বিপর্যস্ত জ্বালানী খাত, সমাধান কেবলই বিকল্প জ্বালানী :: অমিত সম্ভাবনার জিওথার্মাল এনার্জি

Posted: অগাষ্ট 2, 2012 in অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক, দেশ, প্রকৃতি-পরিবেশ, মন্তব্য প্রতিবেদন
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

বাংলাদেশের জ্বালানী সংকট দিন দিন চরমে উঠছেগ্যাসবিদ্যুৎ সংকটে নাজেহাল দেশের মানুষপ্রকৃতার্থে দেশে কোন জ্বালানী নীতি নেইযে সব নীতির কথা বলে দেশের জ্বালানী মন্ত্রণালয় ও জ্বালানী খাতকে সচল রাখা হয়েছে বলে প্রচার করা হয়, তা মূলত পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্টতাদের দেয়া পরামর্শ ও তাদের সঙ্গে করা গোপন চুক্তির কারণে দেশের জ্বালানী খাত আজ চরম সংকটের মধ্যে পড়েছেআর যেকোন দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অনেকাংশেই সেদেশের সুষ্ঠু ও সময়োপযোগী জ্বালানী নীতির উপর নির্ভর করে। কিন্তু দেশীবিদেশী নীতিনির্ধারকদের চাপে প্রতিটা সরকারই কোন বাস্তব সম্মত পদক্ষেপ তো নেয়নি, বরং নিয়েছে গণবিরোধী জ্বালানী নীতি। যার ফলস্বরূপ বাড়ছে জনদুর্ভোগ

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসীন হয়েই রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ লাঘবের আশ্বাস দেন। জনগণ ধৈর্য্য ধারণ করেন, কিন্তু সবই নিষ্ফল। তাতে জনগণের ভাগে লোডশেডিং আর দ্রব্যমূল্যের দামই শুধু বেড়েছে; অপরদিকে, শাসকশ্রেণীর কতিপয় দালালের পকেটের সাইজ ফুলে ফেঁপে উঠেছে। কুইক রেন্টাল প্ল্যান্টগুলো বেশিরভাগই উৎপাদনে যায়নি, কবে নাগাদ যাবে তাও প্রশ্নবিদ্ধ। এই রেন্টাল প্ল্যান্টের জ্বালানী বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয় প্রচুর টাকা গচ্চা দিয়ে, তাই স্বভাবতই এর উৎপাদন খরচও হবে বেশী। কিন্তু তা জনগণের কাছে তো এতো দামে বিক্রি করা যাবে না, যেখানে জনগণের বেশীরভাগই এই আর্থসামাজিক অবস্থায় ব্যাপকভাবে নিপীড়িত। ফলে এই দামী বিদ্যুত উৎপাদনের জন্য এই অর্থবছরে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকিতে ব্যয় করতে হবে বলে প্রাথমিকভাবে প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় একতৃতীয়াংশ । বাংলাদেশের মতো একটা গরীব দেশে এহেন বিলাসীতা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

দেশের পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সর্বাধিক উৎপাদন শক্তি অনুযায়ী উৎপাদন করা তো দূরের কথা, কোন বিদ্যুৎকেন্দ্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশের বেশী উৎপাদন করতে পারছে না, আবার কোন কোন বিদ্যুৎকেন্দ্রে এই হার এর থেকেও কম। যার মূল কারণ বন্টন ব্যবস্থার আধুনীকায়ন না হওয়া, পুরনো ও বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সময়ানুযায়ী রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়া এবং প্ল্যান্টগুলোর কাঁচামাল, অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক বাজারে আমদানীকৃত জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং গ্যাস ও কয়লা সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া। অথচ, মাত্র কয়েক কোটি টাকা বন্টন ব্যবস্থার আধুনীকায়ন ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে খরচ করে এবং বিবিয়ানা, তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রসহ অলাভজনক বলে বহুজাতিক বেনিয়া কোম্পানি কর্তৃক ফেলা রাখা কূপগুলো পেট্রোবাংলার অধীনে এনে তা থেকেগ্যাস উত্তোলনের মাধ্যমেবিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বাড়িয়ে ও প্রয়োজনে কয়লা আমদানী করে এই কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব এক হাজার মেগাওয়াটেরও বেশী, আর তা মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই করা সম্ভব। উপরন্তু, এই কুইক রেন্টাল প্ল্যান্টে যে জ্বালানী ব্যবহৃত হচ্ছে, অর্থাৎ এইচএফও (হেভি ফুয়েল অয়েল), পরিবেশ দূষণের দিক দিয়েও কয়েক কাঠি সরেশ। অর্থাৎ, এটি মূলত কার্বনডাইঅক্সাইড, বা কার্বন মনোক্সাইডের মতো ক্ষতিকর গ্রীনহাউজ গ্যাস উৎপাদনের কারখানা। প্রাপ্ত তথ্য মতে, এইচএফও (হেভি ফুয়েল অয়েল) কোন উন্নত বা স্বল্পোন্নত দেশেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয় না। বাংলাদেশসহ আফ্রিকার কিছু দেশেই কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর ব্যবহার চোখে পড়ে। আর এই রাজকীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে মূলত শাসকযন্ত্রের সাথে জড়িত কিছু লোকের পকেট ভারী হওয়া ছাড়া জ্বালানী খাতে তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, তাদের উৎপাদন ৩০ এপ্রিল ২০১০ সালে ছিল ২,৫৫৫ মেগাওয়াট; কিন্তু এ বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি তা ৪১ শতাংশ কমে মাত্র ১,৫০৬ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়। পিডিবি’র দায়িত্বশীলদের মতে, জ্বালানি তেলের বা গ্যাসের অভাব ও রক্ষণাবেক্ষণের কারণেই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য থেকে আরো জানা যায়, ১৯৯০৯১ সালে বিদ্যুতের উৎপাদনক্ষমতা ছিল ২,৩৯৮ মেগাওয়াট, যা ২০০৫০৬ সালে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৫,২৭৫ মেগাওয়াটে। অর্থাৎ, এই ১৫ বছরে বিদ্যুতের উৎপাদনক্ষমতা প্রতিবছর গড়ে ৫.৮০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো, এই পনেরো বছরে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পায় প্রায় তিন গুণ, আর এসময়ে বিদ্যুতের প্রকৃত উৎপাদন ১,৬৭২ মেগাওয়াট থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৩,৮১২ মেগাওয়াটে; অর্থাৎ প্রকৃত উৎপাদন গড়ে বছরপ্রতি ৬.১০ শতাংশ হারে বেড়েছে। ২০০৬০৭ ও ২০০৭০৮এই ২ বছরে উৎপাদনক্ষমতার কোনো বৃদ্ধি হয়নি, তবু সর্বোচ্চ উৎপাদন বেড়েছে ৮ শতাংশ। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৩ বছরে স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা গড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে ১১.৪০ শতাংশ হারে। আর তা মূলত বেড়েছে ২০১০১১ অর্থবছরে, যখন রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনে ঝাপিয়ে পড়ে সরকারের আস্থাভাজন কতিপয় লুম্পেন মুনাফাখোর। বিদ্যুতের প্রকৃত সর্বোচ্চ উৎপাদন ১৯৯০৯১ থেকে ১৯৯৫৯৬ অর্থবছরে গড়ে ৫.৭০ শতাংশ হারে এবং ১৯৯৫৯৬ থেকে ২০০০০১ অর্থবছরে ৭.৮০ শতাংশ হারে বেড়েছে। পরবর্তী পাঁচ বছরে, অর্থাৎ ২০০০০১ থেকে ২০০৫০৬ সালে বিদ্যুতের প্রকৃত সর্বোচ্চ উৎপাদন বেড়েছে গড়ে ৪.৭০ শতাংশ হারে। অথচ, বর্তমান সরকারের শাসনামলে উৎপাদনক্ষমতা ১১ শতাংশ বাড়ার মূলো ঝুলানো হলেও বিদ্যুতের প্রকৃত সর্বোচ্চ উৎপাদন মাত্র ৫ শতাংশ হারে বেড়েছে। আর এক্ষেত্রে কুইক রেন্টাল কুইকলি তো কাজ করেইনি, এথেকে বিদ্যুতের উৎপাদনও বাড়েনি কানাকড়িও। আবার গতবারের গণতান্ত্রিক (!) সরকারের ধারা বজায় রেখে বর্তমান সরকারও বিদ্যুতের এই আকালের কালে নতুন করে ৭ হাজার কিলোমিটারেরও বেশী বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন স্থাপন করেছে, যা ভোটের রাজনীতিকে প্রভাবান্বিত করার জন্য প্রতিনিয়ত বাড়ানো হচ্ছে। উপরন্তু, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ তো কোন দল বা গোষ্ঠী বা কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এখানে গচ্চা যাচ্ছে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা। আর তা আত্মসাত করে কারো কারো হচ্ছে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ! আর বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সরকারের এহেন কাজের জবাব চাওয়ার অধিকারটুকুও নাই আমার দেশের জনগণের।

