কর্পোরেট কালো থাবায় স্বকীয় বাঙলা ভাষার নাভীশ্বাস

Posted: ফেব্রুয়ারি 20, 2012 in দেশ, মন্তব্য প্রতিবেদন, সাহিত্য-সংস্কৃতি
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

কর্পোরেট কালো থাবায় স্বকীয় বাঙলা ভাষার নাভীশ্বাস এবং ভাষার আধুনিক টার্মোলজি :: রাষ্ট্রের উগ্র জাতীয়তাবাদ

লিখেছেন: মালবিকা টুডু

মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম ভাষা; তবে ভৌগোলিক অবস্থান, কাল ভেদে তা পরিবর্তনশীল। হাজার বছর আগেও ভাষার উন্মেষ ঘটেছিল, আবার হাজার বছর পরেও ভাষা থাকবে; তবে মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে তার স্বরূপ পরিবর্তিত হয়, সেই সাথে পরিবর্তন আসে সাহিত্যসংস্কৃতি, জীবন আচারেও। ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে, যেখানেই মানুষ আছে, সেখানেই ভাষা আছে; আদিম ভাষা বলে কিছু নেই, সব মনুষ্য ভাষাই সমান জটিল এবং মহাবিশ্বের যেকোন ধারণা প্রকাশে সমভাবে সক্ষম; যেকোন ভাষার শব্দভাণ্ডারকে নতুন ধারণা প্রকাশের সুবিধার্থে যৌক্তিক উপায়ে নতুন শব্দ গ্রহণ করিয়ে সমৃদ্ধ করা সম্ভব; সব ভাষাই সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয; মানুষের ভাষায় ভাষায় যে পার্থক্য, তার কোন জৈবিক কারণ নেই; যেকোন সুস্থ স্বাভাবিক মানব সন্তান পৃথিবীর যেকোন ভৌগলিক, সামাজিক, জাতিগত বা অর্থনৈতিক পরিবেশে যেকোন ভাষা শিখতে সক্ষম।

ভাষার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল তার সৃষ্টিশীলতা; ভাষাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে পারে জাতি, এমনকি জাতিরাষ্ট্র; উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশ রাষ্ট্র’র কথাই বলা চলে। ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র ভাষাকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন শুরু হয়, তা সর্বাত্মক আন্দোলনের রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে; পরবর্তীতে এরই ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালে জাতিরাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ। তবে এই আন্দোলনের বীজ বোনা হয় ১৯৪৭ সালে, যখন আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড: জিয়াউদ্দীন আহমদ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সুপারিশ করেন। ড: মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানান “পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সমস্যা” প্রবন্ধে, সেখানে তিনি লেখেন– “কংগ্রেসের নির্দিষ্ট হিন্দীর অনুকরণে উর্দু পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা রূপে গণ্য হইলে তাহা শুধু পাশ্চাদগমনই হইবে।…….. বাংলাদেশের কোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষার পরিবর্তে উর্দু বা হিন্দী ভাষা গ্রহণ করা হইলে, ইহা রাজনৈতিক পরাধীনতারই নামান্তর হইবে।” দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয়, কিন্তু পাকিস্তানের দুটি অংশ পূর্ব পাকিস্তান (পূর্ব বাংলা, বর্তমান বাংলাদেশ) ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক ও ভাষাগত দিক থেকে যে বিশাল পার্থক্য ছিল, সেই পার্থক্যকে শাসকশ্রেণী কখনোই লঘু করার চেষ্টাটুকুও করেনি তাদের শ্রেণী চরিত্রের কারণেই।

