মতাদর্শগত প্রশ্নে

সংকলন: শিহাব ইশতিয়াক সৈকত

(পূর্ব প্রকাশের পর…)

এল দিআরিও: চেয়ারম্যান, পেরুতে সংশোধনবাদের প্রবক্তা কে?

চেয়ারম্যান গনজালো

চেয়ারম্যান গনজালো:ইউনিটি’ বলে একখানা পত্রিকা, যা প্রকাশ করে বা করতো সোভিয়েত সংশোধনবাদের দালাল তথাকথিত পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির চাঁচাছোলা সংশোধনবাদী নেতা যোরগে দেল প্রাদোযিনি ‘সময় সাপেক্ষ বিপ্লবী’ বলেও পরিচিত। দ্বিতীয়তঃ জন দেংএর স্তাবক ও চীনা সংশোধনবাদের সেবক পত্রিকা রোজা। দ্বিতীয় জন দেংএর স্তাবক ও চীনা সংশোধনবাদের সেবক পত্রিকা রোজা।

এল দিআরিও: আপনি কি মনে করেন পেরুর জনগণের মধ্যে সংশোধনবাদের প্রভাব থাকায় পেরুর বিপ্লব বিঘ্নিত হচ্ছে?

চেয়ারম্যান গনজালো: যদি আমরা লেনিনের শিক্ষা এবং চেয়ারম্যান মাও যার উৎকর্ষ সাধন করে গেছেন এবং বিকাশের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন, তা গ্রহণ করে থাকি – তাহলে দেখতে পাই সংশোধনবাদ নামক বুর্জোয়াদের এই দালাল সর্বহারা শ্রেণীর মধ্যে বিরাজ করে তাদের মধ্যে বিভাজনের বিষ ছড়ায়। এরা কমিউনিস্ট আন্দোলন ও কমিউনিস্ট পার্টিতে ভাঙ্গন সৃষ্টি করে। এরা ট্রেড ইউনিয়নে ভাঙ্গন ধরায় এবং গণআন্দোলনকে টুকরো টুকরো করে বিপর্যস্ত করে।

সংশোধনবাদকে ক্যান্সার রোগ বলা চলেতাই এই রোগকে নির্মমভাবে ছেঁটে ফেলা দরকার। তা না হলে বিপ্লবকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবেনা। লেনিনের কথায় বলতে গেলে সারসংক্ষেপে বলতে হয়আমাদের দুটো জিনিসের উপর লক্ষ রাখা দরকার তা হচ্ছে আক্রমণাত্মক বিপ্লবী কর্মকাণ্ড আর সুবিধাবাদ ও সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে বিরামহীন সংগ্রাম।

আমার বিশ্বাস, বর্তমানে জনগণের অবস্থিতির কথা চিন্তা করে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে শুধুমাত্র এই প্রশ্নের ওপর আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখলে চলবেনা, এঙ্গেলসের ভাষায় ‘জমে ওঠা বিপুল জঞ্জাল’এর কথাও আমাদের মাথায় রাখতে হবে। তিনিই আমাদের শিখিয়েছেন যখন সর্বহারার সংগ্রাম, আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে জনগণের লড়াই, যুগব্যাপী প্রলম্বিত হয় তখন আমাদের এই দেশের মতই জঞ্জালের পাহাড় জমে ওঠতে থাকে, যাকে ধীরে ধীরে ঝেঁটিয়ে বিদেয় করতে করতে হয়। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী হচ্ছে এই সমস্যার উপরও আমাদের নজর রাখতে হবে।

জনসাধারণের ওপর এর প্রভাব কতদূর বিস্তৃত? জনগণের মধ্যে স্ববিরোধের যে দ্বান্দ্বিকতা আছে, এরা তার মাঝে এক সমঝোতার রাস্তা খোঁজে। নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে, এরা ধনিকশ্রেণী ও সামন্ত প্রভূদের এবং সামন্ততান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক পুঁজির শোষণের সঙ্গে (যা আমাদের পেরুর রাষ্ট্রীয় চরিত্র)- সমঝোতার পথ নেয়। আন্তর্জাতিক স্তরে এরা সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে সন্ধি করে ও সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসী নীতির স্বপক্ষে কাজ করে অথবা কোন কোন শক্তি যারা এই পথের পথিক হওয়ার প্রয়াসী হয়, সংশোধনবাদ তাদের মদদ দেয়ার চেষ্টা করেবর্তমান চৈনিক আচরণে যা স্পষ্টতঃ প্রতিফলিত। আমরা জানি যখনই বিপ্লব ও জনযুদ্ধ উন্নত স্তরে উন্নীত হতে থাকে, যখনই শ্রেণীসংগ্রাম তীব্রতর হতে থাকে, তখনই জনগণ ও সর্বহারা শ্রেণীর চেতনার মানও উন্নত হতে থাকে। আর সেই সাথে যখন দৈনন্দিন কার্যকলাপের মাধ্যমে সংশোধনবাদের সর্বস্তরের সুবিধাবাদী কার্যক্রম ও বিশ্বাসঘাতকতা দৃষ্টিগোচর হবেযা ভবিষ্যতে আরো স্বচ্ছতর হবে, তখন সর্বহারা শ্রেণী জনগণের সঙ্গে একসাথে সমস্ত জায়গা থেকে এইসব সংশোধনবাদীদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করার অভিযানে লিপ্ত হবে। এঙ্গেলস আমাদের একথাও বলে গেছেন, দুর্ভাগ্যবশতঃ হঠাৎ করে একেবারে নিশ্চিহ্ন করে ওদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করা যাবেনা। কেননা এরা তো ‘জমে উঠা পাহাড়প্রমাণ বিপুল জঞ্জাল’এর কিছু অংশ মাত্র।

এল দিআরিও: আপনি কি বিশ্বাস করেন এদেশে সংশোধনবাদকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব হয়েছে?

