বিপ্লব

জেগে ওঠ তুই সুপ্ত তন্দ্রা ছেড়ে,

চেয়ে দেখ চারিদিকে বইছে রক্তগঙ্গা।

জল্লাদের হাতে চকমকে তরবারি,

জীবন্ত মানুষের রক্ত চুষছে হায়েনা।

বর্গিরা আবার ফিরে এসেছে,

শুনছি নীলকরদেরও পদধ্বনি।

স্বাধীনতা আবার বিলীন হতে বসেছে,

প্রেতাত্মারা হয়ে উঠেছে নয়নের মনি।

রক্তের ছাপে ছেয়ে যাচ্ছে আজ,

তোর শ্যামল বাংলার মাটি।

তোর মাংস ছিঁড়েই কাবাব বানিয়ে,

আয়েশে খাচ্ছে দুই কুটনি বুড়ি।

ঢাকা পড়ে গেছে মানবতা,

থেমে গেছে কানুনের জয়রথ।

এ বাংলায় এখন শোষণ চালাচ্ছে,

ডাইনীরূপি ষাটোর্ধ দুই বজ্জাত।

ঘুমের ঘোরে আর কাটবে তোর কত কাল?

এবার নিদ্রা ভেঙে বিপ্লবকে বুকে টেনে নে।

শক্তিসাহসের অসীম জোয়ারে তুই,

সকল অন্যায়কে বন্যায় ভাসিয়ে দে।

সবাক মানুষগুলো আজ নির্বাক হয়ে,

তাকিয়ে আছে তোর পথপানে।

উঠে আয় তুই প্রলয় হয়ে,

তাণ্ডব চালিয়ে যা এ মহাশ্মশানে।

ভেঙেচুরে সব চুরমার করে দিয়ে যা,

এ হায়েনা আর শুয়োরের আস্তাকুড়।

নতুন করে গড়ে দিয়ে যা তুই,

মনুষ্য বসতির ঘর।

(রচনাকাল: ০৯ এপ্রিল ২০১২, বিকাল ৫টা, কলকাতাভারত, হোটেল আফসা, কক্ষ নং৩০২)

—————————————————–

জীবনের টালি খাতা

জীবনের টালি খাতার হিসেব মিলিয়ে দেখি

প্রাপ্তিঅপ্রাপ্তির মধ্যে বিস্তর ফারাক।

মাতৃক্রোড়ে রয়েছে অপরিশোধযোগ্য ঋণ,

বাকী দুনিয়ার কাছে আমি বিশাল পাওনাদার।

পেটটাকে আমি পিঠে বেধে নিয়েছি,

চুলোয় চড়ছে নাকো হাড়ি।

ঋণের বোঝায় ধুঁকছি অবিরাম,

কর্জ বিনেই আজ আমি ঋণের ফেরারি।

আমার কাছে রাষ্ট্রের ছিল যত পাওনা,

সবটুকুর শোধ আমি দিয়েছি নিয়মিত।

প্রতিদানে রাষ্ট্রের কাছে ছিল অনেক পাওনা,

কিছুই তার পাচ্ছিনা আমি, ঠকছি অবিরত।

যে কার্তুজ আমি কিনেছিলাম,

আমায় রক্ষার তরে।

সে কার্তুজে কারা যেন মেতে উঠেছে,

আমারই প্রাণ সংহারে।

খাজনার পিঠে খাজনা চাপছে,

চলছে মিথ্যের পিঠে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি।

খাজনাকে এখন আর খাজনা বলিনা,

এটা হয়ে গেছে এখন রাষ্ট্রীয় চাঁদাবাজি।

এ রাষ্ট্রকে আমি রাষ্ট্র বলিনা,

এটা মস্তবড় কয়েদখানা।

কয়েদি হচ্ছে ১৬ কোটি,

যার সুবিধাবাদী প্রহরী মাত্র কয়েকজনা।

দেনাপাওনার সকল হিসেব চুকিয়ে,

তবেই আমি হব পরবাসী।

আপোষে আমার পাওনা না পেলে,

আমিই হব চরম সর্বনাশী।

তোদের দুয়ারে লাথি মেরেই,

ছিনিয়ে নেব ভাতের থালা।

মানচিত্রকেই খাদ্য বানাব,

পতাকা হবে দেহের মালা।

(রচনাকাল: ১২ এপ্রিল ২০১২, ব্যাঙালুরভারত, রাত ১০টা, হোটেল কন্টিনেন্টাল, রুম নং৫০৭)

