লিখেছেন: মেহেদী হাসান

অনেক কষ্টে; ধাক্কা দিতে দিতে, খেতে খেতে, চাপ দিয়ে, চাপে পড়ে, পায়ের পাতায় পারা খেয়ে, আরো জোরে পারা দিয়ে, প্রচন্ড ভিড়ের মধ্যে নিজেকে সেধিয়ে দিয়ে, সামনের দিকে এগুনোর চেষ্টা করছিযদি একটু দম ফেলার জায়গা পাওয়া যায়। অবশেষে, বাসের ভেতরের রডটি দুহাতে শক্ত করে চেপে ধরে, দেহের ভারসম্যকে টেনেটুনে জড়ো করে,দাড়াবার অবসর পাই। মানুষের ঘামে ভিজে যাওয়া বাতাস, বুক ভরে টেনে নিয়ে,বেঁচে থাকার স্বাদ অনুভব করি।

বাসটি ঘষটে ঘষটে এগিয়ে চলছে; যতটুকু না চলে, তার চেয়ে বেশী সময় থেমেই থাকে। মাঝে মাঝে এমন মনে হয় যে, ফুটপাত দিয়ে ধুকে ধুকে, কেশে কেশে, হোচট খেতে খেতে চলা মানুষগুলো বাদে, আর সমস্ত কিছু যেন; আলিফলায়লার জগতের মত প্রস্তরে পরিণত হয়েছে।

বাসের মধ্যে, আমার মত অনেকেই নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, আর কিছু মানুষ অসহায়ের মত বসে রয়েছে। এদের অধিকাংশ আমার মত নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং কেঊ কেউ নিম্নবিত্ত। শহুরে মধ্যবিত্তরা আর এখন এইসব মুড়ির টিনে যাতায়াত করেনা। ওরা এখন প্রত্যেকেই একেকটি করে প্রাইভেট কারের গর্বিত মালিক। শুধুমাত্র নিম্নমধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তরাই এখন এই সব মুড়ির টিনের মুড়ি এবং চাপ খাওয়া চিড়া।

আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, তার ডান পাশের সিটটাতে জানালার কাছে বসে রসিয়ে রসিয়ে পান চিবুচ্ছে একজন বেশ্যার দালাল। বিড়ি খেতে খেতে প্রচন্ড রকমে কালো হয়ে যাওয়া, ফোলা ফোলা এবড়ো থেবড়ো ঠোটের দুই কোন বেয়ে লাল লাল রস গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ছে। সে মহাখালীর মোড়ে আবাসিক হোটেল গুলোর সামনে নেমে পড়বে; যদি কিছু পয়সা পকেটে এসে পড়ে এই আশায়। আহা—সে যখন ব্যাবসাটা শুরু করেছিল; কি জমজমাটই না ছিল। ধনী লোকের ছেলেরা পকেট ভর্তি কড়কড়ে সুগন্ধী নোট নিয়ে, দলে দলে প্রাইভেট কার হাকিয়ে সন্ধাবেলা হতেই জমা হত থাকত। কত রাত যে ওরা মনের ভুলে বা কাঁচা মাংশের তীব্র ঝাঝালো গন্ধে বিভোর হয়ে একশো টাকা, পাঁচশ টাকার নোট ছুড়ে দিয়েছে; তা কি আর বলতে! সেই সোনার সময় যদি আজকে পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে আজকে তাকে এই লক্করঝক্কর বাসে চড়ে যাতায়াত কতে হয়; সে কি দশাসই একটা জাপানী প্রাইভেট কার কিনে ফেলতে পারত না?যত সমস্যার মূলে এই ডিস এন্টেনা আর ইন্টারনেট। এগুলোর মাধ্যমেই প্রাশ্চাত্য সংস্কৃতির ঢেউ এসে ঢুকে পড়েছে,শহুরে মেয়েদের বুকের ভেতর। অই ফাজিল মেয়েরা এখন আর তার প্রেমিকাদের মাথা ঠান্ডা করার জন্য বাইরে আসতে দেয়না; তাপানুকূল সুগন্ধি কক্ষে শুয়েই তাদের উষ্ণ রক্তের তাপচাপ দেয়া নেয়া করে। তাই বড়লোকের ছেলেরা এখন আর এদিকে ভুলেও পা মাড়ায়না। এখন শুধু হতভাগা রিক্সা ওয়ালাদের কড়াপড়া পায়ের ধ্বনি শুনতে পাওয়া যায়। ওদের লুঙ্গির কোছা থেকে ঘামের বিশ্রী দুর্গন্ধে ভরা পাঁচ টাকার দশ টাকার নোট গুলোও তেমন পকেটে ঢোকানো যায়না। এখনতো তাও কিছুটা ভাল আছে; একবারতো না খেতে পেরে প্রায় মারাই যাচ্ছিল। দুর্দিনেই মানুষের বুদ্ধি খোলে; ঐ সময় সে যদি না বুদ্ধি করে তার ছোট, সুন্দর, কচি, পুতুলের মত বউটিকে চালাকি করে লাইনে না নামাত,তাহলে আজকে আর দেখতে হতনা! সোনাবর্ণা বউটিকে লাইনে নামাতে কতযে হিটলারীবুদ্ধি, চাণক্যচালাকী,ম্যাকিয়াভেলীধুর্ততা, খাটাতে হয়েছে তা একমাত্র পরোয়ার দেগার আল্লাহপাকই ভালো জানে। এখন তো বাঁশের কাঁচা কঞ্চির মত বউয়ের টাকায়ই সংসার চলে। পান আর বিড়ির টাকাটাই এখন শুধু ওকে জোগাড় করতে হয়।

