীতে পাকিস্তান রাষ্ট্র, তার সেনাবাহিনী, গোয়েন্দাবাহিনী সহ মার্কিনীরাই এই জন ভিত্তির শর্ত তৈরী করেছিল। আর মার্কিন আগ্রাসনকে আগ্রাসন রূপে না দেখার পরিণতি কি হতে পারে, সেটাই আজকের পাকিস্তান প্রত্যক্ষ করছে। মার্কিন আগ্রাসনকে আগ্রাসন রূপে এখনো না দেখে, শুধু ‘তালিবান তালিবান’ রব তোলাটা যে কপটতায় পূর্ণ, সেটা পাকিস্তানীদের বুঝতে হবে। ভবিষ্যতে হয়তো মালালাকে মার্কিন আগ্রাসন বিরোধী নয়, বরং মার্কিনী আগ্রাসনি শক্তি ও তার দালালেরা মালালাকে তালিবান বিরোধী প্রচারণায় রাজনৈতিকভাবে আরো বেশি করে ব্যবহার করতে পারে। এখন থেকেই সে চেষ্টা চলছে।

সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন আগ্রাসনের প্রতিবাদ ও প্রতিহতের মাধ্যমেই মালালার প্রতি সঠিক সম্মান প্রদর্শন করা হবে, অন্যথায় শুধু মালালামালালা বা তালিবানতালিবান করা হবে কপটতার সামিল। মার্কিন আগ্রাসন নির্মূলের মাঝেই তালিবান নির্মূল নিহিত! কিন্তু তালিবান নির্মূলে মার্কিন আগ্রাসন নির্মূল হবে না কিঞ্চিত পরিমাণেও।

তালিবানি ধর্মান্ধতার বলি হতে হয়েছে এমনি বহু মালালাকে, তারা তো ইস্যু হয়নি, আর ইস্যু হতেও পারেনা, কারণ তালিবানের জন্ম মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কোল হতে। ওই সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনই মূল ইস্যু। তাই মালালা আসলে কোন ইস্যু নয়! পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী ও মার্কিনীরা তাদের হীন স্বার্থে মালালাকে ইস্যু করে নিচ্ছে এবং এ কাজে সুচারুভাবে মিডিয়াকে ব্যবহার করছে!

পাকিস্তানের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুইটা প্রধান রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আছে। () পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের সাথে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও এদের লোকাল এজেন্টদের দ্বন্দ্ব, () পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের সাথে তালিবানের দ্বন্দ্ব। মালালা ইস্যু, ড্রোন হামলা, পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব সহ সকল ইস্যু কিন্তু এই দুই দ্বন্দ্বের অন্তর্বর্তী।

এই দুই দ্বন্দ্ব সমান নয় বা সমান প্রাধান্য পাওয়ার যোগ্যতা রাখে না। পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের সাথে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও এদের লোকাল এজেন্টদের দ্বন্দ্ব হচ্ছে প্রধান আর পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের সাথে তালিবানের দ্বন্দ্ব অপ্রধান। প্রথমটির রাজনৈতিক সমাধানের উপর নির্ভর করছে দ্বিতীয়টির সমাধান। তাই মালালা ইস্যু বা অন্য কোন ইস্যুকে প্রধান দ্বন্দ্ব করে দেখা; এবং সত্যিকার মুখ্য বা প্রধান দ্বন্দ্ব ‘পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের সাথে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও এদের লোকাল এজেন্টদের দ্বন্দ্ব’, এটাকে মুখ্য করে না দেখার মানে হলো, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন এবং তালিবানি আগ্রাসন দুটোকেই প্রকারান্তরে সহায়তা করা বা জিইয়ে রাখা।

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জেগে উঠুক পাকিস্তানের সাধারণ মুক্তিকামী জনগণ।।

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

w

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.