———————————————————

আপন স্বর্গ

স্বর্গের পানে চেয়ে আছ তুমি,

স্বর্গ এসে দেবে ধরা।

অলস হৃদয়ের এ ভাবনাই,

তোমায় করেছে সর্বহারা।

কাহার পানে চেয়ে আছ তুমি,

কাহার স্বর্গের আশায়?

তোমার স্বর্গ তুমি গড়িয়া লও,

থাকিওনা অন্যের প্রত্যাশায়।

আজকে যাহাকে নরক ভাব,

কাল হবে তা স্বর্গ তোমার,

যদি আলস্যের বৃত্তকে তুমি,

কর্ম দিয়ে করিতে পার জয়।

উর্বর জমিনে ফসল ফলে,

ফলায় সকল জনা।

রুক্ষ ভূমিকে জয় করে তবে,

ফসল ফলিয়েছে ক’জনা?

কেন তুমি হাজারে হারাবে,

কেন হবে স্বর্গ খোঁজা পথচারী?

কর্মগুনে হয়ে ওঠ তুমি,

লাখে হওয়া একজন আলোর দিশারী।

দূর কর মনের সকল সংকীর্ণতা,

ঝেড়ে ফেল আলস্য আর ভয়।

কর্মকে তুমি ধর্ম ভাব,

হবে আপন স্বর্গের জয়।

(রচনাকাল: খোন্দকার সোহেল, পটুয়াখালী, ২৮ মার্চ ২০১২, বুধবার, দুপুর ১২টা)

——————————————————-

ওগো বধূ অভিমানী

শয্যাপাশে চেয়ে দেখি বধূ তুমি নেই,

আমার পরানের পরান তুমি গেলা কই?

যে বাঁধনে বেঁধেছিলে ভালবাসার তরে,

সে বাঁধন আজি ছিন্ন হল কি করে?

অবাধ্য এক জীবনে ছিলাম ছন্নছাড়া,

উগ্রতা আর হতাশায় ছিল শুধু ভরা।

তুমি এলে দিশারীরূপে হয়ে আলোর রথ,

বদলে গেলাম আমি বধূ, পেলাম সরল পথ।

তুমি ছিলে সোহাগী হয়ে আমার পরাণে,

ভালবাসায় টইটুম্বুর ছিলাম দুজনে।

হঠাৎ কোথা হতে কি হয়ে যে গেল,

স্বপ্নিল এ হৃদয় ভেঙ্গে চুরমার হল।

এতসাধে গড়া মোদের সাজানো সংসার,

আজ কেন তা ভেঙে যাবে, বধূ হে আমার?

জানি তোমার অভিমান মোর ভালবাসা নিয়ে,

বিশ্বাস কর, বধূ তোমায় ভালবাসি অন্তর দিয়ে।

যে ভালবাসা মোর হৃদয়কে কাঁদায়,

মুখে না প্রকাশেই কি তা পূর্ণতা হারায়?

যদি তুমি বল বধূ হবো তোতা পাখি,

ভালবাসি বলে শুধু করব ডাকাডাকি।

সোনা নয়, রুপা নয়, নয় গজমতির হার,

চাও তুমি ভালবাসা; দেব লক্ষকোটি বার।

(রচনাকাল ও স্থান: ব্যাঙ্গালুরভারত, ১১ এপ্রিল ২০১২, রাত্র ১২টা, হোটেল কন্টিনেন্টাল, কক্ষ নং৫০৭)

——————————————————–

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s