লিখেছেন: বন্ধুবাংলা

কৃষকের সাথে চলছে এমনই প্রহসনঅবশেষে সরকার ধানচালের দাম নির্ধারণ করেছে। চলতি বোরো মৌসুমে ২৮ টাকা কেজি দরে চাল এবং ১৮ টাকায় ধান কিনবে সরকার। ২০১১ সালেও সরকার সংগ্রহ মূল্য ঘোষণা করেছিল ধান ১৮ টাকা ও চাল প্রতি কেজি ২৯ টাকা। অর্থাৎ, দুই ডিজিটের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ও কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি বিবেচনায় সরকার কর্তৃক ঘোষিত এই দাম গত বছরের চেয়ে তুলনামূলক কম।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় সোমবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে কমিটির সভাপতি খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। সুত্র: http://www.bdnews24.com/bangla/details.php?id=192739&cid=4

সরকারি সংস্থা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, গত বছরের তুলনায় বোরোতে উৎপাদন খরচ প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। অপর সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গত এক বছরে বেশির ভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ১০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়েছে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ মতে সার্বিক মুল্যস্ফিতি এখন দুই ডিজিটের ঘরে।

পাঠকের কাছে প্রশ্ন হল সরকার কি কৃষক বান্ধব? সরকার কাকে ঠকাচ্ছে আর কাকে লাভবান করছে, সোয়া কোটি প্রান্তিক কৃষক পরিবারের ৬ কোটি মানুষকে, নাকি মুষ্টিমেয় কিছু মধ্যসত্বভোগী ফড়িয়াকে?

এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, এ দেশের কৃষক হচ্ছে সবচাইতে বেশি শোষিতশ্রেণী। হরতালের রাজনীতি, হত্যা, গুম নাটকের ডামাডোলে আমরা কৃষকের আর্তনাদ শুনতে পাই না। অথচ কৃষি এখনও আমাদের মূল অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি। আমি যে কথাটা বরাবরই বলে আসছিযে স্বাধীনতা লাভের এই ৪০ বছরে কোন সরকারই কৃষক বান্ধব ছিল না। মুজিবের সবুজ বিপ্লব, জিয়ার ১৯ দফা, এরশাদের ১৮ দফা কর্মসূচী সবই ছিল রাজনৈতিক ভাঁওতাবাজি, যা আজও অব্যাহত। তাহলে প্রশ্ন উঠে, আমরা কিভাবে খাদ্যে উৎপাদন বৃদ্ধি করলাম? প্রকৃতপক্ষে কৃষির এ সাফল্য সম্পূর্ণ কৃষকের। তাঁর সপরিবারের উদয়াস্ত উদ্বৃত্ত শ্রমের, রোদবৃষ্টি ঝড়ঝঞ্ঝা উপেক্ষা করে হাড় ভাঙ্গা খাটুনির এবং না খেয়ে থাকার ফল। যিনি আজীবন ন্যায্য দাম না পেয়ে আমাদের মত সুশীল সমাজের অন্নের যোগান দিয়ে যাচ্ছে এবং যুগ যুগ ধরে শোষণনিপীড়ন সয়ে ফসল ফলাচ্ছে।

