মেহেদী হাসানের কয়েকটি কবিতা

Posted: অক্টোবর 17, 2012 in সাহিত্য-সংস্কৃতি
ট্যাগসমূহ:, , , , , , ,

চেসুগন্ধী

 

মানুষের মাজা বাজারে ঘুরেচরে, চলেফিরে

দেখেছি অনেক পন্য; কতরকমে সাজানোসার বেঁধে মগ্ন

বাজার আজকে সয়লাব, খোলা মুদ্রানীতির বিশ্ব।

সাবান, শ্যাম্পু, ফেসওয়াস, রোলঅন ডিওডোরেন্টস্প্রেফূৎকারচুরুটের ধোঁয়া

হরেক রকম গেঞ্জী, সার্ট, ফতুয়া, টুপি, অন্তর্বাসকাচুলী, জাঙ্গিয়া, পাদুকা।

 

হঠাৎ আবিষ্কার তুমি

সমাজতন্ত্রের মোড়কেতোমার সুদৃশ্য, চকচকে মোহ ধরা প্যাকেটে

ঝিমিয়ে পড়া বিপ্লব, জং ধরা মানবতা;

দেদারচ্ছে বিকোচ্ছোআদর্শের ট্রেডমার্কস্টারমার্ক লাগিয়ে।

 

যদিও অমূল্য, তবুও এখন দামী সবচেয়ে এই ভূমায়

উন্মুক্ত বাতাসঅক্সিজেন হয়ে বদ্ধ পিপায়।

 

মধ্যবিত্ত– (ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, খেতমজুর, সর্বহারা)

এখন বেকার বুদ্ধিজীবিঅকেজো সাহিত্য সম্পাদক;

দুমুঠো অন্ন যাও জোটে নিকোটিনের অভাব মোটে ঘোচেনাঃ

 

কবিতা, ছোট গল্প, মুক্ত গদ্য, উপন্যাস, প্রবন্ধ লেখা হবে,

তোমার গাঢ়লাল টকটকে রক্ত ছেনে ছেনে;

তোমার লাঞ্ছিত মৃত্যু, বাঞ্ছিত জীবন বাক্স বন্দী করে

অনেক দামে বিকোবে সাহিত্য বাজারে!

 

রাজপথে নামার আগে

তোমার চিত্রাঙ্কিত ডিওডোরেন্ট—-

দুই বগলে আচ্ছামত;

গা থেকে ভুসভুস করে বেরোবে চেচে গন্ধ

দেহকাঁপানো, মনধাঁধানো, হৃদয়দোলানো, চেচে সুগন্ধ

****************************************************

আরাধনা

 

চুম্বনে চুম্বনে রক্তলাল বেল রং শরীর, আর নয়

এবার হালকানীল মেঘের মত জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে হয়।

মৃদু জলে ভরা সমুদ্র চোখ দুটো বিছিয়ে রেখো,

সেখানেই ঘুমোবো দুজন জড়াজড়ি করে।

 

কাশ ফুলের মত তোমার নরম চুলে

আঙ্গুল চালাতে চালাতেজিজ্ঞেস করবোঃ

তুমি আমার ঈশ্বর হবে?

ছি ছি ছি—-

না না না না

তুমিই আমার শরীরী ঈশ্বর,

তোমাকে গড়েছি আমার একান্ত ঈশ্বর।

মানুষ কি পারে তৈরী করা ঈশ্বর ছাড়া বাঁচতে?

কাঁচা আলোর নদী ছেড়ে, কে ডুবে মরে

সাতস্তর অন্ধকারের ওপারে!

 

বিছানা ছেড়ে কেন যাবো এতো দূরেসেই সপ্তম আসমানে!

তোমার অভ্যন্তরে কয়েক মূহুর্তের উষ্ণ প্রাসাদ,

আর তাহার মাঝে জমাট শীতলতা করি অনুভব।

 

তুমি নিথর থাকবে শুয়ে

তোমার প্রতি অঙ্গে শিহরন হয়ে ফুটবে আমার আরাধনা;

তোমার নাভীমূল থেকে আপনি গজিয়ে উঠবে পূজোর ফুল।

শীৎকারেচিৎকারে তোমার নরম ছোট হাত

মাথায় বুলিয়েছড়িয়ে দেবে মুঠো মুঠো চূর্ণ আশীর্বাদ।

ভক্তিতে উপচে উঠলে নগ্ন দেহ পেয়ালা দেহ,

কিছুটা ঝাঁকুনি ছিলকে ফেলে আবার নিথর হয়ো।

 

অবয়বহীন কি ভালোবাসা যায়

কিভাবে বাসা যায় ভালো!

