অনুবাদ: সিয়াম সারোয়ার জামিল

কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টোর দেড়শবছর পূর্তি উপলক্ষে এই ঐতিহাসিক নিবন্ধটি চৌদ্দ বছর আগে লিখিত হয়েছিল। এরপর এটি পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন দেশে প্রকাশিত হয়েছে।

এটি কমিউনিস্ট আন্দোলনের শুরুর দিকে কমিউনিষ্ট তাত্ত্বিকতা এবং দু:সাহসী বিপ্লবের গল্প। বিপ্লবের এই তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক অনুশীলন তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে নতুনদের উদ্বুদ্ধ করার দায়িত্বটা আমাদের সবাইকেই হাতে তুলে নিতে হবে।

(সম্ভবতঃ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এটি অনূদিত হলোপ্রকাশক)

ব্রাসেলসে আটক কার্ল মার্কস

ব্রাসেলসে আটক কার্ল মার্কস

১৮৪৮ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারীতে লন্ডনের বিশপগেটে অবস্থিত একটি ছোট মুদ্রণ যন্ত্রে কমিউনিস্ট ইশতেহার ছাপা হয়েছিল। জার্মান ভাষায় লিখিত এই পুস্তিকাটির নাম দেত্তয়া হয় Manifest der Kommunistischen Partei”

প্রকাশের পরই ইউরোপে বইটি নিষিদ্ধ করা হয়। নানা রকম জটিলতা সৃষ্টিসরকারি দমনের পরও এটি ছড়িয়ে পড়ে। ঐসময় বিপ্লবী কর্মীদের ছোট একটি দল একটি বড় রকমের ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করছিল, যা তাদের আন্দোলনকে বিপ্লবী রূপ দান করবে।

এই বইয়ের একটি লাইনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়া হয়েছিল:

ইউরোপে ভূত নেমেছেকমিউনিজমের ভূত, যা ইউরোপ চষে বেড়াচ্ছে। ইউরোপের ক্ষমতাবানরা জোট বাঁধতে শুরু করেছিলযাতে সাম্যবাদ ই্উরোপে ছড়িয়ে পড়তে না পারে। এটি কমিউনিষ্টদের পৃথিবীর সামনে আসার জন্য উপযুক্ত সময় ছিল। একইসাথে নতুনদের সামনে পার্টির মাধ্যমে একটি ম্যানিফ্যাস্টোতে তাদের নীতি, তাদের লক্ষ্য, তাদের রাজনৈতিক ধারা প্রকাশের সুযোগ এসেছিল।”

এই কাজটি দ্রুত ইউরোপ এবং আমেরিকার অনেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ইংরেজিতে যা “কমিউনিস্ট ম্যানিফ্যাস্টো” হিসাবে পরিচিত। ১৮৫০ সালে প্রকাশিত এর প্রারম্ভিক ইংরেজি সংস্করণে অচেনা লেখক হিসেবে প্রথমবারের জন্য তালিকাভুক্ত হন কার্ল মার্কস ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলস।

দুনিয়ার অসংখ্য মূল্যবান নথিপত্রদলিলসংবিধান মানুষ ভুলে গেছে ভুলে যাচ্ছে অনবরত, গ্রন্থাগারের আর্কাইভে ধূলোর স্তর জমছে। কিন্তু কমিউনিষ্ট ম্যানিফেস্টো বস্তিজঙ্গল থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সর্বত্র চর্চ্চিত হয়ে আসছে এবং এখনও এটি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে বিপ্লবের দীক্ষা দিয়ে যাচ্ছে।

কমিউনিস্ট মানিফেস্টো, আধুনিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের স্বপ্নদর্শী প্রতিষ্ঠাতা নথি। কিভাবে তা আসলো তা নিম্নে তুলে ধরা হলো।

***********************************************

তন্দ্রা থেকে সিংহের মত জেগে ওঠো

অসংখ্য শেকল ঝেড়ে ফেলো শিশিরকণার মত

যা ঘুমের মধ্যে তোমার উপর পতিত

তোমরা হয়ত অনেক, তারা গুটিকয়েক!”