দেশীবিদেশী নানান চাপ ও কমিশনভোগীদের কল্যাণে (!) জনগণের অগোচরে প্রতিটা সরকারই বহু গণবিরোধী চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং করে যাচ্ছে, আর এর বৈধতা দানের জন্য সদা প্রস্তুত ‘জাতীয় সংসদ’। আর গ্যাসকয়লার মতো খনিজ সম্পদ লুটের ক্ষেত্রে এমন চুক্তির সংখ্যা দিনকেদিন কেবল বেড়েই চলেছে। এই বিষয়ে অনেক সহমর্মীরাই যুক্তিযুক্তভাবে লিখছেন, বলছেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ও ফোরামে। তাই এই লেখায় তা না টেনে নিচে ভবিষ্যতের অবশ্যম্ভাবী সংকটের সমাধান নিয়ে কিছু আলোচনা করব।

বাংলাদেশে গ্যাস ছাড়া অন্য নিজস্ব বাণিজ্যিক জ্বালানীর ব্যবহার খুবই অল্পমোট বাণিজ্যিক জ্বালানী চাহিদার ৭০ শতাংশ আসে গ্যাস থেকে২২ শতাংশ মেটায় তেল, কিন্তু তা পুরোটাই আমদানি নির্ভর এবং কয়লা ৬ শতাংশ এবং এটিও অনেকাংশে আমদানিকৃত, আর বাকি ২ শতাংশ আসে অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে। কিন্তু এই প্রাকৃতিক খনিজ জ্বালানী সম্পদেরও তো কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, আর তা হলো, একদিন তা ফুরিয়ে যাবেই; আরো চিন্তার বিষয় হলো, আমাদের দেশে এই সম্পদ ফুরিয়ে যাওয়ার সময়টি বড়জোর ২০৩০ বছরের মাঝে, বিশেষ করে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত গ্যাস ক্ষেত্রগুলো আগামী ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যেই আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাবে। আর এজন্যই আমাদের সন্ধান করতে হবে বিকল্প, বা নবায়নযোগ্য জ্বালানীর। অনেক ক্ষেত্র থেকেই নবায়নযোগ্য বা বিকল্প জ্বালানী পাওয়া সম্ভব, তথাপি আমাদের দেশের আর্থসামাজিকভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনার প্রেক্ষিতে কয়েকটি সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো।

সৌরশক্তি

একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজের জন্য বিদ্যুৎ অপরিহার্য। আমাদের বিদ্যুতের ঘাটতি অনেক। শুধুমাত্র প্রচলিত পদ্ধতিতে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, এর পাশাপাশি জোর দিতে হবে নবায়নযোগ্য বা বিকল্প পদ্ধতির দিকে। আমাদের দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানীর কথাটি সামনে আসলে প্রথমেই আসে সৌর বিদ্যুতের কথা।

এই পদ্ধতিতে সূর্যের আলোর কণা সোলার মডিউলে পড়লেই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। এ বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে জমা হয়, সোলার হোম সিস্টেমে চার্জ কন্ট্রোলার, ব্যাটারিকে অতিরিক্ত চার্জ ও ডিসচার্জ হওয়া থেকে রক্ষা করে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ বিতরণ করে। সৌরবিদ্যুতের প্যানেল থেকে পাওয়া যায় ডিসি (ডিরেক্ট কারেন্ট) বা সমবিদ্যুৎ। আমরা যে বিদ্যুতের সঙ্গে পরিচিত, এটি তার থেকে ভিন্ন। সব সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে থাকে একটি পরিবর্তক (ইনভার্টার), যা সমবিদ্যুৎ প্রবাহকে পরিবর্তী প্রবাহে (এসি) পরিণত করে। ২০ থেকে ৭৫ ওয়াটের হোম সিস্টেমে দুটি ফ্লোরোসেন্ট ও দুটি এলইডি বাতি থেকে ছয়টি ফ্লোরোসেন্ট এবং তিনটি এলইডি লাইট অথবা দুটি ফ্লোরোসেন্ট লাইটের পরিবর্তে একটি সাদাকালো টিভি, অথবা এলইডি টিভি চালানো যায়। তা দৈনিক প্রায় চার ঘণ্টা পর্যন্ত চালানো যায়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ সংক্রান্ত গবেষণা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি কাউন্সিলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৮ সালে সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ ছাড়িয়েছে ৩৩৫০ কোটি ডলার। সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫ বছরে বেড়েছে ৬ গুণ, আর বিনিয়োগ বেড়েছে ১৭২ গুণ। উন্নত দেশগুলো প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে থাকলেও, সৌর বিদ্যুতের জনপ্রিয়তা বেশি বেড়েছে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। বিশেষভাবে চীন, ভারত ও বাংলাদেশে।

ইউরোপের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের সংগঠন ইপিআইএ সম্প্রতি জানিয়েছে, ২০০৯ সালে বিশ্বজুড়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে ৪৪ ভাগ। সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার মেগাওয়াট। ২০১০ সালে বিশ্বে সৌরবিদ্যুতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০ শতাংশের বেশি। সৌর শক্তির প্রযুক্তি আর ব্যবহারে ইউরোপ আছে শীর্ষে। তবে খুব বেশী পিছিয়ে নেই যুক্তরাষ্ট্র, চীন বা ভারতও। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ঘোষণা করেছেন, ভারত ২০২২ সাল নাগাদ ২০ হাজার মেগাওয়াট সৌর শক্তি চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে। যদিও এখনো ভারতে জনগণের আন্দোলনসংগ্রামপ্রতিরোধ সত্ত্বেও ক্ষমতাসীন মনমোহন সিংএর কংগ্রেস সরকার দেশীবিদেশী কমিশনভোগীদের স্বার্থে সেখানে নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আবার জীববৈচিত্র ও প্রাণপ্রকৃতিপ্রতিবেশ জলাঞ্জলি দিয়ে বিভিন্ন নদনদীতে বাধ দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্তও নিয়েছেন।

সৌর বিদ্যুতের জন্য বাংলাদেশ সম্ভাবনাময় একটি দেশ। কারণ, এখানে মোটামুটি সারা বছরই কমবেশী রোদ থাকে। বাংলাদেশে সৌর বিদ্যুতের সম্ভাবনাকে ব্যবসায়িক রূপ দিতে ২০০৩ সাল থেকে বিভিন্ন কোম্পানি কাজ করছে; তাদের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ব মালিকানার প্রতিষ্ঠান ইনস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), এছাড়া আছে কিছু এনজিও, যেমনগ্রামীণ শক্তি, ব্র্যাক, সৃজনী, ও ব্রীজ অন্যতম। এই এনজিওগুলো যে টাকায় জনগণের কাছে সৌর বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছে, আমাদের সাধারণের ক্রয় ক্ষমতা এর চেয়ে অনেক কম। তাই রাষ্ট্রীয়ভাবে বড় ধরণের কোন উদ্যোগ না নেওয়া হলে এই সৌরশক্তির সাফল্য সাধারণের জন্য অধরাই থেকে যাবে।

