অক্যুপাই ওয়াল স্ট্রিট ইজ ‌”সো ইর্ম্পটেন্ট বিকজ ইট ইজ ইন দ্য হার্ট অব এম্পায়ার” : অরুন্ধতী রায়

Posted: নভেম্বর 18, 2011 in সাক্ষাৎকার
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , ,

অনুবাদ: তানজীর মেহেদী

অক্যুপাই ওয়াল স্ট্রিট ইজ ‌সো ইর্ম্পটেন্ট বিকজ ইট ইজ ইন দ্য হার্ট অব এম্পায়ার

ডেমোক্রেসি ওয়াচএ দেওয়া সাক্ষাৎকারে অরুন্ধতী রায়

অরুন্ধতী রায়

(১৯৯৭ সালে ‘দ্য গড অব স্মল থিংস’ দিয়ে বুকার জিতে বিশ্বে আলোড়ন তুলেছিলেন ভারতের লেখিকা অরুন্ধতী রায়। পরে, সাহিত্যের বদলে তিনি আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে বেশি ব্যস্ত হয়েছেন। সমালোচনা করতে ছাড়েননি কাউকে। ভারতের বর্তমান উন্নয়ন মডেলেরও তীব্র সমালোচক তিনি। ১৫ নভেম্বর ‘ডেমোক্রেসি ওয়াচ’ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্দ্বিধায় বলেছেন অক্যুপাই ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলন, মাওবাদ, চলমান রাজনীতির নানা বিষয়ে।)

অ্যামি গুডম্যান: এখন কথা বলবো জনপ্রিয় ভারতীয় ঔপনাস্যিক, বিশ্বজুড়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় কর্মী অরুন্ধতী রায়ের সঙ্গে। তিনি বেশ কিছু বই লিখেছেন। এগুলোর মধ্যে বুকার পুরস্কার জয়ী ‘দ্য গড অব স্মল থিংস’অ্যান অর্ডিনারি পারসন’স গাইড টু এম্পায়ার ফিল্ড নোটস অন ডেমোক্রেসি: লিসেনিং টু দ্য গ্রাসহোপার্স বই দুটিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে তারা সাংবাদিকতার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে লেখা প্রবন্ধসমূহ। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে অরুন্ধতী রায়ের সর্বশেষ বই ওয়াকিং উইথ দ্য কমরেডস। এই বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে ভারত সরকারের সেনা মোতায়েনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বিদ্রোহী গেরিলাদের সঙ্গে জঙ্গলে কাটানোর সময়গুলির বর্ণনা। গত সপ্তাহে অরুন্ধতী যখন নিউ ইয়র্কে এসেছিলেন, তখন তার সঙ্গে বসেছিলাম আমি। নিউইয়র্কে এসে প্রথমদিনেই অকুপাই ওয়াল স্ট্রিটের আন্দোলন দেখতে যান তিনি। আন্দোলনের তাৎপর্য নিয়েও আলাপ হয় তার সঙ্গে। এছাড়াও আরব বসন্ত নিয়েও কথা হয়েছে। বাদ পড়েনি ভারতের জঙ্গলে মাওবাদীদের সঙ্গে কাটানোর সময়গুলোর কথাও। ১৬ নভেম্বর ওয়াশিংটন স্কয়ার পার্কে বক্তব্য রাখার কথা ছিল। প্রথমেই কথা বলেছি অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট নিয়ে।

অরুন্ধতী রায়: তারা যা করছে, সেটা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো। কারণ, এটাই হল সাম্রাজ্যের কেন্দ্র, যেটাকে আমরা সাম্রাজ্য হিসেবে দেখছি। ঠিক সেই জায়গা থেকেই ওই মডেলের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও বিরোধিতা অবশিষ্ট বিশ্বকেও তাড়িত করেছে। ফলে সবাই অনুধাবন করতে পেরেছে এটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ও গভীরভাবে ভাববার বিষয়। আমি মনে করি, এটি আমাকে অনেক অনেক আশাবাদী তুলেছে। অনেকদিন পর তাকিয়ে দেখুন, কিছু রাজনীতিক জন্ম নিচ্ছে আর প্রকৃত রাজনীতিকরাই আজ ক্রুব্ধ সেখানে।