ম্যানচেস্টারের শ্রমিকদের সম্মানে পারসি শেলী, ১৮১৯ সালে যারা সরকারী সৈন্যদের হামলার সম্মুখীন হয়েছিলেন।

১৮৪০ সালের মাঝমাঝি সময়ে কমিউনিস্ট আন্দোলনে একটি ইশতেহারের খুব প্রয়োজন অনুভব করেন বিপ্লবীরা। সমাজের দ্রুত পরিবর্তন এবং পুরাতন বিপ্লবী তত্ত্বগুলোর কপি এবং ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লব থেকে অভিযোজিত করে যে তত্ত্ব তৈরি করা হয়, তাতে তারপর আর পরিবর্তন করা হয়নি।

কিছু কারণে ঐ অবস্থায় বিপ্লবীরা কঠিন সময় অতিক্রম করছিল। ফরাসি বিপ্লবের পতন ঘটেছিল বিশ্বাসঘাতকতার কারণে। ফ্রান্সের সংসদ সিনেটে এক আইন পাশের মধ্য দিয়ে নেপোলিয়ান বেনাপোর্ট সেদেশের সম্রাট হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরফলে ফরাসী বিপ্লবের ১৫ বছর পর ফ্রান্সে আবারও রাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। অবশ্য ১৮১৫ সালে ইউরোপের সম্মিলিত বাহিনীর সাথে যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর নেপোলিয়ান বিতাড়িত হন এবং রাজতান্ত্রিক যুগের অবসান ঘটে।

এরপর প্রতিক্রিয়াশীল নীতি গ্রহণের ফলে দেশটির অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করা হয়। ইংল্যান্ডের বিভিন্ন রাজ্যের শিল্পখাতেও অভাবনীয় পরিবর্তন সাধিত হয়। শিশুযুবকরা সপ্তাহে ৬০৭২ ঘন্টা করে কাজ করে। কৃষির উপর ক্যাপিটালিস্টদের চাপ বাড়তে থাকে। এদের মধ্যে কিছু অংশ আধুনিক সর্বহারায় পরিণত হয় এবং সেখানে একটি নতুন বিপ্লবের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

১৮৩০ সালের জুলাইয়ে, প্যারিসের পথে পথে যুদ্ধের দামামা চলতে থাকে।

১৮৩১ সালে লিয়ঁ শহরের রেশম তাঁতীরা তাদের কারখানা থেকে গাইতে গাইতে বেরিয়ে আসে:

যখন আমাদের শাসন আসবে

তখন তোমাদের শাসন শেষ হবে

তারপর আমরা পুরাতন পৃথিবীর কাফন বুনব

শুনো! বিদ্রোহ চলবেই”

এর দশ বছর পর, ভয়াবহ খাদ্যাভাব দেখা দেয়, একে “চল্লিশের মন্বন্তর” বলে আখ্যায়িত করা হয়। এইসময়, কিছু তরুণের র‍্যাডিক্যাল ফোর্স এক নতুন রাজনৈতিক আন্দোলনের সূচনা করে, যাকে “কমিউনিজম” বলে আখ্যায়িত করা হয়। কমিউনিষ্টরা সম্পদের মালিকানা রাষ্ট্রের হাতে ছেড়ে দেয়ার মাধ্যমে শ্রেণী বিলোপের কথা বলে। এই প্রারম্ভিক “কমিউনিজম” ছিল উজ্জ্বল অর্ন্তদৃষ্টি, অবাস্তব, “কাল্পনিক” শুভেচ্ছা এবং সাহসী কাজের একটি সংমিশ্রণ। গোড়ার দিকে কমিউনিস্টরা মনে করতেন সহিংস উপায়ে পুরাতন ব্যবস্থাকে উপড়ে না ফেলেও মানবতাবাদের উন্নীতকরণের মাধ্যমেই কমিউনিস্ট আন্দোলন সফল হতে পারে! বা, ক্ষুদ্র পরিকল্পনাও সমাজ পরিবর্তন করতে পারে, কোন রকম গণভিত্তি ছাড়াই!