ভয়ই বা কিসমীহই বা কেন?

 

পূর্ণিমার রাতের আঁধারে পাশের জানালাটি যাবে খুলে,

জ্যোৎস্নার সাথে মিশে পরবো ছড়িয়ে,

তোমার শরীরের সমস্ত আনাচে কানাচে

আলোর ধর্ম অমান্য করে এগিয়ে যাবো বাহারি গলি পথ ধরে।

 

চাঁদটাও ক্লান্ত এতক্ষনে,

আমিই শুধু অবিরাম স্পষ্ট আরাধনায়।

**********************************************

অকবিতা

 

পথ হারানো এক পথিক আমি আজিকার, অনেক কিছুই

জানি অথচ কোন কিছুতে নেই। আচ্ছা দুর্বোধ্যতার রঙ

কেমন হয়? সরলতার ভাষা কি? কবিতাকে কি হতেই

হবে দুর্বোধ্য, না হলে সে কি পদ্যই থেকে যায়। কোন

যুগে আমার বাস? আধুনিক নাকি অত্যাধুনিক! কেমন

সাহিত্য করবো রচনা? লাল, নীল, বেগুনি, হলুদ নাকি সাদা

কালো! ভোরের আলো ফুটছে, আরো ফুটবে যতদিন সূর্য বেঁচে

আছে। জানি একটি উপমাও করতে পারিনি ব্যাবহার তাই

কবিতা হয়ে উঠলো না। বড়ই অগোছালো হল, তাতে হলটা

কি শুনি? আমি চিৎকার করে বলবো লিখবোনা একটি কবিতাও,

কবিতা কি আমার সিগারেট খাওয়ার পয়সা জোগাতে পারে?

কবিতা লিখি বলে কি কোন রমনী এসে বলেছে এই নাও আমার

দেহ, তোমার লেখা কবিতার বিনিময়ে; যা আজকের বাজারে

ন্যাকান্যাকা ভালোবাসার কথার বিনিময়ে সহজেই পাওয়া যায়!

 

অনেক লাইনের শেষে ক্রিয়াপদের ব্যাবহার, দেখতে নাকি সুন্দর

হয়না। সবকিছুকেই কি হতে হবে সুন্দর? কুশ্রীরা কি বেঁচে থাকেনা!

তারা কি দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি হয়না! তাহলে আমার লেখা

অনুভূতির অগোছালো লাইনগুলো কেন শুধু মাত্র কবিতা হয়ে উঠবেনা?

কোন সমালোচক বলবে যে, আমার লেখাগুলো কবিতা নয়; কে সে?

কার এতো বড় সাহস! সে কি পারবে বলতে এই অথর্ব লোকগুলো

রাষ্ট্র প্রধান নয় অন্য কিছু। কেন এ অবিচার? কবিতার লাইনে

পারমানবিক অস্ত্র থাকেনা বলে! আমি ভরবো, কবিতার বিশ্রী

লাইনগুলোতে বিছিয়ে রাখবো এ কে ফোর্টি সেভেন। রাশি রাশি

বোমা কবিতার অগোছালো গ্রন্থিতে রাখবো বেঁধে। তারপর দেখি

কে আসে অকবিতা বলতে!

*************************************

কয়লাকালো

 

জন্ম যদি হতো ঘোর আফ্রিকাতে

ওখানেতো কেউ সাদা নয়শরীরের রঙ সবারই কালো,

অথবা যদি ঠাসবর্ণিল ইউরোপে

আমার গায়ের চামড়া নিশ্চয় রঙধনু সাতরঙের সমাহার হতো!