এই পদ্ধতির সীমাবদ্ধতাও কম নয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো, ঘর গৃহস্থালীর সংকট কিছুটা লাঘব করে মাত্র এই সৌরশক্তির প্ল্যান্টগুলো। তার উপর সৌরশক্তির বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট এর দাম গত কয়েক বছরে কিছুটা কমলেও এখনও তা সাধারণের নাগালের বাইরে, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় এটা ব্যবহার করাও ব্যয়সাধ্য। ঘরে স্থাপন করার মত একটি সোলার প্যানেলের মূল্য ৪০,০০০ থেকে ৭০,০০০ টাকারও বেশী, আবার উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণও খুব বেশী নয়। এসব সোলার প্যানেলের সবগুলোই বিদেশ থেকে আমদানী করা। যা দেশে উৎপাদন করা গেলে খরচ কিছুটা হ্রাস করা যেত।

আমাদের মনে রাখতে হবে যে, বাংলাদেশের মতো একটি ঘণবসতিপূর্ণ দেশে চাষের জমিতে বিপুল এলাকা জুড়ে সোলার প্ল্যান্ট করার কোন অবকাশ নেই। তবে যেটুকু সম্ভব তা রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে হলেই কেবল জনগণ এর সুফল ভোগ করতে পারবে। সম্প্রতি সরকারীভাবে কিছু রিমোট এরিয়ায়, যেখানে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ লাইন অনুপস্থিত, সেখানে বেসরকারী উদ্যোগে সোলার মিনিগ্রিড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আশাব্যঞ্জক। তবে এই বিদ্যুতের উৎপাদন ও বিক্রয় মূল্য অনেক বেশী হওয়ায় এমন প্রজেক্টে লগ্নিকারীরা তুলনামূলক সমৃদ্ধ বসতিকেই বেছে নিবেন তাদের প্ল্যান্ট তৈরীর ক্ষেত্রে। আর তাতেও এই বিদ্যুৎ সকল জনগণের নাগালে আসবে না, তাই রাষ্ট্রীয় বৃহৎ উদ্যোগই কাম্য।

অবধারিতভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানীর দিকে ঝুঁকতে হবে আমাদের, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, সোলার এনার্জিই একমাত্র বিকল্প জ্বালানীর মাধ্যম হয়ে দাঁড়াতে পারবে। নবায়নযোগ্য শক্তি হিসেবে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ অবশ্যই ভাল। কিন্তু বাংলাদেশ কেন বিশ্বের কোন দেশের প্রেক্ষাপটেই সৌরশক্তি বিকল্প জ্বালানীর একমাত্র আধার হতে পারে না। সৌরশক্তি হতে পারে বিদ্যুৎ সংকট মেটানোর সহায়ক উপকরণ, যা বৃহৎ সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে; কিন্তু কখনোই তা একমাত্র, বা প্রধান সমাধান হতে পারে না

বায়ু বিদ্যুৎ

আমাদের দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক এলাকা ন্যাশনাল পাওয়ার গ্রিডের আওতাবহির্ভূত। মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত এসব উপকূলীয় অঞ্চলে বায়ুর গতিবেগ থাকে সর্বোচ্চ। ফলে এ মৌসুমে বায়ুশক্তিকে কাজে লাগিয়ে উইন্ডমিলের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে পারে একটি কার্যকর প্রক্রিয়া। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে এ প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। বায়ু বিদ্যুতের ৮০ ভাগ উৎপাদন করে জার্মানী, আমেরিকা, ডেনমার্ক, স্পেনের মতো দেশগুলোতে। অতিসম্প্রতি ভারতেও ব্যাপক হারে এর ব্যবহার বেড়েছে। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে নোয়াখালীতে। এছাড়াও সরকারী তথ্য মতে, কুতুবদিয়া ও ফেনীতে ২ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি উইন্ডমিল স্থাপন করা হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়াটি এখনো পরীক্ষাণাধীন। কারণ এদেশের উপকূলীয় অঞ্চল জলোচ্ছাসপ্রবণ; প্রতি ১০ বছরে, এখানে দুই বা ততোধিকবার সাইক্লোনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেখা মিলে। এমতাবস্থায় উইন্ডমিল বাংলাদেশের জন্য কতখানি উপোযোগী তা আরো বিষদ গবেষণার দাবী রাখে, উপরন্তু এটির স্থাপন খরচ অধিক, কিন্তু সে অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া এখনো সম্ভব হয়নি।

বায়োগ্যাস

বর্তমানে দেশে প্রায় ১০ হাজার বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট রয়েছে। এসব প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদিত গ্যাস দিয়ে গৃহস্থালির রান্না, হ্যাসাক বাতি প্রজ্বলন, এমনকি জেনারেটর চালিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন পর্যন্ত করা হয়। তবে এর জন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট পরিমাণে কাঁচামাল। প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা যায়, গরুর গোবর থেকে হাঁসমুরগীর বিষ্ঠা অধিক গ্যাস তৈরীতে সক্ষম। আর যে পরিমাণ গোবর বা বিষ্ঠা কাঁচামাল হিসেবে দিতে হবে, ঠিক সমপরিমাণ পানি তার সাথে মেশাতে হবে।

বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের অবশিষ্ট বর্জ্য জৈব সার হিসেবে কৃষিজমিতে ব্যবহার করা যায়। এসব উদ্ভিজ ও প্রাণিজ বর্জ্য থেকে একদিকে যেমন আমাদের প্রয়োজনীয় বায়োগ্যাস উৎপাদিত হয়, তেমনি সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশের দূষণ রোধ সম্ভব। একটি গ্যাস প্ল্যান্ট তৈরীতে খরচ পরে প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা, কিন্তু তা দেশের দারিদ্রপীড়িত জনগণের পক্ষে বহন করাটা অতীব কষ্টকর। তবে এই প্ল্যান্ট তৈরীতে যেসব সামগ্রী প্রয়োজন, তা বিদেশ থেকে আমদানী করার প্রয়োজন পড়েনা, তাই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ এবং সহায়তা সম্ভব হলে এটি অধিক জনপ্রিয় করে তোলা সম্ভব। তবে যদি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ও অর্থায়নে বৃহৎ আকারে প্ল্যান্ট স্থাপন করা সম্ভব হতো, তবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, এটি সাধারণ জনগণের প্রয়োজনে ব্যবহারযোগ্য হতো এবং তার উৎপাদন খরচ অনেক কমে আসতো, উপরন্তু বাড়তো উৎপাদিত গ্যাস, এবং এমনকি তা থেকে মিটতে পারতো বিদ্যুতের চাহিদাওআর এজন্য প্রয়োজন মূলতঃ সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।

