লিখেছেন: অবিনাশ রায়

সুখ হারা কারো দুখদূষিত হৃদয় ধুয়ে, দিয়েছে বিশ্ব ভিজায়ে,

শুধু শব কবরের পাশে শুকনো বালি দেখে, দিয়েছিলাম উড়ায়ে।।

হয়তো বালি কণা কারো চোখের যাতনা হয়ে, ক’ফোটা জল ঝড়িয়ে

ধুলি মাখা এপিটাফের গা গড়িয়ে, গোড়ায় জন্মে থাকা গুল্মের মূলে

চলে গেল; শব সারে বেড়ে ওঠা মৃতজীবী, মৃতের নতুন প্রাণ।

তার আহ্বান; ফিরে আসা প্রিয় হারা কারো ভালোবাসা প্রদান।

তার আহ্বান; ক্ষুদ্র বৃক্ষকে দুঃখ দিতে ছোট কীট পতঙ্গের খাদ্য ভাণ্ডার তার সবুজ দেহ,

খুঁটে খুঁটে খাদ্য সংগ্রহে ব্যস্ত পতঙ্গের দল,

পার্থিবের অপার বাস্তবের বুকে বিচরণ কালে যেমন, খুঁটে খুঁটে খেয়েছে মন ঘুন পোঁকা,

বোকার মত শব ছদ্মবেশে কবরে আশ্রয় তার,

তবুও মেলেনি নিরব নির্ঝরনিস্তার,

তার আহ্বান; শব শায়িত সারির উপর অঝর বর্ষণ, দিয়েছে শ্মশান ভিজায়ে,

শুধু শব কবরের পাশে শুকনো বালি দেখে, দিয়েছিলাম উড়ায়ে।।

– – – – – – – – – –

হয়তোবা সবুজ ঘাস জন্মেছিল সারা শ্মশান জুড়ে,

ঝড়ো হাওয়ায় প্রিয় হারা শবশোণশিতল শিহরণ থেকে প্রাণ এসেছিল উড়ে;

কিংবা কারো গাঢ় বেদনার আবেদন প্রত্যাখ্যান,

ক্ষণিক স্হগিত হৃদপিণ্ডের হৃদদ্বার দিয়ে রক্ত ক্ষরণ

হারানো প্রাণগন্তব্যহীন বাতাসে বাতায়ন হয়ে, মিশিয়ে দেয় মেঘ কন্যার কান্না মেশানো

বিক্ষিপ্ত ক্ষিপ্র মাতাল উতাল কাল জড়াহীন ঘূর্ণি ঝড়ের ঝড়ে,

ঝরে পরে সব শব কবরের উপড়ে।

স্পন্দন হীন ঘাসের কচি ডগায়, ক্ষণে ক্ষণে মন্দন

হয়তো ঝরে পরা প্রাণের স্পন্দন।

রক্ত রূপান্তরিত সবুজ রসে, মাঝে মাঝে কেউ আসে মিথ্যে ভালোবেসে;

কখোনো পূজা, বেঁচে থাকতে দেয়া বেঁচে থাকা মৃতের সাজা,

প্রার্থনার দু’হাতে আজলা ভরে নোনা জল ঢেলে,

মিষ্টি বৃষ্টির পানির গুল্মেনোনা যাতনা মিলে।

শত জ্বালা নিয়ে ঘাসগুল্ম হয়ে, অভিনয়ে কান্না ও মেঘ কন্যা দিয়েছে নতুন প্রাণ ফিরায়ে,

শুধু শব কবরের পাশে শুকনো বালি দেখে, দিয়েছিলাম উড়ায়ে।।

– – – – – – – – – –

নিঝুম নিশির শিশির বিন্দু জমে ঘাসগুল্মের পাতায়,

পার্থিবে বিচরণ কালে যেমন শুভ্র কুয়াশা পরশ বুলিয়েছিল তার গায়;

ভোরের সূর্য ঘোর লাগা শব শরীরের উপর ছড়ানো সবুজ চাদরে ছড়ায় প্রথম আলো,

নির্দেশ; ঘাসগুল্মের পাতার ডগায় মুক্ত মনের দুখের মনি জ্বালো;

একদিন পার্থিবে কারো গালে গলিত জ্বলন্ত হৃদপিণ্ডের এক অপার্থিব খন্ডজ্বলেছিল যেমন।

শূন্যতা ঘিরে এসেছিল সেদিন, প্রথম প্রহরে, বেদনার আদরে আদ্রিত

ঐখণ্ডটি এখোনো জ্বলে শত শবের শূন্যতার একমাত্র পূণ্য পূর্নতার মত।

সবুজের সৌন্দর্য সেদিন সবটুকু উপলব্ধি করেছিলাম।

যেমন ভাবে কারো উষ্ণ হৃদয়কে করেছিলাম আগে, বহু আগে

ভাবি, মুছে যাওয়া মৃত সময় যদি আবার জাগে,

সবুজের মধ্যে ফিরে পাওয়া জীবনের আনন্দ মৃত শবের মত,

আবারও আত্মস্হ করতে পারি যদি… – গুল্ম ডগায় জ্বলে থাকা মন মণির মত

শত শত প্রাণের পুণঃজীবনের পুরস্কার স্বরূপস্বপ্নের মূর্ছা যাওয়া সময় যদি জাগে,

সূর্যের উত্তাপে শত শত শিশির ঝরে পরে পাতা গড়িয়ে ডগা থেকে গোড়াতে,

কিংবা, সময়ের তাড়ণে ভিন্ন সময়ে প্রাণের বেদনে শূন্যতা সারা শ্মশান জুড়ে

শূণ্য শত শবের প্রাণ জুড়িয়ে

শ্মশান ভূমে শিশির পতনে: শব দেহের ধুলি জুড়ায়ে, তারে প্রাণ ফিরায়ে দিয়ে,

শূণ্যতা শবের শূন্য হৃদয় দিয়াছে বাজায়ে

শুধু শব কবরের পাশে শুকনো বালি দেখে, দিয়েছিলাম উড়ায়ে।।

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s