২১ মার্চ ১৯৪৮, ঢাকায় পাকিস্তানের স্থপতি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান) এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। তার ভাষণে তিনি ভাষা আন্দোলনকে পাকিস্তানের মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। যদিও তিনি বলেন পূর্ববঙ্গের প্রাদেশিক ভাষা নির্ধারিত হবে প্রদেশের অধিবাসীদের ভাষা অনুযায়ী, কিন্তু দ্ব্যর্থহীন চিত্তে ঘোষণা করেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, অন্য কোন ভাষা নয়। তিনি ভাষা আন্দোলনকারীদের ষড়যন্ত্রকারী বলে আখ্যায়িত করেন। জিন্নাহ্’র এই মন্তব্যে তাৎক্ষনিকভাবে বিক্ষোভ করে উপস্থিত ছাত্রসহ জনতার একাংশ। “উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা”এই বিরূপ উক্তিতে আন্দোলনকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে গিয়ে তিনি একই ধরনের বক্তব্য রাখেন। যখন তিনি উর্দুর ব্যাপারে তার অবস্থানের পুনরুল্লেখ করেন, উপস্থিত ছাত্ররা সমস্বরে ‘না’, ‘না’ বলে চিৎকার করতে থাকে। ২৮ মার্চ জিন্নাহ্ ঢাকা ত্যাগ করেন এবং সেদিন সন্ধ্যায় রেডিওতে তার দেয়া বক্তব্যে তার অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। পূর্ব পাকিস্তানের বাংলাভাষী মানুষ (যারা সংখ্যার বিচারে তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল) এ সিদ্ধান্তকে মোটেই মেনে নেয়নি। পূর্ব পাকিস্তানে বাংলা ভাষার সমমর্যাদার দাবিতে শুরু হয় আন্দোলন।

১৯৪৮ সালে শুরু হওয়া ভাষা আন্দোলন ১৯৫২ সালে আবির্ভুত হয় নতুনরূপে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন শুধু রাষ্ট্রভাষার দাবীতে আন্দোলন ছিল না। তার সাথে সংযুক্তি ঘটেছিল অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের এক আশ্চর্য সমন্বয়। এই সমন্বিত আন্দোলনের মাধ্যমেই এখানকার মুসলমানদের চিত্তে তাদের জাতিসত্ত্বার পরিচয় উদ্ঘাটিত হয়েছিল। তার আত্মপরিচয়ের উপলব্ধি হয়েছিল। এদিক দিয়ে ভাষা আন্দোলনকে শুধু ভাষার ব্যাপার বলা চলে না, এটা ছিল এমন ব্যাপার, যাতে ভাষার আয়নায় এ অঞ্চলের মুসলমানরা জাতি হিসেবে নিজেদের জন্মগত চেহারা দেখেছিল। হিন্দুদের ক্ষেত্রে মুসলমানদের মতো আত্মপরিচয়ের কোনো সমস্যা ছিল না। এজন্য তুলনায় মুসলমানদের মধ্যে এই আন্দোলন অনেক বেশি গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। কিন্তু যেহেতু এ আন্দোলন বৃহত্তর অর্থে ছিল বাঙালির জাতীয় আন্দোলন, এ কারণে এটা শুধু পূর্ব বাংলার হিন্দু জনগণকেই নয়, পশ্চিম বাংলার জনগণকেও নাড়া দিয়েছিল।

১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর খাজা নাজিমুদ্দিন জানান যে পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্তই মেনে নেওয়া হবে। এই ঘোষণার ফলে আন্দোলন আরো জোরদার হয়ে ওঠে। পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করে মিটিংমিছিল ইত্যাদি বেআইনি ঘোষণা করে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি (৮ ফাল্গুন ১৩৫৮) এই আদেশ অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুসংখ্যক ছাত্র ও রাজনৈতিক কর্মী মিলে মিছিল শুরু করেন। মিছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের কাছাকাছি এলে পুলিশ মিছিলের উপর গুলি চালায়। গুলিতে শহীদ হন সালাম, রফিক, বরকত, জব্বারসহ আরো অনেকে। এই ঘটনায় সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকার গণআন্দোলনের মুখে নতিস্বীকার করে এবং ১৯৫৬ সালে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি প্রদান করে।