সাদাকালোর রঙ্গিন দেশে জন্ম

শক্ত অন্ধকার হয়েহয়েছি (অসুন্দরের অন্য নাম) কালো।

 

যখন আমি ছোট্ট কুটকুটে শিশু, পাড়াপড়শীরা বলে;

দেখোদেখো বাচ্চাটি হয়েছে কেমন কুচকুচে

মাথা নেড়ে প্রাচীন দাদী বলে, সোনার আংটি যে বাঁকাও ভালো।

এ সোনা যে শুধু বাঁকা নয়, এ যেন কয়লাকালো!

 

সেই থেকে কালোর হল যাত্রা শুরু

আমাকে আরো কালো করলো খেলাচ্ছলে শরীরে মাখা ধূলো।

খাখা করা চৈত্রের দুপুরে বগলে

বইখাতা নিয়ে স্কুলে যেতে যেতে,

বিকেল বেলায় কাদামাঠে ফুটবল খেলে খেলে

রোদে পুড়ে হলাম কাককালো;

লাল জ্বলজ্বলে সূর্যটি আমার চামড়াটিকে

করতে থাকলো অবিরাম গাঢ়।

 

সাদা কুয়াশায় ঢেকে এলো কড়কড়ে ঠান্ডা শীত

ও’ শীত কালোকালো গোলাকারছোপ মুখে রেখে দিয়ে গেলো।

 

আকাশ কাঁপিয়ে রঙ ছড়িয়ে বর্ষা এলো

জমাট মেঘ জড়িয়ে ধরে ময়লা মোরে করল আরো।

 

উজ্জ্বল বসন্তে মসৃন কোকিল শুনিয়ে গেলো গান,

সিগারেট খেতে খেতে ঠোঁট দুটিও থ্যাবড়া কালো

সত্যি বলছি, প্রিয়ার মুখে স্নিগ্ধচুমু খেতে পারিনিতাই এখনো।

 

অবয়বহীন কিছু লোকের উত্তাল মিছিলবিপ্লব হবে আজকালই,

কলার খোসা পচে গেলে হয় যেমন কালোঃ

রোদের উষ্ণতা এখানেও আমাকে ফাঁকি দিলো।

 

 

হোয়াইট কলারের দাবড়ানি খেয়ে শরীরে রংহীন জখম হলো

দাঁড়াতে গিয়ে পড়ে গেলাম, বসতে গিয়ে উবু হলাম,

কিছু ধুতরাবিবর্ণতা ঘিরে ধরল।

 

মানুষের রঙ্গীনপনা মুখ দেখে যখন

দিয়েছি হেসে খিলখিল

বড়বড় ধবল দাঁত গেছে বেড়িয়ে;

এতোবড় ঝলমল যুগেও হয়েছি তাই

নিতান্তই চৌদ্দ ইঞ্চি সাদাকালো।

 

তীব্র শীতের দেশে গিয়েছি, অন্য কারো নয়ঃ

নিজেরই শরীরটাকে টেনে নিয়ে

বরফ রঙা টিকোলো নাক জিজ্ঞেস করে,

কেনো তুমি নিকষ কালো?

 

কালো হই বয়সের চাপেও

চুলগুলোও তবু হচ্ছে ধূসর ক্রমান্বয়ে——

*************************************

ঘননীলমৃত্যু

 

শয়তানের মদ্য মুঠো মুঠো পান করে ভবছো

নদীর কোমল গন্ধ মাখবে দূষিত বগলে!

যে ক্ষয়িষ্ণু সূর্য জ্বলে আজ ধূসর আকাশে,

তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গাঢ় অন্ধকার নেমে আসে।

 

সাতটি আকাশকে অনেক দূর টেনেজলে নামিয়ে

ডোবাতে চেয়েছিলে জানি বুকের এক খন্ড শ্যামলা জমি।

পারোনি তুমি, পারবেনা আর গেছি আমরা জেনে

অনেক কুকুর শুধুমরে গিয়ে আজও

মাছি হয়ে তোমার দগদগে ঘা চাটে ভরন্ত উল্লাসে।

 

খোলা বাজারে আলু, পেয়াজ, বরবটি, করল্লার নিষ্পেষণ

সুদৃশ্য আদরে নারী ধর্ষিত হয়ে হয়ে

পুলকিত সিগারেটের প্যাকেটে নিস্পৃহতায় দাঁড়িয়ে আছে মনে করে

ফুড়েফেটে চৌচির হয়ে গেছেস্ট্রবেরীকনডমের পাকা বস্তা।

 

