ঈশপের গল্পের রাজহাঁস অথবা আমাদের হুমায়ুন আহমেদ

Posted: জানুয়ারি 2, 2012 in সাহিত্য-সংস্কৃতি
ট্যাগসমূহ:, , , , , , ,

লিখেছেন: ফেরারী সুদ্বীপ্ত

গল্পটা বোধ করি ঈশপেরই হবে। ক্লাস নাইনটেনে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের জন্য স্টোরি মুখস্ত করার মত জঘন্য কষ্টটুকু যারা করেছেন তারা অন্তত জানবেন সেই রাজহাঁস আর চাষীর গল্প। রাজহাঁসটি সোনার ডিম পারত কিন্তু চাষীর লোভী বউয়ের বেশিদিন তর সইল না। সব ডিম একসাথে পাওয়ার আশায় হাঁসের পেটটা কেটে ফেলে। ফলে যা হওয়ার তা হল হাঁসটা মরল আর অতি লোভে তাতী নষ্ট হল।

স্বর্গীয় ঈশপের অনুমতি ব্যাতিরেকে এবার গল্পটা একটু যুগোপযোগী করে নতুন রূপে হাজির করলাম।এক ছিল রাজহাঁস। রাজহাঁসটি একসময় সোনার ডিম পারত,এখনো অজস্র ডিম প্রসব করে তবে তা অধিকাংশই পচা। কিন্তু এখনো কয়েকজন চাষী মিলে পচা ডিমগুলোকে রঙ চং করে, সোনার ডিম বলে প্রচার দিয়ে বাজারে বিক্রি করে বেড়ায়। বলিহারি যাই ক্রেতারাও ওই পচা ডিম কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে মরে। তো চাষীরা একদিন জানতে পারল রাজহাঁসটি অসুস্থ। মাথায় পড়ল বাজ, সঙ্গে সঙ্গে প্রচার দিল রাজহাঁস বাঁচবে না অতএব তার চিকিৎসা করার জন্য টাকা দরকার। টাকা আসবে কোত্থেকে?চাষীরা সমাধান দিল, একটাই উপায় তাহল ওর ডিম গুলো ব্যাপক হারে বিক্রয় করতে হবে। চাষীরা প্রচার যন্ত্র নিয়ে মাঠে নামল, স্পেশাল অফার দিয়ে জেলায় জেলায় ডিম মেলা করে ডিম বিক্রি আরম্ভ করল। ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়ল, কারণ ডিমের স্টক সীমিত আর ডিম বিক্রির টাকা দিয়েই তো হাঁসের চিকিৎসা হবে। তবুও চাষীদের চোখে ঘুম নেই। হাঁসটাকে বার বার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে মরেই তো যাবে, যাবার আগে আরো কিছু পেরে যাও। বেচারা হাঁস এই অসুস্থ অবস্থায়ও চাষীদের চাপে পচা ডিম পারা বন্ধ করতে পারে নি।

না। না। ছি! ছি! মাইরি বলছি। এই গল্পের সাথে নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের কোন যোগসূত্র নেই। থাকলে তা কাকতালীয় এবং অনভিপ্রেত।