ভাষাকে আমরা বলতে পারি সাহিত্যসংস্কৃতির একক। কারণ ভাষা ব্যতিত সাহিত্য বা সাংস্কৃতিক বিকাশের কথা কল্পনাও করা সম্ভব নয়। আর তাই সংস্কৃতির বিকাশের জন্য প্রয়োজন মাতৃভাষা চর্চ্চার বিকাশ ঘটানো। শিশুদের মধ্যে প্রবৃত্তিগতভাবেই কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে, যা তাদেরকে শিশু বয়সেই মাতৃভাষা অর্জনের উপযোগী করে তোলে। শিশুরা কোন নির্দিষ্ট ভাষা শিক্ষার প্রতি আকৃষ্ট হয় না, বরং যে ভাষা তাদের আশেপাশে বলা হয়, তারা সেই ভাষাই শেখে, এমনকি যদি তাদের পিতামাতা অন্য কোন ভাষাতে কথা বলা সত্ত্বেও। তাই শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের জন্যই প্রয়োজন অন্ততঃ একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মাতৃভাষার চর্চ্চা। ‘ভাষা আন্দোলন’এর মতো আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের দাবীতে এমন একটি আন্দোলন এই জনপদে হওয়া সত্ত্বেও এখানে সবার জন্য শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে মাতৃভাষার গুরুত্বকে শাসকগোষ্ঠি অনুধাবন করেননি। উর্দু ভাষী ও আদিবাসী শিশুদের এখনো শিক্ষার প্রথম পাঠ নিতে হচ্ছে বাংলায়, যা তাদের মাতৃভাষা নয়। আর অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় যেন এই বিষয়ে কথা বলারও কেউ আর এই রাষ্ট্রে অবশিষ্ট নাই! পাকিস্তানি শাসকশ্রেণী জনগণের শত্রু, বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আত্মনিয়ন্ত্রণের বিরোধী হওয়ার কারণে যে কাজ তারা করেনি; সেই কাজ যে বাংলাদেশ রাষ্ট্রেও হচ্ছে না এ বিষয়টি লঘুভাবে দেখার অবকাশ নেই। কারণ মাতৃভাষার ব্যবহার দেশপ্রেম, ভাষা প্রেম এবং জনগণের অনেক রকম স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। এমনকি বাংলাদেশের সংবিধানে ‘বাংলা’ রাষ্ট্রভাষা হিসেবে থাকলেও তার প্রায়োগিক অবস্থান যতসামান্য। সর্বোচ্চ আদালতে বাংলা ভাষা এখনো অচ্ছুত, এখানে একচ্ছত্র আধিপত্ত এখনো ইংরেজীর।

একুশ’ নিয়ে আমাদের গর্বের শেষ নেই, অথচ আমরা অনেকেই জানি না, বা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হই ‘ভাষা আন্দোলন’এর অন্তর্নিহিত ভিত্তিকে। যার মূলে ছিল সকল ভাষা ও জাতির প্রতি শ্রদ্ধা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার। বাংলার সাথে উর্দু সহ তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যান্য ভাষাগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ভাষা আন্দোলনের ঘোষণা ও প্রচারের মধ্যেই ছিল। অথচ এখন ‘ভাষা আন্দোলন’কে স্মরণ করা হয় বাংলা ভাষাকে অন্য ভাষার উপরে স্থান দেওয়ার নিমিত্তে; এক প্রতিক্রিয়াশীল, সাম্প্রদায়িক, ফ্যাসিবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে। এখানকার উগ্র বাঙ্গালীত্বের ধ্বজাধারীরা পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের কটাক্ষ করতে পিছপা হন না; আর তা সাহিত্যের বিচারে নয়, বেশিরভাগ সময়েই তা সাম্প্রদায়িক চেতনা প্রসূত। শ্রেণী বিভক্ত সমাজে এই জাতীয়তাবাদ ধারণ করে সুবিধাভোগী মধ্যবিত্ত পেটিবুর্জোয়া ও বুর্জোয়া শ্রেণী আর তা নিয়ন্ত্রণ করে শাসকশ্রেণী। এই শাসকশ্রেণী নিজের স্বার্থে বিভিন্ন সময়ে নানান রাজনৈতিক মেরুকরণ করে, তারা কখনো ভাষাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, কখনো দেখাচ্ছে উগ্র জাতীয়তাবাদের আস্ফালন, আবার কখনো রাজনীতির সঙ্গী করছে ধর্মকে। এই চক্র উগ্র জাতীয়তাবাদের শুরুর দিক থেকেই ইতিহাস বিকৃত করে আসছে, যার মূলে রয়েছে ভবিষ্যত প্রজন্মকে দিকভ্রান্ত করার দূরভিসন্ধি; আর এ যাত্রায় তারা অনেকাংশেই সফল।