কৃষকের বঞ্চনার ইতিহাসের অতি পিছনে না গিয়ে আমি হাল আমলের কিছু শোষণ বঞ্চনা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। এদেশের কৃষক তাঁর কৃষি পণ্যের যেমন আলু, পেয়াজ, ধান, শাক সবজি ইত্যাদি ফসলের দাম পায় না। আমরা জানি এর জন্য দায়ী যেমন সরকার, তেমনি মধ্য স্বত্বভোগী কিছু আড়ৎদার, ফড়িয়া। এ দেশের কৃষক সারের জন্য গুলি খেয়ে মরে, দাদন ব্যবসার সুদের ঘানি টেনে না খেয়ে থাকে, ন্যায্য দাম না পেয়ে কৃষি পণ্য হাটে রেখে আসে কিংবা রাগে ক্ষোভে গবাদি পশুকে খাওয়ায় অথবা পানিতে ফেলে দেয়। এর জন্য দায়ী কে? আমি বলব অবশ্যই ধনতান্ত্রিক পুঁজিবাদী সরকার ও সরকারের কৃষি বিষয়ক দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনা ও নীতিমালা। এ কথাও সত্য যে কোন পুঁজিবাদী সরকার এই বৈশিষ্ট্যের বাইরে নয় এবং তার পক্ষে সম্ভব নয় কৃষক বান্ধব হওয়া। এ দেশের কৃষকের মুল সমস্যা হল কোন সরকার কখনই তাকে সহায়তা করতে প্রস্তুত নয়। এই যে উচ্চ দামে ডিজেল, সারবীজকীটনাশক ক্রয় করে ফসল ফলানো কিন্তু লাভ উঠে মহাজন আড়ৎদার আর মিল মালিকদের ঘরে। মাঝখান থেকে লোকসানে ধরা খায় কৃষক।

ধান হচ্ছে কৃষকের প্রধান ফসল এবং আমাদের প্রধান খাদ্য। গত বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও এ বছরও কৃষক ধান চাষ করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন জনিত বৈরী আবহাওয়া, বীজ সংকট, বিলম্বে ধান রোপণ ও পানি সেচে লোডশেডিং বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও এ বছর বোরোর বাম্পার ফলনের হয়েছে। আগে আমন ও আউশই ছিল প্রধান ফসল। বোরো ছিল তৃতীয় স্থানে। আবহাওয়া ও পরিবেশের দিকে লক্ষ্য রেখে উচ্চ ফলনশীল বোরো উঠে এসেছে প্রধান ফসল রূপে। দেশের মোট খাদ্য চাহিদার প্রায় ৬০ ভাগ মেটায় বোরো। ৩০ শতাংশ আসে আমন এবং ১০ শতাংশ আসে আউশ থেকে।

এমনিতেই সরকার কৃষক পর্যায়ে ধান খুব কম কিনে। কিন্তু যথাসময়ে এই দাম নির্ধারণ না হওয়ায় ফড়িয়াআড়ৎদারদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ছে কৃষি তথা ধানের বাজার। ফড়িয়া আড়ৎদাররা খুবই কম দামে ধান কিনে নিচ্ছে, এতে কৃষকের উৎপাদন খরচও উঠছে না।

ঈশ্বরদী কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে পাওয়া প্রতি বিঘা ধান চাষের খরচের হিসাব সংবাদপত্র সূত্রে জানা যায় যে, বীজ, সার, সেচ, নিড়ান, কর্তন ও মাড়াই খরচ অনুযায়ী বিঘা প্রতি একজন কৃষক পায় ১২ থেকে ১৪ মন ধান। সেখানে প্রতি বিঘায় খরচ হয় ১ হাজার টাকা। সেই হিসেবে ১৪ মন ধানের দাম ৬০০ টাকা মন হিসেবে ৮,৪০০ টাকা। এই হিসেব মতে দেখা যাচ্ছে একজন কৃষককে বিঘা প্রতি ৯০৩ টাকা করে লোকসান দিতে হবে। সূত্র: দি ঢাকা টাইমস, ২৭ এপ্রিল ২০১২; লিঙ্ক

http://thedhakatimes.com/2012/04/08/1457/market-filled-with-denaturant-insecticides-farmers-have-to-count-loss-900-taka-per-bigha/

এবার দেখে নিই২০১২ সালের ধানচাল ক্রয়ের চিত্র কেমন হতে পারে?