এক্ষেত্রে ডেনমার্কের লেমভিগ বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের বিষয়টি প্রণিধানযোগ্য। ১৯৯২ সাল থেকে লেমভিগ বায়োগ্যাস ডেনমার্কের সর্ববৃহত্‍ বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট। এখানে প্রায় ৭৫টি ফার্মের বর্জ্য এবং শিল্প উত্‍পাদনস্থলের বর্জ্য ও অবশিষ্ট পণ্য ও মানব বর্জ্য, তাপ ও শক্তি তৈরীর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এর সাথে যেমন সেখানকার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি জড়িত, তেমনি এর সাথে জড়িত দূষণ সৃষ্টিকারী পদার্থগুলোর পরিমাণ কমানো এবং গ্রীনহাউজ গ্যাসগুলির নির্গমন হ্রাস পাওয়া। প্রতি বছর উত্‍পাদিত বায়োগ্যাস থেকে প্রায় ২১ মিলিয়ন কিলোওয়াট (kWh)-এরও বেশী বিদ্যুত্‍ তৈরী হয়। এই বিদ্যুত্‍ স্থানীয় গ্রিডে বিক্রি করা হয়। গ্যাস ইঞ্জিনের শীতলীকরণের ব্যবস্থা থেকে নির্গত উপজাত তাপের পরিমাণ বছরে ১৮.৩ মিলিয়ন কিলোওয়াট (kWh) এর বেশী। এই তাপ লেমভিগের কেন্দ্রীয় হিটিং প্ল্যান্টের ব্যবহারকারীদের বন্টন করা হয়। ব্যবহারকারীর সংখ্যা হলো ১০০০টিরও বেশী বাড়ি (২০০৮ এর পরিসংখ্যান)। লেমভিগ বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে বর্জ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়মাছের বর্জ্য, উত্‍স থেকে আলাদাকৃত বাড়ির জৈব জঞ্জাল (মানব বর্জ্য), কসাইখানার জঞ্জাল, পশুখাদ্যের বর্জ্য/অবশিষ্টাংশ, নরম পানীয়, বীয়ার, এলকোহল, ফার্মাসিউটিক্যালের বর্জ্য, ব্যাকটেরিয়াগতভাবে বা রাসায়নিকভাবে দূষিত খাবার, উচ্চ পরিমাণে ফ্যাট, প্রোটিন ও শর্করা সম্বলিত সমস্ত জৈব পদার্থ। এই প্ল্যান্ট একসাথে প্রায় ২০০ থেকে ১০০০০ টন পর্যন্ত বর্জ্য পদার্থের সরবরাহ গ্রহণ করতে পারে।

কিন্তু আমাদের দেশের বর্তমান আর্থসামাজিক অবস্থার নিরিখে এটি হলফ করেই বলা সম্ভব যে, যে দেশে এখনো মানুষ না খেয়ে আত্মহত্যা করে, অনাহারেঅর্ধাহারে আছে পুরো জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ, সেদেশে এই ব্যবস্থা রাতারাতি বদলে যাবে এমনটা ভাবা কেবলই বাতুলতা। তবে এক গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিক কর্মকৌশল ও পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করলে এই বৃহৎ জনগোষ্ঠির বর্জ্যকেও কাজে লাগানো সম্ভব হবে, আর তাও মাত্র ৫ বছরের মধ্যেই। আর তখনই বায়োগ্যাস হয়ে উঠতে পারে বিকল্প জ্বালানীর একটি অন্যতম সহায়ক শক্তি।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার বা আনবিক শক্তি

নবায়নযোগ্য জ্বালানীর একটি বিশেষ ক্ষেত্র হলো নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট। অবস্থাদৃষ্টে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সরকারী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনে হচ্ছে এবার বোধ হয় তারা বাংলাদেশকে নিউক্লিয়ার পাওয়ার সমৃদ্ধ বানিয়েই ছাড়বে। আর তাতে তারা এই নিউক্লিয়ার পাওয়ারের ক্ষতিকর প্রভাবগুলো একেবারেই আমলে নিচ্ছেন না। তাদের যেন নিউক্লিয়ার ভূতে পেয়েছে!

নিউক্লিয়ার প্রযুক্তি এখনও পর্যন্ত শতভাগ নিরাপদ কোন প্রযুক্তি নয়। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে থাকা একটি দেশে আমদানি করে নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করার মানে হলো নিউক্লিয়ার প্রযুক্তির এই বাড়তি ঝুঁকি বাংলাদেশের জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়া।

নিউক্লিয়ার বিদ্যুতের জ্বালানী ইউরেনিয়ামের উৎস এবং সেই ইউরেনিয়াম কাঁচামাল প্রক্রিয়াকরণের সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদনের খায়েশ জাতীয় জ্বালানী নিরাপত্তার সাথেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ইউরেনিয়াম খোলাবাজারে সের দরে পাওয়া যায় না যে প্রয়োজন হলো আর আমদানী করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করলাম; এর জন্য বিভিন্ন বৃহৎ রাষ্ট্রের সাথে নানান অধীনতামূলক চুক্তি সই করতে হয়। আবার দুনিয়ার চারিধারে ইউরেনিয়াম প্রচুর পরিমাণে ছড়িযে ছিটিয়ে আছে এমনও নয়। হাইগ্রেড ইউরেনিয়ামের মজুদ আছে বর্তমানে প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন টন। বর্তমানে প্রতি বছর ইউরেনিয়াম ব্যবহৃত হচ্ছে প্রায় ৬৭,০০০ টন। অতএব এই হারে ব্যবহৃত হতে থাকলে বর্তমান মজুদ দিয়ে চলবে আরো বছর পঞ্চাশ।

বাংলাদেশের মতো একটি ইতোমধ্যেই বৈদেশিক ঋণ এবং তার সাথে যুক্ত শর্তের জালে আবদ্ধ দেশের জন্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাড়তি একটি বিপদ হলো এর আর্থিক দায়। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় এককালীন বিনিয়োগের পরিমাণ বিপুল। আবার শুরুতে যে পরিমাণ অর্থের কথা বলা হয় তাও ঠিক থাকে না, দিন যত যায় ততই বিনিয়োগের অর্থের পরিমাণ বাড়তে থাকে।

স্বাভাবিক অবস্থাতেই নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর প্রতি বছর বায়ুমন্ডলে ও পানিতে প্রায় মিলিয়ন কুরি (তেজস্ক্রিয়তার একক) তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ছড়ায়। এগুলোর নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করা হয় না, কেননা উদ্যোক্তারা মনে করেন এরা পরিবেশ ও প্রাণসম্পদের জন্য হুমকিস্বরূপ নয়! এইসকল আইসোটোপের তালিকায় আছে ক্রিপ্টন, জেনন, আর্গনের মত নিস্ক্রিয় গ্যাসসমূহ যেগুলো চর্বিতে দ্রবণীয় এবং রিঅ্যাক্টরের আশেপাশে বসবাসকারী কোন লোক তার নিঃশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করলে তা তার ফুসফুসের মাধ্যমে প্রজনন অঙ্গসহ তার দেহের চর্বিযুক্ত টিস্যুতে স্থানান্তরিত হতে পারে। তদুপরি, তেজস্ক্রিয় মৌলগুলি হতে নিঃসরিত গামা রশ্মি ডিম্বাণু ও শুক্রাণুতে আকস্মিক পরিবর্তন ঘটিয়ে সূচনা করতে পারে বংশানুসৃত রোগের।

নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উপজাত হিসেবে যে বর্জ্য তৈরী হয় সেগুলো তেজস্ক্রিয় এবং এর তেজস্ক্রিয়তা কমে সহনীয় পর্যায়ে আসতে কমপক্ষে ১০,০০০ বছর (!) লাগবে। তার মানে নিউক্লিয়ার বর্জ্যকে সরিয়ে আমাদের এমন কোথাও রাখতে হবে যা ঝুঁকিহীন থাকবে টানা দশ হাজার বছর। অতএব এই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঝুঁকিটা কেবল আমাদেরই থাকছে না, ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মগুলোর জন্যও।

রাশিয়ার চেরোনোবিল ও যুক্তরাষ্ট্রের থ্রিমাইল আইল্যাল্ড এর উদাহরণ হয়তো অনেকের কাছে বিস্মৃত, কিন্তু সাম্প্রতিককালের জাপানের ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎ চুল্লির কথা তো আর ভুলে যাওয়ার কথা নয়। রূপপুর প্রজেক্টের কথা নিয়ে সরকার বলছে, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হবে তৃতীয় প্রজন্মের। এতে দুর্ঘটনা মোকাবেলায় সব ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।” জাপান তার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল দিয়ে যেটা পারেনি, আমরা সেটা পারব আমদানি করা প্রযুক্তি ও ভাড়া করা বিদেশী বিশেষজ্ঞ দিয়ে! কথাটা কী নিতান্তই হাসির উদ্রেক ঘটায় না?

