লিখেছেন:বন্ধুবাংলা

চুকচুক পদলেহনের শব্দ শোনার কথা, কিন্তু শুনছি কই? এমএলএমকোম্পানির মত রাজনীতিবিদরা প্রতারণার ফাঁদ পেতে বছরের পর বছর জোঁকের ন্যায় জাতির রক্ত নিঃশব্দে চুষে খাচ্ছে তাও দেখছি না। কানে তুলা নয়, তালা দেয়া আছে! দুর্বল দৃষ্টিশক্তি ভাল দেখে না! তথাপি একটা ছবি দেখে চমকে উঠলাম!! তবে ছবির কথায় পরে আসি। আগে কিছু প্যাঁচাল পারি!

আমার পূর্বের লেখায় কৃষকের সাথে সরকারের প্রতারণার কথা উল্লেখ করেছিলাম। সেই সূত্র ধরেই আগামী কৃষি বাজেটের উপর সরকারের ভাবনা কি জানার আগ্রহ ছিল। পত্রিকার মারফতে পেয়েও গেলাম মন্ত্রী মতিয়াকে ও মন্ত্রী মুহিত মাল সাহেবকে; অর্থাৎ, তাদের মন্ত্রণালয়ের হাড়ির খবর। অর্থ ও কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, কৃষির সাফল্যের ধরে রাখতে আগামী অর্থবছরের বাজেটেও সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কৃষি খাতকে। কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণে আসন্ন ২০১২১৩ অর্থবছরে কৃষি খাতে ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকির প্রস্তাব করা হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, কৃষকের স্বার্থ সংরক্ষণ করাই আমাদের উদ্দেশ্য। তিনি আরও বয়ান করেছেন “প্রধানমন্ত্রী কৃষি ও কৃষকদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলেছেন। তার নির্দেশ পালন করেছি। কৃষকদের সঙ্গে চলতে চলতে তাদের সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি।”( হঠাৎ যেন মুখে তেঁতো স্বাদ পেলাম )। সুত্র:

http://www.samakal.com.bd/details.php?news=14&action=main&option=single&news_id=257301&pub_no=1045

যাই হোক, আবার তেঁতো স্বাদ পেলাম অন্য একটি খবরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অন্দর মহলের কথায়।

অন্য একটি জাতীয় দৈনিকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল বলেছেন, আগামী ২০১২১৩ অর্থবছরের বাজেটের আকার তত বাড়ছে না। অর্থসংকটে সরকারকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেছেন, অনুন্নয়নউন্নয়ন মিলিয়ে বাজেটের মোট আকার হবে এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার মতো। এর মধ্যে বার্ষিক ()উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিপি) বাজেট হবে ৫৪ হাজার কোটি টাকার।

চলতি ২০১১১২ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল এক লাখ ৬৩ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকার মধ্যে বার্ষিক ()উন্নয়ন কর্মসূচীর ছিল ৪৬ হাজার কোটি টাকা। যদিও সরকারি ব্যয় যোগানোর (খাইয়া ফালানো) জন্য ব্যাংক থেকে সরকার জনগণের আমানতের হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল, তা সত্বেও অর্থের স্বল্পতার জন্য চলতি বার্ষিক ()উন্নয়ন কর্মসূচীর বাজেট কাটছাঁট করে ৪১ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছিল।

অথচ, গত পাঁচ বছরের বাজেটের আকারের গ্রাফ যদি বিবেচনায় নেই তবে আগামী অর্থবছরের (২০১২১৩) মোট বাজেটের আকার দুই লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা।

এবার আবার মতিয়ার কথায় আসি। উনি কৃষি ভর্তুকির কথা বলেছেন। ভর্তুকি হচ্ছে কইয়ের তেলে কই ভাজা। ভ্যাট নামক যে জোয়াল সরাসরি জাতিকে স্কন্ধে বয়ে চলতে হচ্ছে, (যাই কিনি সরকারকে ১৫ % ফাও দিতে হবে) ভর্তুকির জোয়াল তেমন দৃশ্যমান না হলেও কৃষক আর মধ্যবিত্তকেই এটা টানতে হয়।কৃষক কি ভর্তুকি চায়? এক কথায়– “না”, কৃষক চায় ফসলের ন্যায্য দাম এবং সুষ্ঠ সরকারি ক্রয় ও বিপণন ব্যবস্থাপনা। আর সরকার ভর্তুকি দিয়ে বলে “হে বন্ধু কৃষক এই নেও ভর্তুকির তৈলাক্ত বাঁশ! যে বাঁশ না হলে তুমি উপরে উঠতে পারবে না, আর আমিও চুরিচামরী, লুটপাটঅপচয় করতে পারুম না।” ফলে যা হয় তা হলোকৃষকের পশ্চাৎদেশে যত বাঁশ যায় আর তেনাদের তত আয় হয়। কারণ ভর্তুকির অধিকাংশ টাকাই অপচয় ও লুটপাটে হাওয়া হয়ে যায়।