তোমারই জারজ সেতীব্র পরিব্যাপ্ত ক্ষমতাসম্পন্ন

এইচ আই ভির একটি দুর্দান্ত অতি ক্ষুদ্র কনা,

আকাশ বাতাস ফাটিয়ে তীব্র চিৎকার দিয়ে

আচম্বিতে প্রবেশ করবে তোমার অতলান্ত গভীরে।

 

শত সহস্র ফুল আছে ফুটে পচা ডোবা, কালো ড্রেন, আর ময়লার ঝুড়িতে

দুটি নয়একটিমাত্র তীক্ষ্ণ কাটার শলাকা নীরবেনিভৃতে গজাচ্ছে ধীরেঃ

তারপর গন্ডা কয়েক খোঁচা মাত্র

শরীরের এক কোনা বেয়ে উঠে দাঁড়াবে বৈদেহিক একগুচ্ছ চতুর্মাত্রিক ব্রণ;

ভরে উঠবে তোমারই টাটকা বমি, বাসি রক্ত, ক্লেদ ও গোলাপী পুঁজেঃ

খুশকিরা তোমার বিবর্ণ দাড়িচুল সহ উঠে গিয়ে

দূর মৃত আকাশে কয়েকটি দোরা সাপ হয়ে যাবে।

 

একটি নক্ষত্রদুইতিনঅনেক হয়ে উঠছে জেগে

বৃত্তাকার গোল চিহ্নের ভেতরে;

নিশ্চিত জানিএকটি বেদনাতেই ঘটবে তোমার ঘননীলমৃত্যু

উপুর হয়ে থাকবে শুয়ে নিজেরই লাশের স্তুপের ‘পরে।

*************************************************

বিপ্লবী কবিতা

 

দীর্ঘ দিন ধরে অক্লান্ত ভেবেই চলেছি,

লিখবো একটি জ্যান্ত কবিতা

খুব ধীরে নিজেই হয়ে উঠবে একটি অনির্বচনীয় সত্ত্বা;

স্বপ্ন দেখবে, ভালোবাসবে, গান গাইবে

হয়তোবা কোন নারীর সাথে মেতে উঠবে উদ্দাম সঙ্গমে।

 

কবিতাটিকে সৌন্দর্যমন্ডিত করার অবিরাম চেষ্টা

যেন না হয়ে উঠে কবির মত কুৎসিত!

সেজন্য কত চিন্তাকাজ, সহস্র শব্দের আনাগোনা মাথার ভেতরেঃ

ধ্যানী শিল্পীর নিমগ্নতা দিয়ে সযত্ন প্রয়াসে গড়ে তুলবো

কবিতার শরীর ও আত্মা।

 

তার থাকবে এমনই আত্মক্ষমতা

আমি যা পারিনি করতে কঠিন সংগ্রামে,

তা ঘটাবে নির্লিপ্ত অনায়াসে।

আর এমনই স্বপ্নবান হবে যে,

আমার নির্বিকারত্বকে ভরিয়ে তুলবে

সকল মানুষের ইচ্ছা পূরনে

পৃথিবীটাকে হাতের মুঠোয় নিয়ে

আকাশের দিকে পারবে ছুড়ে দিতে।

 

তার জন্মমাত্র প্রথম কাজই হবে কবিকেই হত্যা করা,

নইলে সে হাতে পায়ে বেড়ে উঠতে পারবেনা।

কবির লাশের উপর উদ্দাম নৃত্য করবে এমনই সে দুর্দান্ত!