২৮শে এপ্রিল ২০১২ ডেইলি স্টার পত্রিকার সূত্রে জানা গেলসেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ ১৫ টাকা কেজি ধান ও ২৫ টাকা চালের দাম নির্ধারণের সুপারিশ করেছে, যা এখনি ঘোষণা করা উচিত বলে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সংস্থা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, গত বছরের তুলনায় বোরোতে উৎপাদন খরচ প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, প্রতি মণ ধানের উৎপাদন খরচ ৫৫০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৮০ টাকা। যদিও অবস্থান ভেদে অনেক অঞ্চলে প্রকৃত উৎপাদন খরচ ৭ থেকে ৮০০ টাকা। কিন্তু বাজারে এখন প্রতি মণ বোরো ধান ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, কোথাও কোথাও আরও কম দরে বিক্রি হচ্ছে। অপর সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গত এক বছরে বেশির ভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ১০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়েছে। সরকারী হিসাব মতে প্রতিকেজি ধান উৎপাদন খরচ ১৫.৭৫টাকা। সরকার কিনছে ১৮টাকায়। কেজি প্রতি লাভ হলো ২.২৫টাকা। প্রতিমণে লাভ হয় ১০০টাকা। ধরি প্রতিটি কৃষক গড়ে ৫০মন ধান পায় তবে মোট লাভ ৫,০০০টাকা। এবার বুঝেন? কৃষক বাঁচার কোন সম্ভাবনা আছে? সরকার, তথা শাসকশ্রেণী চায়না কৃষক বাঁচুক।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট (ব্রি) চলতি বোরো মৌসুমের উৎপাদন খরচের একটি হিসাব তৈরি করেছে। ওই হিসাবে দেখা গেছে, চলতি বছর বোরোতে এক কেজি ধানের উৎপাদন খরচ পড়েছে ১৭ টাকা ১৩ পয়সা আর চালের খরচ পড়েছে ২৫ টাকা ৩২ পয়সা । এই হিসাব সিপিডি’র অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান সাহেব, দেবব্রত বাবুদের হিসেবকেও অতিক্রম করেছে। এই বাবুসাহেবি হিসেব কতটুকু বাস্তব সম্মত সেই প্রশ্ন কৃষকের পক্ষে করার কেউ নাই। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, এ বছর ২০১২ সালে মোট ৪৭ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে এক কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হবে। এর মানে এক থেকে সোয়া কোটি প্রান্তিক কৃষকের হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসানকে লাভে রূপান্তরিত করবে মধ্য স্বত্বভোগী ফড়িয়া, আড়ৎদার, আর বড় বড় চাতাল মালিকেরা। সূত্র: প্রথম আলো, ২৭ প্রিল, ২০১২। লিঙ্কhttp://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-27/news/253427

দাদন ব্যবসায়ী, মহাজন ও ক্ষুদ্র ঋণ নামক সুদী ব্যবসায় খাটানো এনজিও’র টাকা শোধ করতে বেশিরভাগ ছোট কৃষক চলতি মৌসুমে চাল বিক্রি শুরু করেছে অনেক আগেই। সরকারের বিলম্বিত ক্রয়ের কৌশল স্পষ্টতই এসব উপায়হীন ১ থেকে সোয়া কোটি প্রান্তিক কৃষককে ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত করছে। সরকার যে চাল আমদানি করেছে ও মজুত করা চাল যদি বোরো ধান ওঠার যথেষ্ট আগে বাজারে ছাড়া হতো, তাহলে খাদ্যশস্যের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ত এবং কৃষকের ক্ষতি কমানো যেত। উল্লেখ্য যে সরকারের হাতে ১০ লক্ষ টন চাল ও বড় বড় চালকল বিশেষ করে অটোরাইস মিলগুলোর কাছে বর্তমানে লাখ লাখ মণ ধান মজুদ রয়েছে। এ কারণে বোরো ধানের বাম্পার ফলন কৃষকের জন্য কষ্টের কারণ হয়েছে। তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকার এখনই কৃষকদের কাছ থেকে ধানচাল পূরোদমে ক্রয় করলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি আশা করা যায়। কিন্ত চলতি মৌসুমে সরকার মোট ১০ লক্ষ টন ধানচাল সংগ্রহ করবে যার মধ্যে দেড় লক্ষ টন ধান যেখানে মোট উৎপাদন ধরা হয়েছে এক কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টন চাল। উল্লেখ্য যে দেড় কেজি ধান ভাঙ্গানো হলে ১ কেজি চাল পাওয়া যায়। অর্থাৎ, মোট উৎপাদন বিবেচনায় ধান সংগ্রহের পরিমাণ যৎসামান্য। এই পরিমাণ ধান ক্রয়ে কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতি কতটুকু লাভবান হবে, সুপ্রিয় পাঠকের কাছে প্রশ্ন রইল। উপরন্তু,সরকার কোনভাবেই তার ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের বেশি পূরণ করতে পারে না।

বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট এটাই বলে যে, চালের বাজার বড় বড় রাইস মিলওয়ালাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। মৌসুমের শুরুতেই দাম নির্ধারণ না করে ও সরকারের বাস্তব পদক্ষেপের অভাবে, এবং চালকল মালিকরা ধান না কেনার কারণে ধানের ভয়াবহ দরপতন চলছে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের অধিকাংশ জেলার কৃষকরা লোকসানের মুখে তাদের ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক কৃষক ধারণা করছেন, পুরো দমে ধান কাটা শুরু হলে ধানের দাম আরও পড়ে যেতে পারে। বর্তমানে বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে সাড়ে ১০ টাকা কেজিতে।প্রতি কেজি ধানের গড় উৎপাদন খরচ যদি প্রায় ১৮ টাকা ধরা হয়, তাহলে কৃষকের লোকসান কেজি প্রতি ৮ টাকা। এ বছর তিন দফায় ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সারের দাম দ্বিগুণ করায় কৃষকের উৎপাদন খরচ গত বছরের চেয়ে কেজিতে প্রায় দুই টাকা বেড়েছে। ২০১১ সালে সরকারের সংগ্রহ মূল্য ঘোষণা করা হয়েছিল ১৮ টাকা এবং এ বছরও সমান মূল্য ঘোষণা করা হল। গত বছর ধানের দাম মণপ্রতি সাত থেকে আটশ’ টাকা থাকলেও এবার সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫০০শ’র বেশি উঠছে না। পুরো ধানের বাজার এখন ফড়িয়াদের কবজায়। এ দিকে ফড়িয়ারা বাজারে গুজব ছড়াচ্ছে যে, সরকার ভারত ও থাইল্যান্ড থেকে বেশি চাল কেনায় গুদামে জায়গা না থাকায় এবার বেশি ধানচাল কিনতে পারবে না। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, এখনও সরকারের মওজুদ চালের পরিমাণ ১০ লক্ষ টন ও মিল মালিক ও ব্যবসায়ীদের হাতে রয়ে গেছে আরও প্রায় ৪০ লাখ টন চাল।

এবার দেখে নিইবিগত ২০১০ ও ২০১১ সালের চিত্র কেমন ছিল

২০১০ সালে চালের সরকারী মজুদ গড়তে এপ্রিলের শুরু থেকেই বোরো চাল ক্রয়ের প্রক্রিয়া শুরু ও আগাম মূল্য ঘোষণা হলেও ১ লা মে থেকে চাল সংগ্রহের অভিযান শুরু হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ লাখ টন চাল এবং দের লাখ টন ধান। দাম ঘোষণা করা হয়েছিল চাল প্রতি কেজি ২৫ টাকা ও ধান ১৭ টাকা। এতে ধানের দাম আসে মণ প্রতি ৬৮০ টাকা ও চাল ১০০০ টাকা। কৃষি বিভাগের মতে তখন প্রতি কেজি বোরো ধানের উৎপাদন খরচ ছিল ১২,৬৯ টাকা। (সুত্র: জনকণ্ঠ, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১০) কিন্তু লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত না হওয়ায় ৪ জুলাই থেকে চালের দাম পুনঃ নির্ধারণ হয় ২৮ টাকা । মূল্য বাড়িয়েও সরকার চাল কেনায় ব্যর্থ হয়। প্রতি কেজি ধানে সারে ২৭ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করেও কৃষক মূল্য বৃদ্ধির সুফল পায়নি। যেহেতু সরকার ধান কিনে না, তাই বড় বড় আড়ৎদার ও মিল মালিকরা কম দামে বিপুল পরিমাণ ধান কিনে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছিল এবং পরবর্তীতে সিন্ডিকেট ও ফড়িয়া কম দামে ধান কিনে সরকারের কাছে বেশি দামে চাল বিক্রি করেছিল।