আমার পিছনের দিকের বামপাশের সিটে বসে বসে ঝিমুচ্ছে একজন, সিনেমা হলের টিকেট ব্ল্যাকার। ঝিমুনির মধ্যেও সে তার ডান কানটিকে অতিসচেতনাতায় খাড়া করে রেখেছে; কখন ইঞ্জিনওয়ালা গরুর গাড়িটি আনন্দছন্দ সিনেমা হলের সামনে এসে দাঁড়ায়। বেশ্যার দালালের মত তার ব্যাবসাটিও একসময় জট্টিল জমজমাট ছিল। কিন্তু কোন ব্যাটা যে খেয়ে দেয়ে কোন কাজ না পেয়ে, এই সিডিডিভিডি আবিষ্কার করল। নচ্ছার ব্যাটাকে বাগে পেলে ওর সাদা চামড়া ব্ল্যাক করে ফেলা যেত। লোকজন এখন লোকজন এখন ঘরে বসে বউবাচ্চা নিয়ে সিডিডিভিডি চালিয়ে হলিউড আর টালিউডের সিনেমা দেখে। সাদা সার্ট, খাকি প্যান্ট পরা কত স্কুল কলেজের ছেলেরা যে নীল ছবি দেখতে এসে,ওর কাছে টিকেটের জন্য ধর্ণা দিত তা কি আর বলে শেষ করা যাবে? আর এখন এই মডার্ণ যুগে ওরা, ইন্টারনেটের মাধ্যমে, কম্পিউটারের সামনে বসে, চুইংগাম চিবোয় আর পর্ণগ্রাফী দেখে। সিনেমা হলের সামনে পথচারী ছাড়া আর তেমন কোন লোকই দেখতে পাওয়া যায়না। দর্শক নেই তো টিকেট ব্ল্যাক করবে কার কাছে। আগে থাকা হত ফ্ল্যাট বাড়ি ভাড়া করে, আর এখন থাকতে হয় বস্তির ছালার ঘরে। এই টিকেট কালো করার ব্যাবসা বাদ দিয়ে অন্য কিছু কালো করা শুরু করতে হবে বলে মনে হচ্ছে। কত লোক টাকা কালো করতে করতে নিজেরা দুধের মত সাদা হয়ে গেল! আহা—আর কেন! আর টিকেট কালো করা নয়।