 

একদিন প্রসন্ন ভোরবেলায়

সকল কবিতাকে ডেকে করবে একত্রিত,

মানুষের বিরুদ্ধে শুরু হবে প্রলম্বিত সংগ্রাম,

একে একে খুন হবে সকল কবি ও মানুষ।

তারপর চালু হবে কবিতার শাসন।

 

ওদের দাবী হবে একটাইঃ

এই পৃথিবী, কবিতা বাদে আর সবকিছু বাসের অনুপযুক্ত হয়ে উঠেছে।

কবিতা যুগে থাকবে

কবিতা গাছ, কবিতা নদী, কবিতা সাগর, কবিতা পাহাড়;

আগুন, পানি, মাটি, বাতাস সবকিছুই পরিণত হবে একেকটি কবিতায়

সুর্যও সকালে উঠবে একটি জ্বলজ্বলে কবিতা হয়ে,

চাঁদের গায়েও লেগে থাকবে কবিতার কলঙ্ক।

 

আমি নিজের জীবনকে বিসর্জন দিচ্ছি এই কারনে যে,

এরপর কবিতা যুগ আসুক

সে মহান বিপ্লবে নেতৃত্ব দিবে আমার লেখা একটি ছোট্ট কবিতা।

*******************************************************

স্বপ্নহীন

 

বিশ্বাসের ভাঙ্গা হাতুড়ি দিয়ে ওরা প্রতিনিয়ত আঘাত করে

আমার শিল্পবোধে, ফেটে চৌচির হয় বোধের শিল্পিত ফুলগুলো;

যন্ত্রনায় কাতরাতে কাতরাতে হয়ে উঠে অন্ধ,

ফিরে আসে; হয়তো আবার মেলতে চায় পাখা ঐ নীলাকাশে

কিন্তু আকাশটাও ঘোলা আজকে; ওদের নষ্ট বাতাসে।

 

গতকাল রাত্রে গভীর মানবিক ডুব দিয়েছিলাম

মাথায় আচানক আঘাত পেয়ে চোখ খুলে দেখি,

মেছতা পরা মুখে ডলছে বিবর্ণ তৈলাক্ত ক্রীম;

আর রঙ্গিন কৌটা পারফিউম মোজা গন্ধ শরীরে।

মোহিত হতে থাকে পাশের বিশাল আলমারিটি

মরচেরা আরো ঘন হয়ে উঠে।

 

ফ্লোরোসেন্ট আলোয় বসে, বিজ্ঞানের উজ্জ্বল মুখে

কঠিন আমাবস্যা মেখে দেয় দল বেঁধেঃ

নুয়ে পড়তে পড়তে গাছের শুকনো ডালের মত

বেমানান বোধ হয় নিজেকে।

 

কঠিন রুক্ষতায় প্রশ্ন ছুড়েছিল,

আর কে আছে তোদের দলে

নাকি তুই একা?

আমাদের আবার সংঘ!

চেপেচুপে কারো মুখই মনে আসেনি

আমরা যে পারিনা জোট বেঁধে থাকতে

ভেড়া থাকে দল বেঁধেঃ

একাই ঘুরে বেড়াইহঠাতই হয়তো কখনও

কারো সাথে দেখা হয় স্বপ্নের কিনারে।

 

মুখে মহুয়া বাঁকা হাসি, বেলের মত গোল স্তন, সিগারেটের মত সরু কটি;

ঘোড়ার লেজের মত রাশি রাশি চুল ক্লিপের অসংখ্য মারপ্যাচে বাঁধা

রক্তের জারক কনাগুলোর অস্থিরতা থাকে বাড়তে ।

ধেয়ে যাইযাদিও অনেক দিনের জমানো পচা গন্ধ!

হোয়াইট মাস্ক চামড়া কঠিনরকম স্বচ্ছ

ভেতরের নাড়িভূড়ির নগ্ন আনাগোনা

থেঁতলানো মুখ ফেরাই গোধূলির রক্তাভ বিচ্ছিন্ন আকাশে।

 

টগবগে যুবকনরম কান্তি মুখ,

মাছের পোনার মত রক্ত দাপিয়ে বেড়ায় সমস্ত আঁটসাঁট শরীর জুড়ে;

পিছন দিকে ঘাড় ফুড়ে বের হয়েছে আরেকটি মাথাঃ

সামনের দাঁত নেইবাকী গুলোতে রাশি রাশি ময়লার স্তর।

প্রথম সুন্দর, দ্বিতীয় কুৎসিত মিলে মিশে তৈরী হয় ফ্যাকাশে পিচ্ছিল শ্যাওলা।

 

 

বড় ঘুম পাচ্ছে, অনেক বিশাল ঘুমপানির মত তরল;

সামান্য টুকটাক ঘৃণায় জেগে উঠি।

স্বপ্নেরাও তাড়া খেয়ে গেছে ফিরেওরা নাকি আর এদিকটা মাড়াবেনা!