জার্মানিসহ ইউরোপের দেশগুলো যখন পরিবেশ ও প্রাণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট বন্ধ করছে, ঠিক তখনি বাংলাদেশ ভারতের মতো তৃতীয় বিশ্বের সরকারগুলো জনগণের সামনে অপার বৈদ্যুতিক সম্ভাবনার মূলো ঝুলাচ্ছে। আর তাতে এই সরকারগুলো তাদের নিষ্ঠার প্রমাণপত্র স্বরূপ পাচ্ছে বিশাল অঙ্কের কমিশন ঐ বিদেশী কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি পাবনার রূপপুরে দুটি নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এর প্রত্যেকটির উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১ হাজার মেগাওয়াট। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই রূপপুর নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে দৌঁড়ঝাঁপ শুরু করে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটিই বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের একমাত্র পন্থা, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটা অনেকটাই ইঁদুর এর উৎপাত থেকে বাঁচতে ঘরে গোখরো সাপ ছেড়ে দেয়ার মতো দাঁড়াবে বলে মনে হচ্ছে।

জিওথার্মাল এনার্জি

বিকল্প বা নবায়নযোগ্য জ্বালানী ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলে যে কারো কাছে জিওথার্মাল এনার্জিকেই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সর্বাধিক উপযুক্ত বলে মনে হবে। এই ক্ষেত্র বাংলাদেশের জ্বালানী সমস্যার প্রায় ৬০ থেকে ৭০শতাংশসমাধান করতে সক্ষম। আর বাকি থেকে ৪০ শতাংশজ্বালানী আসতে পারে অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে।

গ্রীক শব্দ ‘জিও’ও ‘থার্মোস’ শব্দদ্বয় থেকে ‘জিওথার্মাল’ শব্দের উৎপত্তি‘জিও’অর্থ ‘পৃথিবী’ এবং ‘থার্মোস’ অর্থতাপ; অর্থাৎ ‘জিওথার্মাল’ শব্দের অর্থ দাঁড়ায় পৃথিবী হতে প্রাপ্ত তাপ, বা “ভূতাপ”। পৃথিবীর কেন্দ্রে ম্যাগমা নামক এক ধরণের শিলা থাকে, যা উপরিস্তরের তরলকে ক্রমাগত উত্তপ্ত করতে থাকে। এই উত্তপ্ত তরল পর্যন্ত পৌছাতে একটি নল পৃথিবীপৃষ্ঠ হতে ৫০০০ থেকে ১০০০০ ফুট ভার্টিক্যাল ড্রিল (লম্বভাবে খনন) করতে হয়। পৃথিবীর কেন্দ্রে চাপের প্রভাবে এই নলের মাধ্যমে উত্তপ্ত তরল পৃথিবী পৃষ্ঠের দিকে উঠে আসতে থাকে। পৃথিবী পৃষ্ঠে পৌছানোর পর পাইপ লাইনের মাধ্যমে তা পৌছায় একটি সিলিন্ডারে, যেখানে উত্তপ্ত তরল ও হাইপ্রেসার স্টিমকে (উচ্চ চাপের বাষ্প)পৃথক করা হয়। পৃথককৃত তরল পাইপ লাইনের মাধ্যমে অপর একটি সিলিন্ডারে প্রবেশ করানো হয়, যেখানে স্ট্যান্ডার্ড প্রেসার স্টিম (প্রমাণ চাপের বাষ্প)ঐ তরল থেকে পৃথক করা হয় এবং পৃথক করা তরল পুনরায় একটি সিলিন্ডারে প্রবেশ করানো হয়, যেখানে তরল থেকে লোপ্রেসার স্টিমকে (নিম্ন চাপের বাষ্প)আলাদা করা হয়।

পরবর্তীতে, হাইপ্রেসার, স্ট্যান্ডার্ড ও লোপ্রেসার, এই তিন ক্যাটাগরির স্টিমকেই একটি টারবাইনে প্রবেশ করানো হয়, এর ফলে টারবাইনে ঘূর্ণন গতির সঞ্চার হয়, টারবাইন একটি জেনারেটরের সাথে সংযুক্ত থাকার ফলে সেখানে বৈদ্যুতিক চার্জের উদ্ভব হয়। এই বিদ্যুৎ শক্তি কপার তারের মাধ্যমে একটি স্টেপআপ ট্রান্সফর্মারে পাঠানো হয়, সেখানে ভোল্টেজ বাড়ানোর মাধ্যমে তা বাণিজ্যিক ও ঘরোয়া কাজের জন্য ব্যবহার উপযোগী বিদ্যুতে পরিণত করা হয়।

অন্যদিকে, উত্তপ্ত তরল পরিশোধনের মাধ্যমে পুনরায় অপর একটি নলের মাধ্যমে তা পৃথিবীর কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যে সেখানকার তরলের ভারসাম্য ঠিক থাকে। এই তরল পরিশোধনের সময়ে তা হতে প্রাপ্ত বিভিন্ন মিনারেল হলো এই পদ্ধতির সারপ্লাস ভ্যালু।

জিওথার্মাল এনার্জি একটি গ্রহণযোগ্য ও নবায়নযোগ্য পদ্ধতি। এখানে যে পরিমাণ তরল নলের মাধ্যমে পৃথিবীপৃষ্ঠে উঠে আসে, একই সময়ে সেই পরিমাণ তরলকে ম্যাগমা উত্তপ্ত করে তোলে, তাই এর ব্যবস্থার কোন ব্যতয় হয় না, বা তাতে জিওথার্মাল এনার্জির বা এর তাপেরও কোন তারতম্য হয় না।

ইতিহাস

মানুষ যেমন বহু শতাব্দী পর শতাব্দী ধরে রান্না এবং স্নানের জন্য জিওথার্মাল এনার্জি, বা ভূতাপীয় শক্তির সুবিধা গ্রহণ করে আসছে। রোমানরা তাদের গোসলখানায় ভূতাপীয় গরম জল ব্যবহার করতো। জিওথার্মাল এনার্জির প্রথম বাণিজ্যিক প্ল্যান্ট স্থাপিত হয় ১৮৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইডাহো রাজ্যে, সেখানে “বয়সি ওয়াটার ওয়ার্কস কোম্পানি” ড্রিল করে ভূতাপীয় ব্যবস্থায় শহরের প্রায় ২০০টি বাড়ি ও বাণিজ্যিক ভবনে গরম পানির সরবরাহ করে। এই ব্যবস্থাএখনো চলমান রয়েছে। জিওথার্মাল এনার্জি থেকে প্রথম বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় ১৯০৪ সালে, ইটালিতে। আর বাণিজ্যিকভাবে প্রথম বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হয় ইটালির সাউদার্ন টুয়ামির লার্ডোলো এলাকায়, যা থেকে এখনো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। প্রায় শত বছর ধরে তা চলেছে, অথচ সামান্য কিছু মেরামত ও সম্প্রসারণের কাজ ছাড়া এই প্ল্যান্টের পেছনে বাড়তি তেমন কোন খরচ হয়নি। বর্তমানে এই পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় এক মিলিয়ন বাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে। বর্তমানে পৃথিবীতে এ থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ প্রায় দশ হাজার মেগাওয়াট, তবে এটি কেবল ঘোষিত পরিমাণ, প্রকৃত পরিমাণ এথেকে অনেক বেশী হওয়ার কথা।