তথাপি কৃষিতে ভর্তুকি অনেকটা মুমূর্ষু ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর স্যালাইনের মত কাজ করে। কৃষকের এই আপাত প্রাপ্তি মরার হাত থেকে মৃতবৎ থাকার মত, কিন্তু আমারা জানি বিশ্ব (বেশ্যা )ব্যাংক, আইআমএফ (আই’ম ফাকিং), অন্যান্য দাতা (!) সংস্থা ও দেশসমূহ আমাদের যে ঋণ দেয়, তাঁর অন্যতম শর্ত থাকে কৃষিতে কোন ভর্তুকি নয়, অন্যত্র ঠিক আছে।

একই পত্রিকায় আরো প্রকাশিত হয়েছে যে, বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন ভবিষ্যতে ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে আনা হবে। কারণ, সম্প্রসারিত ঋণসহায়তা (ইসিএফ) বাবদ যে ১০০ কোটি ডলার শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে পাওয়া যাচ্ছে, তার অন্যতম শর্তই হলো ভর্তুকি কমানো। এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অর্থাৎ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) দেওয়া ভর্তুকি ১৫ হাজার কোটি টাকায় সীমিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে ভবিষ্যতে। তাই প্রস্তাবিত কৃষি ভর্তুকির পরিমাণ ৫ হাজার ৬০০ কোটি আগাম সান্ত্বনার বাণী,নাকি একটা কিছু বললাম তারপর সম্পূরক বাজেট প্রণয়নের সময় কাটছাঁট করে ফেললাম! বিষয়টা কোথায় গিয়ে ঠেকে সেটাই দেখার বিষয়!

অর্থ মন্ত্রনালয় দুর্নীতির মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জন্য একটা প্ল্যান করেছে। তাদের মতে, বার্ষিক ()উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়নে বৈদেশিক সাহায্যের অর্থ ব্যবহারে কড়াকড়ি করা হবে। মানে, যতটা সম্ভব প্রকল্পে দাতাদের ডলার কম ব্যবহার করা হবে। কারণ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যে বৈদেশিক সাহায্যের তুলনায় স্থানীয় মুদ্রা টাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নের ‘খায়েস’ বেশি। কারণ, স্থানীয় মুদ্রা টাকা ব্যবহার করলে খাওয়াদাওয়া চলে, শুকুরের ঢেঁকুর তোলা যায়। আর বৈদেশিক সাহায্য ব্যবহার করতে গেলে দাতাদের নজরদারিতে দুর্নীতি করা মানে, আবুলের মত ধরা খাওয়া!

যাইহোক, এ বিষয়ে সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব আকবর আলি খানের কথা যদি বিবেচনায় নেই তবে আর আমাদের সার্বভৌমত্ব বলে কিছু থাকে না। তিনি বলেছেন, আগামী বাজেটটি প্রণয়ন করা হচ্ছে ঠিক আইএমএফএরতো করে। অর্থমন্ত্রী নিজের মতো করে বাজেট করবেন, সেই স্বাধীনতা তাঁর নেই। অর্থাৎ, এমন বাজেট তিনি করতে পারবেন না, যা আইএমএফ পছন্দ করবে না। বাজেট সামনে রেখে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার, ভর্তুকি, বাজেট ঘাটতি, মূল্যস্ফীতির বার্ষিক হার সবই আইএমএফ নির্ধারণ করে দিয়েছে। আপাতত কিছু এদিকসেদিক করে দেখালেও পরে অর্থমন্ত্রী আইএমএফএর অঙ্কই ঠিক রাখবেন বলে তিনি মনে করেন।

সুত্র: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-05-07/news/255607

২য় কথাএক্ষনে মুখ তেঁতো হলে আসুন আমরা নিচের ছবি দু’টো দেখে, তিতা মুখে মিষ্টতা আনয়ন করি। এত সুন্দর ছবি হয় না, আর ভুলে যাবেন আমাদের সার্বভৌমত্বের কথা! নীলে নীলে সব বিলীন!! আফু, ম্যাদাম, দুলারি সব! আহ কি সুন্দর মিল!!