২০১১ সালেও ছিল বোরোর বাম্পার ফলন। ধান চাল ক্রয় না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ২ দিন পর সরকার ৩ রা জুন থেকে সরাসরি কৃষক পর্যায়ে ধান চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ লাখ টন চাল এবং দেড় লাখ টন ধান কিন্তু যেহেতু লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয় নয়া তাই এ বিষয়ে কোন বাধ্যবাধকতা ছিল না। দাম ঘোষণা করা হয়েছিল চাল প্রতি কেজি ২৯ টাকা ও ধান ১৮ টাকা। সরকারি হিসেবে প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন খরচ ধরা হয়েছিল ১৬ টাকা। কেজিতে দুই টাকা লাভ ধরে সরকার সংগ্রহ মূল্য ঘোষণা করে ১৮ টাকা। এতে ধানের দাম মণপ্রতি সাত থেকে আটশ’ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সংগ্রহ অভিযান শুরু হয় ৫ জুন, যা বিলম্বে ক্রয়ের কৌশল রূপে সরকার নিজেই স্বীকার করেছিল।সরকারের ভাবখানা এমন ছিল যে, এর ফলে কৃষক লাভবান হবে, চাল বিক্রির লাভের টাকায় কৃষক ধনী হয়ে যাবে। কিন্তু কৃষক চাল নয় ধান বিক্রি করে এটা যেন সরকার ভুলে গিয়েছিল। উচ্চ মূল্যের যুগে চাষাবাদ করে কৃষকের হাতে বাড়তি পয়সা থাকে না, তাই কৃষক ধান না ভাঙ্গিয়ে ফসল উঠার সাথে সাথে ধান বিক্রি করা শুরু করে, এটা কৃষি মন্ত্রীর বোধগম্য হয়নি। কৃষি মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছিলেন, “কৃষক ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সরকার বোরো ক্রয় শুরু করবে”। ২০১১ সালে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলকৃষকদেরকে লাভবান করার উদ্দেশ্যে দেরীতে বোরো ধান ক্রয়ের কৌশল গ্রহণ করেছে সরকার। এই বিলম্বের ফলে ছোট ও প্রান্তিক চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পক্ষান্তরে, চালকল মালিকদের তোপের মুখে পড়ে সরকারকে প্রতিকেজি চালে ৩ টাকা বেশি মাশুল দিয়ে চাল মজুদ করতে হয়েছিল, যার ফলে লাভবান হয়েছিল মজুদদার চালকল মালিকরা, চাষীরা নয়।

বোরো ধান উৎপাদনের জন্য কৃষককে সেচ, সার, কীটনাশকের জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। অর্থাৎ, কৃষকের বিনিয়োগ বেশি পড়ে। গ্রামেগঞ্জে কৃষকের ধান কিনে নিচ্ছে ফড়িয়ারা। কম দামে তারা এ ধান কিনছে কৃষকের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে। একশ্রেণীর মুনাফালোভী মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়া ও দাদন ব্যবসায়ীরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে কম দামে ধানচাল কিনছে কৃষকের দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে। অতি কষ্টে ফলানো ধান অভাবী কৃষকরাও বাধ্য হয়ে তাদের কাছে বিক্রি করছেন পানির দামে। সচ্ছল কৃষকরা এখন না বেচে কিছুটা মজুদ করতে পারলেও ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা সুদের টাকা শোধ করতে অনেক ক্ষেত্রেই ধান ঘরে তোলার আগেই বিক্রি করে দিচ্ছেন। নতুন ধান ঘরে উঠলেও কৃষকের মনে আনন্দ নেই।