বাংলাদেশে জিওথার্মাল এনার্জির প্রভুত সম্ভাবনা

ভৌগোলিক অবস্থানের জন্যই বাংলাদেশে জিওথার্মাল এনার্জির সম্ভাবনা এতোটা উজ্জ্বল। বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরের চূড়ায় অবস্থিত। দুইটি বড় নদী গঙ্গা (পদ্মা) ও ব্রহ্মপুত্র (যমুনা) তার কোল ঘেঁষে যাওয়ায় এখানে একটি বদ্বীপের উদ্ভব হয়েছে। জুরাসিক যুগের প্রারম্ভে অথবা ক্রেটাসিয়াস যুগের শেষের দিকে গন্ডোয়ানা মহাদেশ ভেঙ্গে যাওয়ার সময়ে উত্তর দিকে সরে যাওয়া ইন্ডিয়ান টেকটনিক প্লেটের সাথে সংঘর্ষের ফলে হিমালয় পর্বত শৃঙ্গের উচ্চতা বেড়ে যায়। কালক্রমে এখান থেকেই নদীগুলোর উৎপত্তি। আর সরে যাওয়া প্লেটের ফলে এখানকার কিছু কিছু স্থানে (প্লেটের পাশ ঘেঁষে) হটস্পটের সৃষ্টি হয়েছে, অর্থাৎ, সেইসব স্থানে ভূপৃষ্ঠ থেকে নিচের দিকে কিছুটা খনন করলেই তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। সীতাকুণ্ড থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তরে “লবণাক্ষ” নামে একটি নোনা গরম জলের আধার পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ঠাকুরগাঁওএর বরুণাগাঁওয়ে রয়েছে এক্কেবারে প্রাকৃতিক উত্তপ্ত পানির ধারা জয়পুরহাটের কুচমায় হাজার ফুট মাটির নিচে গড়ে ১৪৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রা রয়েছে। আর এই তাপমাত্রার তরল হতে প্রাপ্ত বাষ্প থেকে সহজেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। জয়পুরহাট থেকে দেশের যতই উত্তরে দিকে যাওয়া যায় ততই মাটির নিচের এ তাপমাত্রা বাড়ন্ত পাওয়া যায়। দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রতি ১০০ফুট মাটির গভীরতায় ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। যা রংপুর অঞ্চলে ৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রয়েছে। যা মোটা দাগে এই অঞ্চলে জিওথার্মাল এনার্জির উপযোগিতাকেই নির্দেশ করে। তবে প্ল্যান্ট বাস্তবায়নের জন্য অবশ্যই স্যাটেলাইট রিমোট সেন্সিং বা ফিজিক্যাল সার্ভে চালাতে হবে।

বাংলাদেশ, ইন্ডিয়ান প্লেটের একটি অংশ। এই ইন্ডিয়ান প্লেট উত্তর পূর্বদিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর আগে রয়েছে বার্মিজ প্লেট এবং উত্তরে তিব্বতিয়ান প্লেট, যা ইউরেশিয়ান প্লেটের একটি অংশ। ইন্ডিয়ান প্লেট উত্তর পূর্বদিকে অগ্রসর হওয়ায় কৌনিকভাবে বার্মিজ এবং তিব্বতিয়ান প্লেটকে ধাক্কা দিচ্ছে। ফলে পূর্বদিকে ইন্ডিয়ান প্লেট দেবে যাচ্ছে বার্মিজ প্লেটের নীচে এবং বার্মিজ প্লেট ওপরে ওঠায় আরকানইয়োমা পর্বত শ্রেণীর সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের চট্টগ্রামসিলেট এলাকা এই পর্বতশ্রেণীর অংশ। পৃথিবীর অধিকাংশ ভূমিকম্পের উৎপত্তি দুটি প্লেটের সংযোগস্থল, কিন্তু এমন স্থান জিওথার্মাল এনার্জিরও আধার। মূলতঃ ভূমিকম্প নিয়ে গবেষণা চালাতে গিয়েই জিওথার্মাল সম্পর্কে বাংলাদেশের সম্ভাব্যতা সম্পর্কে জানা যায়। বাংলাদেশে ৮টি ভূতাত্ত্বিক চ্যুতি এলাকা বা ফল্ট জোন সচল অবস্থায় রয়েছে, যথা: বগুড়া চ্যুতি এলাকা, রাজশাহীর তানোর চ্যুতি এলাকা, ত্রিপুরা চ্যুতি এলাকা, সীতাকুন্ডটেকনাফ চ্যুতি এলাকা, হালুয়াঘাট চ্যুতির ডাওকী চ্যুতি এলাকা, ডুবরি চ্যুতি এলাকা, চট্টগ্রাম চ্যুতি এলাকা, সিলেটের শাহজীবাজার চ্যুতি এলাকা (আংশিকডাওকি চ্যুতি) এবং রাঙামাটির বরকলে রাঙামাটি চ্যুতি এলাকা। প্রাপ্ত তথ্য মতে, বাংলাদেশে অবস্থানভেদে ভূপৃষ্ঠ হতে ভূঅভ্যন্তরস্ত উত্তপ্ত তরল পর্যন্ত পৌঁছাতে ৪০০০ মিটার (কোন কোন ক্ষেত্রে এথেকেও অনেক কম) থেকে ৫০০০ মিটার খনন করতে হতে পারে। জিওথার্মাল এনার্জির ক্ষেত্রে প্ল্যান্ট স্থাপনের মোট খরচের ৯০ভাগ খরচই হয় খনন কার্যে। আর যেহেতু ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে এই খননের পরিমাণ তুলনামূলক কম হবে, তাই খরচের পরিমাণটাও কমে আসবে।

রিসোর্স

উৎপাদন খরচ ($/কিলোওয়াট)

জিওথার্মাল

$৮৮০-$ ,১৫০

হাইড্রোপাওয়ার

$৭৩৫-$৪৭৭৮

কয়লা

$,০৭০-$,৪১০

নিউক্লিয়ার

$,৫০০-$,০০০

উপরোক্ত তথ্য ক্যালিফোর্নিয়া এনার্জি কমিশন হতে প্রাপ্ত (২০০৭)

উপরোক্ত তথ্য হতে এটি স্পষ্ট যে, জিওথার্মাল এনার্জির উৎপাদন খরচ অন্যান্য প্রচলিত পদ্ধতি হতে অনেকাংশেই কম, আর এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচও খুবই অল্প, যা অন্য যেকোন পদ্ধতির তুলনায় প্রায় নগণ্য। ইউরোপে স্থাপিত কিছু কিছু প্ল্যান্টের বয়স ৯০ বছরেরও বেশী, কিন্তু তা এখনো সম্পূর্ণরূপে সচল। এছাড়া একটি জিওথার্মাল প্ল্যান্ট স্থাপনের প্রথম ২০ বছর কোন রকম রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই চলতে পারে।

ইউনিট খরচ (সেন্টস/কিলোওয়াট ঘন্টা) : হাইকোয়ালিটি রিসোর্স

ইউনিট খরচ (সেন্টস/কিলোওয়াট ঘন্টা) : মিডিয়ামকোয়ালিটি রিসোর্স

ছোট আকারের প্ল্যান্ট (<৫মেগাওয়াট)

..০ সেন্টস

..৫ সেন্টস

মধ্যম আকারের প্ল্যান্ট

(৩০মেগাওয়াট)

..০ সেন্টস

..০ সেন্টস

বড় আকারের প্ল্যান্ট

(>৩০মেগাওয়াট)

..০ সেন্টস

..০ সেন্টস

উপরোক্ত তথ্য মেক্সিকোতে পরিচালিত একটি গবেষণা হতে প্রাপ্ত (২০০৮)

উপরের তথ্য হতে আমরা দেখতে পাই যে, প্ল্যান্টের আকার বৃদ্ধির সাথে সাথে তার উৎপাদন খরচও কমে আসে, আবার প্ল্যান্ট এলাকার রিসোর্স কোয়ালিটির উপরেও এর খরচ নির্ভর করে। তবে যেহেতু বাংলাদেশে জিওথার্মাল এনার্জির উত্তম ক্ষেত্র রয়েছে, তাই লোকোয়ালিটি রিসোর্সের পরিসংখ্যান এখানে উল্লেখ করিনি। যেহেতু ডলারের মান আন্তর্জাতিক বাজারের উপর নির্ভরশীল, তাই ইউনিট খরচের হিসেব ইউএস ডলারের সেন্ট হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

রিসোর্স

প্ল্যান্টের জন্য জায়গার পরিমাণ মি.স্কোয়ার/গিগাওয়াট ঘন্টা

কয়লা

৩৬৪২ স্কয়ার মি.