স্বপ্নহীন এক জোসনা রাতে অবিরাম এ বেঁচে থাকা আমার।

************************************************

যে কবিতাকে আমি নিজেই ধারণ করতে অপারগ

পরাজিত প্রেমিকের বন্দনা

 

মানবী, তুমি সদা সঞ্চরণশীল মাছের পোনার স্বচ্ছ চোখের

মতই স্বাধীন; কঠিন স্বচ্ছ দেয়ালও পারো অবলীলায় ফুড়ে যেতে।

পায়রা হয়ে ঘুরে বেরাও সমস্ত দিনভর, সময়মত শুধু খোপে ফিরে

এসো। মুক্তাকাশে বাঁধারা তোমার জন্য অপেক্ষা করে নেই জেনো!

মনে রেখো, আমার ভাগটা শুধু বুঝে পেলেই হল। প্রত্যেক রাতে

তোমার সাদা সাদা পালক নিয়ে লোফোলুফি, আর একবারআধবার

নিস্তব্ধতায় ডুব,

কে বা কারা তোমাকে ছুয়ে দিল, তাতে আমার হৃদয়ের কাইগুলো

শক্ত হয়ে জমে উঠেনা। সিগারেট তো নও যে পুড়িয়ে ছাই না করা

পর্যন্ত পাওয়া যাবে না! আমার সুখটানগুলো ইচ্ছে মত শুধু দিতে

পারলেই হলযত্রতত্র যেখানে সেখানে উদ্দাম প্রেম করো প্রিয়তমা,

প্রেমকে বিপন্ন করা কোন প্রেমিকের সাজেনা। তোমার আথালিপাথালি

 

কমনীয় ঢেউয়ে অনেক দূর ভেসে না গেলে যে, আমি উন্মাদনায় জমতে

পারিনা। শরীরের রক্তরা যাতে ঝিমুতে ঝিমুতে মারা না পড়ে শুধু সেই

ব্যবস্থাইটুকুই করো, আমার ভাগটা শুধু বুঝে পেলেই হল। আরেকটি

অনুরোধ শুধু, অন্য ঘরে পরিতৃপ্তি পেয়োনা। তাহলে যে তোমার শরীর

ম্যাজম্যাজ করবেচোখের কোল ঘেঁষেজমে উঠবে ময়লা অন্যদিকে

ঘুরিয়ে রাখবে তোমার সোনালী মুখঅসহায়ত্ব গুলো দানবের বেশে নিবে

শুষে বুকের সমুদ্রের সকল জল।

 

তুমি তেইশ ঘন্টার প্রত্যেকটি সেকেন্ড বিস্তৃত স্বাধীন, আমাকে একটি

ঘন্টার কয়েকটি গভীর মিনিট অতল স্বাধীনতা দিও। একবিন্দুও বেশী

চাইনাআমার ভাগটা শুধু বুঝে পেলেই হল।

 

মানবী, তুমি তো জানো এখন আর

সাম্যবাদের শ্লোগান আমি দেইনা,

সমাজতন্ত্রের গুনগানও করিনা কীর্তন

আমার ভাগটা শুধু বুঝে পেলেই হল।

 

সকলের মত আমারও ইচ্ছা হয়,

নিজের মুখটা কোন শিশু আয়নায় দেখতে

বিভক্তকারী স্বচ্ছ মাধ্যম একআধবার যাবে উঠে

মানবী, দোহাই তোমার;

আমাকে শুধু মরণব্যাধির সূক্ষ চক্রান্তে আক্রান্ত করোনা!

আমি যে বেঁচে যেতে চাই আরো কয়েকটি আলো জ্বলমলে

বিবর্ণ দিন, আমার ভাগটা শুধু বুঝে পেলেই হল।

*********************************************

নপুংসক

 

আমি কি নপুংশক?