জাতীয়তাবাদ বলতে আমরা বুঝি– “জাতিগত ধারণাকে সমাজ বিকাশের কেন্দ্রীয় অবস্থানে স্থাপন করে অন্যান্য সামাজিক ও রাজনৈতিক ধারণাকে জাতিগত ধারণার পরে স্থান দেয়া।” মূলতঃ এই জাতীয়তাবাদ’এর ধারণার মাঝেই নিহিত থাকে প্রতিক্রিয়াশীলতার বীজ। যা কালের আবর্তে উগ্র জাতীয়তাবাদের আস্ফালনের মাধ্যমে স্বরূপে অবির্ভুত হয়। যার রূপান্তর ঘটে ফ্যাসিবাদে। এ সম্পর্কে আলোচনার পূর্বে ফ্যাসিবাদ সম্পর্কে সম্মক ধারণা থাকাটা জরুরী। “ফ্যাসিবাদ, যা নিজেকে নির্ভীকভাবে প্রতিক্রিয়াশীল বলে ঘোষণা করে, নিজেকে সমস্ত রকমের উদারনীতির বিরোধী বলে ব্যক্ত করতেও দ্বিধাবোধ করে না। বেনিতো মুসোলিনী” ইটালির সোস্যালিস্ট পার্টির প্রাক্তন নেতা এবং পরবর্তীকালে ইটালির ফ্যাসিস্ট আন্দোলনের নেতা মুসোলিনীর এই দাম্ভিক ঘোষণাই ফ্যাসিবাদের চরিত্রকে আংশিকভাবে চিনিয়ে দেয়। ফ্যাসিবাদের বীজ পোঁতা হয়েছিল ইটালিতে, কিন্তু পরবর্তীকালে তা জার্মানীতে আরো দানবীয় আকারে আত্মপ্রকাশ করে এবং আন্তর্জাতিক চরিত্র নেয়। ‘নাৎসী’ শব্দটির সাথে ‘ফ্যাসিবাদ’ উতপ্রোতভাবে জড়িত। মূলতঃ ‘নাৎসী’ হলো হিটলারের সংগঠনজাতীয় সমাজতান্ত্রিক জার্মান শ্রমিক দল (ন্যাশনাল সোস্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি)’এর সংক্ষিপ্ত রূপ। ‘নাৎসীবাদ’ ছিল এক ফ্যাসিস্ট আন্দোলন, যা জার্মান জাতীয়তাবাদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। ‘জাতীয় সমাজতন্ত্র’ বা ‘ন্যাশনাল সোস্যালিজম’ বলতে হিটলার ক্ষমতায় আসার পূর্বে নাৎসী আন্দোলনকে বোঝানো হতো, যা পরবর্তীতে ‘নাৎসীবাদ’ নামে পরিচিতি পায়।