সোলার

৩৫৬১ স্কয়ার মি.

বায়ু

১৩৩৫ স্কয়ার মি.

নিউক্লিয়ার

১০০০০ স্কয়ার মি.

জিওথার্মাল

৪০৪ স্কয়ার মি.

উপরোক্ত তথ্য ইন্টারন্যাশনাল জিওথার্মাল এসোসিয়েশন হতে প্রাপ্ত (২০০৫)

উপরোক্ত তথ্য থেকে দেখা যায়, জিওথার্মাল এনার্জি প্ল্যান্ট স্থাপনে কতোটা কম জায়গা প্রয়োজন অন্যান্য ব্যয়বহুল পদ্ধতির তুলনায়! উপরন্তু, বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশে এতো বিশাল জায়গা জুড়ে ধানী জমি নষ্ট করেনিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন মোটেও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, যেখানে জিওথার্মাল এনার্জির মতো একটি সম্ভাবনা আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। ইন্ডিয়ান প্লেট ঘেষেই বা জিওথার্মাল হটস্পটেই বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান হওয়ায় এই ক্ষেত্রের প্রভূত সম্ভাবনা রয়েছে।

দেশ

ক্যাপাসিটি (মেগাওয়াট)

ইউএসএ

৩০৮৬ মেগাওয়াট

ফিলিপাইন

১৯০৪ মেগাওয়াট

ইন্দোনেশিয়া

১১৯৭ মেগাওয়াট

মেক্সিকো

৯৫৮ মেগাওয়াট

ইটালী

৮৪৩ মেগাওয়াট

নিউজিল্যান্ড

৬২৮ মেগাওয়াট

আইসল্যান্ড

৫৭৫ মেগাওয়াট

জাপান

৫৩৬ মেগাওয়াট

এল সালভাদর

২০৪ মেগাওয়াট

কেনিয়া

১৬৭ মেগাওয়াট

কোস্টারিকা

১৬৬ মেগাওয়াট

তুরষ্ক

৯৪ মেগাওয়াট

নিকারাগুয়া

৮৮ মেগাওয়াট

রাশিয়া

৮২ মেগাওয়াট

পাপুয়া নিউ গিনি

৫৬ মেগাওয়াট

গুয়েতেমালা

৫২ মেগাওয়াট

পর্তুগাল

২৯ মেগাওয়াট

চীন

২৪ মেগাওয়াট

ফ্রান্স

১৬ মেগাওয়াট

ইথিওপিয়া

.৩ মেগাওয়াট

জার্মানী

.৬ মেগাওয়াট

অস্ট্রিয়া

.৪ মেগাওয়াট

অস্ট্রেলিয়া

.১ মেগাওয়াট

থাইল্যান্ড

.৩ মেগাওয়াট

মোট

১০,৭০৯.৭ মেগাওয়াট

২০১০ সালের জিওথার্মাল এনার্জি উৎপাদনকারী দেশের তালিকা।

প্রদত্ত তথ্য হতে দেখা যায় যে, রাশিয়া ও আস্ট্রেলিয়াতে জিওথার্মাল হটস্পট নাথাকার পরও তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে। তবে সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, এই খাত থেকে সবচেয়ে বেশী বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে আমেরিকা, অথচ তারা এই খাতে অন্য কোন দেশকে উৎসাহিত করছে না। আর আমাদের দেশে এই খাতের অফুরন্ত সম্ভাবনা থাকা স্বত্ত্বেও জিওথার্মাল এনার্জি এখনো আমাদের কাছে তেমনভাবে পরিচিত নয়।

বাংলাদেশে প্রথম জিওথার্মাল প্ল্যান্ট

বিশ্ব জিওথার্মাল কংগ্রেস ২০১০ হতে জানা যায় যে, স্টকহোম, সুইডেনে অবস্থিত রয়েল ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির ডিপার্টমেন্ট অব ল্যান্ড এন্ড ওয়াটার রিসোর্স ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলোজী ডিপার্টমেন্টের যৌথ উদ্যোগে পেট্রোবাংলা ও জিওথার্মাল রিসার্চ গ্রুপের সহায়তায় ২০০৮২০০৯ সালে একটি গবেষণাধর্মী প্রজেক্ট পেপার তৈরী করা হয়। এতে আরো সহযোগিতা করেন জিওলোজী বিভাগের অধ্যাপক হুসেইন মনসুর এবং অধ্যাপক মনিরুল হক।

এরই ফলশ্রুতিতে, এমজিএইচ এনার্জি নামক সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের যৌথ প্রতিষ্ঠানের সাথে সরকারের ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি হয়, যা বাংলাদেশে প্রথম জিওথার্মাল প্ল্যান্ট। আর এজন্য স্থান নির্বাচন করা হয়েছে ঠাকুরগাঁও জেলার সালান্দর নামক গ্রামে। এই প্ল্যান্টের জন্য ৩৫৫৫ হেক্টর জমি বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছে। আর কোম্পানি থেকে বলা হচ্ছে, এই প্রজেক্ট বাস্তবায়নে মোট ১৫০২০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। এই কাজে এমজিএইচ এনার্জিকে সহযোগিতা দিচ্ছে ঢাকা ভিত্তিক ইন্সটিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং নামক একটি প্রতিষ্ঠান।

মূল্যায়ণ

পূর্বের আলোচনা ও তথ্য হতে এটি সুস্পষ্ট যে বাংলাদেশে একটি জিওথার্মাল প্ল্যান্ট করতে কখনোই ৩৫৫৫ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন পড়ে না, ঠিক তেমনি এই প্ল্যান্টের যে খরচ এমজিএইচ এনার্জি দেখিয়েছে ১৫০২০ মিলিয়ন ডলার, তাও গ্রহণযোগ্য নয়। এই খরচের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি করাও হতে পারে।

জিওথার্মাল প্ল্যান্ট তৈরীর পিছনে প্রধান যে অন্তরায়, সেটি হচ্ছে ৫০০০১০০০০ ফুট বোরিং, বা খনন। কিন্তু আমাদের দেশে ই বোরিংএর পরিমাণ তুলনামূলক কম লাগবে। তথাপি,এতো নিচ পর্যন্ত ভার্টিক্যাল বোরিং করার অভিজ্ঞতা যদিও আমাদের নেই, একটি জিওথার্মাল এনার্জি প্ল্যান্ট করার মতো ক্ষমতা পেট্রোবাংলার আছে বলেই আমার বিশ্বাস, নতুবা এতোদিন যাবৎ তারা সফলতার সাথে গ্যাস উত্তোলনের কাজ করে আসছে কিভাবে! আর যদি টেকনোলজিক্যাল সহায়তারই প্রয়োজন হয়, তবে তা তো ভাড়ায়ও পাওয়া সম্ভব। একটু খোঁজ করলেই এমন বেশ কটি কোম্পানির নাম পাওয়া যায়, যারা শুধু বোরিং ও এসংক্রান্ত অন্যান্য কাজে বিশেষজ্ঞ মতামতই দেন না, সেই সাথে লোকাল ইঞ্জিনিয়ারদের ট্রেনিংদিয়েথাকেবাংলাদেশে প্ল্যান্ট স্থাপন করতে যাওয়া এমজিএইচ এনার্জিও এমনি একটি কোম্পানি, যারা ভাড়ায় টেকনোলজিক্যাল ও ট্রেনিং সহায়তা দিয়ে থাকে। তাই কারিগরী সহযোগিতা ভাড়া নিয়ে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্ল্যান্ট স্থাপন মোটেও কঠিন কিছু নয়।