আমি একসময় বলতাম বাঙ্গালি এমন জাত যারা জীবিত কোন শিল্পী, সাহিত্যিককে মূল্যায়ন করে না, করতেও শেখেনি। সাহিত্যিক বা শিল্পী মরার পর কয়েক সপ্তাহ যাবত বিদগ্ধ সমালোচককূলের আলোচনা, ফোঁসফাস দীর্ঘশ্বাস, নাগরিক শোকসভা, টকশোতে ভক্তি শ্রদ্ধার উগ্র প্রদর্শনী দেখে উপলদ্ধি করে প্রয়াত অমুক বোধ হয় অনেক বড় কিছু। কিন্তু আমার ধারণা ভুল। স্পষ্টতই সম্পূর্ণ ভুল। কারণ এই বাঙ্গালিই আবার পারে তার প্রিয় সাহিত্যিক কিংবা শিল্পীকে জীবিত অবস্থায় দেবতা বানিয়ে অলিম্পাস পর্বতের চূড়ায় তুলে, জিউসের সিংহাঁসনে বসাতে। এবং অকৃতিঅভাজননরাধম হয়ে অহোরাত্র পুষ্পচন্দন সহকারে পুজাঅর্চনা আর বন্দনা চালিয়ে যায় গভীর নিষ্ঠাসহকারে। আর প্রকাশনা সংস্থা কিংবা মান্যবর মিডিয়াকর্তারা যদি চায় তাহলে জীবিত অবস্থায় কাসেম বিন আবু বাকারও বাংলার শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকের আসন অলঙ্কৃত করতে পারে। যত নিকৃষ্ট ছাইভস্ম হোক না কেন প্রচারের ডামাঢোলে এই বদ্বীপের মধ্যবিত্তকুলীয় আগ্রাসী পাঠক গোগ্রাসে গিলবে এবং অবশ্য বমি করে দিয়ে ভুলে যাবে সে কি খেয়েছিল।

ধান ভানতে গিয়ে শিবের গীত গাওয়া বন্ধ করে এবার আসল কথায় প্রবেশ করি।

হুমায়ুন আহমেদ নন্দিত (সম্প্রতি প্রকাশকরা কিংবদন্তী শব্দটাও লাগিয়েছে) কথাসাহিত্যিক। জীবিত অবস্থায় উনার মত এভারেষ্টসম উচচতার জনপ্রিয়তা এই বঙ্গদেশে আর কারো ভাগ্যে জোটেনি। কিন্তু অনেক অভিজাত পাঠকসাহিত্যিক তাকে সাহিত্য চান্ডাল বলেন, কারণ তিনি নাকি ছাই ভস্ম উপহার দিয়ে সাহিত্য আর পাঠকের মননজগতকে বিরান শ্মশান ভুমিতে পরিণত করেছেন। কিন্তু এভাবে তাকে এককথায় ফেলে দেয়া যায় না, কারণ সাহিত্যিক হিসেবে তার উত্থানপর্ব এবং তার সাহিত্যিক জীবনের প্রথম পর্বে সাহিত্যের ধারাটুকু উপলদ্ধি করেই তাকে মুল্যায়ন করতে হবে। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে বাঙ্গালি মধ্যবিত্ত সমাজের স্বপ্নভঙ্গের বেদনা হুমায়ুন আহমেদ খুব নিখুতভাবে তার কলমে ধারণ করেছিলেন। যেটা উল্লেখ করা জরুরি তা হল তার প্রথম দিককার সাহিত্যে মধ্যবিত্তের অস্তিত্ব টিকে রাখার দুর্বিষহ সংগ্রাম, বেঁচে থাকার আকুতি হাহাকার, এবং নীরবে ক্ষয়ে যাওয়ার যে চিত্র তিনি একেছেন তার রঙ তিনি নিজের জীবন থেকে আহরণ করেছিলেন।

আর মধ্যবিত্তরা তাদের যাপিত জীবনের অনুপুঙ্খ চিত্রের বিশ্বস্ত বর্ণনা দেখে তাদের পাঠচর্চা আর অভ্যাস হুমায়ুন সাহিত্যের পিঠে সঁপে দেন। কালক্রমে সাহিত্যের কমিটমেন্ট শব্দটিকে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে হুমায়ুন আহমেদের সাহিত্য বাজারী পণ্যে পরিণত হল কিন্তু আমরা ওয়ান টাইম সমাজের পাঠকরা তার মোহ ত্যাগ করতে পারলাম না। তিনি জনপ্রিয়তার সিড়ি বেয়ে নামছেন তো নামছেন আর আমরা ভেড়ার পালের মত তার পিঠে চেপে তলিয়ে যাচ্ছি।