এর জন্য অনেক চিন্তা ভাবনার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু যেটা বলতে চাই সেটা হচ্ছে, জনগণকে স্পষ্ট করে একটি লক্ষ্য নিয়ে এগুতে হবে। সেই লক্ষ্য ধরে এগিয়েই গুটিকয়েক রাজনীতিক ও করপোরেটদের সকল ক্ষমতা ও সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখার মডেলটি ভেঙে ফেলতে হবে। এটাই এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। এরপর আমাদের মতো যেসব দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে বিখ্যাত ও অনুকরণীয় মডেল মনে করে, সেই বিশ্বাসকেও ভেঙে দিতে হবে। আপনাকে বলতে পারি, ভারত জুড়ে এখনও প্রচুর সৌন্দর্য বিরাজ করছে। সেখানে এখনও অনেক শক্তি আছে, যারা ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলনের মতো রাজনৈতিক আন্দোলনগুলো গড়ে তুলতে সক্ষম। আমার কাছে মনে হয়, ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলনকারী ও ভারতের সেন্ট্রাল ইন্ডিয়া ফরেস্ট আসলে একটি বড় পাইপলাইনের মাধ্যমে সংযুক্ত। আমি নিজেও সেই পাইপলাইনের একজন।

অ্যামি গুডম্যান: আপনার কাছে অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলন নিয়ে জানতে চাই। প্রেসিডেন্ট ওবামাকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

অরুন্ধতী রায়: তার (ওবামা) বিজয়ের পর মাথার টুপি খুলে বাতাসে উড়িয়ে যারা আনন্দ প্রকাশ করেছে, সেই দলের লোক আমি নই। মনে পড়ছে, প্রবীণ কৃষ্ণাঙ্গ মানুষগুলো হোয়াইট হাউজে কৃষ্ণাঙ্গ লোক দেখতে পেয়ে ভীষণ খুশি হয়েছিলেন, যাদের এড়িয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগ ছিল না। তিনি কি করেছেন সেটা আপনিও দেখেছেন। এর মধ্য আমি আসলে তাকে তিরস্কার করাটাই বোঝাতে চেয়েছি। তিনি কী করছেন? আফগানিস্তানে যুদ্ধের সময়সীমা বাড়িয়ে তা এখন ঠেলে দিচ্ছেন পাকিস্তানের দিকে। ড্রোন (চালকবিহীন বিমান) হামলার ফলে প্রতিদিনই মরছে মানুষ। এই উপমহাদেশে তিনি আসলে কী করতে চান, সেই বিষয়ে তার নিজের কোনও পরিষ্কার ধারনা আছে বলে আমার অন্তত মনে হয় না। ধীরে ধীরে এটি আসলে নিয়ন্ত্রণ অযোগ্য ও ভয়ঙ্কর অবস্থার দিকে যাচ্ছে।

এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে যা ঘটছে তা দেখে আমি আসলে বিপর্যস্ত। সবসময় শুনি বাগপটু সেসব কথা, বেশিরভাগ সময়েই যেগুলোর কোনও অর্থ থাকে না। এখন যদি বলি জর্জ বুশ যা করে গেছে, ওবামাও তাই করছে, তাহলে সবাই তাকে ফ্যাসিবাদীই বলবে। কিন্তু আসলেই আমরা পিছু হটছি, সেখানে যা ঘটছে তার জন্য অনেক সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছি। এটি আসলে সেই পুরনো উভয় সঙ্কটে মধ্যেই পতিত হওয়া। আসলেও তাই, একজন ব্যক্তি দিনের আলোতেই সেই কাজগুলো করে চলেছেন, যা করতে অন্যদের রাতের প্রয়োজন হয়। ডেমোক্র্যাট অথবা রিপাবলিকানএর বাইরে মানুষের কাছে আর কোনও পছন্দ নেই, যেমন ভারতে কংগ্রেস ও বিজেপি। এভাবেই মানুষ আসলে জিম্মি হয়ে আছেন। এরকম নির্বাচন কেন্দ্রিক রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার কল্পনাও আটকে গেছে আমাদের। ফলে তার সম্পর্কে সুন্দর সুন্দর সব কথা বলতে হবে আমাদের। কিন্তু এরকম কিছু অন্তত আমি বলতে চাই না।

অ্যামি গুডম্যান: এবার আসা যাক ওয়াকিং উইথ দ্য কমরেডস বইটি প্রসঙ্গে। যাদের আপনি কমরেডস বলছেন ভারতে তাদের সঙ্গে আপনার অভিজ্ঞতার কথা বলুন। তারা আসলে কারা?