ধীরে ধীরে এই পরিকল্পনা এবং পদ্ধতিতে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। ঠিক তখনই দুই তরুণ জার্মান বিপ্লবীর যৌক্তিক ও বৃহৎ নতুন বিশ্লেষণ সবাইকে উদ্বুগ্ধ করে। কার্ল মার্কস ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলস কমিউনিষ্ট আন্দোলনকে পূর্নাঙ্গ তাত্ত্বিক ও বাস্তব ভিত্তি দান করতে ব্রাসেলসে যৌথভাবে কাজ করতে থাকেন। এরপর তারা নতুন বিশ্লেষণ দান করেন। তাদের জোরালো অংশগ্রহণ কমিউনিষ্টদের শক্তিশালী অবস্থান নিতে সাহায্য করে।

কার্ল মার্কস ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলস

কার্ল মার্কস ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলস

কার্ল মার্কস, ১৮১৮ সালে তার জন্ম। তিনি সেই সময়ের বিভিন্ন বিপ্লবী তত্ত্ব এবং সমসাময়িক দর্শন হতে জ্ঞান লাভ করেন। “রিনিশে জিটাঙ” নামক একটি প্রগতিশীল পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কার্ল মার্কস রাজনৈতিক বিষদ বিশ্লেষণ এবং সেসময়কার দ্বন্দ্ব সম্পর্কে বিশেষতঃ জার্মানির একটি নদীর উপত্যকায় অবস্থানকালে বিশ্লেষণ শুরু করেন। এক পরিচিত তরুণ মার্কস সম্পর্কে লিখেন

উদ্ধত, ক্ষিপ্র, আবেগী, সীমানাহীন আত্মবিশ্বাসে পূর্ণ, কিন্তু একই সময়ে গভীরভাবে আন্তরিক এবং শিক্ষণীয়, একটি অক্লান্ত প্রাণস্পন্দন।”

১৮৪৩ সালে “রিনিশে জিটাঙ” পত্রিকায় তাঁর বিশ্লেষণগুলো ছাপার পর পত্রিকার প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আসে; মার্কস নির্বাসিত হয়েছিলেন ফ্রান্সে, যা ছিল ইউরোপে বিপ্লবের কার্যকলাপের কেন্দ্র।

এঙ্গেলস, ১৮২০ সালে তার জন্ম, তিনি ছিলেন এক শিক্ষিত ধনী জার্মান পুঁজিবাদী পরিবারের সন্তান। তিনি ছিলেন স্বশিক্ষিত; হাইস্কুলে পড়ার সময়ে তিনি স্কুল ত্যাগ করেন। ১৮৪২ সালে তাকে ইংল্যান্ডের ম্যানচেষ্টারে তার পরিবারের থ্রেড উৎপাদন ব্যবসার কাজে পাঠানো হয়। সেসময়কালে তিনি লিখেছিলেন, তার মন ফরাসি বিপ্লবের বিপ্লবী গানে পূর্ণ এবং তিনি প্যারিসের গিলোটিন বিখ্যাত “লাল আতঙ্ক”এর পুনরাবির্ভাবের জন্য অপেক্ষারত।

ইংল্যান্ডে, এঙ্গেলস দেখেনঅধিকতর উন্নত ক্যাপিটালিস্ট উন্নয়ন, শক্তিশালী কারখানার মানে হলো উৎপাদন এবং আরো অমানবিক বস্তি এবং আরো শোষণ। তিনি ইংল্যান্ডে প্রথম ব্যাপক শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে গবেষণা করেন। এসব কারনেই এঙ্গেলস পুঁজিবাদ ঘৃণা করতেন। আর এঙ্গেলস এটিও দেখলেন, কিভাবে তা সমগ্র পৃথিবীর চলার পথ বদলে দিয়েছিল।

