যখন ফুলবাড়ীর মানুষ কোরাসে গাইছে— ‘‌‌সিধু মাঝির কিরা কোম্পানিরে ঘিরা/ কানু মাঝির কিরা কোম্পানিরে ঘিরা’…

Posted: অক্টোবর 17, 2011 in প্রকৃতি-পরিবেশ
ট্যাগসমূহ:, , , , , ,

লিখেছেন: যীশু মহমমদ

আন্দোলনরত ফুলবাড়িবাসী

বিদ্রোহের আগুন জ্বালাতে সিধুকানুরা বারবারই ফিরে আসে। এ সত্য বৃটিশ বেনিয়ারা আঁচ করতে পারলেও ঔপনিবেশিক ভক্তিরসে নিমজ্জিত, ক্ষমতার সাপলুডুর গুটি, চোরাই বিত্তবানদের ছায়ায় উৎপন্ন আমাদের মধ্যবিত্ত— শাসকশ্রেণীর সাথে অনবরত গাল মিলিয়েই যাচ্ছেন। পুলসেরাতের আশে চড়থাপ্পড় মানঅপমানসব তুচ্ছ ভেবে বিজ্ঞাপনী দুনিয়ার মনোজগতে ভরসার সেজদাদিচ্ছেন আর অন্যদিকে হাটুরে ভদ্রলোকের মতো পার্টিজান বুদ্ধিজীবিকুল বৈতনিক বা অবৈতনিক দুপদ্ধতিতেই তাদের কেবলা ঠিক রাখেন নানা জাতের পেজগী মারা প্রবন্ধ পয়দা করে। হালে টিভিরেডিওতে বাতচিৎ প্রদর্শনী তাদের একটা বিশেষ মাধ্যম। মহাভারতের কথা অমৃত সমান‘—এসব মিডিয়ার কল্যাণে সকল পেজগী অমৃতসমানে পরিণত হয়েছে। অর্থ, পদবি, পুরস্কার এবং অন্যান্য সুযোগসুবিধার বিনিময়ে বিদেশি শক্তির পদলেহনকারী দালালদের অভাব বাঙালির মধ্যে কখনই হয়নি। একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশেইবা তার ব্যতিক্রম ঘটবে কেন? মার্কিনবৃটিশ কর্পোরেট শক্তির জন্য তৈলভাণ্ড হাতে অপেক্ষমাণ বিশেষ শ্রেণীর ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, সুশীল প্রজাতি এবং করিত্কর্মা সম্পাদককুলের সারি তাই আজ জনগণের মনোরঞ্জনে যথেষ্ট সহায়তা করে।

অথচ, ইতিমধ্যে বাংলাদেশের জনগণ আঁচ করতে সক্ষম বর্তমানে তাদের সংগ্রামের ধরনটা কি ও কেমন। জনগণ জানে, বাংলাদেশের মতো দরিদ্র ও সামরিক শক্তির বিচারে দুর্বল রাষ্ট্রের রাজনীতি যে বহুলাংশে বিশ্ব ও আঞ্চলিক মোড়লদের ইশারাইঙ্গিতে পরিচালিত হয়, এই সত্য অস্বীকার করা আর নিজেকেই নিজে ঠকানোর মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। জনগণ জানে, বিদেশীদের এজেন্ডা গুছিয়ে দেবার তরিকায় বুলি আউড়ে যাওয়া আঘামার্কা গণতান্ত্রিক দল গুলো খোশমেজাজে গদী অর্জন করে। জনগণের কাছ থেকে আদায় করা ক্ষমতা সঁপে দিয়ে বিনিময়ে তাদের তকদিরে মিলছে নিরাপত্তা এবং বিত্তের বহর। আর বোকা ভেবে জনগণকে শেখাতে থাকেগরীবের জন্য, সব কিছু গরীবের জন্য। তারা টের পেয়েছেগরীবের জন্য কথাটাও একটা নারকোল ভালো, নারকোল ভালো, নারকোল ভালো; আসলে নারকোল ছিচিয়ে তেল করা যায়!’