ফ্যাসিবাদ হলো বুর্জোয়াদের চরমতম প্রতিক্রিয়াশীল ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসন এবং রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সহ জীবনের সমস্ত আঙ্গিকে প্রভাব ফেলার উদ্দেশ্যে একটি নির্দিষ্ট ভাবতত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ক্রিয়াকলাপ চালায়। নির্দিষ্ট ভাবতত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ক্রিয়াকলাপ চালানোর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ সমাজে তৈরী করে এক প্রতিবিপ্লবী গণআন্দোলন, যার উদ্দেশ্য শ্রমিক শ্রেণীর ঐক্যের বিভাজন ঘটানো আর সমস্ত প্রতিরোধকে ধ্বংস করা।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চরিত্রগত বিশ্লেষণের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, সর্বোতভাবে এটি একটি জাতিরাষ্ট্র, যার ভিত্তি হলো বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ; যদিও মধ্যবিত্তের বাম দলগুলোকে সাথে রাখার জন্য তৎকালীন শাসক দল আওয়ামী লীগ সংবিধানে মিশেল দিয়েছিল গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রের। যদিও পরবর্তীকালে রাষ্ট্রের এই ভেকগুলোর সবই খসে পড়ে। ৭২’ থেকে ৭৫’ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে রাজনৈতিক ভিন্নমত রাখার অপরাধে (!) বিচার বহির্ভুতভাবে হত্যা করা হয়েছিল, গণতন্ত্র তখন শিঁকেয় উঠেছিল, যা আজ পর্যন্ত নামেনি! আর ‘ধর্ম নিরপেক্ষতা’ তো ১৯৭৪ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসি’র সভায় যোগদানের মাধ্যমেই আক্ষরিক অর্থে মৃত ঘোষিত হয়েছিল; পরবর্তীতে ‘বিসমিল্লাহ’ আর ‘রাষ্ট্রধর্ম’ যুক্ত করে কফিনের শেষ পেরেকটি ঠুকে দেওয়াও শেষ হয়ে যায়; যদিও ভোট কেন্দ্রিক রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য সংবিধানে তাকে জীবিত রাখা আছে আজো। সেই সাথে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকেই মসজিদমাদ্রাসায় সরকারী অনুদানের পরিমাণ বেড়ে যায় অত্যধিক হারে, যা পাকিস্তান আমলের চেয়েও কয়েকগুণ বেশী। পেটিবুর্জোয়া ও উঠতি বুর্জোয়াদের দল আওয়ামী লীগ ‘সমাজতন্ত্র’ কায়েম করবে এই কথা কিভাবে কোন ধী সম্পন্ন বাম রাজনৈতিক দল গ্রহণ করবে, তা বোধগম্য নয়। ‘সমাজতন্ত্র’র কথা সংবিধানে লেখার মূল উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন সোভিয়েতের চাপ এড়িয়ে যাওয়া আর সেই মধ্যবিত্তের সংশোধনবাদী বাম দলগুলোকে কাছে টেনে শ্রেণী সংগ্রামরত কম্যুনিস্টদের হত্যাযজ্ঞ আরামসে চালিয়ে যাওয়া। যে কল্পিক সমাজতন্ত্রের মূলা ঝুলিয়ে আওয়ামী লীগ মধ্যবিত্তের বাম দলগুলোকে কাছে টেনে গিলে খেয়েছে বাকশাল গঠনের সময়ে, সেই বাম দলগুলোর আওয়ামী মোহ এখনো কাটেনি, তা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। এখন রাজনীতি যে অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, আগামী দিনে বিএনপিজামাতের সাথেও দুয়েকটা মধ্যবিত্তের বাম দলকে দেখাটাও অস্বাভাবিক নয়; আওয়ামী লীগ অথবা বিএনপি’র মধ্যে গুণগত কোন পার্থক্য দৃশ্যমান নয়। অপর দিকে, কোন কম্যুনিস্ট পার্টির গুণগত মান বুঝতে হলে তা বুঝতে হবে শ্রেণী সংগ্রামের ভিত্তিতে। আর শ্রেণী বিভক্ত সমাজে কোন মার্কসবাদীলেনিনবাদী পার্টি শ্রেণী সংগ্রামহীন থাকলে তার অবস্থা এমনি হবে; শ্রেণী সংগ্রাম না থাকলে সেই দলের অন্য সব কাজই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বুর্জোয়াদের কর্মকাণ্ডকেই বৈধতা প্রদান করে। আর মাঝে মাঝে বাম দলগুলোর মানববন্ধন কেন্দ্রিক ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন যেন দালাল বুর্জোয়া শাসকের ভুরিভোজে আচার, অথবা ভোজ পরবর্তী মিষ্টান্নের মতোই, থাকলে মন্দ হয় না!

তবে এখানে কিছু কথা উল্লেখ না করলেই নয়, বাম দলগুলোতে বা তার অঙ্গসংগঠনে কোন তরুণ অনেক ক্ষেত্রেই বিপ্লবী চিন্তা থেকে যোগদান করে, কিন্তু যখন সে তার বিপ্লবীত্ব দেখাতে পারে না, বা তাকে বোঝানো হয় মানববন্ধন, মিছিল, আর কখনো পিকনিক আমেজের লং মার্চেই বিপ্লবী রাজনীতির সার; তখন সে শিখে সকলের সাথে মানিয়ে চলার রাজনীতি, আর যেহেতু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তরুণটির আগমণ ঘটে মধ্যবিত্ত শ্রেণী থেকে, তাই মানিয়ে চলার তত্ত্ব তার জন্ম সুত্রে পাওয়া, যেটুকু বারুদ তার ভিতরে ছিল, তাতে ক্রমাগত পানি ঢেলে ঢেলে আজীবনের জন্য ঠান্ডা করে দেওয়া হয় ভেতরের আগুন, একটা সময়ে তরুণটিও গা ভাসায় গড্ডালিকা প্রবাহে, অথবা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সবার থেকে!