আমার মায়ের চোখে ছানি,

আমার দেশের মাটি ধূসর,

আমার গাছের পাতা হলদে,

আমার বাবার চোখে চালশে,

আমার বেদনারা হালকা,

আমার সুখ অগভীর,

আমার ভাই নিঃসঙ্গ,

আমার স্বপ্নগুলো ঘুড়ি,

আমার হৃদপিন্ড শক্তিহীন,

আমার নারী প্রতিক্রিয়তাশীলতার স্ত্রী,

আমার আশা ভাষাহীন,

আমার হাড় ভঙ্গুর,

আমার বোন অস্থির,

আমার রক্ত স্তিমিত,

আমার সাহস মৃত,

আমি তবে নপুংসক!

নিশ্চিত

আমি নপুংসক।

**************************

কাসুন্দি

 

অতীতের মাতাল তরনী জমাট হয় মুহুর্তের বাস্তবতায়,

পুরনো টনিক মস্তিষ্কের কোষাভ্যন্তরে সরু খাল কেটে চলেঃ

শক্তিশালী, আরো বেগবান;

চিতা বাঘের ক্ষিপ্রতা ওদের চোখেমুখে,

লুপ্ত হয় সুন্দরঅসুন্দর ভেদ জ্ঞান

আর কে হিসাব রাখে তার!

ভবিষ্যতের দিকে যায় এগিয়ে,

কুৎসিতরা কি এভাবেই থাকে বেঁচে

অসহায়ের লম্ফজম্প ছন্দ পেয়ে হয়

কিছু ঘোর লাগা কবিতা শুধু।

 

 

প্রতি রাতেই খিস্তিখেউর, ধস্তাধস্তির আলখাল্লা চাপি গাঁয়,

ভোরের আলো ফুটতেই পালিয়ে যেতে চাই কোন এক গতির দেশে,

ক্ষ্যাপা উন্মাদের মতই ঘুরে বেরাই সাদা ময়দানে,

শরীরে লাগে কিছুটা সূর্যের তাপ

পুনরায়, অন্ধকার নামতেই

তোমার সুবিশাল স্তনের আড়ালে লুকাতে হয় মুখ;

অদম্য আকর্ষণে প্রবিষ্ট হই অন্ধ জরায়ুতে।

 

মিছিল, মিছিলহাওয়াই মিছিল

বড় অবসন্ন করে আমাদের,

হাঁপিয়েহাঁপিয়ে উঠতে থাকি পর্বতের চূড়ায়;

শুন্যতায় ভাসি কিছুক্ষণ

তারপর ক্ষুধার্ত হই, পিপাসা জাগে,

যৌন কামনায় আলোড়িতদুর্দান্ত অস্থির

চরম সম্ভোগে লিপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত নির্জীবতা আসে না।

 

বড় বড় প্রাসাদ অট্টালিকা ছেড়ে যখন নামি পথে,

অন্ধকার গুহারা ডেকে নিয়ে যায় লাল মাটির অভ্যন্তরে

অজাচার, দলীয় সম্ভোগের উন্মাতাল ঢেউ এসে দামামা বাজায় বুকে।

ক্ষেপনাস্ত্র নয়, নিরীহঅসহায় কীটপতঙ্গের ভয়ে

ক্রমাগত হতে থাকি হাড়চামড়া সর্বস্ব।

 

চলতে চলতে

কোন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতে হয়তোবা,

ধীরে ধীরে অস্তিত্ব হারানো পারমানবিক অস্ত্রের বৃথা আস্ফালনে

প্রাণ হারাবে লক্ষাধিক প্রযুক্তি মানব।

***********************************

অনেক অপরাজিতা

 

ছোট্ট সুন্দর জোনাক মেয়ে এতো জ্বলো কিভাবে?

অনেক প্রাণ কোমল বুকেতাই কি এমন উচ্ছ্বাস!

গভীর সূর্য থেকে আলোআরো উত্তাপ, তোমার মুখে

এসে লাগলেই কি তা নরম জ্যোৎস্না হয়ে ছড়ায় চতুর্দিকে,

ক্ষমতা তীক্ষ্ণভেদীবেড়িয়ে পড়ে–জাগাতে সকল পাষাণ;

বিন্দু বিন্দু শিশির হয়ে ছড়ায় সকল মাথার ‘পরে।

 

তোমার কোমলতা চুইয়ে বের হয় উদ্দামতার রস,

ভর্তি করে চলে জীবনের সব খানাখন্দক;