কয়লা পাওয়া গেছে বলেই তাদের(ফুলবাড়ী বাসী) সবাইকে তুলে উমুক করবে তুমুক করবে। নাতা হতে পারে না। তাই তারা এশিয়া এনার্জির বাড়া ভাতে ছাই ছুঁড়ে দেয়। ভেস্তে দেয় জোচ্চুরী, সম্পদের উপর দেশীবিদেশী শোষক, বহুজাতিক কোম্পানি/সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর শকুনী দৃষ্টি। না তারা যাবে নাভিটেমাটি, তিন ফসলি জমি, প্রকৃতিকর মমতা, মানুষের একে অপরের প্রতি মায়া, গান, ঢাকঢোল, হাজার হাজার বছরের পুরোনো ঐতিহ্যের স্বারকএসব কিছু মিলে মিশে তারা একাকার হয়ে থাকতে চায় মাটি/জননীর সাথে। কে ঠেঙ্গাবেদেখে নিতে প্রস্তুত এই ফুলবাড়ীতেই বসবাসকারী এ মাটির মূল অধিবাসী সাঁওতাল, পাহানরা আর আছে বাঙ্গালী যুবার রক্ত দেবার জেদ। এইটা সিধুকানু মাঝিদের গাঁ। এরা সহজমানুষ। কিন্তু দামাল সময়ে এরা ফুঁসে উঠতে জানে। খবরদার ! আর কে না জানে আধিবাসী জাতিসত্ত্বার নীতিই হলো– ‘ভূমি আমার নয় আমিই ভূমির

যারা ভেবেছিল/ভাবছে দিনবদলের গান‘-এ সুরতাললয় আছে, বোঝা যায় তারা বর্তমান সরকারের আমলকে বঙ্গালমুলুকে কোন ইউটপিয়ান সাম্রাজ্য ভাবেছিল। হায়, মার্কিন মুল্লুকের ওবামাও এমনি মার্কেটিঙের প্রতিভা/পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। বিএনপিজামাত জোটও ক্ষমতায় এসে নাচনকুঁদন করে ব্যর্থ হয়েছে, যে ছড়ি ঘুরিয়েছেসেই ছড়ি তাঁর নাসারন্দ্রে, পায়ুপথে দিতে দ্বিধা করেনি জনগণ। (খবর সূত্র: ২৬ আগস্ট, ২০০৬ বিক্ষুব্ধ জনতারওপর বিডিআরএর গুলি এবং ২৬ থেকে ৩০ আগস্টপর্যন্ত ফুলবাড়ীতে যে গণবিস্ফোরণ ঘটেছিলো, তার পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন বিএনপি সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে বাধ্য হয় এবং ঘোষণা করেই, সম্পাদিত চুক্তি বাতিলসহ আন্দোলনকারীদের ছয়দফা দাবি মেনে নেয়।) সব্বাস! ‘সাবাস দেব তার, ভাঙ্গছে যারা/ ভাঙ্গবে যারা ক্ষ্যাপা মোষের ঘাঁড়।