ফেব্রুয়ারী মাসে প্রতিবাদপ্রতিরোধের ১৪ ও ২১ দুইটা দিবসকেই পুঁজিবাদসাম্রাজ্যবাদের ধারকবাহকেরা কর্পোরেট পুঁজির অধীন করে নিয়েছে। এই দুইটা আন্দোলনের আরো দুইটা জায়গাতে মিল রয়েছেতাহলো দু’টো আন্দোলনই এগিয়েছে ছাত্রদের দ্বারা, আবার দু’টো আন্দোলনই তার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে।

১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী জলপাই রঙের স্বৈরাচার হু.মো. এরশাদের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্রদের উপর গুলি চালায়; যাতে শহীদ হন জয়নালদিপালী। এটিই ছিল স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে বৃহৎ আন্দোলনের সূচনা। ১৪ ফেব্রুয়ারী স্থান পায় ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে। কিন্তু কালক্রমে উর্দি পরিহিত স্বৈরাচারের স্থলে স্থান পায় নির্বাচনের আদলে আসা স্বৈরাচার। আর এই নয়া স্বৈরাচার তার স্বৈরশাসন অটুট রাখতে স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে জনগণের অর্জনগুলোকে আড়াল করার চেষ্টা করে। তারই অংশ হিসেবে এদেশে আমদানি করা হয় বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’। আর এখানে ব্যাপক শ্রেণী সংগ্রাম বিদ্যমান না থাকায় আন্দোলনের কয়েক বছর পার হতে নাহতেই জনগণের কাছে ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ আজ বিস্মৃত হতে চলেছে। এই ‘ভালবাসা দিবস’ নামক প্রহসনের আমদানি ও বাজারজাতকরণের কাজ শুরু হয় ১৯৯২ সালে। আর তাতে আগ্রণী ভূমিকা রাখেন বর্তমান বিএনপি’র অন্যতম নীতিনির্ধারণী ব্যক্তি সাংবাদিক শফিক রেহমান। লাল গোলাপ হাতে তিনি বিপ্লব ভুলে ভালোবাসার জয়গানে দেশবাসীকে মাতোয়ারা হতে আহ্বান জানান। ততোদিনে দেশে ঢুকে যায় আর্চিস, হলমার্ক। তাদের এই ভালবাসার মানে হলো আমি তুমি মার্কা ব্যক্তিকেন্দ্রিক ভালবাসা; তাতে ভালবাসার সার্বজনীনতা আর থাকে না; যা ছিল ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’এর মূল প্রতিপাদ্য, মুক্তির জন্য ভালবাসা, আন্দোলনসংগ্রামের জন্য ভালবাসা। ১৯৯২ সাল পর্যন্ত দিনটি তার স্বমহিমায় পালিত হলেও পরবর্তী সময়ে রক্তের শেষ বিন্দু পর্যন্ত যারা গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে লড়েছিলেন, তাদের নাম এখন কর্পোরেট আগ্রাসনে বিলুপ্ত প্রায়। আলাদা করে ‘ভালবাসা দিবস’এর যৌক্তিকতা কোথায়? প্রতিটা দিন, প্রতিটা ঘন্টা, প্রতিটা মূহুর্তই তো ভালবাসার জন্য, একদিন ভালবেসে বছরের বাকী ৩৬৪দিন ভুলে থাকার তো কোন মানে হয় না! আর মানুষে মানুষে ভালবাসা থাকলেই তো মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ে আন্দোলন গড়ে ওঠে। ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা কেবলই মানুষকে সুবিধাভোগী, ভোগবাদী করে তোলে। আর কর্পোরেটরা তো সেটাই চায়। তাদের কাছে পণ্য ক্রয়ের নতুন নতুন মার্কেট তৈরী আর তার সম্প্রসারণই মূখ্য। প্রাপ্ত তথ্য মতে, এই ‘ভালবাসা দিবস’ নামক বোগাস কনসেপ্টের ব্যাপ্তি চারিদিকে ছড়িয়ে পরার পর এখন আর্চিস, হলমার্ক’এর ‘ভালবাসা দিবস’ উপলক্ষ্যে বিক্রির পরিমাণ সারা বছরের বিক্রির চেয়ে প্রায় ২০ গুণ বেশী!