শেষ কথা

যেহেতু চরাঞ্চল ও পাহাড়ী এলাকায় ন্যাশনাল গ্রিডের লাইন এখনো পৌছানো সম্ভব হয়নি, সেখানে সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে মিনিগ্রিড করাটাই অধিক যুক্তিযুক্ত। তবে এই উদ্যোগও নিতে হবে রাষ্ট্রকেই, তবেই অল্প টাকায় গণমানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব হবে। উপকূলীয় অঞ্চলে বিস্তির্ণ ফাঁকা জায়গা রয়েছে উইন্ডমিল স্থাপনের জন্য, আবার প্রাকৃতিকভাবে যেখানে প্রায় সারা বছরই সূর্যালোক পাওয়া যায়, সেখানে সৌর বিদ্যুৎ যে আমাদের দেশে লাভজনক এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে কম খরচে প্রকল্প স্থাপন করা যেতে পারে, এই সত্যটিও সরকারীভাবে অনুধাবনের চেষ্টা নেই, অথবা তা অনুধাবন করে থাকলেও গ্রামীণ শক্তির মতো কোম্পানিগুলোতে একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য এই ব্যাপারে রাষ্ট্র নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। ফসিল জ্বালানী বা খনিজ জ্বালানী এক সময় না এক সময় শেষ হবেই। এটা মাথায় রেখে উন্নত বিশ্বে অনেক আগে থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আজ তারা সেসবের ফল পেতে শুরু করেছে। অথচ আমাদের রাজনীতিবিদ এবং পরিকল্পকারীরা এখনো সেই ফসিল নির্ভর জ্বালানীর উৎস নিয়ে পরিতৃপ্ত হয়ে বসে আছেন। আরও যে অফুরন্ত উৎস আছে এবং সে উৎস থেকে কম খরচে জ্বালানীর ব্যবস্থা সম্ভব, সেটি বুঝতে এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিতে যত দেরী হবে, ততই আমরা জ্বালানী খাতে পিছিয়ে পড়ব। সামনে এমনও দিন আসতে পারে যখন শুধুমাত্র রান্নার জন্য কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হতে পারে। এমন অবস্থা আসতে খুব বেশী দিন বাকী নেই, গ্যাস লাইন পুরো দেশে পৌঁছায়নি, কিন্তু এই গ্যাস ফুরিয়ে যাচ্ছে দ্রুত। এই স্বল্প গ্যাস সম্পদকে আবার গাড়ীর জ্বালানী হিসেবে প্রমোট করেছে এই রাষ্ট্র, এমন বিলাসীতা রাশিয়াতেও চোখে পড়ে না, যেখানে পুরো বিশ্বের ৮০ ভাগ গ্যাস সম্পদ রয়েছে! আবার নতুন সম্ভাব্য গ্যাস ক্ষেত্রগুলো বিদেশী বেনিয়া কোম্পানিগুলোর হাতে তুলে দিচ্ছে রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা প্রতিটা সরকার গণবিরোধী নানা রঙের চুক্তির মাধ্যমে। আর সাম্প্রতিক গ্যাসবিদ্যুৎ সংকট এদেশের ভবিষ্যতের জন্য বয়ে এনেছেএক অশনি সংকেত!

শুধুমাত্র বিদ্যুতের অভাবে প্রতি মূহুর্তে এদেশের সম্ভাবনার দরজাগুলো ক্রমেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আর এর থেকে উত্তোরণের কোন শর্টকাট উপায় আমার জানা নেই। কারণ জ্বালানী নীতি সর্বদাই রাষ্ট্রীয় নীতি বা দুর্নীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। জানি, আমাদের মতো অতিসাধারণের কথায় রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের কিছুই হবে না, কিন্তু তবুও বলি, শুধুমাত্র পাঠক আপনাদের জন্য, সাধারণের জন্য, যেন আমরা আমাদের অধিকার সম্পর্কে জানতে পারিযেন আমরা বুঝতে পারি, এই জ্বালানী খাতের সাথে শুধু অর্থনীতিই জড়িত নয়, বরং এর সাথে জড়িত ভূরাজনীতি, বা আন্তর্জাতিক রাজনীতি, তথা সাম্রাজ্যবাদীসম্প্রসারণবাদী কালো থাবা

বিদেশী কোম্পানির স্বার্থ রক্ষা নয়, বরং নিজেদের তাগিদেই দেশেরসাধারণ মানুষের কষ্টের কথা চিন্তা করে তা লাঘবের জন্য সময়পোযোগী জ্বালানী নীতিপ্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই সাথে বিকল্প জ্বালানীর ক্ষেত্রেও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে; বিশেষ করে জিওথার্মাল এনার্জির বিকাশের জন্য কাজ করতে হবে। যদিও এই পদ্ধতিটি আমাদের জন্য নতুন, তথাপি এই ক্ষেত্রে যথা শীঘ্র সম্ভব আমাদের কাজ শুরু করতে হবে। সেই সাথে নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের মতো বিপজ্জনক একটি প্রক্রিয়া এমন ঘণবসতিপূর্ণ একটি দেশে, যেখানে এই টেকনোলজিতে কোন রকমের গবেষণা বা গবেষকই আমাদের নেই, সেখানে এই প্ল্যান্ট স্থাপনের প্রক্রিয়া অনতিবিলম্বে বাদ দিতে হবে। নিজেদের ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জীববৈচিত্র্য তথা সকল প্রাণের টিকে থাকার স্বার্থেই আমাদের এই বিষয়ে অবগতি প্রয়োজন এবং সে অনুযায়ী আপনার আমার মতো সাধারণকেই সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, যেন সরকার এই জনস্বার্থবিরোধী চুক্তিগুলো বাতিল করতে বাধ্য হয়। যে দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে বাস করে আর সম্পদের ৯০ ভাগযখন ১০ ভাগমানুষের হাতে বন্দি, সে দেশে যেকোন রকমের উদ্যোগ রাষ্ট্রীয়ভাবেই নিতে হবে, আর তা বাস্তবায়ন করতে হবে দেশের আপামর জনসাধারণের সামর্থ্যের কথা ভেবেই। বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য দেশের সব বিদ্যুত কেন্দ্র এবং কয়লা ও গ্যাস ক্ষেত্রের কর্তৃত্ব রাষ্ট্রের হাতে নিতে হবে। সাম্রাজ্যবাদীদের হাত থেকে দেশের জ্বালানী খাতকে এখন উদ্ধার করা না গেলে জ্বালানী খাত নিয়ে আরো ভয়াবহ সংকটে পড়তে হতে পারে। আর সরকারগুলো বার বার তাতে ব্যর্থ হলে, টিকে থাকার তাগিদে জনগণ তাদের ন্যায্য দাবী আদায়ে বার বার রাজপথে আসবেই। আর নিজেদের শক্তি সম্পর্কে জনগণ যখন অবগত হবেন, তখনই অবসান ঘটবে যুগ যুগ ধরে চলমান গণতন্ত্রের নামে স্বৈরশাসনের; গঠিত হবে জনগণের সরকার, জনগণের রাষ্ট্র॥

(লেখাটি মঙ্গলধ্বনির ২য় প্রিন্ট সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। এই লেখার “নিউক্লিয়ার পাওয়ার বা আনবিক শক্তি” অংশটুকু নেওয়া হয়েছে মাহবুব রুবাইয়াৎ’র লেখা থেকে, তার প্রতি ও কল্লোল মোস্তফা’র প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। লেখক)

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s