অরুন্ধতী রায়: তারা মাওবাদী গেরিলা। ভারতের সেন্ট্রাল ফরেস্টে তাদের অবস্থান। তাদের যুদ্ধ ভারত সরকারের বিরুদ্ধে। এছাড়া খনি আহরণকারী করপোরেশনের বিরুদ্ধেও তাদের অবস্থান, কেননা এই করপোরেশনগুলো কমবেশি বনভূমি উজাড় করার পাশাপাশি আদিবাসী, উপজাতিদের জীবন বিপন্ন করে তুলছে। কমরেড আসলে কারা?” প্রশ্নটি আমার ধারণা অনুযায়ী আপনি যতোটা ভেবেছেন তার চেয়েও অনেক বেশি জটিল। কারণ আমি সেখানে গিয়েছি। তারা নিজেদের মাওবাদী বলে, এর বাইরে আমার কিছু জানা ছিল না। ১৯৬৭ সাল থেকে মাওধারার কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া আসলে বিভিন্ন অবতার বা দেবতাকেন্দ্রিক হয়েই অস্তিত্ব বজায় রেখেছে। কিন্তু সত্য হচ্ছে, তাদের ৯৯ শতাংশ লোকই প্রকৃতার্থে আদিবাসী। আদিবাসীরা কিসের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে মাওবাদী আদর্শ গ্রহণ করলেন কিংবা মাওবাদীরাই কিভাবে তাদেরকে প্রভাবিত করলেনএটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রশ্ন। যদ্দুর জানি এটা আসলে অমীমাংসিত। কিন্তু

অ্যামি গুডম্যান:আদিবাসী’ বিষয়টা একটু খোলাসা করুন।

অরুন্ধতী রায়: আদিবাসী বলতে আসলে ভারতের প্রকৃত অধিবাসীদের বোঝানো হয়। ভারতে তাদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। মূলত, বিভিন্ন উপজাতিতে বিভক্ত হয়ে প্রায় দেড়শ মিলিয়ন আদিবাসী এখানে রয়েছে।

অ্যামি গুডম্যান: যা আসলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যার সমান!

অরুন্ধতী রায়: হ্যাঁ। তবে, এই মুহূর্তে ধ্বংসের প্রান্তে বাস করছে তারা। ভারতীয় গণতন্ত্রের সকল উপকরণই কমবেশি নীরব ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। সেটা অবশ্য এখনও চলছে। ওই জঙ্গল থেকে আসলে খুব কম সংখ্যক খবরই বাইরে আসে। গত বছর মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অপরাশেন গ্রিন হান্ট নামে যুদ্ধই শুরু করে ভারত সরকার। খনি খননকারী প্রতিষ্ঠানের থাবা থেকে যারা নিজেদের ভূমি বাঁচাতে চেয়েছেন তাদের সবাই সরকারের কাছে মাওবাদী হয়ে ওঠেন। মাওবাদী, গান্ধীবাদী, জঙ্গি, স্বাধীন আন্দোলনকারী সবাইকেই সরকার তখন মাওবাদী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

সেখানে বেশকিছু আইনও বলবৎ করা হয়েছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ‘অনৈতিক কর্ম প্রতিরোধ আইন’‘ছত্তিশগড় জন নিরাপত্তা আইন’এর বলে যে কাউকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বিচার বর্হিভূতভাবে কারাগারে আটকে রাখতে পারে। ফলে হাজারো মানুষ এখন কারারুদ্ধ। ২০ হাজার সেনা নিয়ে গঠিত আধাসামরিকবাহিনীকে ভারী অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সেই জঙ্গলে মোতায়েন করা হয়েছে। জনগণকে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়াটাই তাদের মূল দায়িত্ব। ছত্তিশগড়ের কথাই বলি, যেদিক দিয়ে আমি জঙ্গলে গিয়েছি ও গেরিলার সঙ্গে হেঁটেছি। সেখানেই সরকারের সহযোগিতায় উপজাতিদের নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে পাহারাদার পরিষদ। তারাই আসলে জ্বালাওপোড়াও, ধর্ষণ, লুটের মতো কাজের সঙ্গে জড়িত। পুরো ধারণাটাই আসলে পুরনো, নতুন কিছু নয়। তারা আসলে সেখানকার মানুষের ওপর জোর খাটাচ্ছে। সেখানকার ছয়শ গ্রামের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষকে পালাতে হয়েছে। যাদের অনেকেই রাস্তার ধারের পুলিশ ক্যাম্পেও ঠাঁই নিয়েছে। কমপক্ষে ৫০ হাজার লোককে পুলিশ ক্যাম্পে আশ্রয় নিতে বাধ্য করা হয়েছে। অন্যদের অনেকেই আত্মগোপন করে আছেন। হয় তাদের পালিয়ে জঙ্গলেই আশ্রয় নিতে হচ্ছে, নতুবা অন্য কোনও রাজ্যে চলে যেতে হচ্ছে। আর যারা পালিয়ে যাচ্ছেন তাদের অনেকেই যোগ দিচ্ছেন মাওবাদীদের সঙ্গে। সরকারের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে ওই জঙ্গলটি খালি করা। কেননা, ২০০৫ সালে বিভিন্ন খনি খননকারী ও অবকাঠামো উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একশরও বেশি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত সরকার। আর এরপরেই শুরু হয়েছে যুদ্ধ।।

Advertisements
মন্তব্য
  1. ওয়াহিদ সুজন বলেছেন:

    মঙ্গলধ্বনিকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s