সম্প্রতি যে ঘটনাটা সবার বুকে বজ্রাঘাত করেছে তা হল তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত। কোলন ক্যান্সারের থার্ড স্টেজে তিনি এখন আছেন। জীবনের মধ্য পর্বে এসে মৃত্যু নামক এই অযাচিত বিরাম চিহ্নটি উনার জীবনে পড়ুক তা বোধ হয় উনার শত্রুরাও চান না। একজন মানুষ হিসেবে সবসময় চাইব উনি সুস্থ হয়ে ঊঠুক এবং আরো কয়েকদিন বাঁচুক। কিন্তু ভদ্রলোকের ভালো মন্দ কিছু হওয়ার আগে বাঙ্গালি তার চিরন্তন বদঅভ্যাসবশত অতি ভক্তিজনিত কারণে গত দুই মাস ধরে কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন আরম্ভ করে দিয়েছে (হুমায়ুন নিজেও এতে ঘি ঢেলেছেন)। আর আশ্চর্যের বিষয় কান্নাকাটি আর হল্লাহাটির সবচেয়ে উত্তম স্থান ফেইসবুক আর ব্লগ। হুমায়ুন আহমেদের নামে লাইক পেইজ বানিয়ে ভক্তরা লিখছে,”আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা করি আপনার জন্য”, “আল্লাহ আপনাকে আরো বেশি দিন বাঁচার তৌফিক দিন”, “আচ্ছা বলতে পারেন আল্লাহ এত নিষ্ঠুর কেন”, “আল্লাহ বোধ হয় এতটা নিষ্ঠুর নন”, “আমি এবার হজ্বে গিয়ে আপনার জন্য দোয়া চেয়ে এসেছি”, “ফিরে আসুন হুমায়ুন আহমেদ আমাদের মাঝে” ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু দুঃখের বিষয় যাকে উৎসর্গ করে এত এত পুষ্পাঞ্জলি আর অর্ঘ্য দান সে হুমায়ুন আহমেদ ফেইসবুকের উপর বিরক্ত আর সৃষ্টিকর্তার ফেইসবুকে অধিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা কম কারণ নাস্তিকদের অত্যাচারে তিনি অতিষ্ঠ হয়ে বোধ হয় কবেই ফেইসবুক ছেড়ে পালিয়েছেন। মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে ফেইসবুক কি উপাসনালয় যে এখানে হুমায়ুন আহমেদের জন্য দোয়া মাঙ্গতে হবে?

এগুলো আমাদের মজ্জাগত দোষ। যুক্তির মাথা খেয়ে অতি ভাবাবেগের তাড়নায় আর সস্তা মধ্যবিত্তীয় সেন্টিমেন্টে মজে আমরা জীবিত মানুষের সামনে দেখাই তার মৃত্যুর পর আমরা কিভাবে বিলাপ করব।মৃত্যুর পূর্বে উদ্দীষ্ট ব্যাক্তির সামনে বিলাপ আর আর্তনাদআহাজারির একটা ট্রায়াল শো দিয়ে আমরা ভালোবাসা আর ভক্তি শ্রদ্ধা জাহির করি। এই দৌড়ে আমপাবলিকের সামনে দিশারী হয়ে ছুটছেন ইমদাদুল হক মিলন, ফরিদুর রেজা সাগরের মত অতি সজ্জন ব্যাক্তিবর্গ। গত দুই মাসে ইমদাদুল হক মিলন তার কালের কণ্ঠ পত্রিকার সাহিত্য পাতা শিলালিপিতে প্রমাণ করে ছেড়েছেন হুমায়ুন আহমেদ ছাড়া বাংলাদেশে আর কোন সাহিত্যিক নেই। স্মৃতিচারণের কী বাহার! কী আধিখ্যেতা! কোথায় একসাথে গেছেন, খেয়েছেন, মাজহারের ছেলেকে কি বলেছেন, হেসেছেন, গেয়েছেন ইত্যাদি আজাইরা প্যাচাল। অবস্থাদৃষ্টে মনে হল হুমায়ুন আহমেদ আর এ ধরাধামে নেই, তাই শোকাহত মিলন সাহেব তাকে তাকে নিয়ে দিস্তা দিস্তা কাগজে স্মৃতিচারণ করে অশ্রুজলের ফল্গুধারা বইয়ে দিয়েছেন। আর চ্যনেল আই তার সাম্প্রতিক জন্মদিনে অদ্ভুত মরাকান্নার প্রদর্শনী দেখাল। যথারীতি কয়েকজন বাগবিদগ্ধ তর্কবাগীশ টকশোতে এসে বাকবাকুম করা শুরু করল, হুমায়ুন এরকম করতেন, সে রকম করতেন, উনি খুব মজার মানুষ ইত্যাদি ইত্যাদি। ঐ দিন চ্যানেল আই এবং মিডিয়ার বাড়াবাড়ি দেখে আমার বাবা আমাকে জিজ্ঞেস করল, “বাবাই, হুমায়ুন আহমেদ মারা গেল কখন? আহ একদম তো বয়স হয়নি রে!