এদেশে একেকটি সরকার বদলের পর পরই যেমন মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বদলে কখনো স্ফিত হয়, আবার কখনো খর্ব হয়। তেমনি বছরের পর বছর ‘ভাষাসৈনিকদের’ সংখ্যা স্ফিত হচ্ছে। যেহেতু রফিক, জব্বার, সালাম, বরকতদের মত এখন আর মৃত দেখানো সম্ভব হচ্ছে না, তাই ‘অংশীদার’ বানানোর কোশেশ চলছে অব্যহতভাবে। এভাবে চলতে থাকলে দু’হাজার ত্রিশ সালেও বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ‘অন্যতম যোদ্ধা’ আবিষ্কার সম্ভব! এমনকি গানিতিক নিয়মে সেই ‘যোদ্ধার’ বয়স বায়ান্নতে এক বছর হলেও!

এটা যে বাঙালি জাতির জন্য কী পরিমান অপরিনামদর্শী এবং সেই ভাষা শহীদদের প্রতি কী পরিমাণ অপমানজনক, তা আমাদের কর্পোরেট কালচারে ডুব দিয়ে অশেষ পূণ্য হাসিল করা কর্পোরেট চোগলখোররা বুঝতে পারছেন না তা কিন্তু নয়। তারা সব কিছু বুঝেশুনেই করছেন। কেননা তারা পুঁজির নিয়ম মেনে জগতের সব কিছুতেই পুঁজির অংশীদারিত্ব আবিষ্কার করেন এবং সব কিছু থেকেই লগ্নিপুঁজির মুনাফা তুলে নিতে চান। আর দুর্ভাগ্যজনকভাবে মুনাফার ভাগ পেয়ে তাদের এই চাওয়াকেই আমাদের বিভিন্ন সরকার সমর্থন করে।

আমরা একদিকে বাংলা ভাষার স্বকীয়তা, বাংলা ভাষার ‘সতীত্ব’ নিয়ে হাপিত্যেশ করছি, অন্যদিকে আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম ফেরিওলা ইলেক্ট্রনিকস মিডিয়ায়, বিশেষ করে বেসরকারি রেডিও চ্যানেলগুলোতে এক অদ্ভুত ধরণের ‘জারজ বাংলা’ মেনে নিয়েছি! সারা দিনরাত রেডিওটিভি চ্যানেলগুলোতে দেশের ধীমানরা জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা দিচ্ছেন, অথচ কেউ প্রতিবাদী হয়ে বলছেন না যে এটা বাংলা নয়! এভাবে বাংলাকে ‘ধর্ষণ’ করার কোনো অধিকার তোমাদের নেই! বলছেন না, প্রতিবাদ করছেন না, সেও তো এমনি এমনি না। সেখানেও বিকিকিনি! ধীমান বুদ্ধিজীবী আলোচকরা জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা দিয়ে তো খালি হাতে ফিরছেন না! তাকেও ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে কড়কড়ে কারেন্সি! কেউ কেউ আবার একে ‘বাক স্বাধীনতা’ নাম দিয়ে এর পক্ষে ওকালতিও করছেন!

মোবাইল কোম্পানিগুলো বাংলায় বার্তা পাঠাচ্ছে, বাংলায় গর্জে ওঠার আহ্বান জানাচ্ছে, বাংলায় এটা পাবেন, ওটা পাবেন বলে সাধারণের নাকের ডগায় মূলো ঝোলাচ্ছেন। জাপানি গাড়ি বিক্রেতারা ‘বাংলাকে ভালোবেসে’ গাড়িরে ব্লুবুক বাংলায় করে দিচ্ছে! বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বিষাক্ত শিশুখাদ্যের টিনে বা প্যাকেটে বাংলা লিখে দিচ্ছে! আর এভাবেই বায়ান্ন’র পর থেকে একেকটি প্রজন্মকে শেখানো হচ্ছে ‘ভাষা আন্দোলন’ বলতে যা বোঝায় শেষ বিচারে তা হল সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন। এখনকার প্রজন্মও শিখে নিচ্ছে সর্বস্তরে বাংলা, কেবলমাত্র বাংলা চালু হলেই মহান একুশে ফেব্রুয়ারির সার্থকতা আসবে।