এখন আবার আওয়ামী চরিত্র এসে খেইল দেখবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জনগণের অজানা নয়কেন আনু মুহাম্মদের ঠ্যাং ভাঙ্গে, সাথে সাথীকর্মীদের পিটিয়ে হাড়গোড় খুলে ফেলা, তক্তা বানানোর পর দু:খপ্রকাশ হয়। হাএ পোশাকি দু:খপ্রকাশেরও উদ্দেশ্যবিধেয় তাদের অজানা নয়। আর ভোট ব্যাংকের লোভে ফুলবাড়ীর জনগণকে প্রতিজ্ঞা করা, স্যালুট– ‘একখানা লম্বা স্যালুটমেরে আসার ফন্দিফিকিরি বুঝতে জনগণকে বিন্দুবিসর্গও বেগ পেতে হয় না। (খবর সূত্র: সরকার কর্তৃক চুক্তি বাতিলের ঘোষণার পর তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ফুলবাড়ীতে জনসভা করে এশিয়া এনার্জির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিলসহ আন্দোলনকারীদের ছয়দফা দাবির প্রতি অতীব জোর সমর্থন জ্ঞাপন করে। হাসিনা বেশ উচ্চ আবেগেই(?) ফুলবাড়ীবাসীকে স্যালুট মারিয়াছিলেন)। আজ যখন এই হাসিনা সরকার ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা অনায়াসে সম্পদনামের এই কয়লা উন্মুক্ত পদ্ধতিতেউত্তোলনের জন্য ঘাঁইঘুঁই করে, কয়লার মতো কালো নীতি বানায়, জর্মনীর উন্মুক্ত কয়লা উত্তোলনের তুলনা হাজির করে/অছিলা দেয় (“ওপেন পিট মাইনিংএশিয়া এনার্জির পছন্দের পদ্ধতি। আর আন্দোলনকারীরা এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে, সম্পূর্ণ কয়লা তোলার বিরুদ্ধে নয়।)। অখচ, জনসংখ্যার ঘনত্ব ছাড়াও জিওলজিক্যাল এবং হাইড্রোলজিক্যাল বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্যের দিক থেকে আমলে নিলে দেখা যায় উন্মুক্ত খনন বিষয়ে জার্মানির সাথে বাংলাদেশের কোন তুলনাই হতে পারে না। তবুও তারা ছিনালি হিড়িক তোলে। প্রপাগান্ডায় আমাদের মধ্যবিত্ত মনেমননে উন্নয়নর তিলকে তাল শুধাবে(আর এই সব প্রপাগান্ডা গ্রহনের মধ্যদিয়ে আমরা মধ্যবিত্ত প্রমান দেব আমাদের মতো শহুরে শিক্ষিত মানুষেরা উপনিবেশিক শিক্ষার, পঙ্গুত্ত্বের মধ্যদিয়ে সেই ব্রিটিশ দাসত্বের চিন্তা চেতনায় ফিরে যাচ্ছি।) আর দরিদ্র্য আধপেট খাওয়া মানুষকে ক্ষতি পূরণের/পূর্নবাসনের কিচ্ছা তুলে উদ্বাস্তু কোরে শুধুমাত্র শারীরিক ভাবে নয়, পর্যুদস্ত করবে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগতভাবেও।তাই আমাদের জনগণকে প্রস্তুত রাখতে হবেমুনাফার লালসায় যে সাম্রাজ্যবাদীরা দেশ দখল করতে পারে, যাদের সাথে আছে মীরজাফরী মিথের দোস্তি, আর যারা ক্রসফারের তকমায় খতমের তালিকা বানায়, যারা মানুষ খুনের রাজনীতিতে সিদ্ধহস্ত অথচ নক্সালরাই খুনি এই প্রচার চালায় তার অতো সহজে পিছু হটে যাবেএমন আত্মতুষ্টিতে থাকার কোনো কারণ নাই। আর যারা সম্পদ রক্ষা, জনজীবনের নিশ্চয়তার কর্তব্যকে হাস্যকর যুদ্ধাপরাধির বিচার ভন্ডুলকরার তত্ত্বের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র খুঁজে নুন হালালের চেষ্টা করে সেই এই নিকম হারামিদের জনগণ চিহ্নিয়ানয়ে ফেলে দেগে রেখেছে। অপর দিকে নাচন কোঁদন, নাটক চলছে সেই সব নুনখোর বুদ্ধিজীবির যারা চায়ের কাপে ঝড় তোলে আর বড় বড় লেখা লিখবে, ইন্টারভিয় ছাপাবে। দরকারসময়মতো এদের চিহ্নিত করা ও সেই অপকর্মের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করে রাখা।