হিলারী-হাসিনা

 হিলারী-খালেদা

দুলারি’ এসেছিলেন! আমাদের সুয়ো রাণী আর দুয়ো রাণীর কত কথা, কত অভিযোগ! দুলারি গণতন্ত্রের বটিকা আরও একবার তাদের সেবন করিয়ে বলে গেলেনএই তোমরা ক্ষমতা চাও ভালো কথা, কিন্ত চুলাচুলি করোনা!তেনারা খুশি হলেন, আহঃ চুকচুক। দুলারি পুরো বাংলাদেশের সাথে আড্ডা দিলেন!! কিন্তু সুয়ো রানি আর দুয়ো রানী কেউ ঐ চুকচুক ছাড়া দেশের আমদানিরপ্তানি বাণিজ্য স্বার্থের কথা মুখেই আনলেন না।

আমাদের ফি বছর ঘাটতি বাজেট করতে হয়, অথচ আমেরিকায় রপ্তানি বানিজ্য বাড়াতে আমরা কূটনীতি করিনা। বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার যা নীতিগত সিদ্ধান্ত সে দাবী উত্থাপন করতে পারিনা। আমি ভাবছিলাম এরা গরিবের কথা বলতে জানে না। এখন দেখছি ধনীর স্বার্থের কথা বলতেও তেনাগো মুখে তিতা লাগে। যত কূটনীতি দেশের মানুষের সাথে।

এখনো কারো মুখে যদি মিষ্টতা লেগে থাকে তবে নিচের তিতা খবরটা জেনে নিন।মুখ ভর্তি রসগোল্লা থাকলেও মুখের মিষ্টতা, তিতার তিক্ততায় পরিণত হবে। নিচের গ্রাফ বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের সাথে আমেরিকার বানিজ্য সূচক নির্দেশ করছে।

বাণিজ্য সূচকওয়াশিংটন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ওয়ার্কস ফাউন্ডেশনের এক তথ্যে জানা গেল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে উচ্চ হারে (১৫ দশমিক ৩০ শতাংশ) শুল্ক আদায় অব্যাহত রেখেছে। ২০১১ সালে বাংলাদেশ থেকে ৪৮৭ কোটি ডলারের পণ্য আমদানির বিপরীতে ৭৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারের আমদানি শুল্ক আদায় করেছে দেশটি। গড়ে শুল্কহার ছিল ১৫ দশমিক ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ ১০০ টাকার আমদানি পন্যের বিপরীতে তেনাকে(হিলারি কে) দিতে হবে ১৫ টাকা ৩০ পয়সা। সুত্রhttp://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-05-07/news/255614

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা শোষক সমাজবাদীর প্রতিনিধিত্বকারী একটি প্রতিষ্ঠান তথাপি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বহুপক্ষীয় বাণিজ্য নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশের সহ গরিব বা স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে (এলডিসি) উন্নত বিশ্বের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ার একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত আছে। এই নীতি অনুযায়ী ইতিমধ্যে বিশ্বের সব উন্নত দেশ বাংলাদেশসহ গরিব দেশগুলোকে অবাধ বাজার সুবিধা দিয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ, নেপাল ও কম্বোডিয়া—এই তিনটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নেপাল ও কম্বোডিয়ায় সমাজতন্ত্রের ভুত আছে। সন্ত্রাসী জঙ্গি রাষ্ট্র পাকিস্তানও বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করছে! পাকিস্তানে আছে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ভারতের আছে সম্প্রসারণবাদ!

শেষ কথা:আমাদের কি আছে, চুকচুক পদলেহনের শব্দ ছাড়া!! এনারাতেনারা সব একাকারআফুম্যাদাম,ইনুছআবেদ,প্রজাতন্ত্রেরগণতন্ত্রের ভাঁড়!!!

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s