কর্পোরেট বেনিয়াদের সঙ্গে শাসকদের এই সখ্যতা যে ‘মহান একুশ’কে দ্রোহের প্রতীক থেকে ‘সেলিব্রেশন ডে’ বানিয়ে দিচ্ছে, সেদিকে আমাদের বিদ্যা বুদ্ধির ব্যাপারীদের নজর আছে বলে মনে হচ্ছে না। তারা যে এই দিনকে সামনে রেখে বিভিন্ন ফ্যাশন ডিজাইন করছে, কস্টিউম বানাচ্ছে, শাড়িপাঞ্জাবীর জমিনে বর্ণমালা বসিয়ে সঙ সাজার প্রতিযোগীতা করছে, গালেমুখেহাতেকপালে বর্ণমালা লিখে দিনটিকে রং উৎসব বা ‘কালারফুল ডে’ বানাচ্ছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে ‘মহান একুশের বইমেলা’ নাম দিয়ে ‘আনন্দমেলা’র প্রচলন করছে, ঘরে ঘরে একুশ উপলক্ষে সেলিব্রেশন ফুডের মেনু বিলোচ্ছে, একে অপরকে শহীদ দিবসের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে! শহীদ বেদিমূলে রাত বারটা থেকে পুষ্পার্ঘ অর্পণের ছবি দিয়ে নিজ নিজ বা গোষ্ঠিগত ক্যারিয়ারকে ইলেক্ট্রিফায়েড করাচ্ছে তাতে করে মোটেই অবাক হওয়া যাবেনা যদি আগামী কয়েক বছর পর শহীদ দিবসে জমজমাট কনসার্টের আয়োজন করে বলিউডহলিউডের নামকরা গাইয়ে বা অভিনেতা এনে পুষ্পার্ঘ অর্পণের ডেমো করা হয়!

এই বেজন্মা কর্পোরেট কালচারের ভেতর যারা অতিকষ্টে নিরবে নিভৃতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের জন্য চোখের জল ফেলছেন তারা সেই দ্রোহ আর সংগ্রামের এই করুণ পরিনতি দেখে কিইবা করতে পারি! হ্যাঁ, একটি কাজই করতে পারি। আর তা হলো সেই সব বীর শহীদদের কাছে নতজানু হয়ে করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থণা!!

সহযোগী প্রকাশনাসমূহঃ

. বাঙলা ভাষার ইতিবৃত্ত, . মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

. বদরুদ্দীন উমরএর লেখা বিভিন্ন বই ও প্রবন্ধ

. বাংলাদেশ : এ লিগ্যাসি অব ব্লাড (বাংলাদেশ : রক্তের ঋণ), এন্থনী ম্যাসকার্নহাস

. রাষ্ট্র ও বিপ্লব, .. লেনিন

. কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার, কার্ল মার্কস ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলস

. ফ্যাসিবাদ, লিঁয় ট্রটস্কী

. বিভিন্ন সংবাদপত্রের কাটিং ও আর্কাইভ

(একই সাথে প্রকাশিতঃ ছাত্র ইউনিয়ন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কর্তৃক প্রকাশিত “ডাক দিয়ে যায়” প্রকাশনায় )

malobika.tudu@yahoo.com

Advertisements
মন্তব্য
  1. […] Malobika Tudo said [bn]: The tribal children learn their first words in Bangla, which is not their mother tongue. And it seems there is nobody in this country to speak for them. […]

  2. […] Malobika Tudo said [bn]: The tribal children learn their first words in Bangla, which is not their mother tongue. And it seems there is nobody in this country to speak for them. […]

  3. […] Malobika Tudo said [bn]: The tribal children learn their first words in Bangla, which is not their mother tongue. And it seems there is nobody in this country to speak for them. […]

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s