লিখেছেন: অবিনাশ রায়

উত্তপ্ত কালো পথ, ধূলি মাখা টায়ারের ছাপ,

ধোঁয়া মিশ্রিত ধূসর, রঙহীন বায়ু।

ছায়ায় ঠান্ডা বাতাস, কোনোটা নিকোটিন মিশ্রিত,

কোনোটা বা কার্বনের পোড়া যৌগ।

মৃত্যু অবধারিত, জীবন আবর্তিত, মন চলমান অস্থির;

সুস্থির মটর গাড়ির চালক, দৃষ্টি নিবদ্ধ পথে,

অদ্ভুত একাগ্রতা!

তবু সে দেখেনি অনেক কিছু,

হয়তোবা সারা বিশ্বই চোখের আড়ালে চলে গেছে,পথটুকু বাদে;

হয়তোবা পথও দৃষ্টি গোচরে নয়।

স্থিরতার সন্দেহে উদ্বিগ্ন, স্থগিত কে?

এখানে মৃতু অবধারিত, সত্য এখানে প্রকাশ্যে সদ্য,

অন্ধ সকলে অদ্য –

যদি আবারো পড়তে হয় রাত্রিতে সানগ্লাস;

সকলে বধিরতার বার্ধক্যে বদ্ধ –

যদি আবারো কানে চুম্বনে হেডফোন।

লোকপদচাপে জর্জরিত গলিপথ,

ধোঁয়ার বদলে ধূলো, ভুলো মনে পথে পথচারি পাগল,

চলছে আপন গতিতে, ধীর, সুস্থির – কী অধীর;

মোটর সাইকেলে চড়ে পাড়ার ছোকড়া,

বাতাসে শীষ্ কেটে যায় ওর গতি।

রিকশার বেল বাঁজে ক্রিং ক্রিং।

ওতে বসে থাকা কোন ধনী ললনা গলিপথে রিকশা হাঁকায়।

বিদ্যালয়ের সামনে মার্কেটের নিচে দাড়িয়ে,

কেউবা স্কুল ফেরা বিবি হাওয়ার প্রতীকিকে উত্যক্ত করতে ব্যস্ত,

তাদের হাতে ন্যস্ত এ গর্বিত সামাজিক কাজ,

ন্যস্ত, পরিবেশ দূষণ,ওতে নিকোটিন ছড়ানো।

বিবি হাওয়ার প্রতীকিদের প্রত্যেককে কালো বোরখা পড়ানো,

যদিও তা বর্তমানের চলমান ফ্যাশন,

তবুও কেউ করে নি আপন পথ থেকে প্রস্থান।

ধর্মীয় গোড়ামিতে পথের গোড়ায় গোড়ায় গড়া হয় মসজিদ;

হিন্দুদের অবশ্য ঘরে ঘরেই গড়ে ওঠে মন্দির,

ধর্মের নামে রাজনীতিতে ছাত্র শিবির।

প্রতি প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক শেখ মুজিবের ছবি,

জিয়ার নামে সরক, কার জীয়াতে আছে সে – কেই বা জানে।

মাঝে মাঝে হাওয়ায়, হাওয়া থেকে বেড়িয়ে আসা যুবকের দ্বারা অপমাণিত শিক্ষক।

চা খানায় আড্ডা বসে অশ্লীলনেশার,

চায়ের বদলে গালি খায় কেউ, যেহেতু তা পানীয় নয় তাই পান করা যায় না;

খাদ্য হিসেবে কতটুকু পাচ্য তা সন্দেহজনক।

বদহজমের বিপদজনক প্রতিক্রীয়া শুরু হয়

ব্যন্ডেজ নিয়ে পূর্ব প্রস্তুতি দোকানদারের।

মাঝে মাঝে কারো ঘাড়ে চেপে দেওয়া বই পুস্তকের পাশে

পরিত্যক্ত পরে থাকা ঘামে ভেজা খাতায় চলে অশ্লিল কাব্য চর্চা।

মরীচা ধরা শেকল দিয়ে যেমন চায়ের টংয়ের সাথে ভ্যানগাড়ি বাঁধা

তেমনি পাঠ্য বই ও খাতার সাথে সমন্বয় সাধনকারী

কলমের নিপেও মরীচা ধরে গেছে।

ও দিয়ে লিখতে গেলে কেমন যেনো অশ্লিল চিত্র ফুঁটে ওঠে পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায়