আমার থেকে দুই হাত সামনের একটি ভাঙ্গাচোড়া নড়বড়ে সিটে; অনেক কষ্টে পা দুটো উপরে তুলে, মাথার দুপাশে হাত দুটো জড়ো করে,সামনের দিকে উবু হয়ে বসে আছে একজন প্রাক্তন মন্ত্রীর সাবেক পি এস। তার জিহ্বার খানিকটা অংশ নিচের দিকে ঝুলে রয়েছে; লালায় টসটস করছে। মন্ত্রী মহোদয়ের সামনে, চরম প্রভুভক্ত কুকুরের মত বসে থাকতে থাকতে এমন অবস্থা হয়েছে যে, কোনভাবেই আর স্বাভাবিক মানুষের মত বসে থাকতে পারেনা। প্রভু ভক্তিতে সে কুকুর প্রজাতিকে পুরোপুরি হারিয়ে দিতে পারে। ভিড় ঠেলেঠুলে এসে যেই কন্ট্রাক্টর, তার কাছে ভাড়ার টাকা চেয়েছে;অমনি সে তড়াক করে ছোট একটি লাফ দিয়ে বলে উঠে, ইয়েস স্যার। মন্ত্রী মহোদয়কে ইয়েস স্যার বলতে বলতে তার জিহ্বার গতিপ্রক্রিয়া এমন একটি স্থায়ী রুপ লাভ করেছে যে, ইয়েস স্যার ছাড়া অন্য কোন কথা মুখ দিয়ে সরতে চায় না। ইসকি ভুলটাই না হয়ে গেল! তারপর শক্ত চোয়ালের কন্ট্রাক্টরটির শক্ত চোয়ালের দিকে তাকিয়ে কিছুটা বিরক্ত হয়। অনেক ধৈর্যে, পকেট হাতড়ে, দুই টাকার কয়েকটা নোট বের করে কন্ট্রাক্টরের হাতে ধরিয়ে দেয়। হায়রেকপাল এখন আমাকে দুই টাকার নোট বের করতেও পকেট হাতড়াতে হয়! অথচ স্যার যখন মন্ত্রী ছিল তখন স্যারের আঙ্গুল গলে কত যে পয়সা ঝরঝরিয়ে পড়ত; ভাবলেই ইয়েস স্যার, ইয়েস স্যার ধ্বনি উঠে গলা দিয়ে। কিন্তু অই বুক উঁচা মডেল আর পেটমোটা চিত্র নায়িকাদের পাল্লায় পড়ে সব শেষ হয়ে গিয়েছে।তখন কি আর বোঝা গিয়েছিল যে,স্যার গরাদে ঢুকবেন! একমাসের আঙ্গুল গলানো টাকা জমালেও,কি আজকে মনের ভুলে কন্ট্রাক্টরকে মনের ভুলে ইয়েস স্যার বলতে হয়।

একেবারে পেছনের ছিটের ডানপাশে, ভাঙ্গা গালের, প্রচন্ড ভয় পাওয়া মুখ নিয়ে বসে আছে, সরকারী অফিসের মাছি তাড়ানো কেরানীটি। এমন ভাবে বসে আছে যে, দেখে মনে হচ্ছে, নিবিষ্ট মনে লেজার খাতার দিকে তাকিয়ে আছে। তার নিচের ফ্যাকরা ঠোট দুটি ইঞ্চি দুয়েক ঝুলে রয়েছে; আর তার ঘষা কাঁচের চশমাটি,কোনমতে নাকের ডগাটি চেপে ধরে পড়ে যাওয়া থেকে রেহাই পাচ্ছে। মাটির দিকে তাকিয়ে হাটতে হাটতে আর চেয়ারে কুঁজো হয়ে বসে থেকে ঘাড় এবং পিঠ এমন ভাবে বেকে গিয়েছে যে,বুক টান করে সামনের দিকে তাকাতে গেলেই, টাল খেয়ে পড়ে যাওয়ার মত অবস্থা হয়। ঘুষের টাকা গুনতে গুনতে তর্জনী ও বুড়ো আঙ্গুলে, মোটা কালো কড়া পড়ে গিয়েছে। কেরানীর গোনাই সার, প্রায় সমস্ত টাকা ভুড়ি মোটা কর্মকর্তাদের মাঝখানে ভাগবাটোয়ারা হয়ে যায়। সংসারের বিশাল তিমির মত হা –করা মুখে ঘুষের কিঞ্চিত ভাগ আর বেতনের সামান্য টাকা হাওয়াই মিঠাইয়ের মত মিলিয়ে যায়। এভাবেই পোনা –মাছের মত কাতরিয়ে কাতরিয়ে দিন চলে যাচ্ছিল। কিন্তু কিছুদিন পূর্বে, পাড়ার বখাটে ছেলেরা,স্কুল থেকে ফেরার পথে,ক্লাশ নাইনে পড়া মেঝো মেয়েটিকে ধরে নিয়ে যায়। তারপর রাতভর উপুর্যুপরি গণধর্ষণ করে,কাক ডাকা ভোরে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়, ঠোকরানো লাশ।থানায় এজাহার করতে যাওয়ার কথা মাথায় উদয় হয়েছিল একবার। কিন্তু বখাটে গুলো বাসায় এসে বলে যায় যে, থানায় গেলে তোমার ছোট মেয়েটিরও একই অবস্থা হবে। তার পর থেকে শোক করার মত অবস্থাও আর নেই! ভয়ে বুকটা সবসময় ঢিপ ঢিপ করতে থাকে। হার্ট টা যে কখন ফেল হয়ে যায়———————————–