মার্কস ও এঙ্গেলস একসাথে কাজ শুরু করেন, একটি নতুন সংশ্লেষণের উদ্দেশ্যেযার মূল ভিত্তি রাজনীতি, অর্থনীতি, ইতিহাস এবং দর্শন। তাদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কমিউনিষ্ট আন্দোলনকে নতুন রূপ দান করে।

নতুন কমিউনিষ্ট সংগঠন; নতুন কমিউনিস্ট মানিফ্যাস্টো

"কমিউনিস্ট ইশতেহার" রচনাকালে কার্ল মার্কস ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলস

"কমিউনিস্ট ইশতেহার" রচনাকালে কার্ল মার্কস ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলস

নিভৃতের প্রচারণাও ফলদায়কযখনই আমি কোলনবা পানশালায় গিয়েছি, সর্বত্র নতুন অগ্রগতি, নতুন পরিবর্তনের খোঁজ। কোলনএর সভায় এক সর্বত্র বিস্ময়কর কাজ চোখে পড়ে; একটি আবিস্কার কমিউনিষ্টদের বিভক্ত করে তোলে। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে পৃথক সংগঠন, নীরবেই তা সমৃদ্ধ হতে থাকে। জনগণ প্রস্তুত, আমরা অবশ্যই আন্দোলনে নামব। কারণ, এখন উত্তেজনাপূর্ণ সময় চলছে।”

১৮৪৫ সালে, চিঠিটি ফ্রেডরিক এঙ্গেলস লিখেছিলেন কার্ল মার্কসকে, যখন তিনি জার্মানি ভ্রমন করছিলেন।

১৮৪৮ সালে, মার্কসএঙ্গেলস কাজের স্বার্থে ইউরোপের অনেক কমিউনিষ্ট গ্রুপের সাথে সংযোগ রক্ষা করতেন। প্রতিশ্রুতিশীল সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম হল লন্ডনের “লীগ অব দ্যা জাস্ট”, যার কয়েক শত বিপ্লবী সদস্য জার্মানিতে নির্বাসিত হয়েছিল।

এই লীগ মার্কস ও এঙ্গেলসের লেখার আগ্রহী ছিল এবং তাদের পরামর্শে, “কমিউনিষ্ট লীগ” নামে তা পুনর্গঠন করা হয়। মার্কস (যিনি উদ্বোধনী কংগ্রেসে উপস্থিত ছিলেন না) অন্যদের সাথে সংগ্রামের মাধ্যমে তাদের পুরানো স্লোগান “সমস্ত পুরুষ ভাই ভাই” পরিবর্তন করে নতুন স্লোগান প্রবর্তন করেন “দুনিয়ার মজদুর এক হও”।

একজন কমরেড মার্কস ও এঙ্গেলস সম্পর্কে লিখেন:

মার্কস এখনো যুবক, প্রায় ২৮ বছর বয়সী হলেও তিনি এখনও আমাদের আদর্শের প্রতীক। মাঝারি উচ্চতার, স্পষ্টবাদী, চওড়া পেশীবহুল কাঁধ, ক্ষমতাশালী এবং তার চালচলনের মধ্যে অলসতা ছিল না…. তাঁর বক্তৃতা ছিল সংক্ষিপ্ত, বিশ্বাসযোগ্য, যুক্তিসম্পন্ন এবং গ্রহণযোগ্য…. মার্কস তাঁর সম্পর্কে কখনও স্বপ্ন দেখতেন না…. ফ্রেডরিক এঙ্গেলস, মার্কসের আদর্শিক ভাই ছিলেনএকহারা, ক্ষিপ্র, ঘন চুল এবং জাদরেল গোঁফ বিশিষ্ট একজন পন্ডিত হলেও তিনি অনেক স্মার্ট ছিলেন, অনেকটা তরুণ সৈনিকের মতো।”