বয়সের বার্ধক্যে ভুক্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকের ধিক্কার যাও গোল্লায়।

প্রায় গোলাকার পৃথিবীতেই তো ’পরে রয়েছি আবার গোল্লায় যাবো কেন?”

অবচেতন মনে ডুবে থাকা; মুখে অস্বীকারোক্তিও চিন্তার,

ঠোঁটে জ্বলন্ত চার্মিনার, পলমান, বেনসন;

মন; সে আবার কী, প্রেম তো পথের ধূলো,

তাতে পিচঢালা কালো পথে, তেতো কালো টায়ারের ছাপ।

ভালোবাসা; কে করে ঐ মিথ্যে আশা।

তবুও চেয়ে থাকা, কোন ললনার দিকে,

নিগুঢ়ে লালিত প্রেম ঢাকতে কটূক্তি।

ওরা চেয়ে থাকে অবাক দৃষ্টিতে,

নির্বোধ বালকগুলো নরম বিছানা রেখে কেন কাঠের বেঞ্চিতে?

আশা জাগে ওদের মনে,

একটুকু প্রেম যদি ধার দিত চুম্বনের মাধ্যমে।

সন্ধের পর আরও অন্ধ জীবন;

অসহ্য নৈশব্দের মাঝে অবারিত একাকিত্ব।

এখানে মৃত্যু অবধারিত! এখানে মৃত্যু অবধারিত!!

সময়আবর্তিত –অস্তিত্বহীন,

আপন অস্তিত্ব রক্ষার্থে, সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান।

প্রাণ বাঁচাতে অস্থির পথের পথিক,

কোন কটূক্তি গ্রাহ্য না করে

অন্নের সন্ধানে হন্যে হয়ে ছুটে;

খুটে খুটে খাদ্য গুদামের কাঠ কাঁটে ঘুন পোঁকা,

সুগম করে দেয় কারোর ঢোকার পথ,

বাজারে অন্নের বদলে পণ্য হিসেবে নারী,

রসের বদলে ফেরীওয়ালার কাঁধে মদের হাড়ি।

কারি কারি টাকা উড়াচ্ছে জুয়ার টেবিলে বণিক।

ধণিক শ্রেণীর চাপে পাপড় হয়ে,

ক্ষয়ে পরে পথের ধারে পথিক আছড়ে পরে,

আলকাতরা মাখানো পিচঢালা পাথড়ে।

মাঝে মাঝে ক্যানেল থেকে উঠে আসে কাল সাপ,

তার ভালে জ্বলে মণি, কেউ কেউ বলে ওঠে –

খনি থেকে উঠে আসা সাত রাজার ধন আমরা সবাই ধনি!”

দুধ কলা খাওয়াও – জোর করে (যদিও সে খায় না তা)

কেউ বলে,“ভেঙে দাও বিষ দাত, ডেকে আন ওঝা;

যাতা দিয়ে পিসে ফেল, ঝেড়ে ফেল বোঝা কেই বা শুনে কার কথা!

হঠাৎ যদি ঝেপে, বৃষ্টি পরে

ঝাপি থেকে সাপ বেড়িয়ে যায় সে আপন নীড়ে,

সাপ গেল, ধন গেল বাণে ভেসে গেল ঝাপি,

এল বরষা, গেল কাল – সুকাল, এল মহাকাল,

জাল ফেলে,কালো ক্যানেল থেকে মাছধরে অপটু জেলে,

ডাক ছেড়ে বলে, “ধরিমাছ না ছুঁই পানি”