আমার সামনেই; পড়ে যেতে যেতে, ডান হাতের শক্ত মুষ্টিতে বাসের রডটি চেপে ধরে, এই ভিড়ের মধ্যেও বাম বগলে কালো,কাঠের ডাটের, ভাঙ্গা ছাতাটি চেপে ধরে দাঁড়িয়ে আছে ভাঙ্গাচোড়া স্কুলের থার্ড মাষ্টার। যদিও পাঁচ বছর পূর্বেই মাষ্টারীর চাকরী শেষ হয়ে গিয়েছে তারপরও নিজেকে এখনও মাষ্টার ভাবতে সুখী লাগে। দাগ রেখে যাওয়ার কি মধুর দিন গুলোই না ছিল তখন! কচি ছেলেগুলোর শরীরে নিজের তৈরী লালচে দাগগুলো দেখার প্রচন্ড ইচ্ছে হত তার, পরম সোহাগে হাত বুলোতে মন চাইত। দাগগুলো নিশ্চয়ই খানিকটা ফুলে উঠতো। অন্যান্যদের মত বর্বরোচিত ভাবে সে দাগ ফেলতো না। ঐ সময় সে বালকগুলোর সাথে মিষ্টি মিষ্টি সুরেলা গলায় মৃদু মৃদু আলাপচারিতা করত; আজকে কি দিয়ে ভাত খেয়েছিসরে?তোর সার্টটা তো খুব সুন্দর হে, তোর বাড়ি যেন কোন গ্রামে? তোর বাড়ীর পাশে কি পুকুর আছে? তোরা কয় ভাই –বোন, তোর ছোট ভাই কোন ক্লাশে পড়ে? দাগ তৈরীর উদ্দেশ্যে সে, সাপের শরীরের মত চক্কর চক্কর বেতটি কিছুক্ষণ তাদের নরম শরীরে চেপে ধরে রাখতো। এতে করে দাগটা অনেক ভালো করে বসে যেত, অন্যান্য জায়গা থেকে রক্ত এসে সরু লম্বা দাগটিকে গাঢ় লালচে করে তুলত। এক অনির্বচনীয় সুখে তার মন প্রাণটা ভরে উঠতো, তার সমস্ত শরীর অদ্ভুত মাদক উল্লাসে ভরে উঠতো,শিহরণে কেঁপে কেপে উঠতো। একটি ছেলের গায়ে দাগ বসিয়ে সবচেয়ে বেশী সুখ পেতো সে। কি যে সুন্দর ছিল ছেলেটি! একটুও নড়াচড়া করতনা, বিশাল বিশাল, কালো ড্যাবড্যাবে চোখ মেলে সুদূর পানে তাকিয়ে থাকতো। এক অদ্ভুত নীল বেদনায় তার চোখ মুখ ভরে যেত। ক্লাশে কোনদিনই পড়া শিখে আসতনা ছেলেটি, ফলে ওর গায়ে প্রত্যেক দিন রসিয়ে রসিয়ে দাগ ফেলা যেত। আহা – ঐ দিনগুলোতে যদি এক মুহূর্তের জন্যও ফিরে যাওয়া যেত।

বাসটি প্রায় আনন্দছন্দ সিনেমা হলের কাছাকাছি চলে এসেছে। এর মধ্যে অনেকে উঠেছে,অনেকে নেমেছে,আমি ওখানেই ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছি। হঠাত একটি প্রুচন্ড হায় হায় চিৎকার আমারমোবাইলফোন —–গেল, গেলরে——- গেল—; ধরধরধর, আমার –ভাই—সৌদিথিক্যাপাঠাইছে;ভিডিও মোবাইল—ছবি তোলন যায়,গান শোনন যায়, নাচ ——দেহন যায়, আর কত –কিছু——-করন যায়, পাঁচশরিয়াল—- দিয়া—কিন্যা—পাঠাইছে! যে – বিচ্ছুটাযাইত্যাছে,দৌড়াইয়া—যাইত্যাছে। ধরেন—ভাই—ধরেনবিচ্ছুডারে, আমার—সর্বস্ব—নিয়াযাইত্যাছে।