গহীনের ভালোবাসা লড়াইয়ে যুক্ত বলেই কি

তুমি আজ অপরাজিতা, সত্যিই অনেক অপরাজিতা।

 

হয়তোবা বেদনারা মিহি পথ কেটে

চলে নদীখাল, উপত্যকা বেয়ে;

উজ্জ্বলতার প্রলেপে অপসৃয়মান হয় ধীরে।

উড়ে যায় দিকে দিকে পাখিগুলো কল্পনার সাতরঙা

হৃদয়েশরীরে পৌঁছে দিতে তোমার বোধের বারতা।

 

কঠিনভারে ক্লান্তহাত ধরে তুলিও

আশাহীন মুখে শুধু একটিবার তাকিয়ো।

 

জানি মরণ তোমাকে ছুঁয়ে যাবেনা কোনদিন,

যতবারই খন্ডিত হবে ধারালো ছুরিকায়

জন্ম নিবে নতুন এক শুভ্র ভোরবেলায়।

তোমার হাতের একটুখানি উষ্ণ ছোঁয়ায়

শুন্যতা মুছে গিয়ে ব্যাপ্ত আকাশ হয়ে যায়।

 

ওরা তোমাকে বেঁধে রাখার ভান করে,

জানেনাতুমি আটকাওনা কোন গোল চিহ্ন বৃত্তে।

সকলকে যে মুক্ত করে নরম আদরে,

এমন পরিধি কোথায়তাকে বিস্তার করেজড়িয়ে ধরে?

সাগরের জলকে ঘটি, বাটি, কলসীতে রাখা হলেই কি

অপার সমুদ্র নিষ্ক্রিয়তার মাঝে ডুবে যায়!

******************************************

অলীক চাঁদ

 

তুমি নও ক্ষ্যাপা কস্তুরীজানি আমি, জানি

তাই সেজেছো আজ মহান কুৎসিত ভিখিরী।

নিজের হৃদয়কে ভিক্ষে করে বেড়াও অলীক চাঁদের কাছে;

যদিও চাঁদটি আছে বাঁধা অন্য এক পৃথিবীর নাভীমূলের সাথে।

 

অবসন্ন হয়ে গেছে হাতপাকানমুখদাঁত

তাই উলম্ফনের স্রোতে নিজেকে ভাসিয়ে নিতে দাও!

একটি টিনের কৌটায় পেচানো কতগুলো তারে

তোমার কাননাকঠোঁট ছিদ্র করে ফেলছো ধীরে;

আর হীরের গয়না পরে তুমি হাসছো পাখির লালনীল কলরবে।

 

দূরে নই আমিওনির্লিপ্ত জীবনে আজ আমরাও সমান ভাগীদার

গভীরতায় নাগাল পাওয়া যায় যদিও সহজে

আবেদনময়ীতায় তীব্র দহনে আমরা যাচ্ছি ডুবে তবুও।

 

চন্দ্রসূর্যনক্ষত্রছায়াপথসমগ্র মহাবিশ্ব আবেদন হয়ে পড়ছে ঝরে

আমাদের নগ্ন শিথানের ডান কিনারেআমাদের মাতাল করে

তোমার কবরে শুয়ে যে সুখতা পাইনি কোনদিন বেঁচে থেকে তাই।

 

যে দেহে নেই নড়াচড়ার শক্তি,

সে ক্ষীণ দেহে ভেসে বেড়াই প্রান্তর থেকে সীমান্ত অবধি

তোমাকেই লক্ষ্য করে শুধূ হে নূরের রমনী।

 

কত রাতকে আলোতে ভরেছিআর যাবোনা ঐ নগ্ন রমনীর বাহুতলে

আবারও গিয়েছি তবু চলে

কোলের উপর খুটি গেঁড়ে ঘরবাড়ি তুলেছি মন্ত্রের চাদরে।

 

আজকেই হয়তো শেষবার আমার ভীষণ মৃত্যু ঘটবে

সকল রক্ত দূষিত হয়েছে তোমার সুগন্ধী বাতাসে,

আর আসবোনা ফিরে তোমাদের হাওয়ার পৃথিবীতে

তাই শেষবারের জন্য একটিবার, ভিক্ষে করে যাচ্ছি

এ হৃদয় আমার।

*************************************

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s