লিখেছেন: অবিনাশ রায়

পতাকাটি উড়ছিল,

ছাঁদের উপর

ছেঁড়া তবুও অবিরাম উড়ছিল;

উড়ছিল বাতাসের তাড়নে,

সর্বোচ্চে ঠেলে দেয়ার কারণে।

দূষিত বাতাস, কালো আকাশ,

কলঙ্কিত সূর্য, কিরণে বজ্র,

ক্রমাগত আঘাত হানে, বানে ভাসায়, তানে ফাঁটায়;

লালসবুজের নির্জীব নিশান,

নিরব ধৈর্য্যে সহে সে বাণ।

পতাকা, দুঃখে চিরে যায় অন্তর;

দেখে, জাতের নয়, জাতির দশা।

আশা বড় আশা,

উজ্জল লালসবুজের পতাকা।

হ্যাঁ, পেয়েছি পতাকা, জাতির নিশান,

অমিত প্রাণের অবসান,

সাগরের কর, রক্ত নদীর দান;

তবেই না আজ এই বাংলার নিশান।

এই কি সেই নিশান?

জবাব দাও, খাঁটি বাংলা মায়ের সন্তান!

এই কি তার মান, উড়ে মানদণ্ডে?

বড় দুঃখ হয়,

আজো চোখ মেলতে লজ্জা করে, দৃষ্টি ধাঁধিয়ে যায়;

দেখতে পারি না নিজ জন্মদাত্রী মাতাকে, মাতৃভূমিকে;

আকুল আমি ব্যাকুল হয়ে চোখ মেলি

ক্ষণিক নিজ অস্তিত্ব সম্বন্ধে সন্দিহান;

একি, একি মাতৃভূমি?

একি নিজ সন্তানের রক্তে ভেজা বাঙলা?

একি সেই মাতা, যার দু’শ ত্রিশ কান্নার ধারা গড়েছে উ্ত্তাল অর্ণব?

কে দেবে উত্তর?

আজ জাতির পতাকা চরম অবমাননায়, মানদণ্ডের চূড়ায়, ক্ষতবিক্ষত;

নির্দেশ জাতির দূর্দশা;

উপহাস কবির দিকে,

দ্যাখ্ চেয়ে, জাতীয় পশু, রাজকীয় বাংলার ব্যাঘ্র নয়, উট;

জাতীয় পাখি প্রভাত ফেরির দোয়েল নয়, শকুন;

ওরা ব্যস্ত নদীর জল শুষে নিতে, থাবায় সোনার ইলিশ;

জাতীয় মাছ, ইলিশ নয়, হাঙর;

সাগর থেকে নদীতে জাতিকে ধ্বংস করবে বলে।

নদীর পিরানহা’রা ঝাঁক বেঁধে ডাঙায় উঠেছে,

জাতিকে কঙ্কাল সর্বস্ব করবে বলে।

সূর্য কিরণ ঝলসে জাতিকে, মেঘ হানে বজ্র;

নিমিষে কয়লা বন বৃক্ষ;

ত্রিশূল বুক চিরে দেবে মায়ের বুকের সন্তানকে,

সাইফুল্লাহ্ কোরবানি দেবে মায়ের কোলের সন্তানকে,

দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করবে মানবমুণ্ডু;

ক্রুশ বিদ্ধ হয়ে মায়ের বুকের সাথে শায়িত কোটি কোটি সন্তান।

রক্তের নদে হাঙর!

মৃতের দেহে শকুন!

মরুর খোঁজে উট!

মানব দেহের কঙ্কাল তৈরিতে ব্যস্ত ডাঙার পিরানহা!

অনুভূতি গুলো ভোঁতা হয়ে আসছে, তাকাতে পারছি না,

রক্ত চক্ষু জ্বলছে,

তার চেয়ে বেশি জ্বলছে বুকের ভেতর অনল, অনির্বাণ অগ্নি!

ছটা ছটা কষ্ট, ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কাঁটা, বুকের ভাটায় ফাঁটা;

পতাকা, নির্জীব নিশানী, বলছে আমায় সবখানি,

শুনেছি আমি, বলছি তোমায়;

কেউ শুনেনি পতাকার কথা, তাকায় নি কেউ ফিরে;

পতাকাটি উড়ছিল,

ছাঁদের উপর

ছেঁড়া তবুও উড়ছিল বাতাসের তাড়নে,

মানদণ্ডের সর্বোচ্চে উড়িয়ে দেবার কারণে!

মানের বদলে অবমাননার জন্যে, শুধুই উড়ছিল, বাতাসের তাড়নে,

মনের ব্যাথা বলবার টানে, কবির কানে;

ভাসাতে কথা কবিতার বানে,

জনতার প্রত্যেকটি উচ্চারণে!

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s