রুক্ষতা গ্রামে ওদের মন – মরুভূমি।

কুকুরের ঘুর ঘুর, মাদী মলের সন্ধানে বস্তিতে,

বেশ্যার চিৎকার শোনা যায় মধ্যরাতে,

চাঁদের দিকে তাকিয়ে হায়েনার গোঙরানোর মতো।

পাশে বাঁজে মুঠোফোন, হাতরাতে গিয়ে

প্রাপ্ত ডাকের তালিকায়,তালিকাভুক্ত হয় পরিচিত কারো নাম ও নাম্বার।

নরবরে খাটের সাথে তাল মেলাতে বেঁজে ওঠে ওটা আবার।

এমনি সময়ে ক’জনের মুঠোতে মুঠোফোন;

সারারাত –সারাক্ষণ চলে মিথ্যে প্রণয়ের কথপোকথন।

গোধূলির মেঘ কালো করে ধেয়ে আসে কাল বৈশাখী ঝড়;

ঝির ঝির বৃষ্টি ঝরে সন্ধ্যা অবধি,

মুখ দেখা যায় না লোক মুখে কথা চলে – “ যত গর্জে তত বর্ষে না।”

গোধূলিতে অসময়ে অস্তমিত সূর্য;

মিথ্যে হয়ে কানে বাঁজে আবহাওয়া বিদের ভবিষ্যৎবাণী,

সুললিত নারী কণ্ঠ ধ্বনী।

অপেক্ষায় সূর্য উদিবে আবার,

এই রাতের পর আগামী প্রভাতে;

এরই মধ্যে ঘটে গেছে পুণরাবৃত্ত ঘটনা আগে।

বাহিরের ছোট বন থেকে শোনা যায় শেয়াল কুকুরের ডাক,

মায়ের বুকে ভয়ে কুঁকড়ে থাকে কোন শিশু,

কেউ প্রেমিক কিবা প্রেমিকার।

যদি ওরা হামলা করে! ওরা তো গ্রিলের ফাঁক দিয়ে ঢুকতে পারে!

কেউ রাতের আঁধারে ঘোরে শিকারের সন্ধানে,

এরাই মাঝে মাঝে শিকারীর বদলে রূপান্তরিত ‘শিকার’ হয়ে যায়;

ঘোরে কুকুরের মতো কারো পায় পায়,

সেই সময় নিস্তব্ধ বাতাসে আলোরণ তোলে ষোল বছর বয়সী কিশোরির আর্তনাদ –

সময়, নয় মাস যেতে না যেতেই,

যোনিদ্বার দিয়ে প্রসবিত শুকরের সন্তান,

কুকুর শুকুর শিকারী ছিল যিনি!

সৃষ্টিকর্তার অপরূপ দান!

শিহরণ শিরদ্বারা বেয়ে নেমে যায়,

শিতল শীতের রাতে, খুঁজে পথের পথিক উষ্ণ খোলা দ্বার,

অন্ধকার ও কুয়াশায়, বন্ধ – প্রকৃত খোলা চোখের পাতা;

ঘুম নেই ওতে।

অন্ধকার হলেই তো ঘুমানো যায় না;

চোখ বন্ধ করতে হয়।

যদি থাকে আপন হৃদয়ের সাথে, জাগ্রত কারো হৃদয়!

তবেই না ঘুমোনো যায়।

নিরাশায় নিদ্রা ভঙ্গ হয় কারো,

তবু আশায়, এই রাতের পর আগামী প্রভাত;

হবে উদয়, নতুন সূের্যর; গতকল্যে যা অপরাহ্নের আগেই অস্তমিত।

আশায়, যেহেতু আসে প্রতি রাতের পর প্রাত।

হয়তোবা, প্রহর্ষ প্রভাত;

শিহরণ ভুলে প্রহর্ষণ!

এই রাতের পরেও কী আসবে প্রাত?

যেহেতু এ রাতেই নরনারী, মানবমানবীর মনুষত্যের অধিকার হয় হৃত,

হে মানব! এখানে মৃত্যু অবধারিত!

এখানে মৃত্যু অবধারিত! এখানে মৃত্যু অবধারিত!!

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s