সেপ্টেম্বর ১৮৪৭, নবগঠিত কমিউনিষ্ট লীগ “কমিউনিষ্ট কনফেশন অব ফেইথ” নামে একটি কসড়া দলিল তৈরী করে।

এটি ছিল প্রাচীন দলিল যা ছিল বাস্তবতা বিচ্ছিন্ন এবং একটি ধর্মীয় প্রশ্নোত্তরের উপর ভিত্তি করে নির্মিত। মার্কস ও এঙ্গেলস এটি প্রত্যাখ্যান করেন। এঙ্গেলস নিজেই একটি নতুন খসড়া তৈরীর কাজ শুরু করেন।

অক্টোবরে, এঙ্গেলস মার্কসকে কিছু প্রস্তাবনা সহকারে খসড়াটি দেন। তিনি লিখেন,

আমি বিশ্বাস করিএকটা ভাল কাজ করতে প্রশ্নোত্তর ফর্মকে দূরে রাখতে হবে এবং শিরোনাম দিতে হবে: “কমিউনিস্ট ম্যানিফ্যাস্টো”। এখানে সংক্ষিপ্ত ইতিহাস থাকবে। তবে বর্তমানের অবস্থাটিই সর্বোত্তম।”

এঙ্গেলস প্রস্তাব করেন যে, পার্টি প্রতিষ্ঠানের কথাই ম্যানিফেস্টো, কিন্তু তিনি একইসাথে সতর্ক করেন যে, “যতটা সম্ভব এটি জনবান্ধব ও বাস্তব হতে হবে।”

জার্মান ভাষায় প্রথম মুদ্রিত "কমিউনিস্ট ইশতেহার"

জার্মান ভাষায় প্রথম মুদ্রিত "কমিউনিস্ট ইশতেহার"

মার্কস ও এঙ্গেলস কমিউনিষ্ট লীগের ১৮৪৭ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন। নভেম্বরডিসেম্বরে ১০ দিনব্যাপী এই কংগ্রেসে কমিউনিস্ট রাজনীতিতে তাদের চমকপ্রদ নতুন তত্ত্ব অনেক বিতর্কের পর গ্রহণ করা হয়।

কমিউনিষ্ট লীগ তাদের পুরোনো “কমিউনিটি অব গুডস”এর কর্মসূচী রদ করে খুবই শক্ত কর্মসূচী গ্রহণ করে:

বুর্জোয়াতন্ত্রের মূলোৎপাটন, সর্বহারা শ্রেণীর আধিপত্য, শ্রেণী সংগ্রামকে কেন্দ্র করে পুরাতন বুর্জোয়া সমাজের ধ্বংসসাধন এবং একটি শ্রেণীহীন ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিহীন নতুন সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই লক্ষ্য।”

মার্কস তার ম্যানিফেস্টো লেখা শেষ করলে কমিউনিস্ট লীগ নতুন পথে চলতে শুরু করে। স্বাভাবিক কষ্টকর প্রক্রিয়ার স্পষ্টতা এবং গভীরতার মিলনে ব্রাসেলসে কাজ করতে থাকেন তিনি। লন্ডনে তার কমরেডরা ধৈর্য্যহীন হয়ে ওঠে। মিলান এবং পালার্মোতে বিপ্লব শুরু হয়ে যায়, কমরেডরা নতুন ম্যানিফেস্টোর জন্য অস্থির হয়ে পড়ে। তারা জানুয়ারীতে (১৮৪৮) সময় বেঁধে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে: ১লা ফেব্রুয়ারীর মধ্যে শেষ করতে না পারলে “ব্যবস্থা নেওয়া হবে” বলে। মার্কস ১৮৪৮ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি কাজ শেষ করেন। “কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো” লেখা সম্পন্ন হবার সাথে সাথেই মার্কস এর পাণ্ডুলিপি লন্ডনে পাঠিয়ে দেন।(চলবে)

মূল লেখা: কাসামা প্রজেক্ট হতে সংগৃহীত।

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s