এ বছর কৃষকরা পাটের দামও অনেক কম পেয়েছে। আর এটা এমন সময়ে ঘটেছে যখন পরপর দুটি বছর কাঁচা পাটের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা উৎপাদন বাড়ানোর দিকে ঝুঁকেছিল। প্রথমে আমন, তারপর আলু, পেঁয়াজ, পাশাপাশি শীতকালীন সবজিতেও কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বগুড়ার প্রান্তিক ভুট্টা চাষিরাও উৎপাদন খরচের চেয়ে অর্ধেক দামে ভুট্টা বিক্রি করছে। সারবীজপানি, সবকিছু কিনে জমিতে বিনিয়োগ করেছেন তাঁরা। পরিবারের প্রায় সব সদস্যের শ্রম যোগ করে ফলিয়েছেন সোনার ফসল। কিন্তু নতুন ধান কেটে বাজারে নিয়ে দেখেন, উৎপাদন খরচ উঠছে না। চলতি অর্থবছরের কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ কৃষক উৎপাদন খরচ তুলতে পারেননি। এদিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি আর মূল্যস্ফীতির চাপে পিষ্ট কৃষি শ্রমিকদের মজুরি গত বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। সার, ডিজেল, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে যোগ হয়েছে জমি ইজারার বাড়তি মূল্য। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বৃত্ত ফসল ফলায় যে কৃষক, তারা খুশিতে নেই। এখন তাদের চলছে হতাশার সময়।

এখানে সরকারের কৃষি ঋণ বিতরণ নিয়ে একটু আলোকপাত করা দরকার। গত ২৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সমকালে প্রকাশিত “কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক” শিরোনামের খবরে বলা হয়, অর্থবছরের প্রায় ১০ মাস অতিক্রান্ত হলেও কোনো কোনো ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছেও নেই। এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ব্যর্থ বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলো। একই দিনে আরেকটি খবরও উদ্বেগজনক। সরকার কৃষি খাতে অপেক্ষাকৃত কম হার সুদে ঋণ প্রদানের নীতি গ্রহণ করেছে। পেঁয়াজআদারসুনের মতো কৃষিপণ্য উৎপাদন করায় ঋণ মেলে মাত্র ২ শতাংশ সুদে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ বিতরণকারী ব্যাংকগুলোকে ভর্তুকি দেওয়া হয়। তারপরও কোনো কোনো ব্যাংক অধিক মুনাফার জন্য কৃষি ও অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে ঋণ প্রদানের পরিবর্তে বিলাসদ্রব্য ক্রয়সহ কয়েকটি খাতে অর্থ জোগান দিতে আগ্রহী। অর্থনীতির একটি তত্ত্ব হচ্ছে, যেখানে বেশি মুনাফা সেখানে পুঁজি আকৃষ্ট হয়। অথচ আমাদের কৃষি খাত ও কৃষি ভিত্তিক গ্রামীণ অর্থনীতি যত সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হবে, তাতে যেমন খাদ্যের জোগান নিশ্চিত হবে তেমনি বিপুল সংখ্যক মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বেড়ে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার তাদের নির্দেশনা প্রদান করেই যেন নিজেদের দায়িত্ব শেষ ভাবছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকারের কথা সরকার বলেছে, তা পূরণের লক্ষ্যে সাধারণ চাষীদের নিশ্চিত লাভের ব্যবস্থা করতে হবে। লাভবান হলেই কেবল চাষীরা আরও বেশী ধান আবাদ করবেন। আর লাভের ন্যায্য ভাগ থেকে বঞ্চিত হলে চাষীরা ধান আবাদে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বেন, যার ফলে চাহিদা মেটাতে সরকারকে চাল আমদানি করতে হবে। আমদানি করা পণ্য কম টাকায় খাওয়া গেলেও দেশ হয়ে পড়বে উৎপাদক ও উৎপাদনহীন।