সত্য হচ্ছে, বিদেশী বেনিয়াদের পছন্দনীয় সরকার, চামচারা নিশ্চয় বাঙলাদেশের মৌলিক কোন নীতিমালাই নির্ধারণ করে না। এটা ঠিকঠাক করে দেয় আমলাতান্ত্রিক চরিত্রধারী বিশ্ব সংস্থা গুলো। যেমন: বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ। যাদের অপার ক্ষমতাজারি দেশে দেশে গণতন্ত্রের রক্ষীবাহিনী হিসেবে, যাদের কোন দায়েরদায়িত্বের বোঝা নেই, যাদের চক্ষুমস্তিষ্ককর্ণহস্ত আমাদের কৃষিশিল্পশিক্ষাপরিবেশসম্পদসহ তথাগত সুশীল/মধ্যবিত্তদের মগজ থেকে শুরু করে অর্থনীতি ও সমাজের উপর একচেটিয়া পুজিঁর প্রকল্প নিয়ে খাঁড়া থাকে। তত্ত্বায়নে যাকে সাম্রাজ্যবাদবলা হয়। আর ফুলবাড়ি সংগ্রাম বাংলাদেশে নতুন করে সেই সাম্রাজ্যবাদী দাসত্ব নেমে আসার বিরুদ্ধে প্রথম সবল, রক্তাক্ত প্রতিবাদ। কৃষকমজুরের প্রতিবাদ।

যাপনের আড়ালে আবডালে মরারই যেখানে নিয়মনিয়তি, সেখানে ফুলবাড়ির মানুষের মৃত্যু টকটকে সাহসের লাল পতাকা উড়ায়। নাঙাভুখা মানুষগুলো সেই দিন মরবে যেনেও এসেছিল। সে দিন ফুলবাড়ী একা গোটা বাংলাদেশের হয়ে লড়েছে। ২৬ থেকে ৩০ আগস্ট, ২০০৬ ফুলবাড়ীর জনগণ যে ইতিহাস সৃষ্টি কলেছিলো, তা সত্যিই বিস্ময়কর। ২৭ আগস্ট ২০০৬ থেকে ফুলবাড়ীতে প্রশাসনযেন ভেঙে পড়েছিলো। জনতার রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ রাস্তায়। সারাক্ষণ চলছে মিছিল ও সভা। নারীপুরুষতরুণমাঝ বয়সী এবং বাঙালী ও সাঁওতাল। প্রাণ খরচের(মৃত্যু) মধ্যদিয়ে বিজয়ের এ সঞ্জীবনী গুণ উপলদ্ধির ব্যাপার। কেবল মাঠ ফেরত কর্মীই জানে এর অদ্ভুত ক্ষমতা, মর্ম, শিহরণ!

