লিখেছেন: আহমদ জসিম

বাঁশ এক প্রকারের বৃক্ষ বিশেষ, হাজার বছর ধরে এই বৃক্ষরে নানাবিধ ব্যবহার মানবকূলে বিদ্যমান। এই বাঁশ বৃক্ষ নিয়ে বাঙলা ভাষায় আছে নানা প্রকারের প্রবাদপ্রবচন। এমনই এক প্রবাদ হচ্ছে ‘বাঁশ দেওয়া’। যার সোজাসাপ্টা বাংলায় অর্থ দাঁড়ায় ‘নিদারুণ আনিষ্ট করা’। সোহেল তাজ, যিনি তাজউদ্দিনের পুত্র। আওয়ামলীগের টিকেটে গাজিপুর থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রি হিসেবে দায়িত্ব পালনের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রীপদ থেকে পদত্যাগ করে পুরো জাতিকে এক বিস্ময় উপহার দিয়েছেন।

এই পোড়া দেশ, এই পোড়া জাতি। যে দেশের বেহায়া নির্লজ্জ শাসক শ্রেণীর নেতারা দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হলেও বত্রিশপাটি দাঁত বের করে হাসতে হাসতে জেলে যায়। জেল থেকে বেরিয়ে দিব্যি ভুলে যায় তাদের অতীতের কথা, যে দেশের প্রধানমন্ত্রী কালো টাকা সাদা করে বলে, ‘কই আমিতো করি নাই!’ যে দেশে নেতারা ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে পৈত্রিক সম্পদের মতো করে সেই দেশের একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ সত্যিই বিরল ঘটনা বটে। সর্বশেষ তিনি পদত্যাগ করলেন তার সংসদ পদ থেকেও। পদত্যাগের ব্যাপারে তার নির্বাচনী এলাকার জনগণকে দিয়ে গেলেন একটা খোলা চিঠি। ধোঁয়াশাময় এই চিঠিতে পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করে বলেছে, দলদেশজাতির স্বার্থে সবকথা বলা যাবে না।

তিনি যে তিনটা স্বার্থের কথা বলেছেন তিনটার স্বার্থ ভিন্ন ভিন্ন ও স্বতন্ত্র। তিনি দল বলতে নিজের দলের কথায় বলেছেন, উনার দল আওয়ামীলীগ, আওয়ামলীগের মতো সাম্রাজ্যবাদের মদদপুষ্ট, ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের দালালরা যে স্বার্থের পাহারা দেয় এটা সম্পূর্ণ দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে। আবার যখন জাতির স্বার্থের কথা বলছেন, জাতিতো শ্রেণী নিরপেক্ষ নয়। একদিকে, আছে দরিদ্র নিপীড়িত খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ যারা সংখ্যায় শতকরা ৯৫ ভাগ। অন্যদিকে, আছে জোতচোর সামরিকবেসামরিক আমলা, সাম্রাজ্যবাদের মদদপুষ্ট বুর্জোয়া রাজনীতি লুটেরা ব্যবসায়ী ও তাদের চাকরচাপরাসি। যারা সংখ্যায় শতকরা ৫ ভাগ। আপনি জাতির কোন অংশের পক্ষে?

লেনিন বলেছেন, বুর্জোয়া সংসদ শুকরের খামার। আমাদের দেশের বুর্জোয়া রাজনীতির অভিজ্ঞতা বরং আরো ভয়াবহ। আমরা বলতে পারি, বাংলাদেশের সংসদ আদপে চোর, দুর্নীতিবাজ, খুনি, লম্পটদের আখড়া। যেখানে যুবতীর গলিত লাশ পাওয়া যায়। যেখানে জয়নাল হাজারি, হাজ্বী সেলিম, : ইকবাল, ইলিয়াস আলী, কায়কোবাদ, পিন্টুদের মতো সন্ত্রাসের গড ফাদারের আখড়া। ফালু, হারেছ চৌধুরীদের মতো দুর্নীতিবাজদের আখড়া। সেই সংসদ থেকে সোহেল তাজের পদত্যাগ কোন শর্তে, কার স্বার্থে?

আমরা সিদ্ধান্ত জানার জন্য উদ্বিগ্নতার সাথে অপেক্ষা করছি। কারণ, এই নৈরাজ্যিক পুঁজিবাদী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নিপীড়িত জনগণের ক্ষোভে ক্রমশ জমাট বাঁধছে। সম্ভাবনা জেগে উঠছে জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের। অপর দিকে, সাম্রাজ্যবাদের মদদপুষ্ট সুশীল বুদ্ধিজীবী, কর্পোরেট মিড়িয়া আজ ঘাটছাঁড়া বেঁধে নেমেছে, এই নৈরাজ্যিক শাসন থেকে জনগণের ক্ষোভকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে সুশৃঙ্খল শোষণের মাধ্যমে পুঁজিবাদ টিকিয়ে রাখতে। তারা এই প্রক্রিয়ার নাম দিয়েছে তৃতীয় শক্তি। সোহেল তাজ যে মহান মানুষের ঔরশে জন্ম হয়েছে, সেই তাজউদ্দিনের ইতিহাস তাজের অজানা থাকার কথা নয়। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছিলেন বলে, দেশের অর্থনীতিকে নিজস্ব শক্তির উপর দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন বলে, তাজউদ্দিন তার দল কর্তৃক কেমন নিগৃহীত হয়েছিলেন। সোহেল তাজও কী তবে তার পিতার মতো সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরোধিতা করতে পারবেন? আমরা বলি, যদি সাহস থাকে আপনার নির্বাচনী এলাকাবাসীকে নিয়ে জনগণের কাতারে এসে দাঁড়ান। এদেশের সম্পদ, আকাশ, বাতাস সমস্ত কিছু আজ সাম্রাজ্যবাদসম্প্রসারণবাদের কবলগ্রস্ত। আমরা সংগ্রাম করছি জাতীয় সম্পদ রক্ষার জন্য, আপনি আমাদের কাতারে এসে দাঁড়ান। তবে জনগণ আপনাকে মাথার তাজ বানিয়ে রাখবে। আমরা বলবো কমরেড সোহেল তাজ জিন্দাবাদ। আর যদি সুশীল ও কর্পোরেট বুদ্ধিজীবীদের সেই তথাকথিত তৃতীয় শক্তিতে যুক্ত হন। তবে মনে রাখবেন, নিক্ষিপ্ত হবেন ইতিহাসের আস্তাকুড়ে। জনগণ বলবে সোহেল তাজ মুর্দাবাদ, আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি কী জাতির বাঁশ হবেন, না তাজ হবেন??

 

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s