বলার অপেক্ষা রাখে না, এভাবে চলতে থাকলে বোরোর চমৎকার ফলনের কোনো লাভ তো পাওয়া যাবেই না, স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশকে উল্টো আবারও প্রচণ্ড খাদ্য সংকটে পড়তে হবে। চালডাল আর তেলসাবানসহ পণ্যের দাম এমনিতেই মানুষের নাগালের অনেক বাইরে রয়েছে বলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে। ভিজিএফ নামে সরকার যে কার্ড চালু করেছে সে কার্ড শুধু তারাই পাচ্ছে যারা আওয়ামী চেয়ারম্যানদের পছন্দের লোক। মাটিকাটা ধরণের কাজও পাচ্ছে পছন্দের লোকরাই। ওদিকে ফুলে ফেঁপে উঠছে ক্ষমতাসীন দলের পাতিনেতারা পর্যন্ত। এই নেতা, পাতিনেতারা নিত্য নতুন মডেলের মোটর সাইকেলে হাওয়া খেয়ে বেড়াচ্ছে। অনেকে আবার গাড়িও কিনছে!

এখানে মডেল হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার কথা বোলা যায়। ইন্দোনেশিয়া সরকার দরিদ্রদের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্য থেকে বাজারে অংশ নিয়ে থাকে। বাজারে যখন চাহিদার তুলনায় যোগান বেশি থাকে এবং দাম থাকে অপেক্ষাকৃত কম, তখন সরকারের মজুদ গড়ে তোলার জন্য বাজার থেকে খাদ্য ক্রয় করে। আবার বাজারে যখন দাম বাড়তে থাকে তখন তারা এ মজুদ থেকে বাজারে ছাড়ে এবং দামও নির্ধারণ করা হয় বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে। সরকারের হিসাব সোজা। দাম কম থাকার সময় কিনতে হয় এবং বাড়ার সময় বেচতে হয়। এর ফলে বাজার যেমন নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তেমনি সরকারের কিছু লাভও থাকে। এই লাভের অর্থ দিয়েই সরকারের খাদ্যকর্মসূচির আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটানো হয়ে থাকে। এর মধ্যে থাকে গুদামজাত করা ও পরিবহন ব্যয় এবং ব্যাংক ঋণের সুদ পরিশোধ। এ ধরনের বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে খাদ্যের জন্য সরকারের ভর্তুকি পরিমাণও সীমিত রাখা সম্ভব হয়। অথচ, এখানে ক্ষমতাসীন, অথবা বিরোধী দল, বা ভাড়া খাটা বুদ্ধিজীবীদের সকলেই দেখান সিঙ্গাপুরকে মডেল হিসেবে। কিন্তু সিঙ্গাপুর এমন একটা দেশ, যে দেশের মানুষের মানব বর্জ্যটিই (পায়খানা) কেবল তাদের নিজস্ব, অবশ্যই সেখানেও আছে বৈদেশিক খাদ্য পণ্যের ইনপুট। সেই দেশ কোনরূপ উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত নয়, অর্থনীতি শতভাগ আমদানি নির্ভর; তারা সকলের বাজার, কিন্তু তাদের কোন বাজার নেই। যেহারে উৎপাদনমুখী শিল্পগুলো বন্ধ করার অপপ্রয়াস চলমান, বন্দরগুলো ভাড়া দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, বা কৃষিকে ধ্বংসের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে; তার প্রেক্ষিতে মনে হচ্ছে বাংলাদেশই কেবল আরেকটা সিঙ্গাপুর হতে পারে!!