একটা অপ্রিয় সত্য কথা হচ্ছে এত শ্রদ্ধা ভক্তির আড়ালে আমরা সবাই সেই নির্মম সত্যটাকে সামনে আনছি তা হল হুমায়ুন আহমেদের সময় ফু্রিয়ে এসেছে। আর প্রকাশক আর মিডিয়াকর্তারা আছে এই সুযোগে নিজের আখের গোছানোর তালে। হুমায়ুন আহমেদ চোখটা বন্ধ করার দেরি, ঐ দিনই সঙ্গে সঙ্গে চ্যানেল আই এর পর্দায় ভেসে উঠবে “হুমায়ুন আহমদের এক্সক্লুসিভ সাক্ষাতৎকার, যা তিনি মৃত্যুর কয়েকদিন আগে দিয়েছেন শুধুমাত্র চ্যানেল আইকে, চোখ রাখুন চ্যানেল আইয়ের পর্দায়”, আর মিলন সাহেব বের করবেন “আমার হুমায়ুন আহমেদ” নামে ঢাউস আকারের বই, যা তিনি এতদিন শিলালিপি মারফত আমাদের গিলিয়েছেন। প্রথম আলো প্রথমা প্রকাশন থেকে ছাপাবে “নিউইয়র্কের আকাশে ঝকঝকে রোদ”। বইয়ের ভুমিকায় ফুলিয়ে ফাপিয়ে লেখা হবে “হুমায়ুন আহমেদের শেষের দিনগুলোর কথা তার শেষ ইচ্ছার কথা জানতে পারবেন এই বই পড়ে, তার ডায়েরির সমতুল্য এই বই”। পাঠক কুল ঝাপিয়ে পড়বে। অন্য প্রকাশের মাজহারুল ইসলামের একটু মন খারাপ থাকবে। কিন্তু হুমায়ুনের মৃত্যুর পরের বছরটাতে বই মেলায় এমন দেদারসে বই বিক্রি হবে তা নিয়ে কেউ দ্বিমত পোষন করবেন না কারণ বাঙ্গালির মনস্তত্ব সবারই জানা। আর তাতে মাজহারুল ইসলামের ক্ষতি নয়, বরঞ্চ ইশপের গল্পের ঐ হাঁসের কাছ থেকে একসাথে যা পাওয়া যায়নি রাজহাঁসরুপী হুমায়ুন আহমেদের মৃত্যুর পর তাই পাবেন অন্যপ্রকাশের সত্বাধিকারী মাজহারুল সাহেব। এখন তার সমস্ত বইয়ের প্রকাশকরা একজোট হয়ে জেলায় জেলায় হুমায়ুন বইমেলা আরম্ভ করেছে। সম্প্রতি সিলেটে অনুষ্ঠেয় বইমেলায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি সেখানে নাচ হয়, গান হয়, হুমায়ুন সাহিত্য নিয়ে আলোচনা হয়, স্মৃতিচারণ করা হয় (যেন তিনি মারা গেছেন), স্তব স্তুতি গাওয়া হয়, বই কেনার জন্য আকুল আবেদন করা হয়। কিন্তু প্রকাশকদের মুখ দিয়ে বলতে শুনি নিআমরা এখানে লভ্যাংশ রাখব না, সবটাই হুমায়ুন আহমেদের চিকিতসার পেছনে ব্যয় হবে”। যদি ওরা এটা বলত তখন না হয় বুঝতাম এদের ভক্তি শ্রদ্ধার পেছনে কপটতা নেই।