চিৎকার শুনে বেশ্যার দালাল, টিকেট ব্ল্যাকার, সরকারি অফিসের কেরানী, প্রাক্তন মন্ত্রীর প্রাক্তন পি এস,ভাঙ্গাচোড়া স্কুলের মাস্টার বুক উচা করে দাঁড়িয়ে যায়।তাদের শরীরের সমস্ত রক্ত বলক পাড়তে শুরু করে,পেশী গুলো সালমান খানের পেশীর মত ফুলে উঠে লাফাতে থাকে । সাহসের আতিশয্যে তাদের হৃদপিন্ড ফুলে বেরিয়ে আসতে চায়। রক্ত,মাংশ,মেদ,হাড়, মজ্জা ছেনে,দেহের সমস্ত পুষ্টি, অপুষ্টি, বর্জ্য ঘেটে সবটুকু ঘন আঠালো তরল পদার্থ তাদের অন্ডকোষে জমা হতে থাকে। এত তরল জমা হয় যে থলি ফেটে বেরিয়ে আসতে চায়,ছিলকে পড়ে পথ,ঘাট, প্রান্তর নদীনালা, খালবিল ভাসিয়ে দিতে চায়। অসহ্যের সীমার বাইরে চলে যায় তারা; না নাআর পারছেনা!

দু হাতে অন্ডকোষটি প্রচন্ড জোরে চেপে ধরে বাস থেকে নেমে দৌড় শুরু করে তারা। বিচ্ছুটাকে প্রথমে দেখতে পায়না, এদিক ওদিক তাকাতে থাকে ভীষণ অস্থিরতায়। হ্যাহ্যাঅইত, হাফপ্যান্ট পড়া,খালি গা; হাপাতে,হাপাতে দৌড়াছে প্রচন্ড গতিতে। বিচ্ছুটা গলির ভেতরে ঢুকে যেতে চায় কিন্তু কোন জুতসই গলি সে খুজে পায়না। ওরা কি বিচ্ছুটাকে পারবে ধরতে? হ্যা অবশ্যই পারবে,তারা আজকে উসাইন বোল্টের চেয়েও দ্রুত গতিতে দৌড়াতে পারছে,তাদের পায়ে বিদ্যুৎ খেলে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে তারা আজকে উড়তেও পারবে। প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছে;এইতো—-এইতো ধর—-ধর—-হ্যা—হ্যা—-আহা!—-আহা!——আহা!——আর—যাবে—কোথায়—বাপধনআর পালানোর—রাস্তা—নেই!

বরিষে, দেখো –শান্তিরোপানি!—-কি শান্তি! –কি মজা!—কি পুলক! এমন পুলক তারা আগে কোন দিন লাভ করেনি! তাদের আন্ডারওয়্যার পুরোপুরি ভিজে যায়,ঘন থিকথিকে তরল বেয়ে পড়তে থাকে তাদের পা বেয়ে,হাটু বেয়ে,কালো পিচের রাস্তা ঘনতরলে ভরে উঠে। অনন্য পুলক লাভ করতে, হাজার হাজার মানবজন্তু জমা হতে থাকে চারপাশে । তারা প্রত্যেকেই মধুর পুলক লাভ করে জট্টিল সুখি বোধ করে নিজেকে। পাচটি দশটি পনেরটি, বিশটি করে পুলক লাভ করে প্রত্যেকে। কেউ কেউ নাকি পঞ্চাশটি করেও পুলক লাভ করে।

রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায় একটি গাঢ় লাল ছোট খাট একটি মাংশ পিন্ডকে।ওই মাংশ পিন্ডটির আর কোন দিন ক্ষুধা লাগবেনা,ক্ষুধার যন্ত্রনায় আর কোন দিন কাতরাতে হবেনা ওটিকে। শান্তি –নির্বাণ নির্বাণ—শান্তি, শান্তি সমাহিত, সমাহিত শান্তি। ওমঃ শান্তি; ওমঃ শান্তি, সকলেরই শান্তি হোক, সকলেরই পরম নির্বাণ লাভ হোক!!!

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s