মহাজোট সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্যে ছিল খাদ্যশস্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা। নির্বাচনী ইশতেহারে না থাকলেও প্রচারণায় তারা ১০টাকা সের চাল খাওয়ানোর কথা অনেক অনেকবার বলেছিলেন, যা বাস্তবতা বিবর্জিত ধোঁকাবাজী ভিন্ন কিছু নয়। একই সঙ্গে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যমান কর্মসূচিগুলো অব্যাহত রাখা এবং আরও সম্প্রসারণের কথাও বলা হয়। ২০০৮ সালের সর্বশেষ কৃষিশুমারি অনুযায়ী, দেশের এক কোটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক। সাধারণত বছরের শুরুতে তাঁরা উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক বিক্রি করে কৃষি উপকরণের দাম শোধ করে থাকেন। মানে, যখন দাম কম থাকে তখন তাঁদের ধান বিক্রি করে দিতে হয়। পরে বছরের শেষ দিকে গোলার ফসল শেষ হলে তাঁরা আবার বাজার থেকে চাল কিনে খান। তখন চালের দাম সবচেয়ে বেশি থাকে। ধানের দাম কমে আসায় ওই এক কোটি ক্ষুদ্র কৃষক ও তাঁদের পরিবারের পাঁচছয় কোটি সদস্য বিপদে পড়বেন বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। ধানের ন্যায্য মূল্যের সঙ্গে এক কোটি প্রান্তিক কৃষকের খাদ্য নিরাপত্তা যুক্ত। তাঁরা লোকসানে ধান বিক্রি করেন। আবার বেশি দামে চাল কিনে খেলে তাঁদের খাদ্য বাজেটের বড় অংশ শুধু চাল কেনা বাবদ চলে যায়। ফলে অন্য পুষ্টিকর খাদ্যের পেছনে তাঁদের ব্যয়ের সামর্থ্য কমে আসে। এতে তাঁদের পুষ্টিহীনতা আরও বেড়ে যাবে। অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞ মতে এই পরিস্থিতি থেকে প্রান্তিক চাষিদের রক্ষা করতে হলে সরকারের উচিত অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে কমপক্ষে ১৫ লাখ টন ধানচাল কেনার উদ্যোগ নেওয়া।

প্রশ্ন হল সরকার কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য চাহিদা বিবেচনায় রেখে কি সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরাসরি কৃষক পর্যায়ে ধান সহ অন্যান্য কৃষি পণ্য সংগ্রহ করে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে পারে না? একটি সমন্বিত কৃষি বাজার ব্যবস্থাপনার দ্বারা সরকার কি ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে পারে না? উত্তরে বলবো না। সরকার কৃষক পর্যায়ে ধান কিনে না তার অন্যতম কারণ হলো, এতে ক্রয় ও সংরক্ষণের ঝামেলা অনেক বেশী ও সেইসাথে আছে খুবই দুর্বল ব্যবস্হাপনা কৌশল। তদুপরি পুঁজিবাদী আমলাতান্ত্রিক সরকারের মানসিকতা কখনই কৃষকের পক্ষে থাকে না । তাই তারা চাল কিনে মধ্য স্বত্বভোগী আড়ৎদার, রাইস মিলচাতাল থেকে যারা আবার প্রয়োজনে সরকারকে জিম্মি করে নিজেদের লাভের অংক বাড়িয়ে নিতেও দ্বিধাবোধ করে না। আবার আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদী সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া প্রায়শই দীর্ঘায়ত হয়, কখনও কখনও থাকে জটিলতা এতে বাজারে আরও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। মোটের উপর এবারও লক্ষ্যমাত্রা অপূর্ণ রেখে চাল কিলনেও লোকসান যাবে কৃষকের ঘরে, বাড়তি দাম আর ভর্তুকি যাবে জনগণের ঘাড়ে মাঝে লাভ হবে মধ্যস্বত্বভোগী আড়ৎদার, রাইস মিলচাতালওয়ালাদের । সরকার এখানে ফড়িয়াদের লাভের অনুঘটক।

তাই বিগত বছরগুলোর চিত্র ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে মধ্য স্বত্বভোগী আড়ৎদার, ফড়িয়া, রাইস মিল এবং সর্বোপরি ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠি কৃষকের রক্ত চুষে খাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে পুরোপুরি পরিত্রাণ বাংলার কৃষক তখনই পাবে, যখন একটি কৃষক বান্ধবমেহনতি সর্বহারা মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।।

 

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s