প্রবাদটা মিথ্যা নয় “অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ”। হুমায়ুন বাঁচতে চান আর এরা অতি ভক্তির আড়ালে হুমায়ুনের মৃত্যুভীতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতি মুহুর্তে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, “হুমায়ুন তোমার দিন ফুরিয়ে এসেছে, এই ধরাধামে আর বেশি দিন নেই তুমি”। এই একটা সার্কাস, ভানুমতির খেল যে শুরু হল হুমায়ুন আহমেদের চোখ না বোজা পর্যন্ত এরা এটা থামাবে না। এসব করে ওরা হুমায়ুন আহমেদের মনোবল ভেঙ্গে দিচ্ছেন আর মেকি ভক্তি প্রদর্শনের নামে পাঠকের পকেট থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

পরিশেষে, হুমায়ুন আহমেদের বর্তমান লেখাগুলো সাহিত্য শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে। কিন্তু তাই বলে কি আমজনতা কি তার বই পড়া ছেড়ে দেবে? আর তার বই যদি কেউ না কেনে তাহলে উনার চিকিৎসার খরচ আসবে কোত্থেকে?

এসব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি। ফেইসবুকে হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে অসংখ্য লাইক পেইজ দেখলাম আর এই সব পেইজে লাইকদাতার সংখ্যা পাঁচ সহস্রাধিকের চেয়ে কিছু কম নয়। ঐ পেইজের লাইকদাতারা, যারা হুমায়ুন আহমদের আসন্ন মৃত্যুর সম্ভাবনায় কাতর হয়ে গন্ডায় গন্ডায় স্ট্যাটাস দিয়ে বায়বীয় কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন আরম্ভ করেছেন তারা কি পারেন না একমাসের ইণ্টারনেট বিলটা হুমায়ুন আহমেদের চিকিৎসা তহবিলে দান করতে? পাঁচ সহস্রাধিক মানুষের এক মাসের ইণ্টারনেট বিল হয়তো হুমায়ুন আহমেদের চিকিৎসার ব্যায়ের বিশাল অঙ্কের তুলনায় কিছুই নয়। তবে ক্ষুদ্র এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসার দান তাকে বাঁচতে সাহায্য করবে, তার ভেঙ্গে পড়া মনোবল আবার চাঙ্গা হয়ে উঠবে। অন্তত বেঁচে থাকার আশাটুকু ফিরে পাবেন যা মাজহার, সাগর আর মিলনরা মিলে গত দুই মাসে কেড়ে নিয়েছে। আমি আবারো বলছি উনাকে বাঁচানোর জন্য উনার বই কিনে অন্যপ্রকাশের মাজহারের পকেটে টাকা না ঢুকিয়ে বই কেনার পুরো টাকাটা হুমায়ুন আহমেদের চিকিৎসা তহবিলে দান করুন। এটাই ভালোবাসা, লেনদেনের যেখানে মুখ্য নয়, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা প্রয়োগ ঘটান আর হুমায়ুনকে প্রকৃত অর্থে বাঁচান (অবশ্য যদি তিনি বাঁচতে চান)।।

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s