খোয়াল করার বিষয়, শুধু কি বাঙলাদেশই এশিয়া এনার্জির মত রক্তপিপাসু মুনাফালোভী বহুজাতিক কোম্পানির ক্রীড়নক হয়ে আছে? না, সারা পৃথিবীতেই চলছে খনি/ভূসম্পদ/ শিল্পায়নের নামে ভূমিঅধিগ্রহণের লুটেরাদের পূঁজির খেলা। বেশী দূর না– ‘হাতের কাছের হয়না খবর/ কি দেখতে যাও দিল্লিলাহোরহলেও আমাদের সামনে উদাহরণ হিসেবে আছে ভারতের নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর, লালগড়। উন্নয়নমূলক কাজকর্ম বা শিল্পায়নরে জন্য কৃষিজমি অধিগ্রহন করতে উদত্য হওয়া সংসদীয় ধরার সুপারডুপার বামদের সিঙ্গুরের মতো বছরে পাঁচ ফসলি জমি তুলে, মানুষকে বাস্তুচ্যুত করে সেখানে কারখানা/সেজ(SEZ)/ কেমিক্যাল হাব/ মোটরস কারখানাসহ নানা জাতের শিল্পায়নের দোহাই দিয়ে পাঁয়তারা করেছেন। অথচ, সিপিএম নাকি সাম্যবাদের গান গায়, আসলে কার্যত পুঁজির দাস। ধান্ধায় ডুব দিলে ঘিলু কি আর ঠিক থাকে? সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের নিরস্ত্র শোষিত জনতা তাই ঐ উন্নয়নের তত্ত্ব মেনে নেয়নি। অত্যাধুনিক রাইফেলের বাটের ঠেলা/ গুলি খেয়ে/ ধর্ষিত হয়েও দাব্বাড়েছে ফিকে লাল বাহিনীর গুন্ডাদের/পুলিশদের। তারা কৃষিজমি অধিগ্রহন করতে চেয়েছে মূলত তথাকথিত শিল্পায়নএবং স্পেশ্যাল ইকোনোমিক জোন গড়ে তোলার জন্য যার প্রধান উদ্দেশ্য হল পুঁজিপতির শ্রমিকশ্রেণিকে ইচ্ছামতন শোষন করার উপযুক্ত বিশেষ সুবিধা এবং অধিকার সুনিশ্চিত করাযে খায়েশ গুড়িয়ে দিয়েছে সিঙুর এবং নন্দীগ্রামের মানুষ। তবুও নীলনকশা থামে না। তবুও মৃত্যু না। মৃত্যু এখন অনেক সহজ। অপারেশন নন্দীগ্রাম‘, বা আজকের অপারেশন গ্রিনহান্ট‘- শুধু ক্রোধ, পাশবিকতা; শুধু ঘৃণা, তাল তাল ও জমাট বাঁধাকালো, যতটা কালো হতে পারে জমাটবাঁধা রক্ত, মানুষের রক্ত, নক্সাশালীমাওবাদী রক্ত খুবলে খাচ্ছে

সিংগুর থেকে নন্দিগ্রাম থেকে ফুলবাড়ি সবাই যেন একই লড়াইয়ের ধারায় মেতেছে।

অনেক বিপদ সংকূল পথ পাড়ি দিচ্ছেন পৃথিবী। পৃথিবীকে খাবলে খাচ্ছেন পূঁজি। সম্পদের/ শিল্পায়নের/ উন্নয়নের সংজ্ঞা ঠিক করে দিচ্ছেন অর্থনীতির দালালেরা। এই হচ্ছে ক্ষমতাবান সরকার গুলোর উন্নয়ন নীতি যা কার্যত করপোরেট পুজিবাদের উন্নয়ন নীতিখুবলে খাও, ছিঁড়েখুঁড়ে নিঃশ্বেষ কর। যেখানে প্রকৃতিকে কেন্দ্রে রেখে মানুষ বাঁচানোর কোন নীতি নাই, ইচ্ছাও নাই।

এইসব চালবাজী যাচ্ছে দেখে ঈষৎ বাঁকা, মুখটেপা, তেতো হাসি ও কাষ্ঠ হাসি এসে আঠালো হয় গাল ভর্তি থুতুতে। কিন্তু কোন মতেই হা হা নয়এমন হাসি হাসতে পারি না৷ এই হাসি মেখে আমরা ট্রেনেবাসে চড়ি, সিট নিয়ে মানুষের সঙ্গে ঝগড়া করি, বিকেলে বিষণ্ন হই, সকালে কোষ্ঠকাঠিন্ন্য সাফ ও রাতে সঙ্গম করি, শিশুকে আদর করি, বসকে হ্যাহ্যা বলি৷ আর মাঝে মধ্যেই মধ্যবিত্ত ভাবালুতার খোশমেজাজে চিন্তার কারফিউতে আটকা পড়ি। আবার তাহা বুঝিয়া উঠিলে লজ্জায় গর্তে ঢুকি৷ আহা চমেৎকার— কিন্তু লড়াইয়ে থাকি না। উহা এড়াইয়া চলাই নাকি ভদ্দর লোকের কাম।

কান পাতুন, গর্জে উঠবার জন্য মানুষ ফুলবাড়ীতে কোরাসে গাইছে– ‘‌‌সিধু মাঝির কিরা কোম্পানিরে ঘিরা/ কানু মাঝির কিরা কোম্পানিরে ঘিরা‘…

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s