চেয়ারম্যান গনজালো: মার্কসবাদের স্থপতিরা আমাদের যে শিক্ষা দিয়েছেন তার রেশ ধরে বলতে গেলে বলতে হয়সংশোধনবাদ প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগসাযোশে যেসব কাজকর্ম করে তাতে তাদের নীচ ও ঘৃণ্য স্বরূপ জানতে জনসাধারণের অসুবিধা হয়না। এদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করলে আমাদের শ্রেণীর সঙ্গে সমস্ত স্তরের জনগণও দেখতে পাবে তারা কি ধরণের কাজকর্মের সাথে নিজেদের নিয়োজিত রাখে এবং ক্রমশ অনিবার্যভাবে জনগণ বুঝতে পারবে কত বড় অপকারকের মত বেনিয়াসুলভ মনোভাব নিয়ে তারা শ্রমিকস্বার্থ অবলীলায় বিক্রি করে দিয়ে নিজেদের সুবিধাবাদী ও বিশ্বাসঘাতক চরিত্র প্রকাশ করে থাকে। শুধুমাত্র গণযুদ্ধ শুরু হওয়ার জন্যই নয়, সেই তখন থেকেই, যখন একদল সাচ্চা কমিউনিস্ট, পার্টির পতাকাতলে সমবেত হয়ে (যারা বর্তমানে পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে জনযুদ্ধ পরিচালনা করছে) সংশোধনবাদীদের বিতাড়নের মাধ্যমে যে প্রক্রিয়া শুরু হয় তারই পরিণতিতে সংশোধনবাদ অনিবার্যভাবে বিপর্যয়ের পথে ধাবিত হচ্ছে। আর আমরাও মনে করি মারিয়াতেগুই যেমন বলেছেন– “শ্রেণীসচেতন জনসাধারণ এই সত্য অর্থাৎ সংশোধনবাদের বিশ্বাসঘাতকতা বেশি বেশি করে বুঝতে পারবে” আর এই বোঝবার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

সংশোধনবাদ ইতিমধ্যে শেষ শয্যা গ্রহণ করেছে। তার মৃত্যু এখন সময়ের প্রশ্ন মাত্র। সমস্যা কি ধরণের তা আমাদের জানা হয়েই গেছে, জঞ্জালের স্তূপ জড়ো করে আগুন লাগানো শুরু হয়ে গেছে, এখন সেই যে আপনাদের বলেছি শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। বহুদিন আগেই এদের ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। আর আমরা যদি আরো পিছিয়ে যেতে চাই, শেষের সেই শুরুর জায়গায়, তাহলে বলতেই হয় খেল তখনই শেষ হয়ে গেছেযখন থেকে ওরা সংশোধনবাদীতে পরিণত হয়যখন থেকে ওরা নীতিহীনতার পথে চলতে শুরু করে। এটাই হচ্ছে আসল কথা। এখন আমাদের যা লক্ষ্য করতে হবে তা হচ্ছে শ্রেণীসংগ্রামটা কিভাবে মোড় নিচ্ছে এবং আমাদের পার্টি একে কতদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছে; জনগণ একে কতটুকু গ্রহণ করতে পারছে, সহযোগীতার মাধ্যমে একে (অর্থাৎ শ্রেণীসংগ্রামঅনুবাদক) কতদূর এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে; তারা আমাদের পার্টিকে যতদূর পর্যন্ত নিজেদের পার্টি বলে স্বীকার করে নিয়ে ভাবতে শুরু করবে ততদূর পর্যন্ত আমাদের এই পার্টি তাদের স্বার্থের পরিপূরক হয়ে কাজ করে যাবে। সর্বহারাদের মৌলিক স্বার্থ শতাব্দীকাল ধরে যারা বিকিয়ে চলেছে জনগণ তাদের সঙ্গে নিজেদের হিসাব বুঝে নিয়ে তাদের দন্ড বিধান করে সেইসব বিশ্বাসঘাতকদের মসীলিপ্ত চরিত্রের ওপর আলোকপাত করে দেখিয়ে দেবে কিভাবে তারা অবিরাম ধারায় বিশ্বাসঘাতকের ভূমিকা পালন করে চলেছে।

(চলবে…)

কমরেড গনজালোর সাক্ষাৎকার (পর্বচার)

কমরেড গনজালোর সাক্ষাৎকার (পর্বতিন)

কমরেড গনজালোর সাক্ষাৎকার (পর্বদুই)

কমরেড গনজালোর সাক্ষাৎকার (পর্বএক)

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.